ঢাকা , রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo কুমিল্লা-৬ আসনের অবকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর সঙ্গে মনিরুল হক চৌধুরীর মতবিনিময় Logo ফেনীতে পৃথক অভিযানে ৩৯ কেজি গাঁজা, ইয়াবা ও ইস্কাপসহ আটক ৪ Logo নোবেল রসায়নে স্বীকৃতি পেল ওষুধ তৈরির যুগান্তকারী ‘কাইরাল’ গবেষণা Logo সড়কে নৈরাজ্য ও চাঁদাবাজি বন্ধে নতুন ফেডারেশন কার্যকর ভূমিকা রাখবে: রিজভী Logo ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে ভিসা ও বাণিজ্য সহযোগিতা জোরদারে মাহ্দী আমিনের বৈঠক Logo ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বৈঠক Logo বুয়েনস আয়ার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানসূচক ডক্টরেট উপাধি পেলেন মেসি Logo রাঙ্গামাটিতে ভারতীয় সিগারেটসহ দুই জন আটক Logo ৭ অক্টোবরের বার্ষিকীতে গাজায় ইসরায়েলের হামলায় নিহত অন্তত ২ Logo শিশুদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিশ্চিতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে : ড. মঈন খান

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া সফরে মোদি, চিন্তিত চীন

প্রতিনিধির নাম :

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া সফরে গেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মঙ্গলবার রাতে তিনি পাঁচদিনের এ সফরে রওনা হয়েছেন। ইতোমধ্যে তিনি পৌঁছেছেন ইন্দোনেশিয়ায়। তারপর যাবেন মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে। এই সফরে বিভিন্ন রাষ্ট্রনেতার সঙ্গে বৈঠক করবেন মোদি। ভারতের প্রধানমন্ত্রীর এ সফর নিয়ে চীনের সরকারি সংবাদমাধ্যমে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

ক্ষমতার চার বছর পূর্ণ করল মোদি নেতৃত্বাধীন সরকার। আর এরই মধ্যে মোদি বেরিয়েছেন বিভিন্ন দেশ সফরে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া সফরের সময় শিক্ষার্থীদের এবং শীর্ষ নামী সংস্থার সিইওদের সঙ্গে আলোচনায় বসাসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করবেন তিনি।

ভারত সরকারের ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতিকে জোরদার করতেই মোদির এই সফরের মূল কারণ বলে ধারণা কূটনীতিক মহলের। বিশেষ করে মোদি ইন্দোনেশিয়ার সবং দ্বীপের বন্দরে বিনিয়োগের প্রস্তাব দেবেন বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়ার মেরিটাইম অ্যাফেয়ার্স মন্ত্রী লুহুত পন্দজাইতান জানিয়েছিলেন, সবং বন্দরের গভীরতা ৪০ মিটার। ফলে সব ধরনের জাহাজ, এমনকী সাবমেরিনের জন্যও এটি কার্যকরী।’

আর ইন্দোনেশীয় মন্ত্রীর এই মন্তব্যেই চিন্তিত চীন। মোদির দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া সফর নিয়ে চীনের সরকারি সংবাদমাধ্যমে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। তারা বলছে, ভারত সবং-এ বানিজ্য ঘাঁটি গড়লে অসুবিধা নেই। তাতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বানিজ্য সম্ভাবনাই বাড়বে। কিন্তু যদি ভারত সেখানে সামরিক ঘাঁটি গড়তে চায় তাহলে সরাসরি চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে হবে ভারতকে। সেক্ষেত্রে ভারতের হাতই পুড়বে বলে দাবি করেছে চীনা গণমাধ্যম।

তারা বলছে, শ্রীলঙ্কার হামবানতোতা বন্দরের কথা। ভারত মহাসাগরের এই দ্বীপ-বন্দরটি চীনের সরকারি এক সংস্থাকে শ্রীলঙ্কা ৯৯ বছরের জন্য লিজ দিয়েছে। এখনও পর্যন্ত ওই বন্দরটি চীন ভারত মহাসাগরে বানিজ্যের কাজে ব্যবহার করে। কিন্তু তারা হুমকি দিয়ে বলছে, ভারত যদি সবং বন্দরে সামরিক ঘাঁটি গড়ে চীনের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চায়, সেক্ষেত্রে চীন ছেড়ে কথা বলবে না। তারাও ভারত মহাসাগরে সামরিক কার্যক্রম চালু করবে।

এসব কূটনৈতিক প্যাঁচের বাইরে বেশ কিছু সাংস্কৃতিক কর্মসূচিও আছে প্রধানমন্ত্রী মোদির। দুদিনের ইন্দোনেশিয়া সফরে জাকার্তার কনভেনশন হলে মিলিত হবেন ইন্দোনেশিয়ায় বসবাসকারী ভারতীয়দের সঙ্গে।

দিল্লির সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, কৈলাস খেরের গানের মধ্য দিয়ে মোদিকে বরণ করে নেবেন প্রবাসী ভারতীয়রা। মোদির এই আগমন নিয়ে প্রবাসী ভারতীয়দের মধ্যে দারুন উৎসাহ দেখা দিয়েছে। শুধু জাকার্তা নয়, বালি, সুরাবায়া, সামারা থেকেও ভারতীয়রা আসছেন প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ শুনতে, তার সঙ্গে মিলিত হতে।

এই অনুষ্ঠান ঘিরে সমগ্র ইন্দোনেশিয়ায় বসবাসকারী ভারতীয়দের এক হতে দেখা যাবে বলে দাবি উদ্যোক্তাদের। মোদিকে হাতের কাছে পাওয়ার সূযোগ প্রবাসী ভারতীয়দের কাছে খুব একটা আসে না। তাই প্রধানমন্ত্রীর কাছে কয়েকটি আব্দারও করতে চান তারা।

দেশটিতে বসবাসকারী ভারতীয়দের অভিযোগ, আগে ভারত-ইন্দোনেশিয়া সরাসরি বিমান যোগাযোগ ছিল। এখন তা বন্ধ হয়ে গেছে। তারা নতুন বিমান চালু করার দাবি রাখবেন প্রধানমন্ত্রীর কাছে। তাতে, শিক্ষা থেকে স্বাস্থ্য সব প্রয়োজনেই দেশের সঙ্গে তারা সহজে যোগাযোগ রাখতে পারবেন।

এছাড়া গত কয়েকবছরে ইন্দোনেশিয়ায় ভারতীয় পন্য পাওয়া ভার হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেদিকেও নরেন্দ্র মোদীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাইবেন তারা। এছাড়া দুদেশের মধ্যে বানিজ্যিক সম্পর্ক বাড়ুক তাও চাইছেন ইন্দোনেশিয়ায় বসবাসকারী প্রবাসী ভারতীয়রা।

Tag :

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ১০:০২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ মে ২০১৮
১৮ বার পঠিত হয়েছে

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া সফরে মোদি, চিন্তিত চীন

আপডেট এর সময় : ১০:০২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ মে ২০১৮

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া সফরে গেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মঙ্গলবার রাতে তিনি পাঁচদিনের এ সফরে রওনা হয়েছেন। ইতোমধ্যে তিনি পৌঁছেছেন ইন্দোনেশিয়ায়। তারপর যাবেন মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে। এই সফরে বিভিন্ন রাষ্ট্রনেতার সঙ্গে বৈঠক করবেন মোদি। ভারতের প্রধানমন্ত্রীর এ সফর নিয়ে চীনের সরকারি সংবাদমাধ্যমে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

ক্ষমতার চার বছর পূর্ণ করল মোদি নেতৃত্বাধীন সরকার। আর এরই মধ্যে মোদি বেরিয়েছেন বিভিন্ন দেশ সফরে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া সফরের সময় শিক্ষার্থীদের এবং শীর্ষ নামী সংস্থার সিইওদের সঙ্গে আলোচনায় বসাসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করবেন তিনি।

ভারত সরকারের ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতিকে জোরদার করতেই মোদির এই সফরের মূল কারণ বলে ধারণা কূটনীতিক মহলের। বিশেষ করে মোদি ইন্দোনেশিয়ার সবং দ্বীপের বন্দরে বিনিয়োগের প্রস্তাব দেবেন বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়ার মেরিটাইম অ্যাফেয়ার্স মন্ত্রী লুহুত পন্দজাইতান জানিয়েছিলেন, সবং বন্দরের গভীরতা ৪০ মিটার। ফলে সব ধরনের জাহাজ, এমনকী সাবমেরিনের জন্যও এটি কার্যকরী।’

আর ইন্দোনেশীয় মন্ত্রীর এই মন্তব্যেই চিন্তিত চীন। মোদির দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া সফর নিয়ে চীনের সরকারি সংবাদমাধ্যমে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। তারা বলছে, ভারত সবং-এ বানিজ্য ঘাঁটি গড়লে অসুবিধা নেই। তাতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বানিজ্য সম্ভাবনাই বাড়বে। কিন্তু যদি ভারত সেখানে সামরিক ঘাঁটি গড়তে চায় তাহলে সরাসরি চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে হবে ভারতকে। সেক্ষেত্রে ভারতের হাতই পুড়বে বলে দাবি করেছে চীনা গণমাধ্যম।

তারা বলছে, শ্রীলঙ্কার হামবানতোতা বন্দরের কথা। ভারত মহাসাগরের এই দ্বীপ-বন্দরটি চীনের সরকারি এক সংস্থাকে শ্রীলঙ্কা ৯৯ বছরের জন্য লিজ দিয়েছে। এখনও পর্যন্ত ওই বন্দরটি চীন ভারত মহাসাগরে বানিজ্যের কাজে ব্যবহার করে। কিন্তু তারা হুমকি দিয়ে বলছে, ভারত যদি সবং বন্দরে সামরিক ঘাঁটি গড়ে চীনের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চায়, সেক্ষেত্রে চীন ছেড়ে কথা বলবে না। তারাও ভারত মহাসাগরে সামরিক কার্যক্রম চালু করবে।

এসব কূটনৈতিক প্যাঁচের বাইরে বেশ কিছু সাংস্কৃতিক কর্মসূচিও আছে প্রধানমন্ত্রী মোদির। দুদিনের ইন্দোনেশিয়া সফরে জাকার্তার কনভেনশন হলে মিলিত হবেন ইন্দোনেশিয়ায় বসবাসকারী ভারতীয়দের সঙ্গে।

দিল্লির সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, কৈলাস খেরের গানের মধ্য দিয়ে মোদিকে বরণ করে নেবেন প্রবাসী ভারতীয়রা। মোদির এই আগমন নিয়ে প্রবাসী ভারতীয়দের মধ্যে দারুন উৎসাহ দেখা দিয়েছে। শুধু জাকার্তা নয়, বালি, সুরাবায়া, সামারা থেকেও ভারতীয়রা আসছেন প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ শুনতে, তার সঙ্গে মিলিত হতে।

এই অনুষ্ঠান ঘিরে সমগ্র ইন্দোনেশিয়ায় বসবাসকারী ভারতীয়দের এক হতে দেখা যাবে বলে দাবি উদ্যোক্তাদের। মোদিকে হাতের কাছে পাওয়ার সূযোগ প্রবাসী ভারতীয়দের কাছে খুব একটা আসে না। তাই প্রধানমন্ত্রীর কাছে কয়েকটি আব্দারও করতে চান তারা।

দেশটিতে বসবাসকারী ভারতীয়দের অভিযোগ, আগে ভারত-ইন্দোনেশিয়া সরাসরি বিমান যোগাযোগ ছিল। এখন তা বন্ধ হয়ে গেছে। তারা নতুন বিমান চালু করার দাবি রাখবেন প্রধানমন্ত্রীর কাছে। তাতে, শিক্ষা থেকে স্বাস্থ্য সব প্রয়োজনেই দেশের সঙ্গে তারা সহজে যোগাযোগ রাখতে পারবেন।

এছাড়া গত কয়েকবছরে ইন্দোনেশিয়ায় ভারতীয় পন্য পাওয়া ভার হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেদিকেও নরেন্দ্র মোদীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাইবেন তারা। এছাড়া দুদেশের মধ্যে বানিজ্যিক সম্পর্ক বাড়ুক তাও চাইছেন ইন্দোনেশিয়ায় বসবাসকারী প্রবাসী ভারতীয়রা।