ঢাকা , শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo জাতীয় বাজেটে পানিনিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার, বড় বিনিয়োগ Logo গণমাধ্যম সংস্কার প্রক্রিয়ায় সরকার কেবলই সহায়ক: তথ্যমন্ত্রী Logo শান্তি প্রতিষ্ঠায় নারীদের বৃহত্তর অংশগ্রহণে জাতিসংঘের সহায়তা চাইলেন শামা ওবায়েদ Logo ঘুমন্ত অবস্থায় শ্বাসকষ্ট, নিজের অজান্তেই এই রোগে ভুগছেন না তো Logo স্থায়ীভাবে অমুসলিম দেশে বসবাস করা কি বৈধ? Logo মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল এসে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী Logo স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠনে ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি করা হচ্ছে: তথ্যমন্ত্রী Logo অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান বাড়াতে দেশব্যাপী ক্রিয়েটিভ হাবের পরিকল্পনা সরকারের Logo লেবাননে ইসরাইলের একাধিক বিমান হামলা Logo চট্টগ্রামে শিশু আয়াত হত্যা মামলার আসামি আবীরের মৃত্যুদণ্ড

বিশ্বভ্রমণে পরিচয় ও লিঙ্গ বাধা নয়

প্রতিনিধির নাম :

কাজী আসমা আজমেরী। ৩৩ বছর বয়সী এই বাংলাদেশি নারী সবুজ রঙের পাসপোর্ট নিয়ে ১২ বছরে ১১৫টি দেশ ভ্রমণ করেছেন। খুলনার একটি রক্ষণশীল মুসলিম পরিবারে জন্ম নেয়া এই নারী যখন প্রথমবারের মতো বিদেশ ভ্রমণে বের হয়েছিলেন তখন মুসলমান হিসেবে পরিচয় দেয়ায় তাকে ভ্রমণে বাধা দেয়া হয়েছিল। এই বিষয়টিকে তিনি চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছিলেন। এর প্রেক্ষিতে তিনি অ্যান্টার্কটিকা বাদে বিশ্বের প্রায় সব দেশ ভ্রমণ করে ফেলেছেন। তাই তিনি মনে করেন বিশ্বভ্রমণে পরিচয় ও লিঙ্গ বাধা নয়। কেবল ১১৫টি দেশ ভ্রমণের মধ্য দিয়েই স্বপ্ন শেষ হয়ে যায়নি জানিয়ে কাজী আসমা আজমেরী বলেন, বিশ্বের ১৯৫টি দেশ ভ্রমণই এখন আমার প্রধান লক্ষ্য। শৈশবকালে রাতে ঘুমানোর আগে ইবনে বতুতা এবং মার্কো পোলোর মতো বিখ্যাত ভ্রমণকারীদের গল্প শুনতাম। সেই সময় থেকেই নিজের মধ্যে ভ্রমণের চেতনা প্রজ্বলিত হয়েছিল। নিজের উপার্জিত টাকা খরচ করেই তিনি তার বেশিরভাগ ভ্রমণগুলো করতে পেরেছেন বলে তিনি গর্ববোধ করেন। কিন্তু এত টাকা তিনি কিভাবে ব্যবস্থা করলেন এমন প্রশ্নে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়াকে কাজী আসমা আজমেরী বলেন, প্রথম দুটি ছাড়া বাকি সবগুলো ভ্রমণ আমি নিজ খরচেই করেছি। আর সেজন্য ২০১০ সাল থেকে আমি কন্সালটেন্ট হিসেবে চাকরি করেছি। আমি দেড় বছর চাকরি করে যে টাকা জমাতাম তা দিয়ে পরের ছয় মাস ভ্রমণ করতাম। কখনই আমি অপচয় করতাম না। তিনি আরও বলেন, ভ্রমণের সময় তিনি অবিচ্ছিন্নভাবে যে প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হন তাহলো তার বাংলাদেশি পরিচয়। কেননা, বাংলাদেশি নাগরিক হিসাবে ভিসা পাওয়া দুষ্কর। কিন্তু আমি এটাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি। পরে পাকিস্তান ও আফগানিস্তান বাদে অন্য সব দেশের জন্য ভিসা নিতে পেরেছিলেন বলেও জানান বাংলাদেশি এই নারী। বিভিন্ন দেশে ভ্রমণের কত না ঘটনা কত না স্মৃতি কাজী আসমা আজমেরীর ঝুলিতে রয়েছে! সেই স্মৃতি কখনও আনন্দের কখনও বেদনার। কিছু কিছু দেশে গিয়ে তার অনেক ভোগান্তি হয়েছে, বিচিত্র অভিজ্ঞতাও হয়েছে। কিন্তু বিশ্বকে ঘুরে ঘুরে দেখার ঐকান্তিক সাধনায় তিনি পিছিয়ে পড়েননি। গত ১২ বছরে বিশ্বব্যাপী ঘুরে বেড়াতে গিয়ে অনেক নির্ঘুম রাত কাটাতে হয়েছে তাকে। তবে নিজের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দুঃসাহসিক কাজ সম্পর্কে তিনি বলেন, বলিভিয়া ভ্রমণ আমার পছন্দ। কিন্তু যখন আমি মিলানে ছিলাম, আমি আমার পাসপোর্ট, মানিব্যাগ এবং অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র হারিয়েছি। এমনকি ইতালির রাস্তায় অনাহারে থেকেছি। কাজী আসমা আজমেরী আরও বলেন, তিনি বাংলা, হিন্দি, ইংরেজি এবং স্প্যানিশ এই চারটি ভাষায় সাবলীল। যা তিনি দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোতে তার অভিজ্ঞতা থেকে গ্রহণ করেছিলেন। কেননা, কেউ যখন ভ্রমণ করেন, তিনি কেবল ভূগোল এবং সংস্কৃতি বাদ দিয়ে অনেক কিছু শিখেন। ভেতর থেকে তার মনটা উদার হয়ে উঠে।

Tag :

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০৬:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২০
১০ বার পঠিত হয়েছে

বিশ্বভ্রমণে পরিচয় ও লিঙ্গ বাধা নয়

আপডেট এর সময় : ০৬:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২০

কাজী আসমা আজমেরী। ৩৩ বছর বয়সী এই বাংলাদেশি নারী সবুজ রঙের পাসপোর্ট নিয়ে ১২ বছরে ১১৫টি দেশ ভ্রমণ করেছেন। খুলনার একটি রক্ষণশীল মুসলিম পরিবারে জন্ম নেয়া এই নারী যখন প্রথমবারের মতো বিদেশ ভ্রমণে বের হয়েছিলেন তখন মুসলমান হিসেবে পরিচয় দেয়ায় তাকে ভ্রমণে বাধা দেয়া হয়েছিল। এই বিষয়টিকে তিনি চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছিলেন। এর প্রেক্ষিতে তিনি অ্যান্টার্কটিকা বাদে বিশ্বের প্রায় সব দেশ ভ্রমণ করে ফেলেছেন। তাই তিনি মনে করেন বিশ্বভ্রমণে পরিচয় ও লিঙ্গ বাধা নয়। কেবল ১১৫টি দেশ ভ্রমণের মধ্য দিয়েই স্বপ্ন শেষ হয়ে যায়নি জানিয়ে কাজী আসমা আজমেরী বলেন, বিশ্বের ১৯৫টি দেশ ভ্রমণই এখন আমার প্রধান লক্ষ্য। শৈশবকালে রাতে ঘুমানোর আগে ইবনে বতুতা এবং মার্কো পোলোর মতো বিখ্যাত ভ্রমণকারীদের গল্প শুনতাম। সেই সময় থেকেই নিজের মধ্যে ভ্রমণের চেতনা প্রজ্বলিত হয়েছিল। নিজের উপার্জিত টাকা খরচ করেই তিনি তার বেশিরভাগ ভ্রমণগুলো করতে পেরেছেন বলে তিনি গর্ববোধ করেন। কিন্তু এত টাকা তিনি কিভাবে ব্যবস্থা করলেন এমন প্রশ্নে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়াকে কাজী আসমা আজমেরী বলেন, প্রথম দুটি ছাড়া বাকি সবগুলো ভ্রমণ আমি নিজ খরচেই করেছি। আর সেজন্য ২০১০ সাল থেকে আমি কন্সালটেন্ট হিসেবে চাকরি করেছি। আমি দেড় বছর চাকরি করে যে টাকা জমাতাম তা দিয়ে পরের ছয় মাস ভ্রমণ করতাম। কখনই আমি অপচয় করতাম না। তিনি আরও বলেন, ভ্রমণের সময় তিনি অবিচ্ছিন্নভাবে যে প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হন তাহলো তার বাংলাদেশি পরিচয়। কেননা, বাংলাদেশি নাগরিক হিসাবে ভিসা পাওয়া দুষ্কর। কিন্তু আমি এটাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি। পরে পাকিস্তান ও আফগানিস্তান বাদে অন্য সব দেশের জন্য ভিসা নিতে পেরেছিলেন বলেও জানান বাংলাদেশি এই নারী। বিভিন্ন দেশে ভ্রমণের কত না ঘটনা কত না স্মৃতি কাজী আসমা আজমেরীর ঝুলিতে রয়েছে! সেই স্মৃতি কখনও আনন্দের কখনও বেদনার। কিছু কিছু দেশে গিয়ে তার অনেক ভোগান্তি হয়েছে, বিচিত্র অভিজ্ঞতাও হয়েছে। কিন্তু বিশ্বকে ঘুরে ঘুরে দেখার ঐকান্তিক সাধনায় তিনি পিছিয়ে পড়েননি। গত ১২ বছরে বিশ্বব্যাপী ঘুরে বেড়াতে গিয়ে অনেক নির্ঘুম রাত কাটাতে হয়েছে তাকে। তবে নিজের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দুঃসাহসিক কাজ সম্পর্কে তিনি বলেন, বলিভিয়া ভ্রমণ আমার পছন্দ। কিন্তু যখন আমি মিলানে ছিলাম, আমি আমার পাসপোর্ট, মানিব্যাগ এবং অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র হারিয়েছি। এমনকি ইতালির রাস্তায় অনাহারে থেকেছি। কাজী আসমা আজমেরী আরও বলেন, তিনি বাংলা, হিন্দি, ইংরেজি এবং স্প্যানিশ এই চারটি ভাষায় সাবলীল। যা তিনি দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোতে তার অভিজ্ঞতা থেকে গ্রহণ করেছিলেন। কেননা, কেউ যখন ভ্রমণ করেন, তিনি কেবল ভূগোল এবং সংস্কৃতি বাদ দিয়ে অনেক কিছু শিখেন। ভেতর থেকে তার মনটা উদার হয়ে উঠে।