ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo ভারতের সঙ্গে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ভিত্তিতে সম্পর্ক চায় বাংলাদেশ : হুমায়ুন কবির Logo হৃদরোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই: স্বাস্থ্যমন্ত্রী Logo প্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিষ্ঠানকে সহায়তা দেবে সরকার : ড. তিতুমীর Logo কোয়ার্টার ফাইনালে কাল বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ মালয়েশিয়া Logo সাতক্ষীরার কুড়িকাহুনিয়ায় বেড়িবাঁধে ভাঙন; স্বেচ্ছাশ্রমে সংস্কার কাজ শুরু Logo ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিকম্পের পর বেঁচে যাওয়া মানুষের সংগ্রাম Logo ইরানের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করায় তেলের দাম বাড়ল Logo স্বার্থ সংরক্ষণে জাতীয় পর্যায়ে কৃষকদের কেন্দ্রীয় সংগঠন গড়ে তোলার আহ্বান রাষ্ট্রপতির Logo জাতিসংঘ সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী Logo ইরান কখনো মাথা নত করবে না: পেজেশকিয়ান

ফটকের সামনে পড়ে ছিল ফুটফুটে নবজাতকটি

প্রতিনিধির নাম :

বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক সাড়ে আটটা। পঞ্চগড় পৌরসভার কামাতপাড়া এলাকার একটি বাড়ির ফটকের সামনে পড়ে আছে ফুটফুটে একটি নবজাতক। পরিষ্কার একটি তোয়ালেতে মোড়ানো শিশুটির পরনে কমলা রঙের জামা। জুলেখা বেগম নামের স্থানীয় এক নারী প্রথম শিশুটিকে দেখে কোলে তুলে নেন। এরপর থানায় খবর দেওয়া হলে পুলিশ এসে নবজাতকটিকে উদ্ধার করে পঞ্চগড় সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়।

খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে যান পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইউসুফ আলীসহ জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের অন্য কর্মকর্তারা। শিশুটিকে হাসপাতালের সিসি (চাইল্ড কেয়ার) ইউনিটে রাখা হয়। পরে হাসপাতালে উপস্থিত অন্য শিশুদের মায়েদের মাধ্যমে শিশুটির খাবারের ব্যবস্থা করা হয়।

উদ্ধার করা নবজাতকটির অভিভাবকদের কোনো পরিচয় শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। গতকাল রাত ১০টার দিকে হঠাৎ করে শিশুটির মায়ের সন্ধান পাওয়া গেছে এমন খবর ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু আজ দুপুর পর্যন্ত খুঁজেও ওই নারীর কোনো সন্ধান পায়নি পুলিশ।

শিশুটির স্বাস্থ্যের ব্যাপারে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের চিকিৎসা কর্মকর্তা মঈন খন্দকার প্রথম আলোকে বলেন, শিশুটির বয়স আনুমানিক এক মাস। শারীরিকভাবে শিশুটি সুস্থ আছে। তবে তার জন্য এই মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি হলো বুকের দুধ।পঞ্চগড় সদর হাসপাতালে শিশুটিকে দেখতে যান জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন। ছবি: প্রথম আলোপঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইউসুফ আলী আজ শুক্রবার বিকেলে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা শিশুটির পরিচয় খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি। বিভিন্ন থানায় শিশুটির ব্যাপারে তথ্য পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় লোকজন যে নারীর কথা বলছেন, আমরা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছি। আমরা চাই শিশুটি তার প্রকৃত অভিভাবকদের ফিরে পাক।’

জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘কোনো মা যদি শিশুটিকে এভাবে ফেলে রেখে যায়, তাহলে তা খুবই দুঃখজনক। ফুটফুটে বাচ্চাটির ভবিষ্যৎ সুন্দর করা আমাদের দায়িত্ব, রাষ্ট্রের দায়িত্ব। আমরা শিশুটিকে তার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছি।

Tag :

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০১:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯
১২ বার পঠিত হয়েছে

ফটকের সামনে পড়ে ছিল ফুটফুটে নবজাতকটি

আপডেট এর সময় : ০১:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯

বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক সাড়ে আটটা। পঞ্চগড় পৌরসভার কামাতপাড়া এলাকার একটি বাড়ির ফটকের সামনে পড়ে আছে ফুটফুটে একটি নবজাতক। পরিষ্কার একটি তোয়ালেতে মোড়ানো শিশুটির পরনে কমলা রঙের জামা। জুলেখা বেগম নামের স্থানীয় এক নারী প্রথম শিশুটিকে দেখে কোলে তুলে নেন। এরপর থানায় খবর দেওয়া হলে পুলিশ এসে নবজাতকটিকে উদ্ধার করে পঞ্চগড় সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়।

খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে যান পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইউসুফ আলীসহ জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের অন্য কর্মকর্তারা। শিশুটিকে হাসপাতালের সিসি (চাইল্ড কেয়ার) ইউনিটে রাখা হয়। পরে হাসপাতালে উপস্থিত অন্য শিশুদের মায়েদের মাধ্যমে শিশুটির খাবারের ব্যবস্থা করা হয়।

উদ্ধার করা নবজাতকটির অভিভাবকদের কোনো পরিচয় শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। গতকাল রাত ১০টার দিকে হঠাৎ করে শিশুটির মায়ের সন্ধান পাওয়া গেছে এমন খবর ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু আজ দুপুর পর্যন্ত খুঁজেও ওই নারীর কোনো সন্ধান পায়নি পুলিশ।

শিশুটির স্বাস্থ্যের ব্যাপারে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের চিকিৎসা কর্মকর্তা মঈন খন্দকার প্রথম আলোকে বলেন, শিশুটির বয়স আনুমানিক এক মাস। শারীরিকভাবে শিশুটি সুস্থ আছে। তবে তার জন্য এই মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি হলো বুকের দুধ।পঞ্চগড় সদর হাসপাতালে শিশুটিকে দেখতে যান জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন। ছবি: প্রথম আলোপঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইউসুফ আলী আজ শুক্রবার বিকেলে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা শিশুটির পরিচয় খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি। বিভিন্ন থানায় শিশুটির ব্যাপারে তথ্য পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় লোকজন যে নারীর কথা বলছেন, আমরা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছি। আমরা চাই শিশুটি তার প্রকৃত অভিভাবকদের ফিরে পাক।’

জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘কোনো মা যদি শিশুটিকে এভাবে ফেলে রেখে যায়, তাহলে তা খুবই দুঃখজনক। ফুটফুটে বাচ্চাটির ভবিষ্যৎ সুন্দর করা আমাদের দায়িত্ব, রাষ্ট্রের দায়িত্ব। আমরা শিশুটিকে তার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছি।