ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo গ্যালাতাসারেকে ৪-১ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগের শীর্ষে বার্সেলোনা Logo টিকার আওতা বাড়াতে ৪–৮ বছর বয়সী মেয়েদের এইচপিভি টিকার বিবেচনার সুপারিশ Logo মধ্য এশিয়ার পাঁচ দেশের বৈঠকে যোগ দিতে উজবেকিস্তান যাচ্ছেন রুবিও Logo জাতীয় সংসদ ভবনে সালাহউদ্দিন আহমেদের প্রথম জানাজা, শ্রদ্ধা জানালেন প্রধানমন্ত্রী Logo ভেজালবিরোধী অভিযানে ৬৪ জেলায় খাদ্য পরীক্ষার উদ্যোগ, মোবাইল ল্যাব পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী Logo খেজুরে তেল মেখে অস্বাস্থ্যকরভাবে প্যাকেটজাত, চট্টগ্রামে ৫ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা Logo এল নিনোর তীব্র প্রভাবে দাবানল-খরা, বাড়ছে খাদ্য ও বিদ্যুৎ সংকটের শঙ্কা Logo ডেঙ্গু প্রতিরোধে পাড়া-মহল্লায় মাইকিং, খুতবায় সচেতনতামূলক বক্তব্যের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর Logo মাদক সেবনের দায়ে শাহরাস্তিতে যুবকের কারাদণ্ড Logo ইন্দোনেশিয়ার দাবানলের ধোঁয়ায় সিঙ্গাপুরে চিকিৎসায় ভর্তুকি, মালয়েশিয়ায় স্কুল বন্ধ

আমেরিকা সফর

মার্কিন প্রভাব সুসংহত করতে লাতিন আমেরিকা সফর শুরু রুবিওর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠপন্থী নেতাদের সমর্থন এবং অঞ্চলটিতে ওয়াশিংটনের প্রভাব আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে মঙ্গলবার কলম্বিয়ায় পৌঁছেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।
এটি তার লাতিন আমেরিকা সফরের প্রথম গন্তব্য।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

কলম্বিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা নির্বাচিত হওয়ার পর ওয়াশিংটন-বোগোতা সম্পর্কে বড় পরিবর্তন এসেছে। এর আগে বামপন্থী সাবেক প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক ছিল বেশ উত্তেজনাপূর্ণ।

৪৮ বছর বয়সী কোটিপতি আইনজীবী দে লা এসপ্রিয়েলা জুনে প্রচলিত রাজনৈতিক ব্যবস্থার বিরোধিতার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচনে জয়ী হন।

মঙ্গলবার ক্যারিবীয় বন্দরনগরী বারানকিয়ায় নতুন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক করবেন রুবিও। শহরটি কূটনীতির চেয়ে পপ তারকা শাকিরার জন্মস্থান হিসেবে বেশি পরিচিত।

জুনের দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে দে লা এসপ্রিয়েলা বামপন্থী প্রার্থীকে পরাজিত করেন। তিনি মাদক ব্যবসায় জড়িত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে শান্তি আলোচনা বন্ধ এবং অপরাধ দমনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

এরপর কলম্বিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে বিমান হামলা বাড়িয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ সামরিক অভিযান পরিচালনার অনুমোদন দিয়েছে।

কলম্বিয়া ট্রাম্পের নেতৃত্বে মাদক পাচারবিরোধী দেশগুলোর জোট ‘শিল্ড অব দ্য আমেরিকাস’-এও যোগ দিয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, সফরের অন্যতম লক্ষ্য হলো ‘মাদক-সন্ত্রাসবাদের’ বিরুদ্ধে যৌথ লড়াইয়ে সহযোগিতা বৃদ্ধি করা।

বারানকিয়ায় রুবিও গত ১০ আগস্ট দেশটির কফি উৎপাদনকারী অঞ্চলে আঘাত হানা শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর পুনর্গঠন নিয়েও আলোচনা করবেন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট জানিয়েছেন, ওই ভূমিকম্পে ৩৩০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়।

ভূমিকম্পে বেশ কয়েকটি শহর, স্কুল, হাসপাতাল ও বহু আবাসিক ভবন ধ্বংস হয়েছে।

নতুন প্রেসিডেন্ট পুনর্গঠনে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা চেয়েছেন। বিশেষ করে পুনর্গঠনকাজে সহায়তার জন্য শুল্ক স্থগিতের অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

লাতিন আমেরিকায় প্রভাব বিস্তারের উচ্চাকাঙ্ক্ষা

লাতিন আমেরিকাজুড়ে একের পর এক ডানপন্থী প্রার্থী নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত কলম্বিয়া, ইকুয়েডর ও পেরু সফর করছেন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কূটনীতিক রুবিও।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর আর্জেন্টিনা, বলিভিয়া, চিলি, কলম্বিয়া, কোস্টারিকা, ইকুয়েডর ও হন্ডুরাসসহ কয়েকটি লাতিন আমেরিকান দেশ রক্ষণশীল রাজনৈতিক অবস্থানের দিকে ঝুঁকেছে বা তা নিশ্চিত করেছে।

‘ডনরো ডকট্রিন’ নামে পরিচিত নীতির আওতায় ওয়াশিংটন দক্ষিণ আমেরিকায় নিজেদের প্রভাব বা আধিপত্য প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ্যে তুলে ধরছে।

এটি ট্রাম্পের প্রথম নাম ‘ডোনাল্ড’ ও যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম প্রেসিডেন্ট জেমস মনরোর নামের সমন্বয়ে তৈরি একটি শব্দ। দুই শতাব্দীরও বেশি আগে মনরো লাতিন আমেরিকাকে যুক্তরাষ্ট্রের একচেটিয়া প্রভাববলয় হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন।

নতুন মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলেও এই উচ্চাকাঙ্ক্ষার কথা স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

কিউবান বংশোদ্ভূত রুবিও এই নীতির অন্যতম প্রধান রূপকার।

রুবিওর এই সফরের শেষ গন্তব্য পেরু। জুলাইয়ের শেষ দিক থেকে দেশটির নেতৃত্বে রয়েছেন ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট কেইকো ফুজিমোরি, যিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নীতির সঙ্গেও একমত।

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০৭:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৩১ বার পঠিত হয়েছে

আমেরিকা সফর

মার্কিন প্রভাব সুসংহত করতে লাতিন আমেরিকা সফর শুরু রুবিওর

আপডেট এর সময় : ০৭:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠপন্থী নেতাদের সমর্থন এবং অঞ্চলটিতে ওয়াশিংটনের প্রভাব আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে মঙ্গলবার কলম্বিয়ায় পৌঁছেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।
এটি তার লাতিন আমেরিকা সফরের প্রথম গন্তব্য।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

কলম্বিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা নির্বাচিত হওয়ার পর ওয়াশিংটন-বোগোতা সম্পর্কে বড় পরিবর্তন এসেছে। এর আগে বামপন্থী সাবেক প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক ছিল বেশ উত্তেজনাপূর্ণ।

৪৮ বছর বয়সী কোটিপতি আইনজীবী দে লা এসপ্রিয়েলা জুনে প্রচলিত রাজনৈতিক ব্যবস্থার বিরোধিতার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচনে জয়ী হন।

মঙ্গলবার ক্যারিবীয় বন্দরনগরী বারানকিয়ায় নতুন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক করবেন রুবিও। শহরটি কূটনীতির চেয়ে পপ তারকা শাকিরার জন্মস্থান হিসেবে বেশি পরিচিত।

জুনের দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে দে লা এসপ্রিয়েলা বামপন্থী প্রার্থীকে পরাজিত করেন। তিনি মাদক ব্যবসায় জড়িত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে শান্তি আলোচনা বন্ধ এবং অপরাধ দমনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

এরপর কলম্বিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে বিমান হামলা বাড়িয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ সামরিক অভিযান পরিচালনার অনুমোদন দিয়েছে।

কলম্বিয়া ট্রাম্পের নেতৃত্বে মাদক পাচারবিরোধী দেশগুলোর জোট ‘শিল্ড অব দ্য আমেরিকাস’-এও যোগ দিয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, সফরের অন্যতম লক্ষ্য হলো ‘মাদক-সন্ত্রাসবাদের’ বিরুদ্ধে যৌথ লড়াইয়ে সহযোগিতা বৃদ্ধি করা।

বারানকিয়ায় রুবিও গত ১০ আগস্ট দেশটির কফি উৎপাদনকারী অঞ্চলে আঘাত হানা শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর পুনর্গঠন নিয়েও আলোচনা করবেন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট জানিয়েছেন, ওই ভূমিকম্পে ৩৩০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়।

ভূমিকম্পে বেশ কয়েকটি শহর, স্কুল, হাসপাতাল ও বহু আবাসিক ভবন ধ্বংস হয়েছে।

নতুন প্রেসিডেন্ট পুনর্গঠনে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা চেয়েছেন। বিশেষ করে পুনর্গঠনকাজে সহায়তার জন্য শুল্ক স্থগিতের অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

লাতিন আমেরিকায় প্রভাব বিস্তারের উচ্চাকাঙ্ক্ষা

লাতিন আমেরিকাজুড়ে একের পর এক ডানপন্থী প্রার্থী নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত কলম্বিয়া, ইকুয়েডর ও পেরু সফর করছেন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কূটনীতিক রুবিও।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর আর্জেন্টিনা, বলিভিয়া, চিলি, কলম্বিয়া, কোস্টারিকা, ইকুয়েডর ও হন্ডুরাসসহ কয়েকটি লাতিন আমেরিকান দেশ রক্ষণশীল রাজনৈতিক অবস্থানের দিকে ঝুঁকেছে বা তা নিশ্চিত করেছে।

‘ডনরো ডকট্রিন’ নামে পরিচিত নীতির আওতায় ওয়াশিংটন দক্ষিণ আমেরিকায় নিজেদের প্রভাব বা আধিপত্য প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ্যে তুলে ধরছে।

এটি ট্রাম্পের প্রথম নাম ‘ডোনাল্ড’ ও যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম প্রেসিডেন্ট জেমস মনরোর নামের সমন্বয়ে তৈরি একটি শব্দ। দুই শতাব্দীরও বেশি আগে মনরো লাতিন আমেরিকাকে যুক্তরাষ্ট্রের একচেটিয়া প্রভাববলয় হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন।

নতুন মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলেও এই উচ্চাকাঙ্ক্ষার কথা স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

কিউবান বংশোদ্ভূত রুবিও এই নীতির অন্যতম প্রধান রূপকার।

রুবিওর এই সফরের শেষ গন্তব্য পেরু। জুলাইয়ের শেষ দিক থেকে দেশটির নেতৃত্বে রয়েছেন ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট কেইকো ফুজিমোরি, যিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নীতির সঙ্গেও একমত।