ঢাকা , শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo জাতীয় বাজেটে পানিনিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার, বড় বিনিয়োগ Logo গণমাধ্যম সংস্কার প্রক্রিয়ায় সরকার কেবলই সহায়ক: তথ্যমন্ত্রী Logo শান্তি প্রতিষ্ঠায় নারীদের বৃহত্তর অংশগ্রহণে জাতিসংঘের সহায়তা চাইলেন শামা ওবায়েদ Logo ঘুমন্ত অবস্থায় শ্বাসকষ্ট, নিজের অজান্তেই এই রোগে ভুগছেন না তো Logo স্থায়ীভাবে অমুসলিম দেশে বসবাস করা কি বৈধ? Logo মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল এসে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী Logo স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠনে ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি করা হচ্ছে: তথ্যমন্ত্রী Logo অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান বাড়াতে দেশব্যাপী ক্রিয়েটিভ হাবের পরিকল্পনা সরকারের Logo লেবাননে ইসরাইলের একাধিক বিমান হামলা Logo চট্টগ্রামে শিশু আয়াত হত্যা মামলার আসামি আবীরের মৃত্যুদণ্ড

নিয়োগকর্তার নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্তি মিলবে কর্মীদের

প্রতিনিধির নাম :

নানামুখী সংস্কারের অংশ হিসেবে বিদেশি কর্মীদের জন্য কাফালা বা স্পন্সরশিপ পদ্ধতি শিগগিরই বাতিল করছে সৌদি আরব। সূত্রের বরাত দিয়ে দেশটির সংবাদপত্র সৌদি গেজেটের খবরে এই তথ্য জানানো হয়েছে। অভিবাসন খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই কাফালা ব্যবস্থা বিলুপ্ত হলে দেশটিতে অবস্থানরত বাংলাদেশিসহ বিদেশি কর্মীরা নিয়োগকর্তার কঠোর নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্তি পাবেন। তাদের মৌলিক অধিকার সুরক্ষিত হবে।

প্রায় সাত দশক আগে প্রবর্তিত এই কাফালা ব্যবস্থায় প্রবাসী কর্মীদেরকে নিয়োগকর্তার নির্দেশে চলতে হয়। এমনকি তাদের অনুমতি ছাড়া সৌদি আরবে আসা-যাওয়া করতে পারে না। এক কথায় নিয়োগকর্তারা শ্রমিকদের ভিসা ও আইনি অবস্থান নিয়ন্ত্রণ করেন। এমনকি তাদের ভবিষ্যত্ কী হবে, সেটাও তারা নির্ধারণ করেন। এই ব্যবস্থা শুধু সৌদি আরব নয়, পুরো উপসাগরীয় দেশগুলোতে প্রচলিত রয়েছে। তবে সম্প্রতি কাতার এই ব্যবস্থায় কিছুটা সংস্কার এনেছে।

সৌদি গেজেটের খবরে বলা হয়েছে, অভিবাসী কর্মীদের অধিকার লঙ্ঘন নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কের মুখে কাফালা ব্যবস্থা শিগগিরই বাতিল করতে যাচ্ছে সৌদি আরব কর্তৃপক্ষ। এর ফলে বিদেশি শ্রমিকদের সৌদি আরবে যাওয়া ও সেখান থেকে চলে আসার স্বাধীনতা থাকবে। এক্ষেত্রে তাদের নিয়োগকর্তা বা স্পন্সরের অনুমোদন লাগবে না। এছাড়া সরকারি অনুমোদন ছাড়াই কাজে যোগ দিতে পারবেন শ্রমিকরা।

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট মনিটরের খবরে বলা হয়েছে, বিদেশি কর্মীদের মূলত নির্মাণ ও গৃহকর্মে নিযুক্ত করা হয়। কাজের সময় তাদের নির্যাতনের সম্মুখীন হতে হয়। মজুরি না পাওয়া, কম মজুরি প্রদানসহ শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ প্রায়ই উঠছে। যে কারণে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠন কাফালা ব্যবস্থা বাতিলের জোর দাবি জানিয়ে আসছে। আর এটা বাতিল হলে তা হবে—সৌদি যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমানের নেতৃত্বে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার কাজ।

এ বিষয়ে ব্র্যাক অভিবাসন কর্মসূচির প্রধান শরিফুল হাসান ইত্তেফাককে বলেন, সৌদি আরবে কাফালা ব্যবস্থা বাতিলের ব্যাপারে এখনো চূড়ান্ত কিছুই হয়নি। এ বিষয়ে আলোচনা চলছে। তিনি বলেন, এই কাফালা ব্যবস্থা হলো ‘আধুনিক দাস-প্রথা’। একজন বিদেশি কর্মী কোনো কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের অধীনে কাজ করতে যায় না বরং একজন মালিকের (কফিলের) অধীনে কাজ করেন। ওই কর্মীর সবকিছুই মালিক নির্ধারণ করেন। এমনকি কর্মীর মৃত্যু হলে তার মরদেহ দেশে যাবে কি না, সেটাও মালিক নির্ধারণ করেন। বলা চলে, এই ব্যবস্থায় কর্মীর অধিকার বলে কিছু থাকে না। বিশ্বব্যাপী এই কাফালা ব্যবস্থা নিয়ে বিতর্ক চলছে। আজ হোক বা কাল হোক মধ্যপ্রাচ্যের সব দেশকেই এই ব্যবস্থা বাতিল করতে হবে।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম রেজা ইত্তেফাককে বলেন, বিভিন্ন সময় সৌদি সরকারের সঙ্গে আলোচনায় তারা জানিয়েছে যে, কাফালা ব্যবস্থায় সংস্কার আনবে। এই ব্যবস্থা বাতিল হলে সেটা আমাদের কর্মীদের জন্য খুবই ভালো হবে।

