ঢাকা , শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে কানাডার কিছু পণ্যে শুল্ক প্রত্যাহার ট্রাম্পের Logo ইংল্যান্ডকে হারালেই ফাইনাল নিশ্চিত, হ্যাটট্রিক জয়ের লক্ষ্য পাকিস্তানের Logo পিকআপে সিমেন্টের বস্তার আড়ালে ৫৬০ বোতল ফেনসিডিল, গ্রেফতার ১ Logo ক্রিপ্টো কেলেঙ্কারি: আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট মিলেই ও বোনের মামলা খারিজ Logo তারেক রহমানের জাপান সফরে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতায় নতুন গতি চায় টোকিও Logo কিশোর গ্যাং ও মাদকবিরোধী অভিযানে চট্টগ্রাম রেঞ্জে ৪২৩ জন আটক-গ্রেফতার Logo তিতাসে নতুন দুই কূপ, জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে দৈনিক ৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস Logo আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে: স্পিকার Logo ফ্রান্সে ফের বিক্ষোভের শঙ্কা, প্যারিসের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সমাবেশ নিষিদ্ধ Logo কিউবায় পানির সংকট, রেস্তোরাঁ সচল রাখতে কূপ খনন ব্যবসায়ীর

পাহাড় কেটে প্লট বিক্রির হিড়িক

প্রতিনিধির নাম :

কক্সবাজার সদরের পিএমখালীতে অবাধে উজার করা হচ্ছে সরকারি বনভূমি। চিহিৃত একটি সিন্ডিকেট সরকারি বনভূমির পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি করছেন। পরে সেখানে মোটা অঙ্কের বিনিময়ে প্লট আকারে বিক্রি করছেন তারা। বারবার সরকারি অভিযানেও বন্ধ হচ্ছে না এসব পাহাড় কাটার কাজ। প্রভাবশালীদের অধিকাংশই সরকারদলীয় হওয়ায় কোন পদক্ষেপ কাজে আসছে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয়রা জানায়, প্লট বিক্রির এ সিন্ডিকেটে নেতৃত্ব দিচ্ছেন চেরাংঘর এলাকার আবছার, তুতুকখালীর আব্দুল্লাহ ও ফয়সাল, কাটালিয়ামোড়ার বাবুল, সুইচগেইট এলাকার মোবাশে^র এবং ছনখোলার জাহাঙ্গীর। তাদের রয়েছে অর্ধশত ডাম্পার ও ৪টি করাত কল। এসব ডাম্পারগুলো দিয়ে প্রতিনিয়ত পিএমখালীর ১৫-২০টি স্পটে পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি করে যাচ্ছে। সম্প্রতি ওই এলাকায় পাহাড় কেটে মাটি বিক্রির সময় মাটিভর্তি  তিনটি ডাম্পার আটক করা হয়। তবে মাটি ভর্তি ডাম্পার আটক হওয়ার ৮-১০ দিন অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত কোন আইনি ব্যবস্থা না নেয়া হয়নি। এতে পাহাড় কেটে মার্টি বিক্রি অব্যাহত রেখেছে ভূমিদস্যু সিন্ডিকেটটি।

এ বিষয়ে উত্তর বন বিভাগের স্পেশাল রেঞ্জ কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, ক্ষমতাসীন দলের কয়েকজন নেতার তদবিরের কারণে ডাম্পার মালিকদের বিরুদ্ধে মামলা কিংবা কোন আইন ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না।

সরেজমিনে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে পিএমখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার সরকারি বনভূমি থেকে সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটটি পরিবেশ বিধ্বংসী এই কাজ করে যাচ্ছেন। আর তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে অর্ধশতাধিক অবৈধ ডাম্পার ও ৪টি করাত কল। বিশেষ করে পিএমখালী ইউনিয়নের কাঠালিয়া মোড়া, পরানিয়া পাড়া, ঘাটকুলিয়া পাড়া, ঘোনাপাড়া, ছনখোলা, মাঝরপাড়া, তাহের মোহাম্মদের ঘোনা, মালি পাড়াসহ ১৫-২০টি স্পটে চলছে প্রকাশ্যে সরকারি বনভূমি থেকে পাহাড় কাটার কাজ।

পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, পিএমখালী একটি অতি ঝুকিঁপূর্ণ পাহাড়ী এলাকা। রয়েছে ভয়াবহ পাহাড় কাটার শতাধিক স্পট। এ পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে চালানো হয়েছে শত অভিযানও। অপরাধীদের বিরুদ্ধে মামলা ও জরিমানাও করা হয়েছে লাখ লাখ টাকা। এরপরও ডাম্পারকে ঠেকাতে পারছেন না তারা। এমনি দৃশ্যমান শতাধিক উচুঁ পাহাড় কেটে পরিবেশ বিধ্বংসী কাজ করে যাচ্ছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা।

