ঢাকা , শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo তিন ম্যাচে তিন জয় নিয়ে নক আউটে মেক্সিকো Logo ঝিনাইদহে হত্যা মামলায় ৩ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড Logo ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে প্রাণহানি অন্তত ৩২, আহত ৭ শতাধিক Logo প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের পানিসম্পদ মন্ত্রীর বৈঠকে নদী ব্যবস্থাপনায় ঐকমত্য Logo পরবর্তী এশীয় অর্থনৈতিক বিস্ময় রচনায় অংশীদার হতে চীনা বিনিয়োগকারীদের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর Logo গ্রেট হলে প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা Logo তারেক রহমান ও লি কিয়াং বৈঠক: ঢাকা ও বেইজিংয়ের মধ্যে ১৫টি সমঝোতা স্মারক সই হবে Logo তৃতীয় স্থানের দলগুলো কীভাবে নক আউটে যাবে Logo ঝালকাঠিতে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন বিষয়ে সাংবাদিক অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত Logo উ. কোরিয়ার সেনাকে হেফাজতে নিল সিউল

২শ বছরের ‘পলো বাওয়া’ উৎসব

প্রতিনিধির নাম :

বিশ্বনাথে এবারও হৈ-হুল্লোড় আর আনন্দ-উৎসবে উদযাপিত হলো ২শ বছরের পুরনো গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী ‘পলো বাওয়া’ উৎসব। শিকড়ের সংস্কৃতি আর ঐতিহ্যের টানে প্রতি বছরই আয়োজন করা হয় এই উৎসবের। বুধবার দুপুর ১২টায় উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের গোয়াহরী গ্রামের (দক্ষিণের বিল) বড় বিলে এই মৎস্য আহরণ শুরু হয়। এতে প্রায় চারশতাধিক সৌখিন মৎস্য শিকারি অংশগ্রহণ করেন।

সরেজমিন বিলে গিয়ে দেখা যায়, কনকনে শীত উপেক্ষা করে সাতসকালেই বিলের ধারে জড়ো হয়েছেন শিকারিরা। এতে দলভুক্ত হয়েছে শিশু-কিশোরও। মাছ ধরার বিভিন্ন সরঞ্জাম পাশে নিয়ে পূর্ব নির্ধারিত সময়ের প্রহর গুনছেন সকলেই। সময় হলেই একযোগে ‘আনন্দ চিৎকার’ দিয়ে বিলে নামার অপেক্ষায় সবাই। এ দিকে এই উৎসবের আনন্দ উপভোগ করতে বিলের ধারে ভিড় জমিয়েছেন উৎসুক জনতা। দুপুর ১২টা হলেই ভূ-দৌড়ে পলো নিয়ে বিলে ঝাঁপ দেন শিকারি দল। দীর্ঘসময় হিম শীতল জলে মাছ শিকারে মেতে উঠেন তারা। এসময় ধরা পড়ে বোয়াল, রুই, কাতলা, শোল, গজার ও বাউশ মাছ।

গ্রামবাসী বলেন, গ্রাম পঞ্চায়েতের সিদ্ধান্তানুযায়ী ভাদ্র মাস থেকে বিলে সকল প্রকার মাছ আহরণ নিষিদ্ধ করা হয়। এতে বিলে জড়ো হয় বিভিন্ন জাতের প্রচুর মাছ। এই পাঁচ মাসে মাছগুলো সুযোগ পায় বড়ো হওয়ার। ২শ বছরের পুরনো ‘পলো উৎসবের’ এক সপ্তাহ পূর্বে পঞ্চায়েতের সভা ডেকে শৃংঙ্খলা রক্ষায় নেয়া হয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা। সভার পরপরই উৎসবের মত গ্রামের ঘরে ঘরে পলো তৈরী, মেরামত ও সংগ্রহের কাজ চলে। এরপর মাঘ মাসের পহেলা দিনেই আনুষ্ঠানিকভাবে একযোগে আমরা মাছ ধরতে বিলে নামি এবং অধিকাংশ শিকারিই মাছ হাতে বাড়ি ফিরি।

