ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo তিন ম্যাচে তিন জয় নিয়ে নক আউটে মেক্সিকো Logo ঝিনাইদহে হত্যা মামলায় ৩ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড Logo ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে প্রাণহানি অন্তত ৩২, আহত ৭ শতাধিক Logo প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের পানিসম্পদ মন্ত্রীর বৈঠকে নদী ব্যবস্থাপনায় ঐকমত্য Logo পরবর্তী এশীয় অর্থনৈতিক বিস্ময় রচনায় অংশীদার হতে চীনা বিনিয়োগকারীদের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর Logo গ্রেট হলে প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা Logo তারেক রহমান ও লি কিয়াং বৈঠক: ঢাকা ও বেইজিংয়ের মধ্যে ১৫টি সমঝোতা স্মারক সই হবে Logo তৃতীয় স্থানের দলগুলো কীভাবে নক আউটে যাবে Logo ঝালকাঠিতে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন বিষয়ে সাংবাদিক অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত Logo উ. কোরিয়ার সেনাকে হেফাজতে নিল সিউল

দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীকেও বিতর্কিত করার অপচেষ্টা চলছে: মির্জা ফখরুল ইসলাম

প্রতিনিধির নাম :

নিজস্ব প্রতিনিধি : বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, “যারা ১০০ গাড়ি নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালায়, তাদের প্রকৃত উদ্দেশ্য আমরা ভালোভাবেই বুঝি।” মঙ্গলবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

মির্জা ফখরুলের এই বক্তব্য এসেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের সফরকে কেন্দ্র করে। গত সোমবার সারজিস আলম ঢাকা থেকে উড়োজাহাজে সৈয়দপুর গমন করেন এবং সেখান থেকে শতাধিক গাড়ির বহর নিয়ে পঞ্চগড়ের বোদা, সদর, তেঁতুলিয়া ও আটোয়ারী উপজেলা পরিদর্শন করেন। এনসিপি নেতার এই বিলাসবহুল সফরকে রাজনৈতিক অঙ্গনে “প্রদর্শনীবাজি” হিসেবে সমালোচনা করা হচ্ছে, যা মির্জা ফখরুলের বক্তব্যেও ইঙ্গিতপূর্ণভাবে উঠে এসেছে।

আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল বলেন, “বিএনপি সর্বদা জনগণের পাশে আছে, থাকবে। আমাদের লক্ষ্য হলো গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং জনগণের আস্থা অর্জন।” তিনি দলীয় নেতা-কর্মীদের জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে এবং সৎভাবে কাজ করার নির্দেশ দেন।

বিএনপির মহাসচিব দেশের চলমান সংকটের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “আজকে দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীকেও বিতর্কিত করার অপচেষ্টা চলছে, যা আমরা কখনো মেনে নেব না। যারা জাতীয় সংকটে জনগণের পাশে দাঁড়ায়, তাদের সম্মান রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।”

মির্জা ফখরুল সংস্কার প্রক্রিয়াকে “অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব” আখ্যা দিয়ে বলেন, “নির্বাচনের মাধ্যমেই গণতন্ত্র ফিরে আসবে। কিন্তু কিছু গোষ্ঠী এই প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে ষড়যন্ত্র করছে।” তিনি সরকারের প্রতি অবিলম্বে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার দাবি জানান।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, “জনগণই সরকার পরিবর্তনের মালিক। ইতিহাস প্রমাণ করে, যারা গণতন্ত্র হত্যা করে, তাদের জনগণই বিদায় করে।” তিনি নির্বাচন পেছানোর চেষ্টাকে “অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” বলে উল্লেখ করেন।

আলোচনা সভায় বিএনপির শীর্ষ নেতারা ছাড়াও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য মামুন আহমেদসহ বিভিন্ন শিক্ষাবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বক্তব্য রাখেন। সভাটি সঞ্চালনা করেন দলের প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

Tag :

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০১:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ মার্চ ২০২৫
৫ বার পঠিত হয়েছে

দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীকেও বিতর্কিত করার অপচেষ্টা চলছে: মির্জা ফখরুল ইসলাম

আপডেট এর সময় : ০১:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ মার্চ ২০২৫

নিজস্ব প্রতিনিধি : বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, “যারা ১০০ গাড়ি নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালায়, তাদের প্রকৃত উদ্দেশ্য আমরা ভালোভাবেই বুঝি।” মঙ্গলবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

মির্জা ফখরুলের এই বক্তব্য এসেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের সফরকে কেন্দ্র করে। গত সোমবার সারজিস আলম ঢাকা থেকে উড়োজাহাজে সৈয়দপুর গমন করেন এবং সেখান থেকে শতাধিক গাড়ির বহর নিয়ে পঞ্চগড়ের বোদা, সদর, তেঁতুলিয়া ও আটোয়ারী উপজেলা পরিদর্শন করেন। এনসিপি নেতার এই বিলাসবহুল সফরকে রাজনৈতিক অঙ্গনে “প্রদর্শনীবাজি” হিসেবে সমালোচনা করা হচ্ছে, যা মির্জা ফখরুলের বক্তব্যেও ইঙ্গিতপূর্ণভাবে উঠে এসেছে।

আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল বলেন, “বিএনপি সর্বদা জনগণের পাশে আছে, থাকবে। আমাদের লক্ষ্য হলো গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং জনগণের আস্থা অর্জন।” তিনি দলীয় নেতা-কর্মীদের জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে এবং সৎভাবে কাজ করার নির্দেশ দেন।

বিএনপির মহাসচিব দেশের চলমান সংকটের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “আজকে দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীকেও বিতর্কিত করার অপচেষ্টা চলছে, যা আমরা কখনো মেনে নেব না। যারা জাতীয় সংকটে জনগণের পাশে দাঁড়ায়, তাদের সম্মান রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।”

মির্জা ফখরুল সংস্কার প্রক্রিয়াকে “অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব” আখ্যা দিয়ে বলেন, “নির্বাচনের মাধ্যমেই গণতন্ত্র ফিরে আসবে। কিন্তু কিছু গোষ্ঠী এই প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে ষড়যন্ত্র করছে।” তিনি সরকারের প্রতি অবিলম্বে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার দাবি জানান।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, “জনগণই সরকার পরিবর্তনের মালিক। ইতিহাস প্রমাণ করে, যারা গণতন্ত্র হত্যা করে, তাদের জনগণই বিদায় করে।” তিনি নির্বাচন পেছানোর চেষ্টাকে “অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” বলে উল্লেখ করেন।

আলোচনা সভায় বিএনপির শীর্ষ নেতারা ছাড়াও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য মামুন আহমেদসহ বিভিন্ন শিক্ষাবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বক্তব্য রাখেন। সভাটি সঞ্চালনা করেন দলের প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।