ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য : প্রধানমন্ত্রী Logo বাগেরহাট মেডিকেল ফাউন্ডেশনের যাত্রা শুরু Logo জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের দুয়ার খুলেছে, উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী Logo ফিলিপাইনের দক্ষিণ উপকূলে ৬.৩ মাত্রার ভূমিকম্প Logo আগস্টের শেষ সপ্তাহে খুলছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার : তথ্য উপদেষ্টা Logo জনপ্রত্যাশা পূরণে সমঝোতার ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধন করা হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo নিরাপদ পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতে সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর Logo ডিসেম্বরের মধ্যে কৃষকদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়নের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর Logo দু্ই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও সন্ধান মেলেনি এসএসসি পরীক্ষার্থী অনিকের, পুলিশ কমিশনারের হস্তক্ষেপ কামনা Logo জিসান গ্রুপের অন্যতম ০৩ জন সক্রিয় সদস্যকে ০৩টি বিদেশি পিস্তলসহ গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-৩

বাবাকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা, ছেলে গ্রেপ্তার

প্রতিনিধির নাম :

প্রতীকী ছবিপ্রতীকী ছবিরাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় ছেলের বিরুদ্ধে বাবাকে ঘরে তালাবদ্ধ করে আগুনে পুড়িয়ে মারার চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বৃদ্ধ বাবা দরজা ভেঙে পালিয়ে রক্ষা পেলেও ঘর ও মালামাল আগুনে পুড়ে গেছে। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার বাসুপাড়া ইউনিয়নের হলুদঘর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

ঘটনার তিন ঘণ্টা পর স্থানীয় লোকজন একটি পানবরজে আত্মগোপন করে থাকা বখাটে ছেলে মিঠুন কুমারকে (৩২) ধরে পুলিশে দিয়েছেন। এ ঘটনায় বাবা বটকৃষ্ণ বাদী হয়ে ছেলের বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা করেছেন।

পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকার লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হলুদঘর গ্রামের বটকৃষ্ণের (৬৪) ছেলে মিঠুন কুমার স্থানীয় কিছু বখাটের পাল্লায় পড়ে মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন। মিঠুনকে সুস্থ করার জন্য বিভিন্নভাবে চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন তাঁর স্ত্রী ও বাবা বটকৃষ্ণ। নেশার টাকার জন্য তিনি স্ত্রী, বাবাসহ পরিবারের লোকজনের ওপর নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন। নিরুপায় হয়ে এক বছর আগে স্বামীকে রেখে স্ত্রী ঢাকায় একটি পোশাক কারখানায় চাকরি নেন। কয়েক মাস আগে স্ত্রীর সন্ধান পেয়ে তিনিও ঢাকায় যান। সেখানে তাঁরা একসঙ্গে ছিলেন।

গতকাল বিকেলে মিঠুন বাড়িতে আসেন। এ সময় বাড়িতে তাঁর বাবা ছাড়া অন্য কেউ ছিলেন না। একপর্যায়ে কৌশলে বাবাকে একটি ঘরে আটকে রেখে বাইরে থেকে তালাবদ্ধ করে দেন। পরে তিনি পেট্রল ঢেলে বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন। কিছুক্ষণ পর আগুন জ্বলতে দেখে ও তাপ অনুভব করে বৃদ্ধ বটকৃষ্ণ ঘরের দরজা ভেঙে বাইরে আসেন। আগুন দেখে আশপাশের লোকজনও ছুটে আসেন। পরে স্থানীয় লোকজন দীর্ঘ দেড় ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নেভাতে সক্ষম হয়। ততক্ষণে বটকৃষ্ণের একটি ঘর ও বাড়ির যাবতীয় মালামাল পুড়ে যায়।

বখাটে মিঠুন কুমার এলাকায় অবস্থান করছেন জানতে পেরে তাঁকে খুঁজতে থাকে এলাকাবাসী। রাত সাড়ে আটটার দিকে গ্রামের একটি পানবরজে আত্মগোপন করে থাকা অবস্থায় লোকজন তাঁকে ধরে ফেলে এবং পিটুনি দেয়। থানায় খবর দেওয়া হলে রাত নয়টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মিঠুন কুমারকে জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে। পরে হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাঁকে থানায় আনে পুলিশ।

বাড়িতে আগুন দেওয়া ও হত্যা প্রচেষ্টার অভিযোগে রাতেই বটকৃষ্ণ বাদী হয়ে ছেলের বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা করেছেন। পুলিশ ওই মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে।

