ঢাকা , শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo টানা দ্বিতীয় দিনে আরেকটি ড্রোন ভূপাতিত করল রোমানিয়া Logo টাইফুন নউল চীনের দিকে ধেয়ে আসায় ২০ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে Logo ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম অ্যান্ড বিইএআর সামিট উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর Logo সেমিকন্ডাক্টর শিল্পই হতে পারে বাংলাদেশের নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনাময় খাত : প্রধানমন্ত্রী Logo হরিণাকুণ্ডুতে মাংস ব্যবসায়ীকে জরিমানা Logo ফ্রান্স, ইতালি ও স্পেনে ভয়াবহ দাবানল, ৩ দমকলকর্মীর প্রাণহানি Logo নবনিযুক্ত নৌপ্রধানকে র‌্যাঙ্ক ব্যাজ পরিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী Logo ইনভেস্টরস এক্সপো পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর Logo দেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী Logo ডিআর কঙ্গো ও উগান্ডায় ইবোলা প্রাদুর্ভাবে মৃত্যু হাজার ছাড়িয়েছে: ডব্লিউএইচও

স্ত্রীর ইচ্ছেপূরণে শেষযাত্রায় আবারও তাকে বিয়ে!

প্রতিনিধির নাম :

স্ত্রী মারা গেছেন সাত দিন আগে। কিন্তু তারপরও তার প্রতি ভালোবাসা দেখাতে স্ত্রীর শেষযাত্রার আগে আবারও তাকে বিয়ে করলেন এক স্বামী। অবিশ্বাস্য হলেও সম্প্রতি এ ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব চীনের ডালিয়াং অঞ্চলে।

চীনা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, মৃত ওই স্ত্রীর নাম ইয়াং লু। মৃত্যুর সময় তার বয়স হয়েছিল ৩৪ বছর। আর তার ৩৫ বয়সী স্বামীর নাম শু শিনান।

জানা গেছে, শু আর ইয়াং বিশ্ববিদ্যালয়ে একই সঙ্গে পড়তেন। ২০০৭ সালে তারা একে অন্যের প্রেমে পড়েন। তাদের বিয়ে রেজিস্ট্রি হয় ২০১৩ সালের আগস্টে। এরপরই ঘটা করে বিয়ের অনুষ্ঠান করার জন্য তারা প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন। কিন্তু বিয়ে রেজিস্ট্রির ঠিক তিন মাসের মধ্যে ইয়াংয়ের স্তন ক্যান্সার ধরা পড়ে।

এরপর সার্জারি ও কেমোথেরাপির মাধ্যমে ইয়াংয়ের চিকিৎসা চলতে থাকে। শু জানান, ক্যান্সারের চিকিৎসা কষ্টকর হলেও ইয়ং কখনও কান্নায় ভেঙে পড়েননি। বরং হাসি মুখে চিকিৎসা চালিয়ে গেছেন। সেই সঙ্গে ক্যান্সার রোগীদের উৎসাহ দিতে নিজের চিকিৎসা নিয়ে সামাজিক মাধ্যম টুইটারে ভিডিও প্রকাশ করেছেন।

দীর্ঘ চিকিৎসার পর ২০১৭ সালে ইয়াংয়ের অবস্থার উন্নতি হয়। তখনই ওই দম্পতি আবারও নিজেদের বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য টাকা জমাতে শুরু করেন।

কিন্তু কিছুদিন পর ইয়াংয়ের শরীরে আবারও দানা বাঁধে ক্যান্সার। উন্নত চিকিৎসার জন্য শু তার স্ত্রীকে নিয়ে গোটা দেশ চষে বেড়ান।

এ বছরের মে মাসে ইয়াং বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ডালিয়াংয়ের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দিনে দিনে তার অবস্থা আরও খারাপ হতে শুরু করে। অক্টোবরের ৬ তারিখ ইয়াং কোমায় চলে যান। এর এক সপ্তাহ পরেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

শু জানান, শেষের দিকে ইয়াং তাকে চিনতেই পারতেন না। এ কারণে স্ত্রীকে শেষ বিদায়ও জানাতে পারেননি তিনি।

ইয়াংয়ের মৃত্যুর পর শু দেখতে পান, হাসপাতালে ভর্তির আগে নিজের বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য অনলাইনে নিয়মিত ওয়েডিং গাউন দেখতেন ইয়াং। শু জানান, বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য সবচেয়ে সুন্দর গাউনটি ইয়াংকে কিনে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি। জীবিত অবস্থায় না হোক এ কারণে স্ত্রীর শেষযাত্রায় তার জন্য সেরা পোশাকটি কেনার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

মৃত মানুষকে শ্রদ্ধা জানাতে মৃতদেহের পাশে সাত দিন বসে থাকার রীতি আছে চীনে। সে রীতি অনুযায়ী স্ত্রীর মৃতদেহের সঙ্গে সাত দিনই ছিলেন শু।

স্ত্রীর শেষযাত্রার দিন দুই পরিবার, বন্ধু-বান্ধবের উপস্থিতিতে বিয়ের পোশাক পরিহিত মৃত স্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বিয়ের শপথ উচ্চারণ করেন। আবেগঘন কন্ঠে শু বলেন, ‘ যদিও আমাদের বিয়ের অনুষ্ঠান হতে অনেক দেরী হলো, তারপরও এর মাধ্যমেই ইয়াংয়ের স্বপ্ন পুরণ করলাম।’

মৃত স্ত্রী উদ্দেশে শু বলেন, ‘তোমার স্বপ্ন পূরণ করতে বিয়ের পোশাক পড়ানো ছাড়া আর কিছুই করতে পারছি না।’ এরপরই তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।

ইয়াং আর শুর ভালোবাসার গল্প আর ছবি টুইটারে ছড়িয়ে পড়লে হাজারো মানুষ আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। একজন টুইটার ব্যবহারী লিখেছেন, এটাকেই বলা হয় সত্যিকারের ভালোবাসা। আরেকজন লিখেছেন, পরের জীবনে নিশ্চয়ই তোমাদের দুজনের আবারও দেখা হবে।

Tag :

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ১১:২২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ অক্টোবর ২০১৯
১৪ বার পঠিত হয়েছে

স্ত্রীর ইচ্ছেপূরণে শেষযাত্রায় আবারও তাকে বিয়ে!

আপডেট এর সময় : ১১:২২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ অক্টোবর ২০১৯

স্ত্রী মারা গেছেন সাত দিন আগে। কিন্তু তারপরও তার প্রতি ভালোবাসা দেখাতে স্ত্রীর শেষযাত্রার আগে আবারও তাকে বিয়ে করলেন এক স্বামী। অবিশ্বাস্য হলেও সম্প্রতি এ ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব চীনের ডালিয়াং অঞ্চলে।

চীনা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, মৃত ওই স্ত্রীর নাম ইয়াং লু। মৃত্যুর সময় তার বয়স হয়েছিল ৩৪ বছর। আর তার ৩৫ বয়সী স্বামীর নাম শু শিনান।

জানা গেছে, শু আর ইয়াং বিশ্ববিদ্যালয়ে একই সঙ্গে পড়তেন। ২০০৭ সালে তারা একে অন্যের প্রেমে পড়েন। তাদের বিয়ে রেজিস্ট্রি হয় ২০১৩ সালের আগস্টে। এরপরই ঘটা করে বিয়ের অনুষ্ঠান করার জন্য তারা প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন। কিন্তু বিয়ে রেজিস্ট্রির ঠিক তিন মাসের মধ্যে ইয়াংয়ের স্তন ক্যান্সার ধরা পড়ে।

এরপর সার্জারি ও কেমোথেরাপির মাধ্যমে ইয়াংয়ের চিকিৎসা চলতে থাকে। শু জানান, ক্যান্সারের চিকিৎসা কষ্টকর হলেও ইয়ং কখনও কান্নায় ভেঙে পড়েননি। বরং হাসি মুখে চিকিৎসা চালিয়ে গেছেন। সেই সঙ্গে ক্যান্সার রোগীদের উৎসাহ দিতে নিজের চিকিৎসা নিয়ে সামাজিক মাধ্যম টুইটারে ভিডিও প্রকাশ করেছেন।

দীর্ঘ চিকিৎসার পর ২০১৭ সালে ইয়াংয়ের অবস্থার উন্নতি হয়। তখনই ওই দম্পতি আবারও নিজেদের বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য টাকা জমাতে শুরু করেন।

কিন্তু কিছুদিন পর ইয়াংয়ের শরীরে আবারও দানা বাঁধে ক্যান্সার। উন্নত চিকিৎসার জন্য শু তার স্ত্রীকে নিয়ে গোটা দেশ চষে বেড়ান।

এ বছরের মে মাসে ইয়াং বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ডালিয়াংয়ের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দিনে দিনে তার অবস্থা আরও খারাপ হতে শুরু করে। অক্টোবরের ৬ তারিখ ইয়াং কোমায় চলে যান। এর এক সপ্তাহ পরেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

শু জানান, শেষের দিকে ইয়াং তাকে চিনতেই পারতেন না। এ কারণে স্ত্রীকে শেষ বিদায়ও জানাতে পারেননি তিনি।

ইয়াংয়ের মৃত্যুর পর শু দেখতে পান, হাসপাতালে ভর্তির আগে নিজের বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য অনলাইনে নিয়মিত ওয়েডিং গাউন দেখতেন ইয়াং। শু জানান, বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য সবচেয়ে সুন্দর গাউনটি ইয়াংকে কিনে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি। জীবিত অবস্থায় না হোক এ কারণে স্ত্রীর শেষযাত্রায় তার জন্য সেরা পোশাকটি কেনার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

মৃত মানুষকে শ্রদ্ধা জানাতে মৃতদেহের পাশে সাত দিন বসে থাকার রীতি আছে চীনে। সে রীতি অনুযায়ী স্ত্রীর মৃতদেহের সঙ্গে সাত দিনই ছিলেন শু।

স্ত্রীর শেষযাত্রার দিন দুই পরিবার, বন্ধু-বান্ধবের উপস্থিতিতে বিয়ের পোশাক পরিহিত মৃত স্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বিয়ের শপথ উচ্চারণ করেন। আবেগঘন কন্ঠে শু বলেন, ‘ যদিও আমাদের বিয়ের অনুষ্ঠান হতে অনেক দেরী হলো, তারপরও এর মাধ্যমেই ইয়াংয়ের স্বপ্ন পুরণ করলাম।’

মৃত স্ত্রী উদ্দেশে শু বলেন, ‘তোমার স্বপ্ন পূরণ করতে বিয়ের পোশাক পড়ানো ছাড়া আর কিছুই করতে পারছি না।’ এরপরই তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।

ইয়াং আর শুর ভালোবাসার গল্প আর ছবি টুইটারে ছড়িয়ে পড়লে হাজারো মানুষ আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। একজন টুইটার ব্যবহারী লিখেছেন, এটাকেই বলা হয় সত্যিকারের ভালোবাসা। আরেকজন লিখেছেন, পরের জীবনে নিশ্চয়ই তোমাদের দুজনের আবারও দেখা হবে।