ঢাকা , মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে চুয়াডাঙ্গায় বৃক্ষরোপণ Logo চট্টগ্রামে ভারতীয় পণ্য জব্দ, গ্রেফতার ২ Logo ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত ভেনেজুয়েলাকে ১৪ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলারের সহায়তা দেবে চীন Logo যে কোনো মূল্যে তিস্তা ব্যারাজ মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন করা হবে: প্রধানমন্ত্রী Logo জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টস হেরে প্রথমে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ Logo বরগুনায় জেলা ফল মেলার উদ্বোধন Logo বাগদাদের গ্রিন জোনে ইরাকি বাহিনীর অভিযান Logo আইসিই’র প্রধান পদে ওকলাহোমার সাবেক স্টেট ট্রুপারকে মনোনয়ন ট্রাম্পের Logo চীনের সঙ্গে সমঝোতায় বাংলাদেশের নিউ মিডিয়ায় গুণগত পরিবর্তন আসবে : তথ্যমন্ত্রী Logo স্পারসোকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

বন্যার ‘ডেঞ্জার লেভেল’র উপরে অবস্থান করছে সিলেটের কানাইঘাট ও জকিগঞ্জ

প্রতিনিধির নাম :

অনলাইন ডেস্ক:   বন্যার ‘ডেঞ্জার লেভেল’র উপরে অবস্থান করছে সিলেটের কানাইঘাট ও জকিগঞ্জ উপজেলা। মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলাও রয়েছে এ তালিকায়। এছাড়া সিলেটের সদর এলাকা, বিরিয়ানিবাজার; সুনামগঞ্জের ডেরাই; মৌলভীবাজারের সদর এলাকা, কুলাউড়া; হবিগঞ্জের চুনারুঘাট; নিলফামারীর ডিমলা এবং বাগেরহাটের মংলায় দেয়া হয়েছে বন্যার সতর্কবার্তা।

শনিবার (৩১ মে) তাদের দেয়া বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের সারিগোয়াইন, যাদুকাটা, ধলাই, সোমেশ্বরী ও মনু নদীর পানি আগামী দু’দিন বৃদ্ধি পেতে পারে। এতে সমতল বিপদসীমা অতিক্রমের সম্ভাবনা রয়েছে। পানি বৃদ্ধি পেলে ডুবে যেতে পারে সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা ও মৌলভীবাজারের এসব নদীসংলগ্ন বেশ কিছু অঞ্চল।

এছাড়াও দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল (সিলেট অঞ্চল) এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে (চট্টগ্রাম অঞ্চল) স্বল্পমেয়াদী বন্যার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। বেশ কিছু নদীতে পানি বিপদসীমার কাছাকাছি চলে এসেছে বা অতিক্রম করছে বলেও উল্লেখ করা হয়। পরবর্তী ৩-৫ দিন পাহাড়ি ঢলের কারণে বিপদের শঙ্কাও রয়েছে।

নদ-নদীর পানি প্রবাহের বিষয়ে বলা হয়–

  • সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের সুরমা-কুশিয়ারা অববাহিকার খোয়াই, মনু, ধলাইসহ নদীগুলোর পানি বাড়ছে। আগামী ২ দিনের মধ্যে এই নদীগুলোর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে। বিশেষত সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার জেলাগুলোর নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সম্ভাবনা আছে।
  • ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীব্যবস্থা স্থিতিশীল থাকলেও আগামী ৫ দিনের মধ্যে পানি বৃদ্ধি পেতে পারে, তবে তা বিপদসীমার নিচে থাকবে।
  • সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি আগামী ২ দিন বৃদ্ধি পাবে এবং পরবর্তী ১ দিনে কমে যেতে পারে। কিছু অঞ্চলে পানির উচ্চতা বিপদসীমা ছুঁয়ে যেতে পারে।
  • রংপুর অঞ্চলের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীসমূহে ৩ দিনের মধ্যে পানি বাড়তে পারে এবং কিছু নদী সতর্কতা সীমা ছাড়িয়ে যেতে পারে।
  • চট্টগ্রাম বিভাগের হালদা, সাঙ্গু, মাতামুহুরীসহ নদীগুলোর পানি আগামী ২৪ ঘণ্টায় বাড়বে, তবে ২ দিনের মধ্যে তা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে।
  • গঙ্গা-পদ্মা নদী এখন কমতির দিকে থাকলেও আগামী ৫ দিনের মধ্যে কিছুটা পানি বৃদ্ধি পেতে পারে।

প্রধান নদী অববাহিকা অনুযায়ী দেয়া পূর্বাভাসে বলা হয়, ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা অববাহিকার পানি স্থিতিশীল, তবে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির ফলে আগামী ৩ দিনে পানি বাড়বে। ফলে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল, পাবনা ও মানিকগঞ্জ জেলায় বড় ধরনের বন্যার সম্ভাবনা কম।

তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার অববাহিকায় নদীগুলোর পানি বাড়ছে, কিছু কিছু ক্ষেত্রে সতর্কতা সীমা ছাড়িয়ে যেতে পারে। গঙ্গা-পদ্মা অববাহিকায় গঙ্গা নদীর পানি স্থিতিশীল, তবে পদ্মার পানি বাড়ছে। এতে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, কুষ্টিয়া, পাবনা, ফরিদপুর ও শরীয়তপুরে বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা তৈরি হতে পারে।

সুরমা ও কুশিয়ারায় পানি বাড়ছে, ২ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছাতে পারে। এতে সিলেট, সুনামগঞ্জ ও মৌলভীবাজারে নিম্নাঞ্চলে বন্যার ঝুঁকি বেশি।

অন্যদিকে চট্টগ্রামের হালদা, মুহুরী, ফেনী, সাঙ্গু, মাতামুহুরী নদীর পানি আগামী ২৪ ঘণ্টায় বাড়বে, তারপর হ্রাস পাবে।

তবে উপকূলীয় নদ-নদীর অবস্থা স্বাভাবিক রয়েছে। এসব অঞ্চলে কোনো বিশেষ বন্যার ঝুঁকি নেই বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।

Tag :

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ১০:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ জুন ২০২৫
৪ বার পঠিত হয়েছে

বন্যার ‘ডেঞ্জার লেভেল’র উপরে অবস্থান করছে সিলেটের কানাইঘাট ও জকিগঞ্জ

আপডেট এর সময় : ১০:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ জুন ২০২৫

অনলাইন ডেস্ক:   বন্যার ‘ডেঞ্জার লেভেল’র উপরে অবস্থান করছে সিলেটের কানাইঘাট ও জকিগঞ্জ উপজেলা। মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলাও রয়েছে এ তালিকায়। এছাড়া সিলেটের সদর এলাকা, বিরিয়ানিবাজার; সুনামগঞ্জের ডেরাই; মৌলভীবাজারের সদর এলাকা, কুলাউড়া; হবিগঞ্জের চুনারুঘাট; নিলফামারীর ডিমলা এবং বাগেরহাটের মংলায় দেয়া হয়েছে বন্যার সতর্কবার্তা।

শনিবার (৩১ মে) তাদের দেয়া বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের সারিগোয়াইন, যাদুকাটা, ধলাই, সোমেশ্বরী ও মনু নদীর পানি আগামী দু’দিন বৃদ্ধি পেতে পারে। এতে সমতল বিপদসীমা অতিক্রমের সম্ভাবনা রয়েছে। পানি বৃদ্ধি পেলে ডুবে যেতে পারে সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা ও মৌলভীবাজারের এসব নদীসংলগ্ন বেশ কিছু অঞ্চল।

এছাড়াও দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল (সিলেট অঞ্চল) এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে (চট্টগ্রাম অঞ্চল) স্বল্পমেয়াদী বন্যার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। বেশ কিছু নদীতে পানি বিপদসীমার কাছাকাছি চলে এসেছে বা অতিক্রম করছে বলেও উল্লেখ করা হয়। পরবর্তী ৩-৫ দিন পাহাড়ি ঢলের কারণে বিপদের শঙ্কাও রয়েছে।

নদ-নদীর পানি প্রবাহের বিষয়ে বলা হয়–

  • সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের সুরমা-কুশিয়ারা অববাহিকার খোয়াই, মনু, ধলাইসহ নদীগুলোর পানি বাড়ছে। আগামী ২ দিনের মধ্যে এই নদীগুলোর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে। বিশেষত সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার জেলাগুলোর নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সম্ভাবনা আছে।
  • ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীব্যবস্থা স্থিতিশীল থাকলেও আগামী ৫ দিনের মধ্যে পানি বৃদ্ধি পেতে পারে, তবে তা বিপদসীমার নিচে থাকবে।
  • সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি আগামী ২ দিন বৃদ্ধি পাবে এবং পরবর্তী ১ দিনে কমে যেতে পারে। কিছু অঞ্চলে পানির উচ্চতা বিপদসীমা ছুঁয়ে যেতে পারে।
  • রংপুর অঞ্চলের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীসমূহে ৩ দিনের মধ্যে পানি বাড়তে পারে এবং কিছু নদী সতর্কতা সীমা ছাড়িয়ে যেতে পারে।
  • চট্টগ্রাম বিভাগের হালদা, সাঙ্গু, মাতামুহুরীসহ নদীগুলোর পানি আগামী ২৪ ঘণ্টায় বাড়বে, তবে ২ দিনের মধ্যে তা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে।
  • গঙ্গা-পদ্মা নদী এখন কমতির দিকে থাকলেও আগামী ৫ দিনের মধ্যে কিছুটা পানি বৃদ্ধি পেতে পারে।

প্রধান নদী অববাহিকা অনুযায়ী দেয়া পূর্বাভাসে বলা হয়, ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা অববাহিকার পানি স্থিতিশীল, তবে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির ফলে আগামী ৩ দিনে পানি বাড়বে। ফলে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল, পাবনা ও মানিকগঞ্জ জেলায় বড় ধরনের বন্যার সম্ভাবনা কম।

তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার অববাহিকায় নদীগুলোর পানি বাড়ছে, কিছু কিছু ক্ষেত্রে সতর্কতা সীমা ছাড়িয়ে যেতে পারে। গঙ্গা-পদ্মা অববাহিকায় গঙ্গা নদীর পানি স্থিতিশীল, তবে পদ্মার পানি বাড়ছে। এতে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, কুষ্টিয়া, পাবনা, ফরিদপুর ও শরীয়তপুরে বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা তৈরি হতে পারে।

সুরমা ও কুশিয়ারায় পানি বাড়ছে, ২ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছাতে পারে। এতে সিলেট, সুনামগঞ্জ ও মৌলভীবাজারে নিম্নাঞ্চলে বন্যার ঝুঁকি বেশি।

অন্যদিকে চট্টগ্রামের হালদা, মুহুরী, ফেনী, সাঙ্গু, মাতামুহুরী নদীর পানি আগামী ২৪ ঘণ্টায় বাড়বে, তারপর হ্রাস পাবে।

তবে উপকূলীয় নদ-নদীর অবস্থা স্বাভাবিক রয়েছে। এসব অঞ্চলে কোনো বিশেষ বন্যার ঝুঁকি নেই বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।