ঢাকা , মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে চুয়াডাঙ্গায় বৃক্ষরোপণ Logo চট্টগ্রামে ভারতীয় পণ্য জব্দ, গ্রেফতার ২ Logo ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত ভেনেজুয়েলাকে ১৪ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলারের সহায়তা দেবে চীন Logo যে কোনো মূল্যে তিস্তা ব্যারাজ মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন করা হবে: প্রধানমন্ত্রী Logo জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টস হেরে প্রথমে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ Logo বরগুনায় জেলা ফল মেলার উদ্বোধন Logo বাগদাদের গ্রিন জোনে ইরাকি বাহিনীর অভিযান Logo আইসিই’র প্রধান পদে ওকলাহোমার সাবেক স্টেট ট্রুপারকে মনোনয়ন ট্রাম্পের Logo চীনের সঙ্গে সমঝোতায় বাংলাদেশের নিউ মিডিয়ায় গুণগত পরিবর্তন আসবে : তথ্যমন্ত্রী Logo স্পারসোকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

নিরাপদ পানি নিশ্চিতে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের উপর জোর প্রধানমন্ত্রীর

প্রতিনিধির নাম :

এফএনএস: বাংলাদেশের শতভাগ মানুষের জন্য নিরাপদ পানি নিশ্চিত করতে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের উপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব পানি দিবসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে একথা বলেন তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের ৮৭ শতাংশ মানুষ সুপেয় পানির আওতায় এসেছে। শতভাগ মানুষ যাতে সুপেয় পানি পায় সে লক্ষ্যে কাজ চলছে। বর্ষাকালে বৃষ্টির পানি কীভাবে আরো বেশি করে ধরে রাখা যায়, তার পরিকল্পনা নিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিষ্টি পানির অভাব রয়েছে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে। কিন্তু আমাদের সৌভাগ্য যে, বাংলাদেশে সেই সমস্যাটা নাই। আমরা নদীমাতৃক দেশ, পানির কিন্তু অভাব নেই। তারপরও পরিবেশ ও প্রকৃতিকে রক্ষা করে পানির সুব্যবস্থা করার লক্ষ্য নিয়েই সরকার এগোচ্ছে বলে জানান তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, দিনে দিনে পানির জায়গাগুলো সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে। নগরায়ন ও আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে সঙ্গে প্রকৃতির ক্ষতির বিষয়টা বিবেচনা করতে হবে। আমাদের দেশের এতগুলি নদী-নালা, খাল-বিল, পুকুর- সেগুলি কিন্তু সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। কারণ উন্নয়নের নামে আমরা দেখি সবার আগে পুকুর ভরাট, খাল ভরাট বা নদী ভরাট- এই কাজগুলি থেকে সকলকে বিরত থাকতে হবে। বাংলাদেশে প্রায় ৭০০ নদী থাকার তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, সারা বাংলাদেশে এত নদী। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক যে এ নদীগুলির ধারণক্ষমতা কমে গেছে। নদীর তলদেশগুলি আস্তে আস্তে উঁচু হয়ে যাচ্ছে। আমি সবসময় মনে করি, ড্রেজিং করে, নাব্যতা বাড়িয়ে, বর্ষাকালের পানি যতোটা বেশি আমরা সংরক্ষণ করতে পারবো তত বেশি আমাদের দেশের জন্য উপকার হবে। তার সরকারের সময় খননের মাধ্যমে নদ-নদীর গতিপথ ও নাব্যতা পুনরুদ্ধার করাসহ বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনা জানান, ৮২৫টি প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রায় ৬৪ লাখ হেক্টর এলাকা বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে। এর ফলে বছর ১ কোটি মেট্রিক টন বেশি খাদ্য শস্য উৎপাদিত হচ্ছে। সারাদেশে নদী তীরবর্তী একহাজার ৩০ বর্গকিলোমিটার ভূমি পুনরুদ্ধার হয়েছে। আন্তঃদেশীয় নদীর পানি ব্যবস্থাপনার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ভারতের সাথে একটা সমস্যা ছিল। ৫৪টা নদী ভারত থেকে এসেছে। এই নদীগুলি নিয়ে ভারতের সঙ্গে যথেষ্ঠ আলোচনা চলছে। প্রকৃতির সাথে মিলিয়ে ফসল উৎপাদন ও খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রকৃতির সাথে বসবাস করতে হবে। প্রতিনিয়ত নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। তার জন্য আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে। অনুষ্ঠানে পানি সম্পদ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম ও ভারপ্রাপ্ত সচিব কবির বিন আনোয়ার বক্তব্য দেন।

