ঢাকা , শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo তিন ম্যাচে তিন জয় নিয়ে নক আউটে মেক্সিকো Logo ঝিনাইদহে হত্যা মামলায় ৩ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড Logo ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে প্রাণহানি অন্তত ৩২, আহত ৭ শতাধিক Logo প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের পানিসম্পদ মন্ত্রীর বৈঠকে নদী ব্যবস্থাপনায় ঐকমত্য Logo পরবর্তী এশীয় অর্থনৈতিক বিস্ময় রচনায় অংশীদার হতে চীনা বিনিয়োগকারীদের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর Logo গ্রেট হলে প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা Logo তারেক রহমান ও লি কিয়াং বৈঠক: ঢাকা ও বেইজিংয়ের মধ্যে ১৫টি সমঝোতা স্মারক সই হবে Logo তৃতীয় স্থানের দলগুলো কীভাবে নক আউটে যাবে Logo ঝালকাঠিতে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন বিষয়ে সাংবাদিক অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত Logo উ. কোরিয়ার সেনাকে হেফাজতে নিল সিউল

‘জামায়াতের অন্য কোনো মাস্টারপ্ল্যান থাকতে পারে’, কেন বললেন রিজভী

প্রতিনিধির নাম :

অনলাইন ডেস্ক:    গণতন্ত্রের অভিযাত্রায় সংকট সৃষ্টি হলে ‘কালো ঘোড়ার অনুপ্রবেশ’ হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।বুধবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রিজভী বলেন, বিশ্বের অধিকাংশ গণতান্ত্রিক দেশ, যেগুলো অতি উন্নত গণতান্ত্রিক দেশ যেমন- ব্রিটেন, আমেরিকা যদি আমরা বলি বা আরও অন্যান্য দেশে প্রতিনিধি নির্বাচনের যে পদ্ধতিটা চালু আছে… সরাসরি প্রার্থীকে ভোট দেওয়া… তো আমাদের এখানে কী এমন ঘটনা ঘটল যে, পিআরই হচ্ছে উৎকৃষ্ট গণতন্ত্রের মডেল?

‘এটা আমার মনে হয় অবান্তর কথা তারা (জামায়াতে ইসলামী) বলছে। এটা বলে একটা বিভ্রান্তি তৈরি করছেন অথবা তাদের অন্য কোনো মাস্টারপ্ল্যান আছে কিনা আমি জানি না…থাকলেও থাকতে পারে যে, নির্বাচন হওয়া না হওয়া নিয়ে’।

তিনি বলেন, আমি মনে করি যে, যারা গণতান্ত্রিক সংগ্রামে অংশগ্রহণ করেছেন তারা প্রত্যেকেই এমন একটি জায়গায় উপনীত হবেন, যাতে আমাদের পরবর্তী গণতন্ত্রের অভিযাত্রার পথে আমাদের যেন বিঘ্ন না ঘটে। তা না হলে কালো ঘোড়া প্রবেশ করতে পারে, কালো ঘোড়া ঢুকে যেতে পারে।

রিজভী বলেন, উন্নত বিশ্বের দেশ দীর্ঘ দিনের গণতন্ত্র চর্চার দেশেও এখন কথা উঠেছে, এই পদ্ধতিতে (পিআর) জনমতের ট্রু রিফ্লেকশনটা হয় না। এ নিয়ে সেসব দেশে আলাপ-আলোচনা, বির্তক চলছে। আপনি জানেন যে, জাপান গণতন্ত্রের দিক থেকে অতি উন্নত একটি দেশ এবং সেখানেও ৩৭% পিআর পদ্ধতি চালু আছে। সেখানে সারা বিশ্বেই পিআর পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা, সমালোচনা চলছে, কোথাও পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়িত হয়নি সেখানে হঠাৎ করে আমাদের এখানে কেন চালু করতে চাইবেন?

