ঢাকা , সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo যে কোনো মূল্যে তিস্তা ব্যারাজ মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন করা হবে: প্রধানমন্ত্রী Logo জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টস হেরে প্রথমে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ Logo বরগুনায় জেলা ফল মেলার উদ্বোধন Logo বাগদাদের গ্রিন জোনে ইরাকি বাহিনীর অভিযান Logo আইসিই’র প্রধান পদে ওকলাহোমার সাবেক স্টেট ট্রুপারকে মনোনয়ন ট্রাম্পের Logo চীনের সঙ্গে সমঝোতায় বাংলাদেশের নিউ মিডিয়ায় গুণগত পরিবর্তন আসবে : তথ্যমন্ত্রী Logo স্পারসোকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর Logo ইসরাইল-লেবাননের চুক্তির বিরুদ্ধে বৈরুতের রাস্তায় হিজবুল্লাহ সমর্থকদের বিক্ষোভ Logo বিদেশ সফরে দেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা করেছি : প্রধানমন্ত্রী Logo তিন ম্যাচে তিন জয় নিয়ে নক আউটে মেক্সিকো

সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় আড়াইহাজারের ৪ জন নিহত

প্রতিনিধির নাম :

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় চার বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। এরা সবাই নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের কালাপাহাড়িয়া ও খাগকান্দা ইউনিয়নের বাসিন্দা। শুক্রবার বিকালে এই খবর তাদের বাড়িতে পৌছঁলে শুরু হয় শোকের মাতম। ওইদিন বাংলাদেশের সময় সকাল ১০টায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে রয়েছে আড়াইহাজার উপজেলার কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের তিন জন এবং খাগকান্দা ইউনিয়নের চম্পকনগরের একজন । এরা হলেন, কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের বদলপুর গ্রামের জাব্বার মিয়ার ছেলে সুরুজ মিয়া (২৫), একই গ্রামের মোতালিব ব্যাপারীর ছেলে নুরা মিয়া (২৩) এবং পাশ্ববর্তী গ্রামের খালিয়ারচর গ্রামের মোকররমে ছেলে উজ্জল (২২)। এছাড়া খাগকান্দা ইউনিয়নের চম্পকনগর গ্রামের রাসেল (২৪) নামে একজন রয়েছে। তার বাবার নাম আক্রম আলী। তিনি ৩ বছর ধরে সৌদি আরবে থাকতেন।

কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম স্বপন জানান, এরা সবাই মদিনা আল-ফাহাদ কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন। শুক্রবার বাংলাদেশের সময় সকাল ১০টায় তারা একটি মাইক্রোবাস দিয়ে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে দুর্ঘটনার কবলে পড়েন। এদের মধ্যে বাংলাদেশের ৪ জন ঘটনাস্থলেই মারা যান। এরা সবাই আড়াইহাজারের বাসিন্দা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রত্যেকটি পরিবারে কান্নার রোল পড়ে গেছে। সন্তানের এভাবে চলে যাওয়া কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না। মৃত্যু সংবাদ শুনে পাড়া প্রতিবেশী নিহতদের বাড়িতে আসার পর কেউই চোখের পানি ধরে রাখতে পারছেন না। সরেজমিনে নিহত রাসেলের বাড়ি চম্পক নগরে চলছে শোকের মাতম। বুক ফাটা আর্তনাতের কারণে কোন কথা বলতে পারছে না স্বজনরা। রাসেলের বাবা-মা ছেলে হারিয়ে পাগল প্রায়।

কালাপাহাড়িয়ার চেয়ারম্যান হাজী সাইফুল ইসলাম স্বপন আরো জানান, স্বজন হারানোর বেদনায় গোটা কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শান্তনা দেওয়ার ভাষা নেই কারো। আল্লাহ পাকের নিকট দোয়া করি নিহতদের পরিবারের সদস্যদের ধৈর্য ধরার তৌফিক দান করেন।