প্রসঙ্গত, সৌদি আরব হচ্ছে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড়ো শ্রমবাজার। বর্তমানে দেশটিতে ২৫ লাখের মতো বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছেন। চলতি বছরের প্রথম মাসেই দেশটিতে গেছেন প্রায় ৫২ হাজার বাংলাদেশি কর্মী।

Tag :

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০৬:০৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২০
৯ বার পঠিত হয়েছে

নিয়োগকর্তার নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্তি মিলবে কর্মীদের

আপডেট এর সময় : ০৬:০৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২০

নানামুখী সংস্কারের অংশ হিসেবে বিদেশি কর্মীদের জন্য কাফালা বা স্পন্সরশিপ পদ্ধতি শিগগিরই বাতিল করছে সৌদি আরব। সূত্রের বরাত দিয়ে দেশটির সংবাদপত্র সৌদি গেজেটের খবরে এই তথ্য জানানো হয়েছে। অভিবাসন খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই কাফালা ব্যবস্থা বিলুপ্ত হলে দেশটিতে অবস্থানরত বাংলাদেশিসহ বিদেশি কর্মীরা নিয়োগকর্তার কঠোর নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্তি পাবেন। তাদের মৌলিক অধিকার সুরক্ষিত হবে।

প্রায় সাত দশক আগে প্রবর্তিত এই কাফালা ব্যবস্থায় প্রবাসী কর্মীদেরকে নিয়োগকর্তার নির্দেশে চলতে হয়। এমনকি তাদের অনুমতি ছাড়া সৌদি আরবে আসা-যাওয়া করতে পারে না। এক কথায় নিয়োগকর্তারা শ্রমিকদের ভিসা ও আইনি অবস্থান নিয়ন্ত্রণ করেন। এমনকি তাদের ভবিষ্যত্ কী হবে, সেটাও তারা নির্ধারণ করেন। এই ব্যবস্থা শুধু সৌদি আরব নয়, পুরো উপসাগরীয় দেশগুলোতে প্রচলিত রয়েছে। তবে সম্প্রতি কাতার এই ব্যবস্থায় কিছুটা সংস্কার এনেছে।

সৌদি গেজেটের খবরে বলা হয়েছে, অভিবাসী কর্মীদের অধিকার লঙ্ঘন নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কের মুখে কাফালা ব্যবস্থা শিগগিরই বাতিল করতে যাচ্ছে সৌদি আরব কর্তৃপক্ষ। এর ফলে বিদেশি শ্রমিকদের সৌদি আরবে যাওয়া ও সেখান থেকে চলে আসার স্বাধীনতা থাকবে। এক্ষেত্রে তাদের নিয়োগকর্তা বা স্পন্সরের অনুমোদন লাগবে না। এছাড়া সরকারি অনুমোদন ছাড়াই কাজে যোগ দিতে পারবেন শ্রমিকরা।

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট মনিটরের খবরে বলা হয়েছে, বিদেশি কর্মীদের মূলত নির্মাণ ও গৃহকর্মে নিযুক্ত করা হয়। কাজের সময় তাদের নির্যাতনের সম্মুখীন হতে হয়। মজুরি না পাওয়া, কম মজুরি প্রদানসহ শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ প্রায়ই উঠছে। যে কারণে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠন কাফালা ব্যবস্থা বাতিলের জোর দাবি জানিয়ে আসছে। আর এটা বাতিল হলে তা হবে—সৌদি যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমানের নেতৃত্বে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার কাজ।

এ বিষয়ে ব্র্যাক অভিবাসন কর্মসূচির প্রধান শরিফুল হাসান ইত্তেফাককে বলেন, সৌদি আরবে কাফালা ব্যবস্থা বাতিলের ব্যাপারে এখনো চূড়ান্ত কিছুই হয়নি। এ বিষয়ে আলোচনা চলছে। তিনি বলেন, এই কাফালা ব্যবস্থা হলো ‘আধুনিক দাস-প্রথা’। একজন বিদেশি কর্মী কোনো কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের অধীনে কাজ করতে যায় না বরং একজন মালিকের (কফিলের) অধীনে কাজ করেন। ওই কর্মীর সবকিছুই মালিক নির্ধারণ করেন। এমনকি কর্মীর মৃত্যু হলে তার মরদেহ দেশে যাবে কি না, সেটাও মালিক নির্ধারণ করেন। বলা চলে, এই ব্যবস্থায় কর্মীর অধিকার বলে কিছু থাকে না। বিশ্বব্যাপী এই কাফালা ব্যবস্থা নিয়ে বিতর্ক চলছে। আজ হোক বা কাল হোক মধ্যপ্রাচ্যের সব দেশকেই এই ব্যবস্থা বাতিল করতে হবে।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম রেজা ইত্তেফাককে বলেন, বিভিন্ন সময় সৌদি সরকারের সঙ্গে আলোচনায় তারা জানিয়েছে যে, কাফালা ব্যবস্থায় সংস্কার আনবে। এই ব্যবস্থা বাতিল হলে সেটা আমাদের কর্মীদের জন্য খুবই ভালো হবে।

প্রসঙ্গত, সৌদি আরব হচ্ছে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড়ো শ্রমবাজার। বর্তমানে দেশটিতে ২৫ লাখের মতো বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছেন। চলতি বছরের প্রথম মাসেই দেশটিতে গেছেন প্রায় ৫২ হাজার বাংলাদেশি কর্মী।