ঢাকা , শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo আত-তানযীল ইনস্টিটিউট চট্টগ্রামে সীরাত অলিম্পিয়াড ছোটদের হৃদয়ে নবীপ্রেম প্রতিপাদ্যে প্রাণবন্ত আয়োজন ২০২৬  Logo বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ৫ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা Logo বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে পিপল-টু-পিপল কানেক্টিভিটিতে শিক্ষাই হোক চালিকাশক্তি : মাহদী আমিন Logo ঢাকায় ভুটানের রাজার যাত্রাবিরতি, সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন রাষ্ট্রপতি Logo সামাজিক মূল্যবোধ ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে খেলাধুলার বিকল্প নাই: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী Logo ইনিংস ও ৪১৩ রানে হারল বাংলাদেশ ‘এ’ Logo নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সীদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার বাড়ছে Logo কালো দাগ’ মুক্ত সিরিয়া, খুলেছে উন্নয়নের পথ : প্রেসিডেন্ট শারা Logo পাকিস্তানের হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডে ১৪ শিশুর মৃত্যু Logo বুদ্ধিবৃত্তিক ফ্যাসিজম চর্চাকারীদের সামাজিকভাবে বয়কটের আহ্বান তথ্যমন্ত্রীর

সংসদে সরকারি হিসাব নিরীক্ষা বিল ২০২৬ পাস

অনলাইন ডেস্ক

দেশের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা বৃদ্ধি এবং সরকারি সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিতের লক্ষ্যে ‘সরকারি হিসাব নিরীক্ষা বিল, ২০২৬’ আজ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিলটি সংসদে উত্থাপন ও পাসের প্রস্তাব করেন। এর মাধ্যমে ২০২৫ সালে জারি করা ‘সরকারি হিসাব নিরীক্ষা অধ্যাদেশ’ প্রতিস্থাপন করে একটি পূর্ণাঙ্গ আইন প্রণয়ন করা হলো। সংসদ অধিবেশন না থাকাকালে সংবিধানের ৯৩(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশটি জারি করেছিলেন।

বিলে বলা হয়েছে, এই আইন ২০২৫ সালের ৪ মে থেকে কার্যকর বলে গণ্য হবে। এর মাধ্যমে মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি)-এর জন্য একটি বিস্তৃত আইনি কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে, যার আওতায় প্রজাতন্ত্রের সব সরকারি হিসাব, আদালত, সরকারি সংস্থা ও কর্মচারীদের আর্থিক কার্যক্রম নিরীক্ষা করা হবে।

বিলের গুরুত্বপূর্ণ ধারাগুলোর মধ্যে রয়েছে—সিএজি নিজেই নিরীক্ষার পরিধি, পদ্ধতি ও সময় নির্ধারণ করতে পারবেন। এছাড়া সমন্বিত তহবিল থেকে ব্যয়িত সকল অর্থ, রেলওয়ে ও ডাক বিভাগের মতো রাষ্ট্রীয় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের হিসাব এবং পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) প্রকল্পে সরকারের অংশীদারিত্বও নিরীক্ষার আওতায় থাকবে।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া ঋণ বা অনুদানের শর্তাবলীর যথাযথ বাস্তবায়ন যাচাই করার ক্ষমতাও এই আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

প্রচলিত আর্থিক নিরীক্ষার বাইরে গিয়ে ‘অর্থনীতি, দক্ষতা ও কার্যকারিতা” (ইকোনমি, এফিসিয়েন্সি অ্যান্ড ইফেক্টিভনেস) ভিত্তিক নিরীক্ষা পরিচালনার ক্ষমতাও সিএজি-কে দেওয়া হয়েছে। এই নিরীক্ষা প্রযোজ্য হবে সকল সরকারি দপ্তর, করপোরেশন, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে, যেখানে সরকারের মালিকানা কমপক্ষে ৫১ শতাংশ।

উচ্চমান বজায় রাখতে সিএজি প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দিতে পারবেন এবং অফিসের পেশাগত নৈতিকতা ও কার্যকারিতা পর্যালোচনার জন্য একটি স্বাধীন তদারকি কমিটি গঠন করতে পারবেন।

বিলে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি সংসদে নিরীক্ষা প্রতিবেদন উপস্থাপনের পর তা সাধারণ জনগণের জন্য উন্মুক্ত করতে হবে।

এছাড়া অভিযোগ ও প্রতিকার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। কোনো নিরীক্ষিত প্রতিষ্ঠান নিরীক্ষকদের পেশাগত আচরণ নিয়ে আপত্তি তুললে সিএজি বাধ্যতামূলকভাবে তদন্ত শুরু করবেন।

আর্থিক ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে সিএজি তার দপ্তরের বরাদ্দকৃত বাজেটের ওপর চূড়ান্ত কর্তৃত্ব পাবেন, তবে সাংগঠনিক পুনর্গঠন বা নতুন পদ সৃষ্টি করতে সরকারের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।

এছাড়া সরকারের পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে আন্তর্জাতিক নিরীক্ষা সংস্থার সঙ্গে চুক্তি করার সুযোগও রাখা হয়েছে।

বিলের উদ্দেশ্য সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী বলেন, সংসদ অধিবেশন না থাকায় পূর্বে এটি বিল আকারে উপস্থাপন সম্ভব হয়নি। সে কারণে রাষ্ট্রপতি ‘সরকারি হিসাব নিরীক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করেন। সংবিধানের ৯৩(৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অধ্যাদেশটি আইন হিসেবে পাস করা প্রয়োজন ছিল।

তিনি বলেন, প্রজাতন্ত্রের সব সরকারি হিসাব, আদালত, সরকারি কর্তৃপক্ষ ও কর্মচারীদের নিরীক্ষা এবং প্রতিবেদন নিশ্চিত করে আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা এবং সরকারি সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করাই এই আইনের মূল লক্ষ্য।

পরে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়।

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০৩:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬
১৪ বার পঠিত হয়েছে

সংসদে সরকারি হিসাব নিরীক্ষা বিল ২০২৬ পাস

আপডেট এর সময় : ০৩:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬

দেশের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা বৃদ্ধি এবং সরকারি সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিতের লক্ষ্যে ‘সরকারি হিসাব নিরীক্ষা বিল, ২০২৬’ আজ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিলটি সংসদে উত্থাপন ও পাসের প্রস্তাব করেন। এর মাধ্যমে ২০২৫ সালে জারি করা ‘সরকারি হিসাব নিরীক্ষা অধ্যাদেশ’ প্রতিস্থাপন করে একটি পূর্ণাঙ্গ আইন প্রণয়ন করা হলো। সংসদ অধিবেশন না থাকাকালে সংবিধানের ৯৩(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশটি জারি করেছিলেন।

বিলে বলা হয়েছে, এই আইন ২০২৫ সালের ৪ মে থেকে কার্যকর বলে গণ্য হবে। এর মাধ্যমে মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি)-এর জন্য একটি বিস্তৃত আইনি কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে, যার আওতায় প্রজাতন্ত্রের সব সরকারি হিসাব, আদালত, সরকারি সংস্থা ও কর্মচারীদের আর্থিক কার্যক্রম নিরীক্ষা করা হবে।

বিলের গুরুত্বপূর্ণ ধারাগুলোর মধ্যে রয়েছে—সিএজি নিজেই নিরীক্ষার পরিধি, পদ্ধতি ও সময় নির্ধারণ করতে পারবেন। এছাড়া সমন্বিত তহবিল থেকে ব্যয়িত সকল অর্থ, রেলওয়ে ও ডাক বিভাগের মতো রাষ্ট্রীয় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের হিসাব এবং পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) প্রকল্পে সরকারের অংশীদারিত্বও নিরীক্ষার আওতায় থাকবে।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া ঋণ বা অনুদানের শর্তাবলীর যথাযথ বাস্তবায়ন যাচাই করার ক্ষমতাও এই আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

প্রচলিত আর্থিক নিরীক্ষার বাইরে গিয়ে ‘অর্থনীতি, দক্ষতা ও কার্যকারিতা” (ইকোনমি, এফিসিয়েন্সি অ্যান্ড ইফেক্টিভনেস) ভিত্তিক নিরীক্ষা পরিচালনার ক্ষমতাও সিএজি-কে দেওয়া হয়েছে। এই নিরীক্ষা প্রযোজ্য হবে সকল সরকারি দপ্তর, করপোরেশন, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে, যেখানে সরকারের মালিকানা কমপক্ষে ৫১ শতাংশ।

উচ্চমান বজায় রাখতে সিএজি প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দিতে পারবেন এবং অফিসের পেশাগত নৈতিকতা ও কার্যকারিতা পর্যালোচনার জন্য একটি স্বাধীন তদারকি কমিটি গঠন করতে পারবেন।

বিলে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি সংসদে নিরীক্ষা প্রতিবেদন উপস্থাপনের পর তা সাধারণ জনগণের জন্য উন্মুক্ত করতে হবে।

এছাড়া অভিযোগ ও প্রতিকার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। কোনো নিরীক্ষিত প্রতিষ্ঠান নিরীক্ষকদের পেশাগত আচরণ নিয়ে আপত্তি তুললে সিএজি বাধ্যতামূলকভাবে তদন্ত শুরু করবেন।

আর্থিক ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে সিএজি তার দপ্তরের বরাদ্দকৃত বাজেটের ওপর চূড়ান্ত কর্তৃত্ব পাবেন, তবে সাংগঠনিক পুনর্গঠন বা নতুন পদ সৃষ্টি করতে সরকারের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।

এছাড়া সরকারের পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে আন্তর্জাতিক নিরীক্ষা সংস্থার সঙ্গে চুক্তি করার সুযোগও রাখা হয়েছে।

বিলের উদ্দেশ্য সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী বলেন, সংসদ অধিবেশন না থাকায় পূর্বে এটি বিল আকারে উপস্থাপন সম্ভব হয়নি। সে কারণে রাষ্ট্রপতি ‘সরকারি হিসাব নিরীক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করেন। সংবিধানের ৯৩(৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অধ্যাদেশটি আইন হিসেবে পাস করা প্রয়োজন ছিল।

তিনি বলেন, প্রজাতন্ত্রের সব সরকারি হিসাব, আদালত, সরকারি কর্তৃপক্ষ ও কর্মচারীদের নিরীক্ষা এবং প্রতিবেদন নিশ্চিত করে আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা এবং সরকারি সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করাই এই আইনের মূল লক্ষ্য।

পরে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়।