ঢাকা , শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo তিন ম্যাচে তিন জয় নিয়ে নক আউটে মেক্সিকো Logo ঝিনাইদহে হত্যা মামলায় ৩ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড Logo ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে প্রাণহানি অন্তত ৩২, আহত ৭ শতাধিক Logo প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের পানিসম্পদ মন্ত্রীর বৈঠকে নদী ব্যবস্থাপনায় ঐকমত্য Logo পরবর্তী এশীয় অর্থনৈতিক বিস্ময় রচনায় অংশীদার হতে চীনা বিনিয়োগকারীদের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর Logo গ্রেট হলে প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা Logo তারেক রহমান ও লি কিয়াং বৈঠক: ঢাকা ও বেইজিংয়ের মধ্যে ১৫টি সমঝোতা স্মারক সই হবে Logo তৃতীয় স্থানের দলগুলো কীভাবে নক আউটে যাবে Logo ঝালকাঠিতে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন বিষয়ে সাংবাদিক অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত Logo উ. কোরিয়ার সেনাকে হেফাজতে নিল সিউল

শ্রদ্ধা নিবেদনে পুরোপুরি প্রস্তুত জাতীয় স্মৃতিসৌধ

প্রতিনিধির নাম :

আলমাস হোসেন: ১৬ই ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস। পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে মুক্তির দিন এটি। এদিন বিশ্বের মানচিত্রে সৃষ্টি হয় নতুন একটি সার্বভৌম দেশ বাংলাদেশ। যা বাঙ্গালি জাতিকে এনে দেয় আত্মপরিচয়ের ঠিকানা। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগকারী সেই বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনে ইতিমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে জাতীয় স্মৃতিসৌধ। জাতির জনকের নেতৃত্বে বাঙালির শ্রেষ্ঠতম অর্জন স্বাধীন বাংলাদেশ। একাত্তরে হানাদার পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও তাদের দোসরদের বিরুদ্ধে বুকের তাজা রক্ত দিয়ে নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তি সংগ্রামের চূড়ান্ত বিজয় আসে ১৬ই ডিসেম্বরে।

জাতি এবার উদযাপন করবে বিজয়ের ৪৮তম বার্ষিকী। তাই লাল আর সবুজের সমারোহে বাহারি ছোট ছোট বাগানগুলোকে সাজানো হয়েছে অপরূপ সাজে। চত্বরের সিঁড়ি ও নানা স্থাপনায় পড়েছে রঙ-তুলির আঁচড়।

১৬ই ডিসেম্বরের ভোরের সূর্য্য ওঠার সাথে সাথেই জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি জানানো হবে রাষ্ট্রীয় শ্রদ্ধা। এরপর নামবে লাখো মানুষের ঢল। তাই পুরো স্মৃতিসৌধ এলাকায় নেয়া হয়েছে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

দিবসটি উপলক্ষে গণপূর্ত বিভাগের কর্মীদের টানা কয়েকদিনের অক্লান্ত পরিশ্রমে এক নতুন রূপ ধারণ করেছে স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণ।

সাভার গণপূর্ত বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, টানা কয়েক দিন ব্যাপক কর্মযজ্ঞ আর পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা শেষে স্মৃতিসৌধ সেজেছে ভিন্নরূপে। অন্যবারের তুলনায় মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে এবার স্মৃতিসৌধকে নতুন আঙ্গিকে সাজানো হয়েছে।

শেষ করা হয়েছে ধোয়ামোছা ও রং তুলির কাজ। স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণকে বিভিন্ন ধাপে রং তুলির আঁচড়ের আলপনায় সাজানো হয়েছে অপরূপ সাজে। স্মৃতিসৌধ মিনারের সম্মুখ ভাগে হেরিংবন্ড ধরে নিচু জায়গাগুলোতে সবুজ ঘাসের মধ্যে শোভা পেয়েছে লাল, নীল, হলুদ, বেগুনিসহ নানা রঙের ফুল গাছের চারা। যা প্রতিবারের মতো এবারও সৌধ এলাকাকে এনে দিয়েছে রঙিন ও বর্ণিল রূপ।

ঢাকার জেলার পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন সরদার বলেন, অন্যবারের তুলনায় এবার দ্বিগুণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের দুথপাশ ও ওভার ব্রিজসহ বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি বসানো হয়েছে বাড়তি পুলিশী চেকপোস্ট।
এছাড়াও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়োজিতসহ বাড়ানো হয়েছে সার্বক্ষণিক গোয়েন্দা নজরদারি। সাভারের আমিনবাজার থেকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের জাতীয় স্মৃতিসৌধ পর্যন্ত কয়েকটি স্তরের নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলা হয়েছে।

১৬ ডিসেম্বরের প্রথম প্রহরে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও বিদেশি কূটনীতিকদের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদনের পর তা সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। প্রতিবারের মত এবারও নির্বিঘেœ বাঙ্গালি জাতি এই অহংকারের দিনটি উদযাপন করতে পারবেন বলেও জানান পুলিশ সুপার।

Tag :

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০১:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯
৯ বার পঠিত হয়েছে

শ্রদ্ধা নিবেদনে পুরোপুরি প্রস্তুত জাতীয় স্মৃতিসৌধ

আপডেট এর সময় : ০১:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯

আলমাস হোসেন: ১৬ই ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস। পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে মুক্তির দিন এটি। এদিন বিশ্বের মানচিত্রে সৃষ্টি হয় নতুন একটি সার্বভৌম দেশ বাংলাদেশ। যা বাঙ্গালি জাতিকে এনে দেয় আত্মপরিচয়ের ঠিকানা। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগকারী সেই বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনে ইতিমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে জাতীয় স্মৃতিসৌধ। জাতির জনকের নেতৃত্বে বাঙালির শ্রেষ্ঠতম অর্জন স্বাধীন বাংলাদেশ। একাত্তরে হানাদার পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও তাদের দোসরদের বিরুদ্ধে বুকের তাজা রক্ত দিয়ে নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তি সংগ্রামের চূড়ান্ত বিজয় আসে ১৬ই ডিসেম্বরে।

জাতি এবার উদযাপন করবে বিজয়ের ৪৮তম বার্ষিকী। তাই লাল আর সবুজের সমারোহে বাহারি ছোট ছোট বাগানগুলোকে সাজানো হয়েছে অপরূপ সাজে। চত্বরের সিঁড়ি ও নানা স্থাপনায় পড়েছে রঙ-তুলির আঁচড়।

১৬ই ডিসেম্বরের ভোরের সূর্য্য ওঠার সাথে সাথেই জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি জানানো হবে রাষ্ট্রীয় শ্রদ্ধা। এরপর নামবে লাখো মানুষের ঢল। তাই পুরো স্মৃতিসৌধ এলাকায় নেয়া হয়েছে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

দিবসটি উপলক্ষে গণপূর্ত বিভাগের কর্মীদের টানা কয়েকদিনের অক্লান্ত পরিশ্রমে এক নতুন রূপ ধারণ করেছে স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণ।

সাভার গণপূর্ত বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, টানা কয়েক দিন ব্যাপক কর্মযজ্ঞ আর পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা শেষে স্মৃতিসৌধ সেজেছে ভিন্নরূপে। অন্যবারের তুলনায় মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে এবার স্মৃতিসৌধকে নতুন আঙ্গিকে সাজানো হয়েছে।

শেষ করা হয়েছে ধোয়ামোছা ও রং তুলির কাজ। স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণকে বিভিন্ন ধাপে রং তুলির আঁচড়ের আলপনায় সাজানো হয়েছে অপরূপ সাজে। স্মৃতিসৌধ মিনারের সম্মুখ ভাগে হেরিংবন্ড ধরে নিচু জায়গাগুলোতে সবুজ ঘাসের মধ্যে শোভা পেয়েছে লাল, নীল, হলুদ, বেগুনিসহ নানা রঙের ফুল গাছের চারা। যা প্রতিবারের মতো এবারও সৌধ এলাকাকে এনে দিয়েছে রঙিন ও বর্ণিল রূপ।

ঢাকার জেলার পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন সরদার বলেন, অন্যবারের তুলনায় এবার দ্বিগুণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের দুথপাশ ও ওভার ব্রিজসহ বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি বসানো হয়েছে বাড়তি পুলিশী চেকপোস্ট।
এছাড়াও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়োজিতসহ বাড়ানো হয়েছে সার্বক্ষণিক গোয়েন্দা নজরদারি। সাভারের আমিনবাজার থেকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের জাতীয় স্মৃতিসৌধ পর্যন্ত কয়েকটি স্তরের নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলা হয়েছে।

১৬ ডিসেম্বরের প্রথম প্রহরে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও বিদেশি কূটনীতিকদের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদনের পর তা সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। প্রতিবারের মত এবারও নির্বিঘেœ বাঙ্গালি জাতি এই অহংকারের দিনটি উদযাপন করতে পারবেন বলেও জানান পুলিশ সুপার।