ঢাকা , শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo তিন ম্যাচে তিন জয় নিয়ে নক আউটে মেক্সিকো Logo ঝিনাইদহে হত্যা মামলায় ৩ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড Logo ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে প্রাণহানি অন্তত ৩২, আহত ৭ শতাধিক Logo প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের পানিসম্পদ মন্ত্রীর বৈঠকে নদী ব্যবস্থাপনায় ঐকমত্য Logo পরবর্তী এশীয় অর্থনৈতিক বিস্ময় রচনায় অংশীদার হতে চীনা বিনিয়োগকারীদের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর Logo গ্রেট হলে প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা Logo তারেক রহমান ও লি কিয়াং বৈঠক: ঢাকা ও বেইজিংয়ের মধ্যে ১৫টি সমঝোতা স্মারক সই হবে Logo তৃতীয় স্থানের দলগুলো কীভাবে নক আউটে যাবে Logo ঝালকাঠিতে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন বিষয়ে সাংবাদিক অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত Logo উ. কোরিয়ার সেনাকে হেফাজতে নিল সিউল

নিখাদ দেশপ্রেমিক নেত্রীর শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয়, বললেন প্রধান উপদেষ্টা

প্রতিনিধির নাম :

অনলাইন ডেস্ক:     দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে জাতি এক গভীর শোকের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তার ইন্তেকালে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে সরকার এবং তার জানাজার দিন বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) এক দিনের সাধারণ ছুটি দেওয়া হয়েছে। জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, এমন একজন নিখাদ দেশপ্রেমিক নেত্রীর শূন্যতা কখনোই পূরণ হওয়ার নয়।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টার দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন বেগম খালেদা জিয়া। দীর্ঘদিন ধরে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তার মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পরপরই দেশজুড়ে নেমে আসে শোকের ছায়া। রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সর্বস্তরের মানুষ তাকে স্মরণ করছেন গভীর শ্রদ্ধা ও বেদনায়।

মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আজ আমাদের পুরো জাতি গভীর শোক ও বেদনায় নিস্তব্ধ। দেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতির শীর্ষ নেত্রী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আর আমাদের মাঝে নেই। তার ইন্তেকালে আমরা গভীরভাবে শোকাহত ও মর্মাহত।” তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে জাতি এক মহান অভিভাবককে হারিয়েছে।

ভাষণে অধ্যাপক ইউনূস খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ভূমিকার কথা স্মরণ করে বলেন, তিনি ছিলেন বাংলাদেশের রাজনীতির এক মহিমান্বিত ব্যক্তিত্ব। গণতন্ত্র, বহুদলীয় রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তার অবদান ইতিহাসে অম্লান হয়ে থাকবে। স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে তার আপসহীন নেতৃত্ব বারবার জাতিকে গণতন্ত্রহীন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের পথ দেখিয়েছে এবং মানুষের মধ্যে মুক্তির প্রেরণা জুগিয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “দেশ ও জাতির প্রতি তার সমুজ্জ্বল অবদান জাতি চিরকাল শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন, গণমুখী নেতৃত্ব এবং মাতৃভূমির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তার অবিচল ভূমিকা অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে। এমন একজন দূরদর্শী ও নিখাদ দেশপ্রেমিক নেত্রীর শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয়।”

শোকাবহ এই সময়ে দেশবাসীর প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সবাই যেন ঐক্যবদ্ধ থাকে এবং কোনো অস্থিতিশীলতা বা নাশকতার অপচেষ্টা যেন মাথাচাড়া দিতে না পারে, সে বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে। তিনি বলেন, “এই সময়ে আমাদের সবার দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা অত্যন্ত জরুরি।” একই সঙ্গে নামাজে জানাজাসহ সব ধরনের শোক পালনে শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।

