ঢাকা , শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo তিন ম্যাচে তিন জয় নিয়ে নক আউটে মেক্সিকো Logo ঝিনাইদহে হত্যা মামলায় ৩ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড Logo ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে প্রাণহানি অন্তত ৩২, আহত ৭ শতাধিক Logo প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের পানিসম্পদ মন্ত্রীর বৈঠকে নদী ব্যবস্থাপনায় ঐকমত্য Logo পরবর্তী এশীয় অর্থনৈতিক বিস্ময় রচনায় অংশীদার হতে চীনা বিনিয়োগকারীদের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর Logo গ্রেট হলে প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা Logo তারেক রহমান ও লি কিয়াং বৈঠক: ঢাকা ও বেইজিংয়ের মধ্যে ১৫টি সমঝোতা স্মারক সই হবে Logo তৃতীয় স্থানের দলগুলো কীভাবে নক আউটে যাবে Logo ঝালকাঠিতে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন বিষয়ে সাংবাদিক অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত Logo উ. কোরিয়ার সেনাকে হেফাজতে নিল সিউল

পুলিশ পরির্দশকের বিরুদ্ধে আলামত বিক্রির অভিযোগ

প্রতিনিধির নাম :

ধামরাইয়ের কাওয়ালীপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বরত কর্মকর্তা পুলিশ পরির্দশক (তদন্ত) একেএম ফজলুল হকের বিরুদ্ধে ডাকাতি মামলার আলামত বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় ব্যবহৃত ৩টি ইজিবাইক তিনি বিক্রি করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন একই থানার সহকারী উপপরিদর্শক  শামীম হোসেন। আজ বুধবার সকালে কাওয়ালীপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।ইজিবাইক তিনটি উদ্ধারের পর থানায় নেওয়া হলেও এখন সেগুলোর হদিস মিলছে না। সরেজমিনে গিয়ে এ দৃশ্য দেখা গেছে। এএসআই শামীমের অভিযোগ, সকালে জব্দকৃত ওই তিনটি ইজিবাইকের ব্যাপারে জানতে চাইলে তার সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ান পুলিশ পরির্দশক একেএম ফজলুল হক। থানায় গিয়ে জানা যায়, চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে (২৭ তারিখ) ধামরাই উপজেলার জালসা গ্রামে তিনটি বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ডাকাতের ছুরিকাঘাতে রমজান আলী নামের এক স্কুল ছাত্র নিহত হয়। নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে পালায় ডাকাত সদস্যরা। এ ঘটনার পর ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন সরর্দার ঘটনাস্থল পরির্দশন করেন। পরে ধামরাই থানায় একটি হত্যা ও ডাকাতি মামলা হয়। মামলার দায়িত্বভার গ্রহণ করেন কাওয়ালীপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বরত কর্মকর্তা পুলিশ পরির্দশক (তদন্ত) একেএম ফজলুল হক। তিনি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৬ জন ডাকাতকে গ্রেপ্তার করে। এ ছাড়া জিরানি এলাকায় একটি গ্যারেজ থেকে তিনটি ইজিবাইক জব্দ করেন। এ সময় তার সঙ্গে দায়িত্বে ছিলেন এএসআই শামীম। পরে ইজিবাইক তিনটি ডাকাতি মামলার আলামত হিসেবে কাওয়ালীপাড়া ফাঁড়িতে নেন ফজলুল হক। কয়েকদিন আগে গোপনে মামলার আলামত ইজিবাইক তিনটি মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে বিক্রি করে দেন পুলিশ পরির্দশক ফজলুল হক। ঊধ্বর্তন কর্মকর্তা ও দায়িত্বে থাকা এএসআই  শামীমসহ  সংশ্লিষ্ট কাউকে না জানিয়ে আলামত বিক্রির করেন তিনি। এ ঘটনা চাউর হলে আজ সকালে ফজলুল হকের কাছে এ সম্পর্কে জানতে চান শামীম। এতে তার ওপর ক্ষিপ্ত হন পুলিশ পরির্দশক ফজলুল হক। তাদের মধ্যে কথাকাটি শুরু হয়ে এক পর্যায়ে হাতাহাতিতে রূপ নেয়। পরে ফাঁড়ির অন্যান্য সদস্যরা এগিয়ে এসে তাদের দুজনকে থামান। এএসআই  শামীম জানান, তিনি ও ফজলুল হক মিলে ডাকাতি মামলার এক আসামির স্বীকারোক্তি অনুযায়ী জিরানি এলাকা থেকে ইজিবাইক তিনটি জব্দ করে ফাঁড়িতে নিয়ে আসেন। ১৫-২০ দিন সেগুলো ফাঁড়িতে ছিল, এরপর ফজলুল হক সেগুলো কী করেছেন তা কেউ জানেন না।  তিনি বলেন, ‘আমি ইজিবাইক তিনটির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি আমার ক্ষিপ্ত হন।’এ বিষয়ে পুলিশ পরির্দশক একে এম ফজলুল হকের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলতে চাইলে তিনি কল কেটে দেন। ঢাকা জেলার এসপি মারুফ হোসেন সরর্দার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন।

