ঢাকা , রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo ইসরাইল-লেবাননের চুক্তির বিরুদ্ধে বৈরুতের রাস্তায় হিজবুল্লাহ সমর্থকদের বিক্ষোভ Logo বিদেশ সফরে দেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা করেছি : প্রধানমন্ত্রী Logo তিন ম্যাচে তিন জয় নিয়ে নক আউটে মেক্সিকো Logo ঝিনাইদহে হত্যা মামলায় ৩ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড Logo ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে প্রাণহানি অন্তত ৩২, আহত ৭ শতাধিক Logo প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের পানিসম্পদ মন্ত্রীর বৈঠকে নদী ব্যবস্থাপনায় ঐকমত্য Logo পরবর্তী এশীয় অর্থনৈতিক বিস্ময় রচনায় অংশীদার হতে চীনা বিনিয়োগকারীদের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর Logo গ্রেট হলে প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা Logo তারেক রহমান ও লি কিয়াং বৈঠক: ঢাকা ও বেইজিংয়ের মধ্যে ১৫টি সমঝোতা স্মারক সই হবে Logo তৃতীয় স্থানের দলগুলো কীভাবে নক আউটে যাবে

পুরো রমজান মাস জুড়েই রয়েছে রহমত, মাগফিরাত ও নাজাত

প্রতিনিধির নাম :

ধর্ম ডেস্ক: পুরো রমজান মাস জুড়েই রয়েছে রহমত, মাগফিরাত ও নাজাত। তবে নবী রাসুলুল্লাহ (সা.) বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বলেছেন, রমজান মাসের প্রথম ১০ দিন হলো রহমত; তার দ্বিতীয় ১০ দিন মাগফিরাত; এর শেষ ১০ দিন হলো নাজাত। আজ শনিবার (২২ মার্চ) দিয়ে শুরু হয়ে গিয়েছে রমজানের শেষার্ধ নাজাত’এর দশক।

এই নাজাতের দশকে এমন একটি রাতের কথা বলা হয়েছে, যেই রাতের ইবাদত হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও উত্তম। কারণ, এ রাতেই প্রথম পবিত্র মক্কার হেরা পর্বতের গুহায় মহান আল্লাহ মুহাম্মাদ (সা.)-এর কাছে পবিত্র কোরআন নাজিল করেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আমি একে নাজিল করেছি কদরের রাতে। তুমি কি জানো, কদরের রাত কী? কদরের রাত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।’ (সুরা কদর: ১-৩)

পরবর্তী ২৩ বছরে বিভিন্ন সূরা বা সূরার অংশবিশেষ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ঘটনা ও অবস্থার প্রেক্ষিতে রাসুলুল্লাহ (সা.) এর ওপর অবতীর্ণ হয়।

‘শবে কদর’ কথাটি ফারসি। শব মানে রাত বা রজনী আর কদর মানে সম্মান, মর্যাদা, গুণাগুণ, সম্ভাবনা, ভাগ্য ইত্যাদি। শবে কদর অর্থ হলো মর্যাদার রাত বা ভাগ্যরজনী। শবে কদরের আরবি হলো লাইলাতুল কদর তথা সম্মানিত রাত।

তবে মর্যাদার রাতটি পাওয়া এতো সহজ নয়। কঠিন কিন্তু ঈমানদারগণ যদি নেক দিলে ইবাদাত করে, মহান আল্লাহ অবশ্যই পুরস্কার দিবেন।

এ রাতটি রমাযানের শেষ দশকে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘‘রমজানের শেষ দশদিনে তোমরা কদরের রাত তালাশ কর।’’ (বুখারী : ২০২০; মুসলিম : ১১৬৯)

মহিমান্বিত এ রাতকে আল্লাহ তাআলা রমজানের শেষ দশকের বিজোড় রাতে সুপ্ত রেখেছেন। তিনি এটাকে সুনির্দিষ্ট করেননি। রাসুল (সা.) রমজানের শেষ দশকে এ রাতের অনুসন্ধান করতে বলেছেন। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা রমজানের শেষ দশকের বিজোড় রাতে শবে কদর অনুসন্ধান করো।’ (বুখারি: ২০১৭)

পবিত্র কোরআনের অন্য স্থানে এ রাতকে বরকতময় রাত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি ইমানের সঙ্গে সওয়াবের নিয়তে কদরের রাতে ইবাদত করবে; তার অতীতের গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।’ (বুখারি: ১৯০১)

মূলত, ২১, ২৩, ২৫, ২৭, ২৯ এই পাঁচ বেজোড় রাতে যদি পূর্ণ বিশ্বাস নিয়ে কোন বান্দা মহান আল্লাহ’র সন্তুষ্টির জন্য ইবাদত করেন, তাহলে সেই বান্দার ইবাদত হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও উত্তম হিসেবে মালিক আল্লাহ গ্রহণ করবেন। ইতোমধ্যে প্রথম বিজোড় রাত অর্থাৎ ২১ মার্চ (শুক্রবার দিবাগত রাত) শেষ, বাকি ৪ রাতে খুঁজতে হবে পবিত্র লাইলাতুল কদর। যার মানে, ২৩ মার্চ (রোববার দিবাগত রাত), ২৫ মার্চ (মঙ্গলবার দিবাগত রাত), ২৭ মার্চ (বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত) এবং ২৯ মার্চ (শনিবার দিবাগত রাত)-এই ৪টি রাতই মমিনদের জন্য হাজার রাতের থেকে উত্তম রাত খোঁজার মোক্ষম সময়।

মালিক আল্লাহ ওয়াদা করেছেন, যেই বান্দা সৎ নিয়তে এবং সৎভাবে সালাত পড়ে এই রাতের সন্ধান করবে, তোর জন্য রয়েছে মহাপুরস্কার।

‘নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ যা বলেছেন, সত্য বলেছেন’

Tag :

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০৭:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ মার্চ ২০২৫
৮ বার পঠিত হয়েছে

পুরো রমজান মাস জুড়েই রয়েছে রহমত, মাগফিরাত ও নাজাত

আপডেট এর সময় : ০৭:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ মার্চ ২০২৫

ধর্ম ডেস্ক: পুরো রমজান মাস জুড়েই রয়েছে রহমত, মাগফিরাত ও নাজাত। তবে নবী রাসুলুল্লাহ (সা.) বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বলেছেন, রমজান মাসের প্রথম ১০ দিন হলো রহমত; তার দ্বিতীয় ১০ দিন মাগফিরাত; এর শেষ ১০ দিন হলো নাজাত। আজ শনিবার (২২ মার্চ) দিয়ে শুরু হয়ে গিয়েছে রমজানের শেষার্ধ নাজাত’এর দশক।

এই নাজাতের দশকে এমন একটি রাতের কথা বলা হয়েছে, যেই রাতের ইবাদত হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও উত্তম। কারণ, এ রাতেই প্রথম পবিত্র মক্কার হেরা পর্বতের গুহায় মহান আল্লাহ মুহাম্মাদ (সা.)-এর কাছে পবিত্র কোরআন নাজিল করেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আমি একে নাজিল করেছি কদরের রাতে। তুমি কি জানো, কদরের রাত কী? কদরের রাত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।’ (সুরা কদর: ১-৩)

পরবর্তী ২৩ বছরে বিভিন্ন সূরা বা সূরার অংশবিশেষ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ঘটনা ও অবস্থার প্রেক্ষিতে রাসুলুল্লাহ (সা.) এর ওপর অবতীর্ণ হয়।

‘শবে কদর’ কথাটি ফারসি। শব মানে রাত বা রজনী আর কদর মানে সম্মান, মর্যাদা, গুণাগুণ, সম্ভাবনা, ভাগ্য ইত্যাদি। শবে কদর অর্থ হলো মর্যাদার রাত বা ভাগ্যরজনী। শবে কদরের আরবি হলো লাইলাতুল কদর তথা সম্মানিত রাত।

তবে মর্যাদার রাতটি পাওয়া এতো সহজ নয়। কঠিন কিন্তু ঈমানদারগণ যদি নেক দিলে ইবাদাত করে, মহান আল্লাহ অবশ্যই পুরস্কার দিবেন।

এ রাতটি রমাযানের শেষ দশকে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘‘রমজানের শেষ দশদিনে তোমরা কদরের রাত তালাশ কর।’’ (বুখারী : ২০২০; মুসলিম : ১১৬৯)

মহিমান্বিত এ রাতকে আল্লাহ তাআলা রমজানের শেষ দশকের বিজোড় রাতে সুপ্ত রেখেছেন। তিনি এটাকে সুনির্দিষ্ট করেননি। রাসুল (সা.) রমজানের শেষ দশকে এ রাতের অনুসন্ধান করতে বলেছেন। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা রমজানের শেষ দশকের বিজোড় রাতে শবে কদর অনুসন্ধান করো।’ (বুখারি: ২০১৭)

পবিত্র কোরআনের অন্য স্থানে এ রাতকে বরকতময় রাত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি ইমানের সঙ্গে সওয়াবের নিয়তে কদরের রাতে ইবাদত করবে; তার অতীতের গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।’ (বুখারি: ১৯০১)

মূলত, ২১, ২৩, ২৫, ২৭, ২৯ এই পাঁচ বেজোড় রাতে যদি পূর্ণ বিশ্বাস নিয়ে কোন বান্দা মহান আল্লাহ’র সন্তুষ্টির জন্য ইবাদত করেন, তাহলে সেই বান্দার ইবাদত হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও উত্তম হিসেবে মালিক আল্লাহ গ্রহণ করবেন। ইতোমধ্যে প্রথম বিজোড় রাত অর্থাৎ ২১ মার্চ (শুক্রবার দিবাগত রাত) শেষ, বাকি ৪ রাতে খুঁজতে হবে পবিত্র লাইলাতুল কদর। যার মানে, ২৩ মার্চ (রোববার দিবাগত রাত), ২৫ মার্চ (মঙ্গলবার দিবাগত রাত), ২৭ মার্চ (বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত) এবং ২৯ মার্চ (শনিবার দিবাগত রাত)-এই ৪টি রাতই মমিনদের জন্য হাজার রাতের থেকে উত্তম রাত খোঁজার মোক্ষম সময়।

মালিক আল্লাহ ওয়াদা করেছেন, যেই বান্দা সৎ নিয়তে এবং সৎভাবে সালাত পড়ে এই রাতের সন্ধান করবে, তোর জন্য রয়েছে মহাপুরস্কার।

‘নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ যা বলেছেন, সত্য বলেছেন’