প্রধান উপদেষ্টা আরও জানান, বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে এবং তার জানাজার দিন বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সারা দেশে সাধারণ ছুটি থাকবে। তিনি শোকাহত পরিবার, রাজনৈতিক সহকর্মী এবং অসংখ্য কর্মী ও সমর্থকের প্রতি সমগ্র জাতির পক্ষ থেকে গভীর সমবেদনা জানান এবং সবার জন্য ধৈর্য ও শক্তি কামনা করে মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন।

খালেদা জিয়ার প্রয়াণে রাজনৈতিক অঙ্গনে এক দীর্ঘ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময় ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠা এই নেতা দীর্ঘ চার দশকের বেশি সময় ধরে দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে গেছেন।

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০২:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫
২২ বার পঠিত হয়েছে

নিখাদ দেশপ্রেমিক নেত্রীর শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয়, বললেন প্রধান উপদেষ্টা

আপডেট এর সময় : ০২:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫

অনলাইন ডেস্ক:     দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে জাতি এক গভীর শোকের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তার ইন্তেকালে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে সরকার এবং তার জানাজার দিন বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) এক দিনের সাধারণ ছুটি দেওয়া হয়েছে। জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, এমন একজন নিখাদ দেশপ্রেমিক নেত্রীর শূন্যতা কখনোই পূরণ হওয়ার নয়।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টার দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন বেগম খালেদা জিয়া। দীর্ঘদিন ধরে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তার মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পরপরই দেশজুড়ে নেমে আসে শোকের ছায়া। রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সর্বস্তরের মানুষ তাকে স্মরণ করছেন গভীর শ্রদ্ধা ও বেদনায়।

মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আজ আমাদের পুরো জাতি গভীর শোক ও বেদনায় নিস্তব্ধ। দেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতির শীর্ষ নেত্রী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আর আমাদের মাঝে নেই। তার ইন্তেকালে আমরা গভীরভাবে শোকাহত ও মর্মাহত।” তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে জাতি এক মহান অভিভাবককে হারিয়েছে।

ভাষণে অধ্যাপক ইউনূস খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ভূমিকার কথা স্মরণ করে বলেন, তিনি ছিলেন বাংলাদেশের রাজনীতির এক মহিমান্বিত ব্যক্তিত্ব। গণতন্ত্র, বহুদলীয় রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তার অবদান ইতিহাসে অম্লান হয়ে থাকবে। স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে তার আপসহীন নেতৃত্ব বারবার জাতিকে গণতন্ত্রহীন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের পথ দেখিয়েছে এবং মানুষের মধ্যে মুক্তির প্রেরণা জুগিয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “দেশ ও জাতির প্রতি তার সমুজ্জ্বল অবদান জাতি চিরকাল শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন, গণমুখী নেতৃত্ব এবং মাতৃভূমির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তার অবিচল ভূমিকা অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে। এমন একজন দূরদর্শী ও নিখাদ দেশপ্রেমিক নেত্রীর শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয়।”

শোকাবহ এই সময়ে দেশবাসীর প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সবাই যেন ঐক্যবদ্ধ থাকে এবং কোনো অস্থিতিশীলতা বা নাশকতার অপচেষ্টা যেন মাথাচাড়া দিতে না পারে, সে বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে। তিনি বলেন, “এই সময়ে আমাদের সবার দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা অত্যন্ত জরুরি।” একই সঙ্গে নামাজে জানাজাসহ সব ধরনের শোক পালনে শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।

প্রধান উপদেষ্টা আরও জানান, বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে এবং তার জানাজার দিন বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সারা দেশে সাধারণ ছুটি থাকবে। তিনি শোকাহত পরিবার, রাজনৈতিক সহকর্মী এবং অসংখ্য কর্মী ও সমর্থকের প্রতি সমগ্র জাতির পক্ষ থেকে গভীর সমবেদনা জানান এবং সবার জন্য ধৈর্য ও শক্তি কামনা করে মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন।

খালেদা জিয়ার প্রয়াণে রাজনৈতিক অঙ্গনে এক দীর্ঘ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময় ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠা এই নেতা দীর্ঘ চার দশকের বেশি সময় ধরে দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে গেছেন।