ঢাকা , শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo জাতীয় বাজেটে পানিনিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার, বড় বিনিয়োগ Logo গণমাধ্যম সংস্কার প্রক্রিয়ায় সরকার কেবলই সহায়ক: তথ্যমন্ত্রী Logo শান্তি প্রতিষ্ঠায় নারীদের বৃহত্তর অংশগ্রহণে জাতিসংঘের সহায়তা চাইলেন শামা ওবায়েদ Logo ঘুমন্ত অবস্থায় শ্বাসকষ্ট, নিজের অজান্তেই এই রোগে ভুগছেন না তো Logo স্থায়ীভাবে অমুসলিম দেশে বসবাস করা কি বৈধ? Logo মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল এসে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী Logo স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠনে ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি করা হচ্ছে: তথ্যমন্ত্রী Logo অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান বাড়াতে দেশব্যাপী ক্রিয়েটিভ হাবের পরিকল্পনা সরকারের Logo লেবাননে ইসরাইলের একাধিক বিমান হামলা Logo চট্টগ্রামে শিশু আয়াত হত্যা মামলার আসামি আবীরের মৃত্যুদণ্ড

ভাষা আন্দোলন রূপ নেয় গণ-আন্দোলনে

প্রতিনিধির নাম :

একুশে ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানি সরকার গুলি চালায় ছাত্রদের আন্দোলনকে ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়ার জন্য। অথচ ছাত্রদের ওপরে গুলি চালানোর ঘটনায় রাজনৈতিক মতভেদ হাওয়ায় উড়ে যায়। শহিদ ছাত্রদের রক্তের দাগ শুকিয়ে যাওয়ার আগেই ছাত্ররা আন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। ভাষা আন্দোলন গণ-আন্দোলনে রূপ নেয়। রাজনীতির বাইরে থাকা সাধারণ ছাত্ররা দলে দলে যুক্ত হতে থাকল জমায়েতে। সরকার ও পুলিশ ভুলে গেল শহর থেকে তখনও ১৪৪ ধারা তুলে নেওয়া হয়নি। গুলি চালানো এবং ছাত্রজনতা হতাহতের সংবাদে ঢাকার হাজার হাজার সাধারণ মানুষ আসতে লাগল হাসপাতালে, ব্যারাকে। শহিদদের একনজর দেখতে চায় মানুষ।

এদিকে, পরিষদ ভবনকে (বর্তমানের জগন্নাথ হল) কেন্দ্র করে তিন দিক থেকে তিনটি মাইক আগুন ঝরাচ্ছে। ‘রক্তের বদলে রক্ত’, ‘একুশের শপথ রাষ্ট্রভাষা বাংলা’, রাজবন্দিদের মুক্তি চাই’ মাইকে মাইকে এসব স্লোগানে পুরো এলাকা প্রকম্পিত। ছাত্রদের ওপরে গুলি ও হতাহতের ঘটনায় পরিষদ ভবনেও ঝড় উঠেছে। খয়রাত হোসেন, মওলানা তর্কবাগীশসহ নির্দলীয় এবং কংগ্রেস সদস্যরা এর প্রতিবাদে পরিষদ বর্জন করেন। ধীরেন দত্ত পুরো এলাকা ঘুরে দেখেন এবং মওলানা তর্কবাগীশ ছাত্রদের জমায়েতে বক্তৃতা করতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। এই আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে ছাত্রদের ব্যস্ততার শেষ নেই। ব্যারাক কক্ষে সবাই মিলিত হয়ে পরদিন অর্থাত্ ২২ ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী হরতাল, ঘরে ঘরে কালো পতাকা উত্তোলন, কালো ব্যাজ ধারণ, মেডিক্যাল ব্যারাক থেকে শোক মিছিল প্রভৃতি কর্মসূচি নেওয়া হয়। তবে রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ বিলুপ্ত হয়ে গেল

মোহাম্মদ সুলতান লিখেছেন, ‘সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা কর্মপরিষদের অস্তিত্ব আর রইল না। সন্ধ্যা ৬টায় নতুন করে ভাষা আন্দোলনের উদ্যোক্তাদের সভা বসল মেডিক্যাল কলেজ ছাত্রাবাসের ৩ অথবা ৪৯ নম্বর রুমে। নতুন করে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা কর্মপরিষদ গঠিত হলো। অলি আহাদ আহ্বায়ক নির্বাচিত হলেন। আন্দোলন পরিচালনার জন্য কতকগুলো কেন্দ্র ঠিক করা হলো। নতুন ঢাকার জন্য সলিমুল্লাহ হল, আর পুরান ঢাকার জন্য জগন্নাথ কলেজ আমাদের সব আন্দোলন পরিচালনার সেক্রেটারিয়েট রূপে চিহ্নিত হলো। মেডিক্যাল কলেজ, সলিমুল্লা মুসলিম হল ও জগন্নাথ কলেজ থেকে ঘোষিত হলো ২২ ফেব্রুয়ারি সব গৃহে কালো পতাকা উত্তোলন করা হবে। শহিদ ভাইয়ের মৃতদেহ ও তাদের রক্তরঞ্জিত পতাকা শোভিত মিছিল প্রথম শহিদ বরকতের গুলি লেগেছিল যেখানে সেখান থেকে বের হবে। রাত থেকে ভোর পর্যন্ত এ কর্মসূচি প্রচার হতে থাকল।’

