ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo তিন ম্যাচে তিন জয় নিয়ে নক আউটে মেক্সিকো Logo ঝিনাইদহে হত্যা মামলায় ৩ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড Logo ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে প্রাণহানি অন্তত ৩২, আহত ৭ শতাধিক Logo প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের পানিসম্পদ মন্ত্রীর বৈঠকে নদী ব্যবস্থাপনায় ঐকমত্য Logo পরবর্তী এশীয় অর্থনৈতিক বিস্ময় রচনায় অংশীদার হতে চীনা বিনিয়োগকারীদের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর Logo গ্রেট হলে প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা Logo তারেক রহমান ও লি কিয়াং বৈঠক: ঢাকা ও বেইজিংয়ের মধ্যে ১৫টি সমঝোতা স্মারক সই হবে Logo তৃতীয় স্থানের দলগুলো কীভাবে নক আউটে যাবে Logo ঝালকাঠিতে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন বিষয়ে সাংবাদিক অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত Logo উ. কোরিয়ার সেনাকে হেফাজতে নিল সিউল

১৩ দফা ইশতেহারে ১৪৪ প্রতিশ্রুতি ইশরাকের

প্রতিনিধির নাম :

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মেয়রপ্রার্থী ইশরাক হোসেন নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করছেন। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে তিনি নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন।

‘ঐতিহ্যের সাথে আধুনিকায়নের পথে বাসযোগ্য ঢাকা গড়ার প্রত্যয়ে’ ১৩ দফা ইশতেহারে রয়েছে ১৪৪টি প্রতিশ্রুতি।

প্রতিশ্রুতির মধ্যে রয়েছে দুনীতিমুক্ত প্রাতিষ্ঠানিক সেবা, সামাজিক ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ার জন্য কাজ করা, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, মানবাধিকার রক্ষা এবং ঐতিহ্য ও আধুনিকতার সম্মিলনে মাদকমুক্ত, যানজট ও দূষণমুক্ত, মশা ও জলাবদ্ধতামুক্ত, ভারসাম্যমূলক ও পরিবেশসম্মত বিশ্বমানের বাসযোগ্য অত্যাধুনিক ঢাকা গড়ে তোলা। এসব প্রতিশ্রুতি রক্ষার প্রত্যয় ঘোষণা করেন প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন। সিটি করপোরেশনের সেবা সংক্রান্ত যে কোনো অভিযোগ পাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সমাধানের কার্যকরী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইশরাক হোসেন জানান, মেয়র নির্বাচিত হলে প্রথম ১০০ দিনের মধ্যে অগ্রাধিকার বিষয়গুলোকে চিহ্নিত করে সমন্বিত কার্যক্রমের মাধ্যমে দ্রুত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হবে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সর্বস্তরে দুর্নীতিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করবেন। নির্বাচিত হলে সিটিকে ঢেলে সাজানো হবে। আমি ঢাকার ছেলে তাই আমি জানি এখানে কি সমস্যা আর কি করতে হবে। নির্বাচিত হলে ঢাকাকে বাসযোগ্য হিসেবে গড়ে তোলা হবে। শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন হোক, সেই প্রত্যাশা করছি।

তিনি বলেন, গণশুনানির মাধ্যমে নগরবাসীর সঙ্গে আলোচনা করে হোল্ডিং ট্যাক্স নির্ধারণ করা হবে। ঢাকা ওয়াসাসহ সেবা প্রদানকারী সব প্রতিষ্ঠানের সমন্বয় করে সুপেয় পানি, জলাবদ্ধতা দূরীকরণ, ড্রেন পরিষ্কারসহ ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে। রাতের ঢাকার উজ্জ্বলতা বাড়াতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নাগরিক কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে ওয়ার্ড পর্যায়ে বিকেন্দ্রীকরণ করা হবে। বুড়িগঙ্গা দূষণমুক্ত করা, নদীর তীর রক্ষা ও ওয়াকওয়ে নির্মাণ, নদীভিত্তিক বিনোদনকেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। পর্যটকদের জন্য পুরান ঢাকাকে আকর্ষণীয় করে গড়ে তোলা এবং সিটি করপোরেশেনর যেসব উন্মুক্ত উদ্যান, নদী ও খাল বেদখল আছে সেগুলো দখলমুক্ত করা হবে। এছাড়া ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ, ওয়ানস্টপ বাস সার্ভিস চালু, মুক্তিযোদ্ধা, বয়স্ক, অন্ধ, প্রতিবন্ধী, নারী ও শিশুদের জন্য বিশেষ সেবা নিশ্চিত করা হবে বলে জানান ইশরাক।

ধানের শীষের এই প্রার্থী বলেন, দুঃসময়ের ক্ষতচিহ্ন মুছে ফেলে নতুন করে স্বপ্ন সাজাবার জন্য পরিবর্তনের ডাক নিয়ে আমি আপনাদের খেদমতে হাজির হয়েছি।

যুক্তরাজ্যের হার্টফোর্ডশায়ার ইউনিভার্সিটিতে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ে আসা ইশরাক কীভাবে গর্বিত ঐতিহ্য এবং আধুনিকতার সম্মিলনে ঢাকাকে সবার বাসযোগ্য একটি ‘বিশ্বমানের অত্যাধুনিক মহানগরী’ হিসেবে গড়ে তোলার কথা ভাবছেন? জবাবে বলেন, নির্বাচিত হলে তিনি ঢাকা ওয়াসাসহ রাজধানীতে সেবা প্রদানকারী সব সংস্থার সমন্বয়ের মাধ্যমে সুপেয় পানীয় সরবরাহ নিশ্চিত করা, জলাবদ্ধতা দূর করা, পয়ঃনিষ্কান ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন করবেন।

নাগরিক সেবার কর্মকাণ্ড ওয়ার্ড পর্যায়ে বিকেন্দ্রীকরণ করার পরিকল্পনা তুলে ধরার পাশাপাশি নগরীকে পরিচ্ছন্ন রাখা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাতে সড়কে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতিও তিনি দিচ্ছেন।

দল-মত ও জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে মহানগরীর সকল জাতি-গোষ্ঠীর সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও ধর্ম-কর্মের অধিকার নিশ্চিত করতে তিনি কাজ করবেন। প্রত্যেক ধর্মাবলম্বী নিজ নিজ ধর্ম পালনের পূর্ণ অধিকার ভোগ করবেন। কোনো নাগরিকের ধর্মবিশ্বাসকে আঘাত করতে দেওয়া হবে না। ধর্ম যার যার, এ মহানগরী সবার। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির শহর ঢাকা মহানগরীর এই ঐতিহ্য কোনো রকমেই বিনষ্ট হতে দেওয়া হবে না।

এসময় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক ড. রেজা কিবরিয়া, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবীব-উন নবী খান সোহেল, মহিলা দল সভাপতি আফরোজা আব্বাস, নগর বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন, নবীউল্লাহ নবী, অধ্যাপক ড. এ বিএম ওবায়দুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদ, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

Tag :

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ১১:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২০
১৩ বার পঠিত হয়েছে

১৩ দফা ইশতেহারে ১৪৪ প্রতিশ্রুতি ইশরাকের

আপডেট এর সময় : ১১:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২০

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মেয়রপ্রার্থী ইশরাক হোসেন নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করছেন। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে তিনি নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন।

‘ঐতিহ্যের সাথে আধুনিকায়নের পথে বাসযোগ্য ঢাকা গড়ার প্রত্যয়ে’ ১৩ দফা ইশতেহারে রয়েছে ১৪৪টি প্রতিশ্রুতি।

প্রতিশ্রুতির মধ্যে রয়েছে দুনীতিমুক্ত প্রাতিষ্ঠানিক সেবা, সামাজিক ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ার জন্য কাজ করা, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, মানবাধিকার রক্ষা এবং ঐতিহ্য ও আধুনিকতার সম্মিলনে মাদকমুক্ত, যানজট ও দূষণমুক্ত, মশা ও জলাবদ্ধতামুক্ত, ভারসাম্যমূলক ও পরিবেশসম্মত বিশ্বমানের বাসযোগ্য অত্যাধুনিক ঢাকা গড়ে তোলা। এসব প্রতিশ্রুতি রক্ষার প্রত্যয় ঘোষণা করেন প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন। সিটি করপোরেশনের সেবা সংক্রান্ত যে কোনো অভিযোগ পাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সমাধানের কার্যকরী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইশরাক হোসেন জানান, মেয়র নির্বাচিত হলে প্রথম ১০০ দিনের মধ্যে অগ্রাধিকার বিষয়গুলোকে চিহ্নিত করে সমন্বিত কার্যক্রমের মাধ্যমে দ্রুত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হবে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সর্বস্তরে দুর্নীতিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করবেন। নির্বাচিত হলে সিটিকে ঢেলে সাজানো হবে। আমি ঢাকার ছেলে তাই আমি জানি এখানে কি সমস্যা আর কি করতে হবে। নির্বাচিত হলে ঢাকাকে বাসযোগ্য হিসেবে গড়ে তোলা হবে। শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন হোক, সেই প্রত্যাশা করছি।

