ঢাকা , মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে চুয়াডাঙ্গায় বৃক্ষরোপণ Logo চট্টগ্রামে ভারতীয় পণ্য জব্দ, গ্রেফতার ২ Logo ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত ভেনেজুয়েলাকে ১৪ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলারের সহায়তা দেবে চীন Logo যে কোনো মূল্যে তিস্তা ব্যারাজ মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন করা হবে: প্রধানমন্ত্রী Logo জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টস হেরে প্রথমে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ Logo বরগুনায় জেলা ফল মেলার উদ্বোধন Logo বাগদাদের গ্রিন জোনে ইরাকি বাহিনীর অভিযান Logo আইসিই’র প্রধান পদে ওকলাহোমার সাবেক স্টেট ট্রুপারকে মনোনয়ন ট্রাম্পের Logo চীনের সঙ্গে সমঝোতায় বাংলাদেশের নিউ মিডিয়ায় গুণগত পরিবর্তন আসবে : তথ্যমন্ত্রী Logo স্পারসোকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

হত্যার পর মুক্তিপণ দাবি করে ঘাতকরা

প্রতিনিধির নাম :

রূপগঞ্জ উপজেলার টেকপাড়া এলাকায় তিন বছরের উম্মে তাবাসসুম জুঁইকে নিজ বাড়ির দুই ভাড়াটে অপহরণের পর শ্বাসরোধে ও ইনজেকশন পুশ করে হত্যা করে। এই দুই ঘাতক হচ্ছে শাহজালাল (১৮) ও আশ্রাফুল (১৯)।

গতকাল রবিবার দুপুরে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার দক্ষিণ দলডাঙ্গা এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। শাহজালাল দক্ষিণ দলডাঙ্গা এলাকার সমেদ আলীর ছেলে ও আশ্রাফুল (১৯) একই এলাকার জহর আলীর ছেলে। গ্রেপ্তারের পর পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জুঁইকে অপহরণের পর হত্যার কথা স্বীকার করে।

রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান মনির জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শাহজালাল ও আশ্রাফুল পুলিশকে জানায়, টেকপাড়া এলাকার আনোয়ার হোসেনের বাড়িতে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকত তারা। বাড়িওয়ালার মেয়ে জুঁইকে অপহরণের পর মুক্তিপণ দাবির পরিকল্পনা ছিল তাদের পূর্বপরিকল্পিত। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে বাড়ির পাশে খেলছিল জুঁই। এ সময় তার মুখ চেপে ধরে তাকে অপহরণ করে তারা। তার পর ভাড়া বাসায় নিয়ে মুখে স্কচস্টেপ লাগিয়ে হাত-পা বেঁধে ফেলে। চিৎকার করলে জুঁইয়ের মুখে পলিথিন দিয়ে চাপ দিয়ে ধরে তারা। এতে জুঁই অজ্ঞান হয়ে পড়ে। কিছুক্ষণ পর জ্ঞান ফিরলে জুঁইয়ের শরীরে অজ্ঞান করার ইনজেকশন পুশ করে তারা। এর পরই জুঁই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।

দুই ঘাতক আরও জানায়, জুঁইকে হত্যার পরই তার পরিবারের কাছে মোবাইল ফোনে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। মুক্তিপণের টাকা নিয়ে যেতে বলা হয় কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে। আর ঘটনা পুলিশকে জানালে জুঁইকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত পরিবারের লোকজন মুক্তিপণ হিসেবে ৫ লাখ টাকা দিতে রাজি হন। এদিকে মুক্তিপণের টাকা না পেয়ে এবং কোনো উপায় না দেখে রাতেই হাত-পা বাঁধা অবস্থায় বস্তাবন্দি করে আনোয়ার হোসেনের বাড়ির পেছনে জুঁইয়ের লাশ ফেলে পালিয়ে যায় দুই ঘাতক।