তিনি বলেন, আমরা মনে করি, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে আপনি হঠাৎ করে পিআরের কথা বললে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করবে। আমি এ পর্যন্ত যত জরিপ দেখেছি, বিশেষ করে গণমাধ্যমে সেখানে অধিকাংশ মানুষ আনুপাতিক হারে ভোট পদ্ধতি সম্পর্কে তাদের কোনো ধারণা নাই এবং অনেকেই কনফিউজড।

গণভোট ও নির্বাচন প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, জুলাই সনদে গণভোটের যে ব্যাপারটা রয়েছে… দুই-একটি দল চাচ্ছেন তারা এটি আগে করার জন্য। এখন আগে আপনি কখন করবেন? যদি জাতীয় নির্বাচন ফেব্রুয়ারির প্রথম বা দ্বিতীয় সপ্তাহে হয়… কারণ ফেব্রুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহে রোজা শুরু হবে। তাহলে নিশ্চয়ই রোজার আগে নির্বাচন করতে হবে। সেক্ষেত্রে নির্বাচন এবং গণভোট একসঙ্গে করা ছাড়া তো আর অন্য কোনো গত্যন্তর নেই।

তিনি বলেন, এখন অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়…নির্বাচন ও গণভোটের তো একটা প্রস্তুতি আছে। জনগণকে সম্পৃক্ত করতে হয়, বহুবিধ কাজ থাকে, বহু কার্যক্রম থাকে। ফলে গণভোট আগে করে ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচন করবেন কী করে? এতে সংকট তৈরি করবে বরং একই দিনে গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়াটাই বাঞ্ছনীয় বলে মনে সবাই করছেন, এটাই সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে।

রিজভী বলেন, জাতীয় নির্বাচন দ্রুত হওয়া জরুরি। প্রত্যেকেই মনে করছেন যে, দেশে রাজনৈতিক সমস্যা, অর্থনৈতিক সমস্যা দিনকে দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আপনারা অর্থনৈতিক অবস্থা দেখছেন যে, বিনিয়োগ একেবারে শূন্যের কোঠায়। কারণ নির্বাচিত সরকার নেই। নির্বাচিত সরকার থাকলে পরে দেশ-বিদেশের বিনিয়োগকারীরা তারা আস্থাশীল হয়, তারা বিনিয়োগ করতে আস্থাবান হয় এবং তারা বিনিয়োগ করেন। বিনিয়োগের সঙ্গে কর্মসংস্থানের যেমন একটা বিষয় আছে এবং অর্থনীতিকে সামগ্রিকভাবে চাঙ্গা করার একটা বিষয় আছে। সেই ক্ষেত্রে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরিত না হলে পরে সংকট আরও ঘনীভূত হবে।

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০৬:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৫
১৩ বার পঠিত হয়েছে

‘জামায়াতের অন্য কোনো মাস্টারপ্ল্যান থাকতে পারে’, কেন বললেন রিজভী

আপডেট এর সময় : ০৬:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৫

অনলাইন ডেস্ক:    গণতন্ত্রের অভিযাত্রায় সংকট সৃষ্টি হলে ‘কালো ঘোড়ার অনুপ্রবেশ’ হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।বুধবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রিজভী বলেন, বিশ্বের অধিকাংশ গণতান্ত্রিক দেশ, যেগুলো অতি উন্নত গণতান্ত্রিক দেশ যেমন- ব্রিটেন, আমেরিকা যদি আমরা বলি বা আরও অন্যান্য দেশে প্রতিনিধি নির্বাচনের যে পদ্ধতিটা চালু আছে… সরাসরি প্রার্থীকে ভোট দেওয়া… তো আমাদের এখানে কী এমন ঘটনা ঘটল যে, পিআরই হচ্ছে উৎকৃষ্ট গণতন্ত্রের মডেল?

‘এটা আমার মনে হয় অবান্তর কথা তারা (জামায়াতে ইসলামী) বলছে। এটা বলে একটা বিভ্রান্তি তৈরি করছেন অথবা তাদের অন্য কোনো মাস্টারপ্ল্যান আছে কিনা আমি জানি না…থাকলেও থাকতে পারে যে, নির্বাচন হওয়া না হওয়া নিয়ে’।

তিনি বলেন, আমি মনে করি যে, যারা গণতান্ত্রিক সংগ্রামে অংশগ্রহণ করেছেন তারা প্রত্যেকেই এমন একটি জায়গায় উপনীত হবেন, যাতে আমাদের পরবর্তী গণতন্ত্রের অভিযাত্রার পথে আমাদের যেন বিঘ্ন না ঘটে। তা না হলে কালো ঘোড়া প্রবেশ করতে পারে, কালো ঘোড়া ঢুকে যেতে পারে।

রিজভী বলেন, উন্নত বিশ্বের দেশ দীর্ঘ দিনের গণতন্ত্র চর্চার দেশেও এখন কথা উঠেছে, এই পদ্ধতিতে (পিআর) জনমতের ট্রু রিফ্লেকশনটা হয় না। এ নিয়ে সেসব দেশে আলাপ-আলোচনা, বির্তক চলছে। আপনি জানেন যে, জাপান গণতন্ত্রের দিক থেকে অতি উন্নত একটি দেশ এবং সেখানেও ৩৭% পিআর পদ্ধতি চালু আছে। সেখানে সারা বিশ্বেই পিআর পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা, সমালোচনা চলছে, কোথাও পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়িত হয়নি সেখানে হঠাৎ করে আমাদের এখানে কেন চালু করতে চাইবেন?

তিনি বলেন, আমরা মনে করি, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে আপনি হঠাৎ করে পিআরের কথা বললে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করবে। আমি এ পর্যন্ত যত জরিপ দেখেছি, বিশেষ করে গণমাধ্যমে সেখানে অধিকাংশ মানুষ আনুপাতিক হারে ভোট পদ্ধতি সম্পর্কে তাদের কোনো ধারণা নাই এবং অনেকেই কনফিউজড।

গণভোট ও নির্বাচন প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, জুলাই সনদে গণভোটের যে ব্যাপারটা রয়েছে… দুই-একটি দল চাচ্ছেন তারা এটি আগে করার জন্য। এখন আগে আপনি কখন করবেন? যদি জাতীয় নির্বাচন ফেব্রুয়ারির প্রথম বা দ্বিতীয় সপ্তাহে হয়… কারণ ফেব্রুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহে রোজা শুরু হবে। তাহলে নিশ্চয়ই রোজার আগে নির্বাচন করতে হবে। সেক্ষেত্রে নির্বাচন এবং গণভোট একসঙ্গে করা ছাড়া তো আর অন্য কোনো গত্যন্তর নেই।

তিনি বলেন, এখন অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়…নির্বাচন ও গণভোটের তো একটা প্রস্তুতি আছে। জনগণকে সম্পৃক্ত করতে হয়, বহুবিধ কাজ থাকে, বহু কার্যক্রম থাকে। ফলে গণভোট আগে করে ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচন করবেন কী করে? এতে সংকট তৈরি করবে বরং একই দিনে গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়াটাই বাঞ্ছনীয় বলে মনে সবাই করছেন, এটাই সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে।

রিজভী বলেন, জাতীয় নির্বাচন দ্রুত হওয়া জরুরি। প্রত্যেকেই মনে করছেন যে, দেশে রাজনৈতিক সমস্যা, অর্থনৈতিক সমস্যা দিনকে দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আপনারা অর্থনৈতিক অবস্থা দেখছেন যে, বিনিয়োগ একেবারে শূন্যের কোঠায়। কারণ নির্বাচিত সরকার নেই। নির্বাচিত সরকার থাকলে পরে দেশ-বিদেশের বিনিয়োগকারীরা তারা আস্থাশীল হয়, তারা বিনিয়োগ করতে আস্থাবান হয় এবং তারা বিনিয়োগ করেন। বিনিয়োগের সঙ্গে কর্মসংস্থানের যেমন একটা বিষয় আছে এবং অর্থনীতিকে সামগ্রিকভাবে চাঙ্গা করার একটা বিষয় আছে। সেই ক্ষেত্রে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরিত না হলে পরে সংকট আরও ঘনীভূত হবে।