Tag :

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০৫:২৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২০
১০ বার পঠিত হয়েছে

ভাষা আন্দোলন রূপ নেয় গণ-আন্দোলনে

আপডেট এর সময় : ০৫:২৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২০

একুশে ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানি সরকার গুলি চালায় ছাত্রদের আন্দোলনকে ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়ার জন্য। অথচ ছাত্রদের ওপরে গুলি চালানোর ঘটনায় রাজনৈতিক মতভেদ হাওয়ায় উড়ে যায়। শহিদ ছাত্রদের রক্তের দাগ শুকিয়ে যাওয়ার আগেই ছাত্ররা আন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। ভাষা আন্দোলন গণ-আন্দোলনে রূপ নেয়। রাজনীতির বাইরে থাকা সাধারণ ছাত্ররা দলে দলে যুক্ত হতে থাকল জমায়েতে। সরকার ও পুলিশ ভুলে গেল শহর থেকে তখনও ১৪৪ ধারা তুলে নেওয়া হয়নি। গুলি চালানো এবং ছাত্রজনতা হতাহতের সংবাদে ঢাকার হাজার হাজার সাধারণ মানুষ আসতে লাগল হাসপাতালে, ব্যারাকে। শহিদদের একনজর দেখতে চায় মানুষ।

এদিকে, পরিষদ ভবনকে (বর্তমানের জগন্নাথ হল) কেন্দ্র করে তিন দিক থেকে তিনটি মাইক আগুন ঝরাচ্ছে। ‘রক্তের বদলে রক্ত’, ‘একুশের শপথ রাষ্ট্রভাষা বাংলা’, রাজবন্দিদের মুক্তি চাই’ মাইকে মাইকে এসব স্লোগানে পুরো এলাকা প্রকম্পিত। ছাত্রদের ওপরে গুলি ও হতাহতের ঘটনায় পরিষদ ভবনেও ঝড় উঠেছে। খয়রাত হোসেন, মওলানা তর্কবাগীশসহ নির্দলীয় এবং কংগ্রেস সদস্যরা এর প্রতিবাদে পরিষদ বর্জন করেন। ধীরেন দত্ত পুরো এলাকা ঘুরে দেখেন এবং মওলানা তর্কবাগীশ ছাত্রদের জমায়েতে বক্তৃতা করতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। এই আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে ছাত্রদের ব্যস্ততার শেষ নেই। ব্যারাক কক্ষে সবাই মিলিত হয়ে পরদিন অর্থাত্ ২২ ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী হরতাল, ঘরে ঘরে কালো পতাকা উত্তোলন, কালো ব্যাজ ধারণ, মেডিক্যাল ব্যারাক থেকে শোক মিছিল প্রভৃতি কর্মসূচি নেওয়া হয়। তবে রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ বিলুপ্ত হয়ে গেল

মোহাম্মদ সুলতান লিখেছেন, ‘সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা কর্মপরিষদের অস্তিত্ব আর রইল না। সন্ধ্যা ৬টায় নতুন করে ভাষা আন্দোলনের উদ্যোক্তাদের সভা বসল মেডিক্যাল কলেজ ছাত্রাবাসের ৩ অথবা ৪৯ নম্বর রুমে। নতুন করে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা কর্মপরিষদ গঠিত হলো। অলি আহাদ আহ্বায়ক নির্বাচিত হলেন। আন্দোলন পরিচালনার জন্য কতকগুলো কেন্দ্র ঠিক করা হলো। নতুন ঢাকার জন্য সলিমুল্লাহ হল, আর পুরান ঢাকার জন্য জগন্নাথ কলেজ আমাদের সব আন্দোলন পরিচালনার সেক্রেটারিয়েট রূপে চিহ্নিত হলো। মেডিক্যাল কলেজ, সলিমুল্লা মুসলিম হল ও জগন্নাথ কলেজ থেকে ঘোষিত হলো ২২ ফেব্রুয়ারি সব গৃহে কালো পতাকা উত্তোলন করা হবে। শহিদ ভাইয়ের মৃতদেহ ও তাদের রক্তরঞ্জিত পতাকা শোভিত মিছিল প্রথম শহিদ বরকতের গুলি লেগেছিল যেখানে সেখান থেকে বের হবে। রাত থেকে ভোর পর্যন্ত এ কর্মসূচি প্রচার হতে থাকল।’