ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo তিন ম্যাচে তিন জয় নিয়ে নক আউটে মেক্সিকো Logo ঝিনাইদহে হত্যা মামলায় ৩ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড Logo ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে প্রাণহানি অন্তত ৩২, আহত ৭ শতাধিক Logo প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের পানিসম্পদ মন্ত্রীর বৈঠকে নদী ব্যবস্থাপনায় ঐকমত্য Logo পরবর্তী এশীয় অর্থনৈতিক বিস্ময় রচনায় অংশীদার হতে চীনা বিনিয়োগকারীদের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর Logo গ্রেট হলে প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা Logo তারেক রহমান ও লি কিয়াং বৈঠক: ঢাকা ও বেইজিংয়ের মধ্যে ১৫টি সমঝোতা স্মারক সই হবে Logo তৃতীয় স্থানের দলগুলো কীভাবে নক আউটে যাবে Logo ঝালকাঠিতে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন বিষয়ে সাংবাদিক অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত Logo উ. কোরিয়ার সেনাকে হেফাজতে নিল সিউল

নৌকা আর বাঁশের সাঁকোই যেখানে একমাত্র ভরসা

প্রতিনিধির নাম :

নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার ঘোষগ্রাম এবং আত্রাই উপজেলার ক্ষিদ্র কালিকাপুর নামক স্থানে ছোট যমুনা নদীর ওপর দিয়ে চলাচলের জন্য একমাত্র উপায় বাঁশের সাঁকো। রাণীনগর ও আত্রাই এই দুই উপজেলার প্রায় ৩০টি গ্রামে বসবাসরত মানুষের যোগাযোগের একমাত্র উপায় নৌকা আর বাঁশের সাঁকো।

রাণীনগর উপজেলার ঘোষগ্রাম ও আত্রাই উপজেলার ক্ষিদ্র কালিকাপুর নামক স্থানে নদীর ওপর একটি ব্রিজ নির্মাণের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে বর্ষা মৌসুমে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকা দিয়ে পারাপার হতে হয় আর শুষ্ক মৌসুমে বাঁশের সাঁকোই চলাচলের জন্য ভরসা।

জানা গেছে, রাণীনগর উপজেলার সদর থেকে প্রায় ৯কিলোমিটার দক্ষিণে ও আত্রাই উপজেলার সদর থেকে ১৪কিলোমিটার পশ্চিম দিয়ে বয়ে গেছে নওগাঁর ছোট যমুনা নদী। বন্যা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগে বছরের বেশি সময় ধরে এই অঞ্চলটি নদীর পানি দিয়ে ঘিরে থাকে। তখন নিত্য প্রয়োজনে যাতায়াতের একমাত্র ভরসা হয়ে ভাড়ায় ইঞ্জিন চালিত নৌকা। কিন্তু শুষ্ক মৌসুমের শুরুতেই বিলের পানি কমতে থাকায় পানি-কাদায় একাকার হওয়ায় পায়ে হেঁটে উপজেলার আটগ্রাম, হরপুর, তারানগর, বাউল্লাপাড়া, ঝিয়াড়িগ্রাম, শলিয়া গ্রামসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষ প্রয়োজনের তাগিদে জেলা ও উপজেলা সদরে যেতে হয়। যানবাহন চলাচলের উপযোগী সরাসরি কোন পথ না থাকায় আত্রাই উপজেলার বিল এলঅকা কালিকাপুর ইউপির অবহেলিত জনপদের আটগ্রাম, হরপুর, তারানগর, বাউল্লাপাড়া, ঝিয়াড়িগ্রাম, শলিয়া বড়কালিকাপুর গ্রামসহ রাণীনগর উপজেলার গোনা ইউনিয়নের ঘোষগ্রাম কৃষ্ণপুর, মালঞ্চি, নান্দাইবাড়ি, আতাইকুলা বেতগাড়ী গ্রামসহ প্রায় ৩০টি গ্রামের কয়েক হাজার লোককে এই বাঁশের সাঁকো দিয়েই চলাচল করতে হয়। স্থানীয় কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ধানসহ অন্যান্য কৃষি পণ্যসামগ্রী সহজ ভাবে বাজারজাত করতে না পারায় ন্যায্য মূল্য প্রাপ্তি থেকেও বঞ্চিত হয়ে আসছে দীর্ঘদিন। উক্ত স্থানে ব্রিজটি নির্মাণের দাবি রাণীনগর ও আত্রাই উপজেলাবাসীর দীর্ঘদিনের।

আত্রাই উপজেলার ক্ষিদ্র কালিকাপুর গ্রামের আকবর আলী সরদার, আব্দুর রউফ, রুহুল আমিন বিকাশ, বেলালসহ অনেকেই বলেন এখানে ব্রিজ না থাকায় প্রায় সারা বছরই কষ্ট করে পারাপার হতে হয়। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে স্কুল কলেজ ও মাদ্রাসাগামী ছেলে মেয়েদের নিয়ে আমাদের আতংকে থাকতে হয়।

আত্রাই উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজমুল হক নাদিম বলেন, ‘দুই উপজেলার পারাপারের জন্য বর্ষা ও শুষ্ক মৌসুমে নৌকা এবং বাঁশের সাঁকোর উপর ভরসা রাখতে হয় প্রায় কয়েকটি গ্রামের বসবাসরত জনসাধারণের। এখানে একটি ফুট ওভার ব্রিজ নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।’

রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল মামুন বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ও তদন্ত সাপেক্ষে একটি ব্রিজ কিংবা কালভার্ট নির্মাণের বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’

নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রাণীনগর) আসনের সংসদ সদস্য মো. ইসরাফিল আলম বলেন বর্তমান সরকারের আমলে আমার আসনে সর্বোচ্চ ব্রিজ, কালভার্ট ও রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। এই জায়গায় একটি ফুটওভার ব্রিজ কিংবা একটি কালভার্ট নির্মাণের বিষয়ে আমার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। আশা রাখি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে মুজিববর্ষেই এখানে ব্রিজ কিংবা কালভার্ট নির্মাণের কাজের শুভ সূচনা করা হবে।

Tag :

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ১২:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২০
৬ বার পঠিত হয়েছে

নৌকা আর বাঁশের সাঁকোই যেখানে একমাত্র ভরসা

আপডেট এর সময় : ১২:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২০

নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার ঘোষগ্রাম এবং আত্রাই উপজেলার ক্ষিদ্র কালিকাপুর নামক স্থানে ছোট যমুনা নদীর ওপর দিয়ে চলাচলের জন্য একমাত্র উপায় বাঁশের সাঁকো। রাণীনগর ও আত্রাই এই দুই উপজেলার প্রায় ৩০টি গ্রামে বসবাসরত মানুষের যোগাযোগের একমাত্র উপায় নৌকা আর বাঁশের সাঁকো।

রাণীনগর উপজেলার ঘোষগ্রাম ও আত্রাই উপজেলার ক্ষিদ্র কালিকাপুর নামক স্থানে নদীর ওপর একটি ব্রিজ নির্মাণের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে বর্ষা মৌসুমে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকা দিয়ে পারাপার হতে হয় আর শুষ্ক মৌসুমে বাঁশের সাঁকোই চলাচলের জন্য ভরসা।

জানা গেছে, রাণীনগর উপজেলার সদর থেকে প্রায় ৯কিলোমিটার দক্ষিণে ও আত্রাই উপজেলার সদর থেকে ১৪কিলোমিটার পশ্চিম দিয়ে বয়ে গেছে নওগাঁর ছোট যমুনা নদী। বন্যা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগে বছরের বেশি সময় ধরে এই অঞ্চলটি নদীর পানি দিয়ে ঘিরে থাকে। তখন নিত্য প্রয়োজনে যাতায়াতের একমাত্র ভরসা হয়ে ভাড়ায় ইঞ্জিন চালিত নৌকা। কিন্তু শুষ্ক মৌসুমের শুরুতেই বিলের পানি কমতে থাকায় পানি-কাদায় একাকার হওয়ায় পায়ে হেঁটে উপজেলার আটগ্রাম, হরপুর, তারানগর, বাউল্লাপাড়া, ঝিয়াড়িগ্রাম, শলিয়া গ্রামসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষ প্রয়োজনের তাগিদে জেলা ও উপজেলা সদরে যেতে হয়। যানবাহন চলাচলের উপযোগী সরাসরি কোন পথ না থাকায় আত্রাই উপজেলার বিল এলঅকা কালিকাপুর ইউপির অবহেলিত জনপদের আটগ্রাম, হরপুর, তারানগর, বাউল্লাপাড়া, ঝিয়াড়িগ্রাম, শলিয়া বড়কালিকাপুর গ্রামসহ রাণীনগর উপজেলার গোনা ইউনিয়নের ঘোষগ্রাম কৃষ্ণপুর, মালঞ্চি, নান্দাইবাড়ি, আতাইকুলা বেতগাড়ী গ্রামসহ প্রায় ৩০টি গ্রামের কয়েক হাজার লোককে এই বাঁশের সাঁকো দিয়েই চলাচল করতে হয়। স্থানীয় কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ধানসহ অন্যান্য কৃষি পণ্যসামগ্রী সহজ ভাবে বাজারজাত করতে না পারায় ন্যায্য মূল্য প্রাপ্তি থেকেও বঞ্চিত হয়ে আসছে দীর্ঘদিন। উক্ত স্থানে ব্রিজটি নির্মাণের দাবি রাণীনগর ও আত্রাই উপজেলাবাসীর দীর্ঘদিনের।

আত্রাই উপজেলার ক্ষিদ্র কালিকাপুর গ্রামের আকবর আলী সরদার, আব্দুর রউফ, রুহুল আমিন বিকাশ, বেলালসহ অনেকেই বলেন এখানে ব্রিজ না থাকায় প্রায় সারা বছরই কষ্ট করে পারাপার হতে হয়। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে স্কুল কলেজ ও মাদ্রাসাগামী ছেলে মেয়েদের নিয়ে আমাদের আতংকে থাকতে হয়।

আত্রাই উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজমুল হক নাদিম বলেন, ‘দুই উপজেলার পারাপারের জন্য বর্ষা ও শুষ্ক মৌসুমে নৌকা এবং বাঁশের সাঁকোর উপর ভরসা রাখতে হয় প্রায় কয়েকটি গ্রামের বসবাসরত জনসাধারণের। এখানে একটি ফুট ওভার ব্রিজ নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।’

রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল মামুন বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ও তদন্ত সাপেক্ষে একটি ব্রিজ কিংবা কালভার্ট নির্মাণের বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’

নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রাণীনগর) আসনের সংসদ সদস্য মো. ইসরাফিল আলম বলেন বর্তমান সরকারের আমলে আমার আসনে সর্বোচ্চ ব্রিজ, কালভার্ট ও রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। এই জায়গায় একটি ফুটওভার ব্রিজ কিংবা একটি কালভার্ট নির্মাণের বিষয়ে আমার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। আশা রাখি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে মুজিববর্ষেই এখানে ব্রিজ কিংবা কালভার্ট নির্মাণের কাজের শুভ সূচনা করা হবে।