ঢাকা , শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo ইরান কখনো মাথা নত করবে না: পেজেশকিয়ান Logo জাতিসংঘে শত্রু-মিত্রদের সমালোচনা করতে পারেন নেতানিয়াহু Logo ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আরও নিরাপদ ও টেকসই বিশ্ব গড়ে তোলার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর Logo বোয়িংয়ের সঙ্গে ১১টি বিমান কেনার চুক্তি হয়েছে: মাহদী আমিন Logo এআইয়ের নাম পাল্টে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ বা এসআই রাখছেন ট্রাম্প Logo বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ক আরও জোরদারের প্রত্যয় Logo মার্কিন প্রেসিডেন্টের নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ Logo হুতিদের ‘অবিলম্বে সব সামরিক কর্মকাণ্ড বন্ধ করার আহ্বান জি৭ নেতাদের Logo তুরস্কে স্কুলের বাইরে গুলিতে আহত ৪ শিক্ষার্থী Logo সীমিত সম্পদের ভারসাম্য রক্ষায় জ্বালানি খাতে ভর্তুকি সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত : তথ্য উপদেষ্টা

বড় ভাইদের কথায় আবরারকে রুমে ডেকে এনেছিলাম

প্রতিনিধির নাম :

রিমান্ড আবেদনের শুনানিতে গতকাল আসামি এ এস এম নাজমুস সাদাত বিচারককে বলেন, ‘স্যার, আমি বড় ভাইদের কথায় আবরারকে তার রুম থেকে ডেকে এনেছিলাম। পরে বড় ভাই অনীক, সকাল, মুজাহিদ, রবিন ও মনির আবরারকে দফায় দফায় মারে। এক সময় স্ট্যাম্প দিয়ে আবরারকে প্রচ- পেটাতে থাকে অনীক। তখন রুমে উপস্থিত অন্যরা ভয় পেয়ে যায়। এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আবরারকে পেটায় অনীক। তার মারের পরই আবরারের শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। বমি করে। আমি আবরারকে মারিনি। আমি রাত সাড়ে ১২টার দিকে রুম থেকে চলে আসি। এরপর কী হয়েছে তা আমি জানি না।’ রিমান্ড আবেদনের শুনানিতে সাদাতের পক্ষে কোনো আইনজীবী না থাকায় বিচারক জানতে চান- তার কিছু বলার আছে কি না? এ সময় বিচারকের প্রশ্নের উত্তরে বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার হত্যা মামলার আসামি সাদাত এসব কথা বলেন। পরে শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম মোর্শেদ আল মামুন ভূইয়া আসামিকে পাঁচ দিন রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের লালবাগ জোনাল টিমের ইন্সপেক্টর মো. ওয়াহিদুজ্জামান আসামি সাদাতকে আদালতে হাজির করে ১০ দিন রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, আবরার হত্যা মামলার এজাহারনামীয় ১৫ নম্বর আসামি সাদাত। এই হত্যাকান্ডের সঙ্গে আসামি সাদাত সরাসরি জড়িত। মামলার তদন্ত, সাক্ষ্য, প্রমাণে, ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনায় তার জড়িত থাকা সম্পর্কে যথেষ্ট সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। এর আগে এ মামলায় আদালতে স্বীকারোক্তিকারীদের মধ্যে কয়েকজন আসামির জবানবন্দিতে আসামি সাদাতের জড়িত- মর্মে নাম প্রকাশ করেছেন। তাই মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের জন্য ১০ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। প্রসঙ্গত, বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি এ এস এম নাজমুস সাদাতকে দিনাজপুরের বিরামপুর থানার কাঠলা থেকে গত মঙ্গলবার গ্রেফতার করে ডিবি। বুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের ১৭ ব্যাচের শিক্ষার্থী সাদাত হিলি সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালানোর চেষ্টা করছিলেন। সাদাতের বাবার নাম হাফিজুর রহমান। তাদের গ্রামের বাড়ি জয়পুরহাটের কালাই থানার কালাই উত্তর পাড়ায়। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক ছিলেন।

Tag :

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০৫:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯
১৩ বার পঠিত হয়েছে

বড় ভাইদের কথায় আবরারকে রুমে ডেকে এনেছিলাম

আপডেট এর সময় : ০৫:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯

রিমান্ড আবেদনের শুনানিতে গতকাল আসামি এ এস এম নাজমুস সাদাত বিচারককে বলেন, ‘স্যার, আমি বড় ভাইদের কথায় আবরারকে তার রুম থেকে ডেকে এনেছিলাম। পরে বড় ভাই অনীক, সকাল, মুজাহিদ, রবিন ও মনির আবরারকে দফায় দফায় মারে। এক সময় স্ট্যাম্প দিয়ে আবরারকে প্রচ- পেটাতে থাকে অনীক। তখন রুমে উপস্থিত অন্যরা ভয় পেয়ে যায়। এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আবরারকে পেটায় অনীক। তার মারের পরই আবরারের শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। বমি করে। আমি আবরারকে মারিনি। আমি রাত সাড়ে ১২টার দিকে রুম থেকে চলে আসি। এরপর কী হয়েছে তা আমি জানি না।’ রিমান্ড আবেদনের শুনানিতে সাদাতের পক্ষে কোনো আইনজীবী না থাকায় বিচারক জানতে চান- তার কিছু বলার আছে কি না? এ সময় বিচারকের প্রশ্নের উত্তরে বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার হত্যা মামলার আসামি সাদাত এসব কথা বলেন। পরে শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম মোর্শেদ আল মামুন ভূইয়া আসামিকে পাঁচ দিন রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের লালবাগ জোনাল টিমের ইন্সপেক্টর মো. ওয়াহিদুজ্জামান আসামি সাদাতকে আদালতে হাজির করে ১০ দিন রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, আবরার হত্যা মামলার এজাহারনামীয় ১৫ নম্বর আসামি সাদাত। এই হত্যাকান্ডের সঙ্গে আসামি সাদাত সরাসরি জড়িত। মামলার তদন্ত, সাক্ষ্য, প্রমাণে, ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনায় তার জড়িত থাকা সম্পর্কে যথেষ্ট সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। এর আগে এ মামলায় আদালতে স্বীকারোক্তিকারীদের মধ্যে কয়েকজন আসামির জবানবন্দিতে আসামি সাদাতের জড়িত- মর্মে নাম প্রকাশ করেছেন। তাই মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের জন্য ১০ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। প্রসঙ্গত, বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি এ এস এম নাজমুস সাদাতকে দিনাজপুরের বিরামপুর থানার কাঠলা থেকে গত মঙ্গলবার গ্রেফতার করে ডিবি। বুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের ১৭ ব্যাচের শিক্ষার্থী সাদাত হিলি সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালানোর চেষ্টা করছিলেন। সাদাতের বাবার নাম হাফিজুর রহমান। তাদের গ্রামের বাড়ি জয়পুরহাটের কালাই থানার কালাই উত্তর পাড়ায়। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক ছিলেন।