ঢাকা , শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo ইরান কখনো মাথা নত করবে না: পেজেশকিয়ান Logo জাতিসংঘে শত্রু-মিত্রদের সমালোচনা করতে পারেন নেতানিয়াহু Logo ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আরও নিরাপদ ও টেকসই বিশ্ব গড়ে তোলার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর Logo বোয়িংয়ের সঙ্গে ১১টি বিমান কেনার চুক্তি হয়েছে: মাহদী আমিন Logo এআইয়ের নাম পাল্টে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ বা এসআই রাখছেন ট্রাম্প Logo বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ক আরও জোরদারের প্রত্যয় Logo মার্কিন প্রেসিডেন্টের নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ Logo হুতিদের ‘অবিলম্বে সব সামরিক কর্মকাণ্ড বন্ধ করার আহ্বান জি৭ নেতাদের Logo তুরস্কে স্কুলের বাইরে গুলিতে আহত ৪ শিক্ষার্থী Logo সীমিত সম্পদের ভারসাম্য রক্ষায় জ্বালানি খাতে ভর্তুকি সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত : তথ্য উপদেষ্টা

কুষ্ঠরোগীদের দেখে দূর-দূর ছেই ছেই করবেন না: প্রধানমন্ত্রী

প্রতিনিধির নাম :

কুষ্ঠরোগীদের অবহেলা না করে সু-চিকিৎসার ব্যবস্থা করার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, কুষ্ঠরোগীদের দেখে দূর-দূর ছেই ছেই করবেন না। তাদের আলাদা করে রাখবেন না। এটা অভিশাপ নয়, চিকিৎসা দিলে এরাও ভালো হয় এবং সুস্থ জীবনে ফিরে যায়। এটা আমি প্রমাণ করেছি। কুষ্ঠরোগীদের সেবা দেয়া, সহায়তা করা এবং সহানুভূতির সঙ্গে তাদের দেখার জন্য অনুরোধ জানাই।

বুধবার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে কুষ্ঠরোগ মুক্ত করার বিষয়ে আয়োজিত জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
কুষ্ঠ রোগে আক্রান্তদের মানবিকভাবে দেখার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, তাদেরকে সামাজিকভাবে সহাবস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে।

একই সঙ্গে এই রোগের চিকিৎসার ওষুধ দেশীয় কোম্পানিকে উৎপাদন এবং বিনামূল্যে বিতরণের আহ্বানও জানান তিনি।

ক্ষমতায় আসার আগেই কুষ্ঠরোগীদের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে নিজের উদারহণ তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, আমার স্বামীর চাকরির সুবাদে আমি যখন মহাখালী কোয়াটারে থাকতাম তখন সেখানে বেশ কিছু কুষ্ঠরোগী আসতো। আমি তাদের খেতে দিতাম এবং টাকা-পয়সা দিয়ে সাহায্য করতাম। আবার যখন বিরোধীদলীয় নেতা ছিলাম এবং মিন্টো রোডে বসবাস করতাম তখনও সেখানে কুষ্ঠরোগী যেত। তাদেরও সাহায্য করতাম। প্রথম প্রথম অনেকে তাদের কাছে যেত না, তারপর আমি যখন যাওয়া শুরু করলাম তখন সবাই যাওয়া শুরু করল। তখন থেকেই ভাবতাম কোনোদিন ক্ষমতায় গেলে কুষ্ঠরোগীদের জন্য স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা করব।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ক্ষমতায় যাওয়ার পর এই কুষ্ঠরোগীদের জন্য গাজীপুরে আশ্রয়ণ প্রকল্প করা হলো। ৭০টি পরিবারকে সেখানে আশ্রয় দেয়া হলো। সরকারির পাশাপাশি বেসরকারিভাবেও অনেকে এগিয়ে এল। সেখানে বসবাস করা অনেকেই এখন রোগমুক্ত হয়েছে। তারা এখন সমাজের অন্য মানুষের সঙ্গে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছে। তাদের এখন আর ভিক্ষাবৃত্তি করতে হচ্ছে না। তারা এখন আর অবহেলার পাত্র নয়।

”২০৩০ সাল লাগবে না তার আগেই আমরা বাংলাদেশকে কুষ্ঠরোগ মুক্ত করব ইনশাআল্লাহ”, যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

Tag :

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০৭:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৯
২৬ বার পঠিত হয়েছে

কুষ্ঠরোগীদের দেখে দূর-দূর ছেই ছেই করবেন না: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট এর সময় : ০৭:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৯

কুষ্ঠরোগীদের অবহেলা না করে সু-চিকিৎসার ব্যবস্থা করার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, কুষ্ঠরোগীদের দেখে দূর-দূর ছেই ছেই করবেন না। তাদের আলাদা করে রাখবেন না। এটা অভিশাপ নয়, চিকিৎসা দিলে এরাও ভালো হয় এবং সুস্থ জীবনে ফিরে যায়। এটা আমি প্রমাণ করেছি। কুষ্ঠরোগীদের সেবা দেয়া, সহায়তা করা এবং সহানুভূতির সঙ্গে তাদের দেখার জন্য অনুরোধ জানাই।

বুধবার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে কুষ্ঠরোগ মুক্ত করার বিষয়ে আয়োজিত জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
কুষ্ঠ রোগে আক্রান্তদের মানবিকভাবে দেখার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, তাদেরকে সামাজিকভাবে সহাবস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে।

একই সঙ্গে এই রোগের চিকিৎসার ওষুধ দেশীয় কোম্পানিকে উৎপাদন এবং বিনামূল্যে বিতরণের আহ্বানও জানান তিনি।

ক্ষমতায় আসার আগেই কুষ্ঠরোগীদের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে নিজের উদারহণ তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, আমার স্বামীর চাকরির সুবাদে আমি যখন মহাখালী কোয়াটারে থাকতাম তখন সেখানে বেশ কিছু কুষ্ঠরোগী আসতো। আমি তাদের খেতে দিতাম এবং টাকা-পয়সা দিয়ে সাহায্য করতাম। আবার যখন বিরোধীদলীয় নেতা ছিলাম এবং মিন্টো রোডে বসবাস করতাম তখনও সেখানে কুষ্ঠরোগী যেত। তাদেরও সাহায্য করতাম। প্রথম প্রথম অনেকে তাদের কাছে যেত না, তারপর আমি যখন যাওয়া শুরু করলাম তখন সবাই যাওয়া শুরু করল। তখন থেকেই ভাবতাম কোনোদিন ক্ষমতায় গেলে কুষ্ঠরোগীদের জন্য স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা করব।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ক্ষমতায় যাওয়ার পর এই কুষ্ঠরোগীদের জন্য গাজীপুরে আশ্রয়ণ প্রকল্প করা হলো। ৭০টি পরিবারকে সেখানে আশ্রয় দেয়া হলো। সরকারির পাশাপাশি বেসরকারিভাবেও অনেকে এগিয়ে এল। সেখানে বসবাস করা অনেকেই এখন রোগমুক্ত হয়েছে। তারা এখন সমাজের অন্য মানুষের সঙ্গে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছে। তাদের এখন আর ভিক্ষাবৃত্তি করতে হচ্ছে না। তারা এখন আর অবহেলার পাত্র নয়।

”২০৩০ সাল লাগবে না তার আগেই আমরা বাংলাদেশকে কুষ্ঠরোগ মুক্ত করব ইনশাআল্লাহ”, যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।