ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে ৯ লাখ টাকার মাদক উদ্ধার Logo ইরানে সরকারবিরোধী ২ বিক্ষোভকারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর Logo মাগুরায় ৫০৭ কোটি টাকা ভুয়া বিদ্যুত বিল, জিএম বরখাস্ত, মন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ Logo দেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীনের প্রতি সহায়তার আহ্বান রাষ্ট্রপতির Logo ভারতের সঙ্গে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ভিত্তিতে সম্পর্ক চায় বাংলাদেশ : হুমায়ুন কবির Logo হৃদরোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই: স্বাস্থ্যমন্ত্রী Logo প্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিষ্ঠানকে সহায়তা দেবে সরকার : ড. তিতুমীর Logo কোয়ার্টার ফাইনালে কাল বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ মালয়েশিয়া Logo সাতক্ষীরার কুড়িকাহুনিয়ায় বেড়িবাঁধে ভাঙন; স্বেচ্ছাশ্রমে সংস্কার কাজ শুরু Logo ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিকম্পের পর বেঁচে যাওয়া মানুষের সংগ্রাম

তুষারপাতে বিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগ, অন্ধকারে কাশ্মীর

প্রতিনিধির নাম :

নভেম্বরের শুরু থেকেই প্রবল তুষারপাতে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে বিদ্যুৎ সংযোগ। প্রশাসনও পরিস্থিতি সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে। বাজারে মিলছে না মোমবাতি, এলপিজি কয়েলও। সব মিলিয়ে ঠান্ডার প্রকোপে নাজেহাল কাশ্মীরবাসী।

গত বুধবার থেকে তুষারপাত শুরু হয় কাশ্মীরে। তার সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ে বিদ্যুৎ পরিকাঠামোর উপরে। বারামুলায় উপড়ে যায় বিদ্যুতের খুঁটি। ওই এলাকায় প্রায় ৬ ফুট পুরু বরফ জমেছে। গত কয়েক দিন ধরে প্রায় চল্লিশ জন শ্রমিক কাজ করেও বিদ্যুৎ সংযোগ ফেরাতে পারেনি।
স্থানীয়দের দাবি, প্রথম দু’তিন দিন পরিস্থিতি সামলাতে প্রশাসনের তরফ থেকেও তেমন কোনও পদক্ষেপই চোখে পড়েনি। ফলে উত্তর ও দক্ষিণ কাশ্মীরের বড় অং‌শ বিদ্যুৎহীন হয়ে যায়। খাস শ্রীনগরে মাত্র ৪০ শতাংশ বাসিন্দার বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে।

প্রবল ঠান্ডা ও বিদ্যুতের অভাবে কাহিল হয়ে পড়েছেন কাশ্মীরের বাসিন্দারা। বাড়িতে মোমবাতি জ্বালিয়ে কিছুটা আলো ও তাপ পাওয়ার কথা ভেবেছিলেন তারা। কিন্তু বাজারে মোমবাতি, এলপিজি কয়েলেরও আকাল। কারণ নিষেধাজ্ঞার কাশ্মীরে এখনও নতুন রসদ সংগ্রহ করতে পারেননি ব্যবসায়ীরা। তাছাড়া নভেম্বরের শুরুতেই এমন তুষারপাতের পূর্বাভাসও দেয়নি আবহাওয়া দফতর।

ব্যবসায়ীরা জানান, শীতে ঘর গরম রাখার জন্য কাশ্মীরিরা যে পাত্রে আগুন জ্বালিয়ে রাখেন, সেই কাংরিও এখনও বাজারে আসেনি। খানিয়ার এলাকার বাসিন্দা শেখ ইরান বললেন, ‘‘কাশ্মীরে বুখারি নামে এক ধরনের হিটারের চল আছে। সেটাও পাওয়া যাচ্ছে না। কয়লার দোকানও বন্ধ।’’

এই পরিস্থিতিতে উপত্যকায় বাড়ছে জ্বর-সর্দি-কাশির প্রকোপ। হাসপাতালে এমন সব উপসর্গ নিয়ে লাইন দিচ্ছেন রোগীরা। তার উপরে উপত্যকার সঙ্গে বাকি দেশের যোগাযোগের অন্যতম পথ জম্মু-শ্রীনগর সড়কও গত কাল থেকে তুষারপাতের ফলে বন্ধ।