Tag :

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০২:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ নভেম্বর ২০১৯
১৩ বার পঠিত হয়েছে

পুলিশ পরির্দশকের বিরুদ্ধে আলামত বিক্রির অভিযোগ

আপডেট এর সময় : ০২:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ নভেম্বর ২০১৯

ধামরাইয়ের কাওয়ালীপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বরত কর্মকর্তা পুলিশ পরির্দশক (তদন্ত) একেএম ফজলুল হকের বিরুদ্ধে ডাকাতি মামলার আলামত বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় ব্যবহৃত ৩টি ইজিবাইক তিনি বিক্রি করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন একই থানার সহকারী উপপরিদর্শক  শামীম হোসেন। আজ বুধবার সকালে কাওয়ালীপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।ইজিবাইক তিনটি উদ্ধারের পর থানায় নেওয়া হলেও এখন সেগুলোর হদিস মিলছে না। সরেজমিনে গিয়ে এ দৃশ্য দেখা গেছে। এএসআই শামীমের অভিযোগ, সকালে জব্দকৃত ওই তিনটি ইজিবাইকের ব্যাপারে জানতে চাইলে তার সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ান পুলিশ পরির্দশক একেএম ফজলুল হক। থানায় গিয়ে জানা যায়, চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে (২৭ তারিখ) ধামরাই উপজেলার জালসা গ্রামে তিনটি বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ডাকাতের ছুরিকাঘাতে রমজান আলী নামের এক স্কুল ছাত্র নিহত হয়। নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে পালায় ডাকাত সদস্যরা। এ ঘটনার পর ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন সরর্দার ঘটনাস্থল পরির্দশন করেন। পরে ধামরাই থানায় একটি হত্যা ও ডাকাতি মামলা হয়। মামলার দায়িত্বভার গ্রহণ করেন কাওয়ালীপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বরত কর্মকর্তা পুলিশ পরির্দশক (তদন্ত) একেএম ফজলুল হক। তিনি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৬ জন ডাকাতকে গ্রেপ্তার করে। এ ছাড়া জিরানি এলাকায় একটি গ্যারেজ থেকে তিনটি ইজিবাইক জব্দ করেন। এ সময় তার সঙ্গে দায়িত্বে ছিলেন এএসআই শামীম। পরে ইজিবাইক তিনটি ডাকাতি মামলার আলামত হিসেবে কাওয়ালীপাড়া ফাঁড়িতে নেন ফজলুল হক। কয়েকদিন আগে গোপনে মামলার আলামত ইজিবাইক তিনটি মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে বিক্রি করে দেন পুলিশ পরির্দশক ফজলুল হক। ঊধ্বর্তন কর্মকর্তা ও দায়িত্বে থাকা এএসআই  শামীমসহ  সংশ্লিষ্ট কাউকে না জানিয়ে আলামত বিক্রির করেন তিনি। এ ঘটনা চাউর হলে আজ সকালে ফজলুল হকের কাছে এ সম্পর্কে জানতে চান শামীম। এতে তার ওপর ক্ষিপ্ত হন পুলিশ পরির্দশক ফজলুল হক। তাদের মধ্যে কথাকাটি শুরু হয়ে এক পর্যায়ে হাতাহাতিতে রূপ নেয়। পরে ফাঁড়ির অন্যান্য সদস্যরা এগিয়ে এসে তাদের দুজনকে থামান। এএসআই  শামীম জানান, তিনি ও ফজলুল হক মিলে ডাকাতি মামলার এক আসামির স্বীকারোক্তি অনুযায়ী জিরানি এলাকা থেকে ইজিবাইক তিনটি জব্দ করে ফাঁড়িতে নিয়ে আসেন। ১৫-২০ দিন সেগুলো ফাঁড়িতে ছিল, এরপর ফজলুল হক সেগুলো কী করেছেন তা কেউ জানেন না।  তিনি বলেন, ‘আমি ইজিবাইক তিনটির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি আমার ক্ষিপ্ত হন।’এ বিষয়ে পুলিশ পরির্দশক একে এম ফজলুল হকের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলতে চাইলে তিনি কল কেটে দেন। ঢাকা জেলার এসপি মারুফ হোসেন সরর্দার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন।