ঢাকা , শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo বাংলাদেশ-মালদ্বীপ সম্পর্ক জোরদারে সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান রাষ্ট্রপতির Logo নাগোয়ায় টয়োটার মোতোমাচি কারখানা পরিদর্শন করলেন তারেক রহমান Logo বালুরমাঠে এসআরবির অভিযান, গাঁজাসহ আটক ৪ Logo কাজাখস্তানকে হারিয়ে আর্চারিতে বাংলাদেশের মেয়েদের সোনালি সাফল্য Logo ইনানীতে ৩২ ঘণ্টা ধরে জ্বলছে গ্যাসের আগুন, গ্যাসকূপের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে বাপেক্স Logo রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণে জাপানের সহযোগিতা চান তারেক রহমান Logo বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে ইউনিক্লোর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান Logo শিশু-কিশোরদের ক্ষতির অভিযোগে মেটা-স্ন্যাপের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন মামলা Logo তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা জাপানের প্রধানমন্ত্রীর Logo ইয়েমেনে জ্বালানি ও অক্সিজেন সংকটে হাসপাতাল, ঝুঁকিতে রোগীরা

উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতি ও ধীরগতি আর সহ্য করা হবে না : পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি বলেছেন, উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতি ও ধীরগতি আর সহ্য করা হবে না। উন্নয়ন কর্মকাণ্ড আর গতানুগতিক ধারায় চলবে না।

তিনি বলেন, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে গুণগত মান বজায় রাখা, দুর্নীতি কমানো এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার ওপর কঠোর গুরুত্বারোপ করেছে সরকার।

আজ রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের কার্য-অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী।

তিনি আরো বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ও ৩১ দফার আলোকে একটি নতুন ‘স্ট্র্যাটেজিক ফ্রেমওয়ার্ক’ বা কৌশলগত কাঠামো তৈরি করছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়। মূলত উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া বিপর্যস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং বৈষম্য কমিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতেই এই দুই বছর মেয়াদী ফ্রেমওয়ার্ক সাজানো হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, উন্নয়ন বাজেটের (এডিপি) অর্থ ব্যয়ে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের প্রতিটি পর্যায়ে দুর্নীতি ও অর্থের অপচয় রোধে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানোর ওপরও জোর দিচ্ছে সরকার।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের অন্যতম লক্ষ্য এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। এখন থেকে প্রতিটি নতুন প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে তা কতটুকু কর্মসংস্থান তৈরি করবে এবং পরিবেশের ওপর কী প্রভাব ফেলবে, তা প্রধান বিবেচ্য বিষয় হবে। লক্ষ্য হচ্ছে বৈষম্য কমিয়ে একটি ‘ট্রিলিয়ন ডলার ইকোনমি’ বা এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলা।

তিনি বলেন, জেলা প্রশাসকরা প্রকল্প বাস্তবায়নে ভূমি অধিগ্রহণ, আর্থিক বরাদ্দের সময়সূচি, পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন কাঠামোর ঘাটতি এবং দুর্নীতিসহ বিভিন্ন সমস্যার বিষয়ে অনেকগুলো প্রস্তাব ও সুপারিশ উপস্থাপন করেছেন। সরকার এসব সমস্যা সমাধানে একটি সুনির্দিষ্ট ‘অ্যাকশন প্ল্যান’ তৈরি করছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

তিনি আরও বলেন, আইএমইডি-কে (পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ) আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে যাতে প্রতিটি প্রকল্পের ‘ভ্যালু অব মানি’ বা অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়। এছাড়া রিয়েল টাইম বা তাৎক্ষণিক ও সঠিক তথ্য সংগ্রহের জন্য পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগকে (এসআইডি) নতুন করে সাজানো হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড আর গতানুগতিক ধারায় চলবে না। ২০১৭ সালের প্রকল্প এখনো চলমান থাকা বা বারবার মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ার সংস্কৃতি বন্ধ করতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। জনকল্যাণমুখী, সাশ্রয়ী এবং সময়াবদ্ধ প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমেই একটি মানবিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে মাঠ প্রশাসনকে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সম্মেলনে প্রাপ্ত মতামতের ভিত্তিতে দ্রুত নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী।

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০৪:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬
১৭ বার পঠিত হয়েছে

উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতি ও ধীরগতি আর সহ্য করা হবে না : পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী

আপডেট এর সময় : ০৪:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি বলেছেন, উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতি ও ধীরগতি আর সহ্য করা হবে না। উন্নয়ন কর্মকাণ্ড আর গতানুগতিক ধারায় চলবে না।

তিনি বলেন, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে গুণগত মান বজায় রাখা, দুর্নীতি কমানো এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার ওপর কঠোর গুরুত্বারোপ করেছে সরকার।

আজ রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের কার্য-অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী।

তিনি আরো বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ও ৩১ দফার আলোকে একটি নতুন ‘স্ট্র্যাটেজিক ফ্রেমওয়ার্ক’ বা কৌশলগত কাঠামো তৈরি করছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়। মূলত উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া বিপর্যস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং বৈষম্য কমিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতেই এই দুই বছর মেয়াদী ফ্রেমওয়ার্ক সাজানো হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, উন্নয়ন বাজেটের (এডিপি) অর্থ ব্যয়ে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের প্রতিটি পর্যায়ে দুর্নীতি ও অর্থের অপচয় রোধে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানোর ওপরও জোর দিচ্ছে সরকার।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের অন্যতম লক্ষ্য এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। এখন থেকে প্রতিটি নতুন প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে তা কতটুকু কর্মসংস্থান তৈরি করবে এবং পরিবেশের ওপর কী প্রভাব ফেলবে, তা প্রধান বিবেচ্য বিষয় হবে। লক্ষ্য হচ্ছে বৈষম্য কমিয়ে একটি ‘ট্রিলিয়ন ডলার ইকোনমি’ বা এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলা।

তিনি বলেন, জেলা প্রশাসকরা প্রকল্প বাস্তবায়নে ভূমি অধিগ্রহণ, আর্থিক বরাদ্দের সময়সূচি, পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন কাঠামোর ঘাটতি এবং দুর্নীতিসহ বিভিন্ন সমস্যার বিষয়ে অনেকগুলো প্রস্তাব ও সুপারিশ উপস্থাপন করেছেন। সরকার এসব সমস্যা সমাধানে একটি সুনির্দিষ্ট ‘অ্যাকশন প্ল্যান’ তৈরি করছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

তিনি আরও বলেন, আইএমইডি-কে (পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ) আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে যাতে প্রতিটি প্রকল্পের ‘ভ্যালু অব মানি’ বা অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়। এছাড়া রিয়েল টাইম বা তাৎক্ষণিক ও সঠিক তথ্য সংগ্রহের জন্য পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগকে (এসআইডি) নতুন করে সাজানো হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড আর গতানুগতিক ধারায় চলবে না। ২০১৭ সালের প্রকল্প এখনো চলমান থাকা বা বারবার মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ার সংস্কৃতি বন্ধ করতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। জনকল্যাণমুখী, সাশ্রয়ী এবং সময়াবদ্ধ প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমেই একটি মানবিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে মাঠ প্রশাসনকে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সম্মেলনে প্রাপ্ত মতামতের ভিত্তিতে দ্রুত নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী।