ঢাকা , শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo তিন ম্যাচে তিন জয় নিয়ে নক আউটে মেক্সিকো Logo ঝিনাইদহে হত্যা মামলায় ৩ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড Logo ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে প্রাণহানি অন্তত ৩২, আহত ৭ শতাধিক Logo প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের পানিসম্পদ মন্ত্রীর বৈঠকে নদী ব্যবস্থাপনায় ঐকমত্য Logo পরবর্তী এশীয় অর্থনৈতিক বিস্ময় রচনায় অংশীদার হতে চীনা বিনিয়োগকারীদের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর Logo গ্রেট হলে প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা Logo তারেক রহমান ও লি কিয়াং বৈঠক: ঢাকা ও বেইজিংয়ের মধ্যে ১৫টি সমঝোতা স্মারক সই হবে Logo তৃতীয় স্থানের দলগুলো কীভাবে নক আউটে যাবে Logo ঝালকাঠিতে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন বিষয়ে সাংবাদিক অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত Logo উ. কোরিয়ার সেনাকে হেফাজতে নিল সিউল

ভারতমুখী বরিশালের ক্রেতারা, লোকসানের আশঙ্কা ব্যবসায়ীদের

প্রতিনিধির নাম :

বরিশালের বেশীরভাগ ক্রেতা এবার ভারতমুখী হওয়ায় হতাশ বড় বড় বিপণি বিতানের মালিকরা। এখানকার ক্রেতারা কেনাকাটা করতে ছুটছেন ভারতে। এতে লোকসানের আশঙ্কা করছে বরিশালের গার্মেন্ট দোকানগুলো। চৈত্র মাসে মূল্য হ্রাসের কারণেও এবারের ঈদ বাজারে এর বিরুপ প্রতিক্রিয়া পড়ার কথা জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। নগরীর বিপণি বিতান মালিকদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

বরিশাল নগরীর গীর্জা মহল্লা, চকবাজার ও কাটপট্রি এলাকার মার্কেটগুলো ঘুরে দেখা গেছে, ক্রেতা শূন্য দোকানে কর্মচারীরা অলস সময় পার করছেন। তবে অনেক বিপণি বিতান মালিকরা আশা করছেন বেচাকেনা বাড়তে পারে ১৫ রমজানের পর। তবুও তাদের মধ্যেও রয়েছে লোকসানের  আশঙ্কা।

নগরীর গীর্জা মহল্লা এলাকার বিপণীবিতান নেক্সট প্লাসের কর্মকর্তারা জানান, নগরীর চকবাজার ও গীর্জা মহল্লার শতাধিক দোকান মালিক কয়েক কোটি টাকার পণ্য এনেছেন ঈদ উপলক্ষ্যে। তবে ভারতে গমন সহজ হয়ে যাওয়ায় এখন বরিশালের উচ্চবিত্ত ও উচ্চ মধ্যবিত্ত লোকজনই ছুটছেন ভারতে। আর বাংলাদেশ তথা বরিশালের তুলনায় সেখানে পণ্যের দাম অনেক কম। যে কারণে ভারতমুখী হচ্ছে ঈদ বাজার।

নেক্সট প্লাসের স্বত্বাধিকারী রতন চৌধুরী জানান, বৃষ্টির কারণে এমনিতেই ঈদ বাজারে মন্দাভাব বিরাজ করছে। এছাড়া চৈত্র মাসে মূল্যহ্রাসের কারণে অনেকেই কেনাকাটা করে রাখেন। এর পাশাপাশি আমাদের মার্কেটে বিরুপ প্রতিক্রিয়া পড়ছে ভারতের বাজার দরের কারণে। হঠাৎ করেই ভারতে গমন করে ক্রেতারা সেখান থেকে ঈদের কেনাকাটা করছেন। যে কারণে এবারের ঈদে শুধু আমাদের বিপণি  বিতানেই কয়েক লাখ টাকার লোকসানের আশঙ্কা করা হচ্ছে। একই কথা বলছেন চকবাজারের মমতা কমপ্লেক্সের দাদা স্টাইলের সেলসম্যান ক্ষিরত চন্দ্র দাস। তিনি জানান, পর্যাপ্ত মালামাল মজুদ রয়েছে। তবে মার্কেটের অবস্থা বেশী ভালো নয়। লোকসানের আশঙ্কাই বেশি মনে হচ্ছে। তিনি বলেন, এবার পণ্য মূল্য গতবারের থেকে বেশী হলেও মান ভালো রয়েছে। তবে মান ভালো থেকে কি হবে ক্রেতারা দাম শুনেই সটকে পড়ছেন।

‘ফ্যাশন প্লাস’নামের এক সেলসম্যান রুম্মান জানান, এবারে বরিশালের ঈদ বাজারে মেয়েদের জন্য লাছা, লং ফ্রগ, স্কার্ট, ডিভাইডার সেট, ওয়েস্টার্ন ও ল্যাহেঙ্গার চাহিদা রয়েছে। এছাড়া ছেলেদের চাহিদা রয়েছে ভারতীয় শার্ট ও প্যান্টের উপর। পাশাপাশি চীনের টি-শার্টগুলোর চাহিদাও রয়েছে। তবে প্রতিবার যেমন ক্রেতা সমাগম থাকে তেমন এবারে নেই। আশা করছি ক্রেতা সমাগম বাড়বে।

বরিশাল নগরীর সর্ববৃহৎ বিপণি বিতান  স্বদেশী বস্ত্রালয়ের প্রোপাইটর মৃনাল কান্তি সাহা জানান, আমরা প্রতিবছর যে মালামাল এনে থাকি তার থেকে বেশী কালেকশন আছে এবার। বৈরী আবহাওয়ার কারণে এবারে একটু কেনাবেচা কম। আশা করছি কিছুদিনের মধ্যেই ক্রেতা সমাগম শুরু হবে।

Tag :

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০৮:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩১ মে ২০১৮
১২ বার পঠিত হয়েছে

ভারতমুখী বরিশালের ক্রেতারা, লোকসানের আশঙ্কা ব্যবসায়ীদের

আপডেট এর সময় : ০৮:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩১ মে ২০১৮

বরিশালের বেশীরভাগ ক্রেতা এবার ভারতমুখী হওয়ায় হতাশ বড় বড় বিপণি বিতানের মালিকরা। এখানকার ক্রেতারা কেনাকাটা করতে ছুটছেন ভারতে। এতে লোকসানের আশঙ্কা করছে বরিশালের গার্মেন্ট দোকানগুলো। চৈত্র মাসে মূল্য হ্রাসের কারণেও এবারের ঈদ বাজারে এর বিরুপ প্রতিক্রিয়া পড়ার কথা জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। নগরীর বিপণি বিতান মালিকদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

বরিশাল নগরীর গীর্জা মহল্লা, চকবাজার ও কাটপট্রি এলাকার মার্কেটগুলো ঘুরে দেখা গেছে, ক্রেতা শূন্য দোকানে কর্মচারীরা অলস সময় পার করছেন। তবে অনেক বিপণি বিতান মালিকরা আশা করছেন বেচাকেনা বাড়তে পারে ১৫ রমজানের পর। তবুও তাদের মধ্যেও রয়েছে লোকসানের  আশঙ্কা।

নগরীর গীর্জা মহল্লা এলাকার বিপণীবিতান নেক্সট প্লাসের কর্মকর্তারা জানান, নগরীর চকবাজার ও গীর্জা মহল্লার শতাধিক দোকান মালিক কয়েক কোটি টাকার পণ্য এনেছেন ঈদ উপলক্ষ্যে। তবে ভারতে গমন সহজ হয়ে যাওয়ায় এখন বরিশালের উচ্চবিত্ত ও উচ্চ মধ্যবিত্ত লোকজনই ছুটছেন ভারতে। আর বাংলাদেশ তথা বরিশালের তুলনায় সেখানে পণ্যের দাম অনেক কম। যে কারণে ভারতমুখী হচ্ছে ঈদ বাজার।

নেক্সট প্লাসের স্বত্বাধিকারী রতন চৌধুরী জানান, বৃষ্টির কারণে এমনিতেই ঈদ বাজারে মন্দাভাব বিরাজ করছে। এছাড়া চৈত্র মাসে মূল্যহ্রাসের কারণে অনেকেই কেনাকাটা করে রাখেন। এর পাশাপাশি আমাদের মার্কেটে বিরুপ প্রতিক্রিয়া পড়ছে ভারতের বাজার দরের কারণে। হঠাৎ করেই ভারতে গমন করে ক্রেতারা সেখান থেকে ঈদের কেনাকাটা করছেন। যে কারণে এবারের ঈদে শুধু আমাদের বিপণি  বিতানেই কয়েক লাখ টাকার লোকসানের আশঙ্কা করা হচ্ছে। একই কথা বলছেন চকবাজারের মমতা কমপ্লেক্সের দাদা স্টাইলের সেলসম্যান ক্ষিরত চন্দ্র দাস। তিনি জানান, পর্যাপ্ত মালামাল মজুদ রয়েছে। তবে মার্কেটের অবস্থা বেশী ভালো নয়। লোকসানের আশঙ্কাই বেশি মনে হচ্ছে। তিনি বলেন, এবার পণ্য মূল্য গতবারের থেকে বেশী হলেও মান ভালো রয়েছে। তবে মান ভালো থেকে কি হবে ক্রেতারা দাম শুনেই সটকে পড়ছেন।

‘ফ্যাশন প্লাস’নামের এক সেলসম্যান রুম্মান জানান, এবারে বরিশালের ঈদ বাজারে মেয়েদের জন্য লাছা, লং ফ্রগ, স্কার্ট, ডিভাইডার সেট, ওয়েস্টার্ন ও ল্যাহেঙ্গার চাহিদা রয়েছে। এছাড়া ছেলেদের চাহিদা রয়েছে ভারতীয় শার্ট ও প্যান্টের উপর। পাশাপাশি চীনের টি-শার্টগুলোর চাহিদাও রয়েছে। তবে প্রতিবার যেমন ক্রেতা সমাগম থাকে তেমন এবারে নেই। আশা করছি ক্রেতা সমাগম বাড়বে।

বরিশাল নগরীর সর্ববৃহৎ বিপণি বিতান  স্বদেশী বস্ত্রালয়ের প্রোপাইটর মৃনাল কান্তি সাহা জানান, আমরা প্রতিবছর যে মালামাল এনে থাকি তার থেকে বেশী কালেকশন আছে এবার। বৈরী আবহাওয়ার কারণে এবারে একটু কেনাবেচা কম। আশা করছি কিছুদিনের মধ্যেই ক্রেতা সমাগম শুরু হবে।