যুক্তরাজ্য প্রবাসী রহমত আলী, সমছুল ইসলাম, মনোহর আলী বলেন, বিদেশ থেকে আসার একমাত্র উদ্দেশ্য পলো বাওয়া উৎসবে অংশ গ্রহণ করা। আমরা আনন্দ পাই। আমাদের ঐতিহ্য ধরে রাখতে প্রতি বছর এ আয়োজন করেন গ্রামবাসী।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য গোলাম হোসেন বলেন, আমাদের উপজেলায় এটিই সবচেয়ে বড় ‘পলো বাওয়া উৎসব’। যুগযুগ ধরে এ ঐতিহ্য চলমান। আমরা গ্রামবাসী মিলেমিশে প্রতিবছর এ বিল থেকে উৎসবের মতো দেশীয় প্রজাতির সু-স্বাদু আহরণ করে থাকি।

Tag :

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০৯:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২০
১৩ বার পঠিত হয়েছে

২শ বছরের ‘পলো বাওয়া’ উৎসব

আপডেট এর সময় : ০৯:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২০

বিশ্বনাথে এবারও হৈ-হুল্লোড় আর আনন্দ-উৎসবে উদযাপিত হলো ২শ বছরের পুরনো গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী ‘পলো বাওয়া’ উৎসব। শিকড়ের সংস্কৃতি আর ঐতিহ্যের টানে প্রতি বছরই আয়োজন করা হয় এই উৎসবের। বুধবার দুপুর ১২টায় উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের গোয়াহরী গ্রামের (দক্ষিণের বিল) বড় বিলে এই মৎস্য আহরণ শুরু হয়। এতে প্রায় চারশতাধিক সৌখিন মৎস্য শিকারি অংশগ্রহণ করেন।

সরেজমিন বিলে গিয়ে দেখা যায়, কনকনে শীত উপেক্ষা করে সাতসকালেই বিলের ধারে জড়ো হয়েছেন শিকারিরা। এতে দলভুক্ত হয়েছে শিশু-কিশোরও। মাছ ধরার বিভিন্ন সরঞ্জাম পাশে নিয়ে পূর্ব নির্ধারিত সময়ের প্রহর গুনছেন সকলেই। সময় হলেই একযোগে ‘আনন্দ চিৎকার’ দিয়ে বিলে নামার অপেক্ষায় সবাই। এ দিকে এই উৎসবের আনন্দ উপভোগ করতে বিলের ধারে ভিড় জমিয়েছেন উৎসুক জনতা। দুপুর ১২টা হলেই ভূ-দৌড়ে পলো নিয়ে বিলে ঝাঁপ দেন শিকারি দল। দীর্ঘসময় হিম শীতল জলে মাছ শিকারে মেতে উঠেন তারা। এসময় ধরা পড়ে বোয়াল, রুই, কাতলা, শোল, গজার ও বাউশ মাছ।

গ্রামবাসী বলেন, গ্রাম পঞ্চায়েতের সিদ্ধান্তানুযায়ী ভাদ্র মাস থেকে বিলে সকল প্রকার মাছ আহরণ নিষিদ্ধ করা হয়। এতে বিলে জড়ো হয় বিভিন্ন জাতের প্রচুর মাছ। এই পাঁচ মাসে মাছগুলো সুযোগ পায় বড়ো হওয়ার। ২শ বছরের পুরনো ‘পলো উৎসবের’ এক সপ্তাহ পূর্বে পঞ্চায়েতের সভা ডেকে শৃংঙ্খলা রক্ষায় নেয়া হয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা। সভার পরপরই উৎসবের মত গ্রামের ঘরে ঘরে পলো তৈরী, মেরামত ও সংগ্রহের কাজ চলে। এরপর মাঘ মাসের পহেলা দিনেই আনুষ্ঠানিকভাবে একযোগে আমরা মাছ ধরতে বিলে নামি এবং অধিকাংশ শিকারিই মাছ হাতে বাড়ি ফিরি।

যুক্তরাজ্য প্রবাসী রহমত আলী, সমছুল ইসলাম, মনোহর আলী বলেন, বিদেশ থেকে আসার একমাত্র উদ্দেশ্য পলো বাওয়া উৎসবে অংশ গ্রহণ করা। আমরা আনন্দ পাই। আমাদের ঐতিহ্য ধরে রাখতে প্রতি বছর এ আয়োজন করেন গ্রামবাসী।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য গোলাম হোসেন বলেন, আমাদের উপজেলায় এটিই সবচেয়ে বড় ‘পলো বাওয়া উৎসব’। যুগযুগ ধরে এ ঐতিহ্য চলমান। আমরা গ্রামবাসী মিলেমিশে প্রতিবছর এ বিল থেকে উৎসবের মতো দেশীয় প্রজাতির সু-স্বাদু আহরণ করে থাকি।