ওসি আরও জানান, পালিয়ে যাওয়ার সময় শাহজালাল তার আপন ভাই খৈবর আলীকে হত্যাকা-ের ঘটনা জানিয়ে যায়। পুলিশ সন্দেহজনকভাবে শনিবার খৈবর আলীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে হত্যারহস্য বেরিয়ে আসে। পরে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে খৈবর আলীকে সঙ্গে নিয়ে ভূরুঙ্গামারী থানা পুলিশের সহযোগিতায় গতকাল দুপুরে শাহজালাল ও আশ্রাফুলকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গত শুক্রবার সকালে উপজেলার ভুলতা ইউনিয়নের টেকপাড়া এলাকার বাড়ির পেছন থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় উম্মে তাবাসসুম জুঁইয়ের বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় জুঁইয়ের বাবা আনোয়ার হোসেন রূপগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

Tag :

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০৭:২১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ অক্টোবর ২০১৮
১০ বার পঠিত হয়েছে

হত্যার পর মুক্তিপণ দাবি করে ঘাতকরা

আপডেট এর সময় : ০৭:২১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ অক্টোবর ২০১৮

রূপগঞ্জ উপজেলার টেকপাড়া এলাকায় তিন বছরের উম্মে তাবাসসুম জুঁইকে নিজ বাড়ির দুই ভাড়াটে অপহরণের পর শ্বাসরোধে ও ইনজেকশন পুশ করে হত্যা করে। এই দুই ঘাতক হচ্ছে শাহজালাল (১৮) ও আশ্রাফুল (১৯)।

গতকাল রবিবার দুপুরে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার দক্ষিণ দলডাঙ্গা এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। শাহজালাল দক্ষিণ দলডাঙ্গা এলাকার সমেদ আলীর ছেলে ও আশ্রাফুল (১৯) একই এলাকার জহর আলীর ছেলে। গ্রেপ্তারের পর পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জুঁইকে অপহরণের পর হত্যার কথা স্বীকার করে।

রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান মনির জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শাহজালাল ও আশ্রাফুল পুলিশকে জানায়, টেকপাড়া এলাকার আনোয়ার হোসেনের বাড়িতে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকত তারা। বাড়িওয়ালার মেয়ে জুঁইকে অপহরণের পর মুক্তিপণ দাবির পরিকল্পনা ছিল তাদের পূর্বপরিকল্পিত। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে বাড়ির পাশে খেলছিল জুঁই। এ সময় তার মুখ চেপে ধরে তাকে অপহরণ করে তারা। তার পর ভাড়া বাসায় নিয়ে মুখে স্কচস্টেপ লাগিয়ে হাত-পা বেঁধে ফেলে। চিৎকার করলে জুঁইয়ের মুখে পলিথিন দিয়ে চাপ দিয়ে ধরে তারা। এতে জুঁই অজ্ঞান হয়ে পড়ে। কিছুক্ষণ পর জ্ঞান ফিরলে জুঁইয়ের শরীরে অজ্ঞান করার ইনজেকশন পুশ করে তারা। এর পরই জুঁই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।

দুই ঘাতক আরও জানায়, জুঁইকে হত্যার পরই তার পরিবারের কাছে মোবাইল ফোনে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। মুক্তিপণের টাকা নিয়ে যেতে বলা হয় কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে। আর ঘটনা পুলিশকে জানালে জুঁইকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত পরিবারের লোকজন মুক্তিপণ হিসেবে ৫ লাখ টাকা দিতে রাজি হন। এদিকে মুক্তিপণের টাকা না পেয়ে এবং কোনো উপায় না দেখে রাতেই হাত-পা বাঁধা অবস্থায় বস্তাবন্দি করে আনোয়ার হোসেনের বাড়ির পেছনে জুঁইয়ের লাশ ফেলে পালিয়ে যায় দুই ঘাতক।

ওসি আরও জানান, পালিয়ে যাওয়ার সময় শাহজালাল তার আপন ভাই খৈবর আলীকে হত্যাকা-ের ঘটনা জানিয়ে যায়। পুলিশ সন্দেহজনকভাবে শনিবার খৈবর আলীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে হত্যারহস্য বেরিয়ে আসে। পরে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে খৈবর আলীকে সঙ্গে নিয়ে ভূরুঙ্গামারী থানা পুলিশের সহযোগিতায় গতকাল দুপুরে শাহজালাল ও আশ্রাফুলকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গত শুক্রবার সকালে উপজেলার ভুলতা ইউনিয়নের টেকপাড়া এলাকার বাড়ির পেছন থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় উম্মে তাবাসসুম জুঁইয়ের বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় জুঁইয়ের বাবা আনোয়ার হোসেন রূপগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।