অভিবাসীদের নিয়ে কাজ করা সংগঠন অভিবাসী কর্মী উন্নয়ন প্রোগ্রাম (ওকাপ) এর ফিল্ড অফিসার আমিনুল হক বলেন, আমরা তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে লাশ আনার ব্যাপারে সহযোগিতা করব। যাতে সৌদি থেকে সকল সুযোগ সুবিধা পায় সেই ব্যাপারে কাজ করে যাচ্ছি।

Tag :

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০৭:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অগাস্ট ২০১৯
১৩ বার পঠিত হয়েছে

সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় আড়াইহাজারের ৪ জন নিহত

আপডেট এর সময় : ০৭:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অগাস্ট ২০১৯

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় চার বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। এরা সবাই নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের কালাপাহাড়িয়া ও খাগকান্দা ইউনিয়নের বাসিন্দা। শুক্রবার বিকালে এই খবর তাদের বাড়িতে পৌছঁলে শুরু হয় শোকের মাতম। ওইদিন বাংলাদেশের সময় সকাল ১০টায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে রয়েছে আড়াইহাজার উপজেলার কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের তিন জন এবং খাগকান্দা ইউনিয়নের চম্পকনগরের একজন । এরা হলেন, কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের বদলপুর গ্রামের জাব্বার মিয়ার ছেলে সুরুজ মিয়া (২৫), একই গ্রামের মোতালিব ব্যাপারীর ছেলে নুরা মিয়া (২৩) এবং পাশ্ববর্তী গ্রামের খালিয়ারচর গ্রামের মোকররমে ছেলে উজ্জল (২২)। এছাড়া খাগকান্দা ইউনিয়নের চম্পকনগর গ্রামের রাসেল (২৪) নামে একজন রয়েছে। তার বাবার নাম আক্রম আলী। তিনি ৩ বছর ধরে সৌদি আরবে থাকতেন।

কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম স্বপন জানান, এরা সবাই মদিনা আল-ফাহাদ কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন। শুক্রবার বাংলাদেশের সময় সকাল ১০টায় তারা একটি মাইক্রোবাস দিয়ে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে দুর্ঘটনার কবলে পড়েন। এদের মধ্যে বাংলাদেশের ৪ জন ঘটনাস্থলেই মারা যান। এরা সবাই আড়াইহাজারের বাসিন্দা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রত্যেকটি পরিবারে কান্নার রোল পড়ে গেছে। সন্তানের এভাবে চলে যাওয়া কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না। মৃত্যু সংবাদ শুনে পাড়া প্রতিবেশী নিহতদের বাড়িতে আসার পর কেউই চোখের পানি ধরে রাখতে পারছেন না। সরেজমিনে নিহত রাসেলের বাড়ি চম্পক নগরে চলছে শোকের মাতম। বুক ফাটা আর্তনাতের কারণে কোন কথা বলতে পারছে না স্বজনরা। রাসেলের বাবা-মা ছেলে হারিয়ে পাগল প্রায়।

কালাপাহাড়িয়ার চেয়ারম্যান হাজী সাইফুল ইসলাম স্বপন আরো জানান, স্বজন হারানোর বেদনায় গোটা কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শান্তনা দেওয়ার ভাষা নেই কারো। আল্লাহ পাকের নিকট দোয়া করি নিহতদের পরিবারের সদস্যদের ধৈর্য ধরার তৌফিক দান করেন।

অভিবাসীদের নিয়ে কাজ করা সংগঠন অভিবাসী কর্মী উন্নয়ন প্রোগ্রাম (ওকাপ) এর ফিল্ড অফিসার আমিনুল হক বলেন, আমরা তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে লাশ আনার ব্যাপারে সহযোগিতা করব। যাতে সৌদি থেকে সকল সুযোগ সুবিধা পায় সেই ব্যাপারে কাজ করে যাচ্ছি।