প্রবল ঠান্ডার মধ্যে শোনা যাচ্ছে প্রবল ক্ষোভের সুরও। নিশানায় নয়া কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জম্মু-কাশ্মীরের প্রশাসন। অনেকেই জানান, ‘‘আগে তুষারপাত আর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে স্থানীয় প্রশাসনকে সরাসরি জানাতাম আমরা। এমনকি সোশ্যাল মিডিয়ায় সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা বা মেহবুবা মুফতির উদ্দেশেও কড়া মন্তব্য করতেন অনেকে। কিন্তু এখন প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানানোর রাস্তাও বন্ধ।

Tag :

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০৫:০৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর ২০১৯
৯ বার পঠিত হয়েছে

তুষারপাতে বিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগ, অন্ধকারে কাশ্মীর

আপডেট এর সময় : ০৫:০৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর ২০১৯

নভেম্বরের শুরু থেকেই প্রবল তুষারপাতে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে বিদ্যুৎ সংযোগ। প্রশাসনও পরিস্থিতি সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে। বাজারে মিলছে না মোমবাতি, এলপিজি কয়েলও। সব মিলিয়ে ঠান্ডার প্রকোপে নাজেহাল কাশ্মীরবাসী।

গত বুধবার থেকে তুষারপাত শুরু হয় কাশ্মীরে। তার সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ে বিদ্যুৎ পরিকাঠামোর উপরে। বারামুলায় উপড়ে যায় বিদ্যুতের খুঁটি। ওই এলাকায় প্রায় ৬ ফুট পুরু বরফ জমেছে। গত কয়েক দিন ধরে প্রায় চল্লিশ জন শ্রমিক কাজ করেও বিদ্যুৎ সংযোগ ফেরাতে পারেনি।
স্থানীয়দের দাবি, প্রথম দু’তিন দিন পরিস্থিতি সামলাতে প্রশাসনের তরফ থেকেও তেমন কোনও পদক্ষেপই চোখে পড়েনি। ফলে উত্তর ও দক্ষিণ কাশ্মীরের বড় অং‌শ বিদ্যুৎহীন হয়ে যায়। খাস শ্রীনগরে মাত্র ৪০ শতাংশ বাসিন্দার বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে।

প্রবল ঠান্ডা ও বিদ্যুতের অভাবে কাহিল হয়ে পড়েছেন কাশ্মীরের বাসিন্দারা। বাড়িতে মোমবাতি জ্বালিয়ে কিছুটা আলো ও তাপ পাওয়ার কথা ভেবেছিলেন তারা। কিন্তু বাজারে মোমবাতি, এলপিজি কয়েলেরও আকাল। কারণ নিষেধাজ্ঞার কাশ্মীরে এখনও নতুন রসদ সংগ্রহ করতে পারেননি ব্যবসায়ীরা। তাছাড়া নভেম্বরের শুরুতেই এমন তুষারপাতের পূর্বাভাসও দেয়নি আবহাওয়া দফতর।

ব্যবসায়ীরা জানান, শীতে ঘর গরম রাখার জন্য কাশ্মীরিরা যে পাত্রে আগুন জ্বালিয়ে রাখেন, সেই কাংরিও এখনও বাজারে আসেনি। খানিয়ার এলাকার বাসিন্দা শেখ ইরান বললেন, ‘‘কাশ্মীরে বুখারি নামে এক ধরনের হিটারের চল আছে। সেটাও পাওয়া যাচ্ছে না। কয়লার দোকানও বন্ধ।’’

এই পরিস্থিতিতে উপত্যকায় বাড়ছে জ্বর-সর্দি-কাশির প্রকোপ। হাসপাতালে এমন সব উপসর্গ নিয়ে লাইন দিচ্ছেন রোগীরা। তার উপরে উপত্যকার সঙ্গে বাকি দেশের যোগাযোগের অন্যতম পথ জম্মু-শ্রীনগর সড়কও গত কাল থেকে তুষারপাতের ফলে বন্ধ।

প্রবল ঠান্ডার মধ্যে শোনা যাচ্ছে প্রবল ক্ষোভের সুরও। নিশানায় নয়া কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জম্মু-কাশ্মীরের প্রশাসন। অনেকেই জানান, ‘‘আগে তুষারপাত আর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে স্থানীয় প্রশাসনকে সরাসরি জানাতাম আমরা। এমনকি সোশ্যাল মিডিয়ায় সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা বা মেহবুবা মুফতির উদ্দেশেও কড়া মন্তব্য করতেন অনেকে। কিন্তু এখন প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানানোর রাস্তাও বন্ধ।