Tag :

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ১২:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ মার্চ ২০১৮
৯ বার পঠিত হয়েছে

নিরাপদ পানি নিশ্চিতে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের উপর জোর প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট এর সময় : ১২:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ মার্চ ২০১৮

এফএনএস: বাংলাদেশের শতভাগ মানুষের জন্য নিরাপদ পানি নিশ্চিত করতে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের উপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব পানি দিবসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে একথা বলেন তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের ৮৭ শতাংশ মানুষ সুপেয় পানির আওতায় এসেছে। শতভাগ মানুষ যাতে সুপেয় পানি পায় সে লক্ষ্যে কাজ চলছে। বর্ষাকালে বৃষ্টির পানি কীভাবে আরো বেশি করে ধরে রাখা যায়, তার পরিকল্পনা নিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিষ্টি পানির অভাব রয়েছে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে। কিন্তু আমাদের সৌভাগ্য যে, বাংলাদেশে সেই সমস্যাটা নাই। আমরা নদীমাতৃক দেশ, পানির কিন্তু অভাব নেই। তারপরও পরিবেশ ও প্রকৃতিকে রক্ষা করে পানির সুব্যবস্থা করার লক্ষ্য নিয়েই সরকার এগোচ্ছে বলে জানান তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, দিনে দিনে পানির জায়গাগুলো সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে। নগরায়ন ও আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে সঙ্গে প্রকৃতির ক্ষতির বিষয়টা বিবেচনা করতে হবে। আমাদের দেশের এতগুলি নদী-নালা, খাল-বিল, পুকুর- সেগুলি কিন্তু সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। কারণ উন্নয়নের নামে আমরা দেখি সবার আগে পুকুর ভরাট, খাল ভরাট বা নদী ভরাট- এই কাজগুলি থেকে সকলকে বিরত থাকতে হবে। বাংলাদেশে প্রায় ৭০০ নদী থাকার তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, সারা বাংলাদেশে এত নদী। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক যে এ নদীগুলির ধারণক্ষমতা কমে গেছে। নদীর তলদেশগুলি আস্তে আস্তে উঁচু হয়ে যাচ্ছে। আমি সবসময় মনে করি, ড্রেজিং করে, নাব্যতা বাড়িয়ে, বর্ষাকালের পানি যতোটা বেশি আমরা সংরক্ষণ করতে পারবো তত বেশি আমাদের দেশের জন্য উপকার হবে। তার সরকারের সময় খননের মাধ্যমে নদ-নদীর গতিপথ ও নাব্যতা পুনরুদ্ধার করাসহ বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনা জানান, ৮২৫টি প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রায় ৬৪ লাখ হেক্টর এলাকা বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে। এর ফলে বছর ১ কোটি মেট্রিক টন বেশি খাদ্য শস্য উৎপাদিত হচ্ছে। সারাদেশে নদী তীরবর্তী একহাজার ৩০ বর্গকিলোমিটার ভূমি পুনরুদ্ধার হয়েছে। আন্তঃদেশীয় নদীর পানি ব্যবস্থাপনার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ভারতের সাথে একটা সমস্যা ছিল। ৫৪টা নদী ভারত থেকে এসেছে। এই নদীগুলি নিয়ে ভারতের সঙ্গে যথেষ্ঠ আলোচনা চলছে। প্রকৃতির সাথে মিলিয়ে ফসল উৎপাদন ও খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রকৃতির সাথে বসবাস করতে হবে। প্রতিনিয়ত নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। তার জন্য আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে। অনুষ্ঠানে পানি সম্পদ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম ও ভারপ্রাপ্ত সচিব কবির বিন আনোয়ার বক্তব্য দেন।