মিঠুনের বাবা অভিযোগ করেন, তাঁর ছেলে মাদকাসক্ত ও বখাটে। ভালো পথে নিয়ে আসার চেষ্টা করেও পারছিলেন না। গোপনে ঢাকা থেকে এসে তাঁকে বাড়িতে আটকে রেখে আগুনে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করেছিল।

বাগমারা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিজানুর রহমান বলেন, বাবার মামলায় ছেলে মিঠুনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

Tag :

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০৫:২৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৯
১৮ বার পঠিত হয়েছে

বাবাকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা, ছেলে গ্রেপ্তার

আপডেট এর সময় : ০৫:২৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৯

প্রতীকী ছবিপ্রতীকী ছবিরাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় ছেলের বিরুদ্ধে বাবাকে ঘরে তালাবদ্ধ করে আগুনে পুড়িয়ে মারার চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বৃদ্ধ বাবা দরজা ভেঙে পালিয়ে রক্ষা পেলেও ঘর ও মালামাল আগুনে পুড়ে গেছে। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার বাসুপাড়া ইউনিয়নের হলুদঘর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

ঘটনার তিন ঘণ্টা পর স্থানীয় লোকজন একটি পানবরজে আত্মগোপন করে থাকা বখাটে ছেলে মিঠুন কুমারকে (৩২) ধরে পুলিশে দিয়েছেন। এ ঘটনায় বাবা বটকৃষ্ণ বাদী হয়ে ছেলের বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা করেছেন।

পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকার লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হলুদঘর গ্রামের বটকৃষ্ণের (৬৪) ছেলে মিঠুন কুমার স্থানীয় কিছু বখাটের পাল্লায় পড়ে মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন। মিঠুনকে সুস্থ করার জন্য বিভিন্নভাবে চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন তাঁর স্ত্রী ও বাবা বটকৃষ্ণ। নেশার টাকার জন্য তিনি স্ত্রী, বাবাসহ পরিবারের লোকজনের ওপর নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন। নিরুপায় হয়ে এক বছর আগে স্বামীকে রেখে স্ত্রী ঢাকায় একটি পোশাক কারখানায় চাকরি নেন। কয়েক মাস আগে স্ত্রীর সন্ধান পেয়ে তিনিও ঢাকায় যান। সেখানে তাঁরা একসঙ্গে ছিলেন।

গতকাল বিকেলে মিঠুন বাড়িতে আসেন। এ সময় বাড়িতে তাঁর বাবা ছাড়া অন্য কেউ ছিলেন না। একপর্যায়ে কৌশলে বাবাকে একটি ঘরে আটকে রেখে বাইরে থেকে তালাবদ্ধ করে দেন। পরে তিনি পেট্রল ঢেলে বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন। কিছুক্ষণ পর আগুন জ্বলতে দেখে ও তাপ অনুভব করে বৃদ্ধ বটকৃষ্ণ ঘরের দরজা ভেঙে বাইরে আসেন। আগুন দেখে আশপাশের লোকজনও ছুটে আসেন। পরে স্থানীয় লোকজন দীর্ঘ দেড় ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নেভাতে সক্ষম হয়। ততক্ষণে বটকৃষ্ণের একটি ঘর ও বাড়ির যাবতীয় মালামাল পুড়ে যায়।

বখাটে মিঠুন কুমার এলাকায় অবস্থান করছেন জানতে পেরে তাঁকে খুঁজতে থাকে এলাকাবাসী। রাত সাড়ে আটটার দিকে গ্রামের একটি পানবরজে আত্মগোপন করে থাকা অবস্থায় লোকজন তাঁকে ধরে ফেলে এবং পিটুনি দেয়। থানায় খবর দেওয়া হলে রাত নয়টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মিঠুন কুমারকে জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে। পরে হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাঁকে থানায় আনে পুলিশ।

বাড়িতে আগুন দেওয়া ও হত্যা প্রচেষ্টার অভিযোগে রাতেই বটকৃষ্ণ বাদী হয়ে ছেলের বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা করেছেন। পুলিশ ওই মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে।

মিঠুনের বাবা অভিযোগ করেন, তাঁর ছেলে মাদকাসক্ত ও বখাটে। ভালো পথে নিয়ে আসার চেষ্টা করেও পারছিলেন না। গোপনে ঢাকা থেকে এসে তাঁকে বাড়িতে আটকে রেখে আগুনে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করেছিল।

বাগমারা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিজানুর রহমান বলেন, বাবার মামলায় ছেলে মিঠুনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।