ঢাকা , শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo তিন ম্যাচে তিন জয় নিয়ে নক আউটে মেক্সিকো Logo ঝিনাইদহে হত্যা মামলায় ৩ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড Logo ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে প্রাণহানি অন্তত ৩২, আহত ৭ শতাধিক Logo প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের পানিসম্পদ মন্ত্রীর বৈঠকে নদী ব্যবস্থাপনায় ঐকমত্য Logo পরবর্তী এশীয় অর্থনৈতিক বিস্ময় রচনায় অংশীদার হতে চীনা বিনিয়োগকারীদের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর Logo গ্রেট হলে প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা Logo তারেক রহমান ও লি কিয়াং বৈঠক: ঢাকা ও বেইজিংয়ের মধ্যে ১৫টি সমঝোতা স্মারক সই হবে Logo তৃতীয় স্থানের দলগুলো কীভাবে নক আউটে যাবে Logo ঝালকাঠিতে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন বিষয়ে সাংবাদিক অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত Logo উ. কোরিয়ার সেনাকে হেফাজতে নিল সিউল

একাদশ সংসদ নির্বাচনে প্রতি আসনে ইসির খরচ ২ কোটি ৩৪ লাখ টাকা

প্রতিনিধির নাম :
একাদশ জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনে অংশগ্রহণমূলক ভোটগ্রহণের সম্ভাবনার মধ্যে ৭০২ কোটি টাকার বাজেট নির্ধারণ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রতি আসনের জন্য সম্ভাব্য ব্যয় দুই কোটি ৩৪ লাখ টাকা। ৭০২ কোটি টাকার মধ্যে নির্বাচন পরিচালনা ব্যয় প্রায় ৩০০ কোটি টাকা আর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার ব্যয় ৪০০ কোটি টাকার কাছাকাছি। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৫৩টি আসনে ভোটের প্রয়োজন হয়নি। তারপরও ১৪৭ আসনে ভোটগ্রহণের জন্য ব্যয় হয় ৩৩৩ কোটি টাকার ওপরে। প্রতি আসনের জন্য গড় ব্যয় দুই কোটি ২৬ লাখ টাকার কাছাকাছি। নির্বাচন কর্মকর্তা বলছেন, গত পাঁচ বছরে জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ার সঙ্গে তুলনা করলে এই বাজেট গত নির্বাচনের চেয়ে কম। বিশেষ করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা খাতে এবার বরাদ্দ স্বাভাবিক  রাখা হয়েছে।
কমিশন সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, গত নির্বাচনে প্রিজাইডিং অফিসারদের ভাতা ছিল তিন হাজার টাকা করে। এবার তা চার হাজার টাকা করা হয়েছে। সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারদের ভাতা ছিল  দুই  হাজার টাকা করে। এবার করা হয়েছে তিন হাজার টাকা। পোলিং অফিসারদের ভাতা ছিল দেড় হাজার  হাজার টাকা করে। এবার তা দুই হাজার টাকা করা হয়েছে। ভোট কেন্দ্রে মালামাল পরিবহনের ব্যয় ছিল দুই হাজার টাকা করে। এবার তা তিন হাজার  টাকা করা হয়েছে। ভোটকেন্দ্রের বেষ্টনী, অস্থায়ী ভোট কেন্দ্র ও অস্থায়ী ভোট স্থাপনের ব্যয় বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। তবে কমিশন সচিবালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির শঙ্কা কম থাকায় এ খাতে ব্যয়ও কিছুটা কমে আসে।
দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা নির্বাচনী বাজেট নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে ৪০০ কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ রাখা হয় পুলিশ, র্যাব, আনসার, বিজিবি, সশস্ত্র বাহিনী ও কোস্ট গার্ডের জন্য। তবে ১৫৪টি আসনে ভোটগ্রহণের প্রয়োজন না থাকায় ব্যয় কিছুটা কমে ৩৩৩ কোটি সাত লাখ ৭৬ হাজার ৯৬ টাকায় দাঁড়ায়। নির্বাচন পরিচালনা ও প্রশিক্ষণ ব্যয় ছিল ১৩৩ কোটি ১৪ লাখ ৬৭ হাজার ৪৬৫ টাকা। আর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার ব্যয় ছিল ১৯৯ কোটি ৯৩ লাখ আট হাজার ৬৩১ টাকা।
দশম সংসদ নির্বাচনের এই ব্যয় সম্পর্কে ইসি সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা বলেন, ওই নির্বাচনে ‘বিশেষ পরিস্থিতি’ নিয়ন্ত্রণের জন্য বেশি ব্যয় হয়। যেমন-ভোটকেন্দ্রে ব্যালট পেপার, ব্যালট বাক্স ও অন্যান্য নির্বাচনী সামগ্রী পাঠানোর জন্য যে ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিতে হয়েছিল তা অন্য নির্বাচনে হয়নি।
জানা যায়, অতীতেও এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। প্রতিকূল অবস্থার কারণে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও নির্বাচন পরিচালনা ব্যয়ের চেয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার ব্যয় হয়েছিল প্রায় চার গুণ বেশি। অন্যদিকে সবার অংশগ্রহণে শান্তিপূর্ণ পরিবেশের নির্বাচনগুলোয় নির্বাচন পরিচালনার ব্যয়ের চেয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার ব্যয় ছিল দ্বিগুণ বা তারও কম।
কমিশন সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচন পরিচালনা ব্যয় ছিল সাত কোটি ৬২ লাখ ৯৬ হাজার ৩০১ টাকা। অন্যদিকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার ব্যয় ছিল ২৯ কোটি ৪১ লাখ ৪৯ হাজার ৭২৯ টাকা। অথচ ওই নির্বাচনের কয়েক মাস পর সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচন পরিচালনা ব্যয় যেখানে ছিল ১১ কোটি ৪৭ লাখ ২২ হাজার ৩৪৭ টাকা সেখানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার ব্যয় ছিল ১৮ কোটি ৭৯ লাখ এক হাজার টাকা।
অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচন পরিচালনা ব্যয় ছিল ৩০ কোটি ৬৩ লাখ ৪৮ হাজার ৮৫৮ টাকা। অন্যদিকে  আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার ব্যয় ছিল ৪২ কোটি সাত লাখ ৮৩ হাজার ৩৬২ টাকা। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচন পরিচালনা ব্যয় ছিল ৬৭ কোটি ২১ লাখ চার হাজার ৬৭২ টাকা। অন্যদিকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার ব্যয় ছিল ৯৭ কোটি ৭৯ লাখ ৪৬ হাজার ১৪ টাকা
Tag :

