ঢাকা , শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo আত-তানযীল ইনস্টিটিউট চট্টগ্রামে সীরাত অলিম্পিয়াড ছোটদের হৃদয়ে নবীপ্রেম প্রতিপাদ্যে প্রাণবন্ত আয়োজন ২০২৬  Logo বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ৫ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা Logo বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে পিপল-টু-পিপল কানেক্টিভিটিতে শিক্ষাই হোক চালিকাশক্তি : মাহদী আমিন Logo ঢাকায় ভুটানের রাজার যাত্রাবিরতি, সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন রাষ্ট্রপতি Logo সামাজিক মূল্যবোধ ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে খেলাধুলার বিকল্প নাই: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী Logo ইনিংস ও ৪১৩ রানে হারল বাংলাদেশ ‘এ’ Logo নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সীদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার বাড়ছে Logo কালো দাগ’ মুক্ত সিরিয়া, খুলেছে উন্নয়নের পথ : প্রেসিডেন্ট শারা Logo পাকিস্তানের হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডে ১৪ শিশুর মৃত্যু Logo বুদ্ধিবৃত্তিক ফ্যাসিজম চর্চাকারীদের সামাজিকভাবে বয়কটের আহ্বান তথ্যমন্ত্রীর

কাজ করে খামু, ভিক্ষা করুম না : বাকপ্রতিবন্ধি ও ভূমিহীন সজল আলী

প্রতিনিধির নাম :

অনলাইন ডেস্ক :  অভাব-অনটনের কারণে ভিক্ষা করে সংসার চালিয়েছেন বাকপ্রতিবন্ধি ও ভূমিহীন সজল আলী। তার একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। ভিক্ষা করে তাকে গ্রামের একটি মাদ্রাসায় পড়ান সজল। ভিক্ষার উপার্জন দিয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয়েছে তার।

সজল আলী সিংগাই উপজেলার দক্ষিণ চারিগ্রাম গ্রামের উজ্জ্বল হোসেনের ছেলে। তিনি তার পরিবারসহ সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাস করেন।

সজলের বাবা উজ্জ্বল হোসেন বলেন, আমাদের জায়গা জমি নেই। আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাস করি। আমার ছেলে ও একটি মেয়ে প্রতিবন্ধি। ছেলে ভিক্ষা করে আমাদের সংসারের সহযোগিতা করছে। আমার ছেলেকে বিয়ে করিয়েছিলাম। ছেলে প্রতিবন্ধি হওয়ায় বউ চলে গেছে। সজলের ৬ বছরের একটি ছেলে রয়েছে। তাকে মাদ্রাসায় পড়াই।

তিনি বলেন, সরকার আমার ছেলেকে একটি রিকশা কিনে দিয়েছে। আমার ছেলে এখন আর ভিক্ষা করবে না। আমি বাবা হিসেবে এখন গর্ব করে বলতে পারব, আমার ছেলে এখন রিকশা চালায়।

সজল বলেন, এখন কাজ করে খামু, আমি আর ভিক্ষা করুম না। আমাকে সমাজসেবা থেকে রিকশা কিনে দিয়েছে। এখন রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করব।

জেলা সমাজসেবা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় মোট ভিক্ষুক রয়েছে ১৪৯ জন। এরমধ্যে থেকে ৭ জন ভিক্ষুককে পুনর্বাসন করে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে। যেমন- সজল আলীকে রিকশা কেনা দেওয়া হয়েছে। অন্যদের মুদি দোকান করে দেওয়া হয়েছে।

জেলা সমাজসেবা উপ-পরিচালক আব্দুল বাতেন বলেন, সরকারি নির্দেশনায় ভিক্ষুকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে সিংগাইর উপজেলার ৭ জন ভিক্ষুককে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যদেরও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে।

জেলা প্রশাসক ড. মানোয়ার হোসেন মোল্লা বলেন, সমাজে কেউ যেন অবহেলিত না থাকে সেই লক্ষে ভিক্ষুকদের পুনর্বাসন এবং কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেওয়া হচ্ছে। কাউকে যেন ভিক্ষাবৃত্তি করে না চলতে হয় সেই লক্ষে সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তশালীদের সহযোগিতার মাধ্যমে পাশে দাঁড়ানো উচিত।

Tag :

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০৩:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫
৪২ বার পঠিত হয়েছে

কাজ করে খামু, ভিক্ষা করুম না : বাকপ্রতিবন্ধি ও ভূমিহীন সজল আলী

আপডেট এর সময় : ০৩:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫

অনলাইন ডেস্ক :  অভাব-অনটনের কারণে ভিক্ষা করে সংসার চালিয়েছেন বাকপ্রতিবন্ধি ও ভূমিহীন সজল আলী। তার একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। ভিক্ষা করে তাকে গ্রামের একটি মাদ্রাসায় পড়ান সজল। ভিক্ষার উপার্জন দিয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয়েছে তার।

সজল আলী সিংগাই উপজেলার দক্ষিণ চারিগ্রাম গ্রামের উজ্জ্বল হোসেনের ছেলে। তিনি তার পরিবারসহ সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাস করেন।

সজলের বাবা উজ্জ্বল হোসেন বলেন, আমাদের জায়গা জমি নেই। আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাস করি। আমার ছেলে ও একটি মেয়ে প্রতিবন্ধি। ছেলে ভিক্ষা করে আমাদের সংসারের সহযোগিতা করছে। আমার ছেলেকে বিয়ে করিয়েছিলাম। ছেলে প্রতিবন্ধি হওয়ায় বউ চলে গেছে। সজলের ৬ বছরের একটি ছেলে রয়েছে। তাকে মাদ্রাসায় পড়াই।

তিনি বলেন, সরকার আমার ছেলেকে একটি রিকশা কিনে দিয়েছে। আমার ছেলে এখন আর ভিক্ষা করবে না। আমি বাবা হিসেবে এখন গর্ব করে বলতে পারব, আমার ছেলে এখন রিকশা চালায়।

সজল বলেন, এখন কাজ করে খামু, আমি আর ভিক্ষা করুম না। আমাকে সমাজসেবা থেকে রিকশা কিনে দিয়েছে। এখন রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করব।

জেলা সমাজসেবা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় মোট ভিক্ষুক রয়েছে ১৪৯ জন। এরমধ্যে থেকে ৭ জন ভিক্ষুককে পুনর্বাসন করে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে। যেমন- সজল আলীকে রিকশা কেনা দেওয়া হয়েছে। অন্যদের মুদি দোকান করে দেওয়া হয়েছে।

জেলা সমাজসেবা উপ-পরিচালক আব্দুল বাতেন বলেন, সরকারি নির্দেশনায় ভিক্ষুকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে সিংগাইর উপজেলার ৭ জন ভিক্ষুককে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যদেরও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে।

জেলা প্রশাসক ড. মানোয়ার হোসেন মোল্লা বলেন, সমাজে কেউ যেন অবহেলিত না থাকে সেই লক্ষে ভিক্ষুকদের পুনর্বাসন এবং কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেওয়া হচ্ছে। কাউকে যেন ভিক্ষাবৃত্তি করে না চলতে হয় সেই লক্ষে সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তশালীদের সহযোগিতার মাধ্যমে পাশে দাঁড়ানো উচিত।