তিনি বলেন, গণশুনানির মাধ্যমে নগরবাসীর সঙ্গে আলোচনা করে হোল্ডিং ট্যাক্স নির্ধারণ করা হবে। ঢাকা ওয়াসাসহ সেবা প্রদানকারী সব প্রতিষ্ঠানের সমন্বয় করে সুপেয় পানি, জলাবদ্ধতা দূরীকরণ, ড্রেন পরিষ্কারসহ ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে। রাতের ঢাকার উজ্জ্বলতা বাড়াতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নাগরিক কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে ওয়ার্ড পর্যায়ে বিকেন্দ্রীকরণ করা হবে। বুড়িগঙ্গা দূষণমুক্ত করা, নদীর তীর রক্ষা ও ওয়াকওয়ে নির্মাণ, নদীভিত্তিক বিনোদনকেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। পর্যটকদের জন্য পুরান ঢাকাকে আকর্ষণীয় করে গড়ে তোলা এবং সিটি করপোরেশেনর যেসব উন্মুক্ত উদ্যান, নদী ও খাল বেদখল আছে সেগুলো দখলমুক্ত করা হবে। এছাড়া ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ, ওয়ানস্টপ বাস সার্ভিস চালু, মুক্তিযোদ্ধা, বয়স্ক, অন্ধ, প্রতিবন্ধী, নারী ও শিশুদের জন্য বিশেষ সেবা নিশ্চিত করা হবে বলে জানান ইশরাক।

ধানের শীষের এই প্রার্থী বলেন, দুঃসময়ের ক্ষতচিহ্ন মুছে ফেলে নতুন করে স্বপ্ন সাজাবার জন্য পরিবর্তনের ডাক নিয়ে আমি আপনাদের খেদমতে হাজির হয়েছি।

যুক্তরাজ্যের হার্টফোর্ডশায়ার ইউনিভার্সিটিতে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ে আসা ইশরাক কীভাবে গর্বিত ঐতিহ্য এবং আধুনিকতার সম্মিলনে ঢাকাকে সবার বাসযোগ্য একটি ‘বিশ্বমানের অত্যাধুনিক মহানগরী’ হিসেবে গড়ে তোলার কথা ভাবছেন? জবাবে বলেন, নির্বাচিত হলে তিনি ঢাকা ওয়াসাসহ রাজধানীতে সেবা প্রদানকারী সব সংস্থার সমন্বয়ের মাধ্যমে সুপেয় পানীয় সরবরাহ নিশ্চিত করা, জলাবদ্ধতা দূর করা, পয়ঃনিষ্কান ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন করবেন।

নাগরিক সেবার কর্মকাণ্ড ওয়ার্ড পর্যায়ে বিকেন্দ্রীকরণ করার পরিকল্পনা তুলে ধরার পাশাপাশি নগরীকে পরিচ্ছন্ন রাখা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাতে সড়কে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতিও তিনি দিচ্ছেন।

দল-মত ও জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে মহানগরীর সকল জাতি-গোষ্ঠীর সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও ধর্ম-কর্মের অধিকার নিশ্চিত করতে তিনি কাজ করবেন। প্রত্যেক ধর্মাবলম্বী নিজ নিজ ধর্ম পালনের পূর্ণ অধিকার ভোগ করবেন। কোনো নাগরিকের ধর্মবিশ্বাসকে আঘাত করতে দেওয়া হবে না। ধর্ম যার যার, এ মহানগরী সবার। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির শহর ঢাকা মহানগরীর এই ঐতিহ্য কোনো রকমেই বিনষ্ট হতে দেওয়া হবে না।

এসময় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক ড. রেজা কিবরিয়া, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবীব-উন নবী খান সোহেল, মহিলা দল সভাপতি আফরোজা আব্বাস, নগর বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন, নবীউল্লাহ নবী, অধ্যাপক ড. এ বিএম ওবায়দুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদ, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা জাফরুল্লাহ চৌধুরী।