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০৪:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৮
১০ বার পঠিত হয়েছে

একাদশ সংসদ নির্বাচনে প্রতি আসনে ইসির খরচ ২ কোটি ৩৪ লাখ টাকা

আপডেট এর সময় : ০৪:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৮
একাদশ জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনে অংশগ্রহণমূলক ভোটগ্রহণের সম্ভাবনার মধ্যে ৭০২ কোটি টাকার বাজেট নির্ধারণ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রতি আসনের জন্য সম্ভাব্য ব্যয় দুই কোটি ৩৪ লাখ টাকা। ৭০২ কোটি টাকার মধ্যে নির্বাচন পরিচালনা ব্যয় প্রায় ৩০০ কোটি টাকা আর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার ব্যয় ৪০০ কোটি টাকার কাছাকাছি। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৫৩টি আসনে ভোটের প্রয়োজন হয়নি। তারপরও ১৪৭ আসনে ভোটগ্রহণের জন্য ব্যয় হয় ৩৩৩ কোটি টাকার ওপরে। প্রতি আসনের জন্য গড় ব্যয় দুই কোটি ২৬ লাখ টাকার কাছাকাছি। নির্বাচন কর্মকর্তা বলছেন, গত পাঁচ বছরে জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ার সঙ্গে তুলনা করলে এই বাজেট গত নির্বাচনের চেয়ে কম। বিশেষ করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা খাতে এবার বরাদ্দ স্বাভাবিক  রাখা হয়েছে।
কমিশন সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, গত নির্বাচনে প্রিজাইডিং অফিসারদের ভাতা ছিল তিন হাজার টাকা করে। এবার তা চার হাজার টাকা করা হয়েছে। সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারদের ভাতা ছিল  দুই  হাজার টাকা করে। এবার করা হয়েছে তিন হাজার টাকা। পোলিং অফিসারদের ভাতা ছিল দেড় হাজার  হাজার টাকা করে। এবার তা দুই হাজার টাকা করা হয়েছে। ভোট কেন্দ্রে মালামাল পরিবহনের ব্যয় ছিল দুই হাজার টাকা করে। এবার তা তিন হাজার  টাকা করা হয়েছে। ভোটকেন্দ্রের বেষ্টনী, অস্থায়ী ভোট কেন্দ্র ও অস্থায়ী ভোট স্থাপনের ব্যয় বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। তবে কমিশন সচিবালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির শঙ্কা কম থাকায় এ খাতে ব্যয়ও কিছুটা কমে আসে।
দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা নির্বাচনী বাজেট নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে ৪০০ কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ রাখা হয় পুলিশ, র্যাব, আনসার, বিজিবি, সশস্ত্র বাহিনী ও কোস্ট গার্ডের জন্য। তবে ১৫৪টি আসনে ভোটগ্রহণের প্রয়োজন না থাকায় ব্যয় কিছুটা কমে ৩৩৩ কোটি সাত লাখ ৭৬ হাজার ৯৬ টাকায় দাঁড়ায়। নির্বাচন পরিচালনা ও প্রশিক্ষণ ব্যয় ছিল ১৩৩ কোটি ১৪ লাখ ৬৭ হাজার ৪৬৫ টাকা। আর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার ব্যয় ছিল ১৯৯ কোটি ৯৩ লাখ আট হাজার ৬৩১ টাকা।
দশম সংসদ নির্বাচনের এই ব্যয় সম্পর্কে ইসি সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা বলেন, ওই নির্বাচনে ‘বিশেষ পরিস্থিতি’ নিয়ন্ত্রণের জন্য বেশি ব্যয় হয়। যেমন-ভোটকেন্দ্রে ব্যালট পেপার, ব্যালট বাক্স ও অন্যান্য নির্বাচনী সামগ্রী পাঠানোর জন্য যে ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিতে হয়েছিল তা অন্য নির্বাচনে হয়নি।
জানা যায়, অতীতেও এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। প্রতিকূল অবস্থার কারণে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও নির্বাচন পরিচালনা ব্যয়ের চেয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার ব্যয় হয়েছিল প্রায় চার গুণ বেশি। অন্যদিকে সবার অংশগ্রহণে শান্তিপূর্ণ পরিবেশের নির্বাচনগুলোয় নির্বাচন পরিচালনার ব্যয়ের চেয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার ব্যয় ছিল দ্বিগুণ বা তারও কম।
কমিশন সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচন পরিচালনা ব্যয় ছিল সাত কোটি ৬২ লাখ ৯৬ হাজার ৩০১ টাকা। অন্যদিকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার ব্যয় ছিল ২৯ কোটি ৪১ লাখ ৪৯ হাজার ৭২৯ টাকা। অথচ ওই নির্বাচনের কয়েক মাস পর সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচন পরিচালনা ব্যয় যেখানে ছিল ১১ কোটি ৪৭ লাখ ২২ হাজার ৩৪৭ টাকা সেখানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার ব্যয় ছিল ১৮ কোটি ৭৯ লাখ এক হাজার টাকা।
অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচন পরিচালনা ব্যয় ছিল ৩০ কোটি ৬৩ লাখ ৪৮ হাজার ৮৫৮ টাকা। অন্যদিকে  আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার ব্যয় ছিল ৪২ কোটি সাত লাখ ৮৩ হাজার ৩৬২ টাকা। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচন পরিচালনা ব্যয় ছিল ৬৭ কোটি ২১ লাখ চার হাজার ৬৭২ টাকা। অন্যদিকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার ব্যয় ছিল ৯৭ কোটি ৭৯ লাখ ৪৬ হাজার ১৪ টাকা