এ বিষয়ে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (উত্তর) হক মাহবুব মোর্শেদ বলেন, যেসব ডাম্পার আটক করা হয়েছে সেসব ডাম্পারের মালিকের বিরুদ্ধে মামলা হবে। এতে কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না। পাশাপাশি পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে।

Tag :

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০৬:২১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২ জুন ২০১৮
১৮ বার পঠিত হয়েছে

পাহাড় কেটে প্লট বিক্রির হিড়িক

আপডেট এর সময় : ০৬:২১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২ জুন ২০১৮

কক্সবাজার সদরের পিএমখালীতে অবাধে উজার করা হচ্ছে সরকারি বনভূমি। চিহিৃত একটি সিন্ডিকেট সরকারি বনভূমির পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি করছেন। পরে সেখানে মোটা অঙ্কের বিনিময়ে প্লট আকারে বিক্রি করছেন তারা। বারবার সরকারি অভিযানেও বন্ধ হচ্ছে না এসব পাহাড় কাটার কাজ। প্রভাবশালীদের অধিকাংশই সরকারদলীয় হওয়ায় কোন পদক্ষেপ কাজে আসছে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয়রা জানায়, প্লট বিক্রির এ সিন্ডিকেটে নেতৃত্ব দিচ্ছেন চেরাংঘর এলাকার আবছার, তুতুকখালীর আব্দুল্লাহ ও ফয়সাল, কাটালিয়ামোড়ার বাবুল, সুইচগেইট এলাকার মোবাশে^র এবং ছনখোলার জাহাঙ্গীর। তাদের রয়েছে অর্ধশত ডাম্পার ও ৪টি করাত কল। এসব ডাম্পারগুলো দিয়ে প্রতিনিয়ত পিএমখালীর ১৫-২০টি স্পটে পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি করে যাচ্ছে। সম্প্রতি ওই এলাকায় পাহাড় কেটে মাটি বিক্রির সময় মাটিভর্তি  তিনটি ডাম্পার আটক করা হয়। তবে মাটি ভর্তি ডাম্পার আটক হওয়ার ৮-১০ দিন অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত কোন আইনি ব্যবস্থা না নেয়া হয়নি। এতে পাহাড় কেটে মার্টি বিক্রি অব্যাহত রেখেছে ভূমিদস্যু সিন্ডিকেটটি।

এ বিষয়ে উত্তর বন বিভাগের স্পেশাল রেঞ্জ কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, ক্ষমতাসীন দলের কয়েকজন নেতার তদবিরের কারণে ডাম্পার মালিকদের বিরুদ্ধে মামলা কিংবা কোন আইন ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না।

সরেজমিনে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে পিএমখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার সরকারি বনভূমি থেকে সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটটি পরিবেশ বিধ্বংসী এই কাজ করে যাচ্ছেন। আর তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে অর্ধশতাধিক অবৈধ ডাম্পার ও ৪টি করাত কল। বিশেষ করে পিএমখালী ইউনিয়নের কাঠালিয়া মোড়া, পরানিয়া পাড়া, ঘাটকুলিয়া পাড়া, ঘোনাপাড়া, ছনখোলা, মাঝরপাড়া, তাহের মোহাম্মদের ঘোনা, মালি পাড়াসহ ১৫-২০টি স্পটে চলছে প্রকাশ্যে সরকারি বনভূমি থেকে পাহাড় কাটার কাজ।

পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, পিএমখালী একটি অতি ঝুকিঁপূর্ণ পাহাড়ী এলাকা। রয়েছে ভয়াবহ পাহাড় কাটার শতাধিক স্পট। এ পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে চালানো হয়েছে শত অভিযানও। অপরাধীদের বিরুদ্ধে মামলা ও জরিমানাও করা হয়েছে লাখ লাখ টাকা। এরপরও ডাম্পারকে ঠেকাতে পারছেন না তারা। এমনি দৃশ্যমান শতাধিক উচুঁ পাহাড় কেটে পরিবেশ বিধ্বংসী কাজ করে যাচ্ছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা।

এ বিষয়ে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (উত্তর) হক মাহবুব মোর্শেদ বলেন, যেসব ডাম্পার আটক করা হয়েছে সেসব ডাম্পারের মালিকের বিরুদ্ধে মামলা হবে। এতে কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না। পাশাপাশি পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে।