ঢাকা , সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo ফেনীতে ৮ লাখ টাকার ভারতীয় আতশবাজি জব্দ, আটক ৬ Logo হেবরনে প্রায় ২ হাজার ফিলিস্তিনিকে বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য করল ইসরাইল Logo হেবরনে ইসরাইলি সামরিক অভিযানে বাস্তুচ্যুত প্রায় ২ হাজার ফিলিস্তিনি Logo ভূমিমন্ত্রীকে দেখতে হাসপাতালে রাষ্ট্রপতি Logo স্পিকারের সঙ্গে সুইডিশ রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ Logo অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা জোরদারে স্পেন-যুক্তরাজ্য সফরে শামা ওবায়েদ Logo ভারত সিরিজের শেষ তিন টি-টোয়েন্টিতে নেই হেনরি Logo মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে কানাডার কিছু পণ্যে শুল্ক প্রত্যাহার ট্রাম্পের Logo ইংল্যান্ডকে হারালেই ফাইনাল নিশ্চিত, হ্যাটট্রিক জয়ের লক্ষ্য পাকিস্তানের Logo পিকআপে সিমেন্টের বস্তার আড়ালে ৫৬০ বোতল ফেনসিডিল, গ্রেফতার ১

‘সৌদি যুবরাজ গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছিলেন’

প্রতিনিধির নাম :

সৌদির একজন নির্বাসিত রাজনীতিবিদ ও মানবাধিকার কর্মী দাবি করেছেন, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে প্রকাশ্যে না দেখার কারণ হচ্ছে, গত মাসের শেষের দিকে যখন রিয়াদে সৌদির রাজপ্রাসাদের বাইরে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে, তখন যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছিলেন। খবর প্রেস টিভির।

ইসলামিক রিভাইভাল পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আল-মাসারি নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে লেবাবননের আল-মায়াদিন টিভিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ২১ এপ্রিলের হামলার ঘটনা মোহাম্মদ বিন সালমান গুলিবিদ্ধ হন।

তিনি আরো বলেছেন, রাজপরিবার থেকে সোশ্যাল মিডিয়া বিশেষ করে টুইটারে যুবরাজের স্বাস্থ্যগত অবস্থা জানানোর আগেই তার গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবরটি ফাঁস হয়ে যায়।

আল-মাসারি বলছেন, সৌদি রাজপ্রাসাদের অভুত্থানচেষ্টার ঘটনা মিথ্যা প্রমাণ করার জন্য যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এখন গণমাধ্যমের সামনের আসতে চান।

২১ এপ্রিল অনেকগুলো গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, রিয়াদে সৌদি রাজপ্রাসাদে ব্যাপক গোলাগুলির শব্দ পাওয়া যায়। স্থানীয় বেশ কটি গণমাধ্যম জানায়, ঘটনার সময় সৌদি বাদশা সালমান প্রাসাদ ছেড়ে কাছাকাছি একটি সামরিক ঘাঁটিতে আশ্রয় নিয়েছিলেন।

যদি সৌদির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা স্পা দাবি করেছিল, একটি খেলনা ড্রোন নামাতে গিয়েই গুলি ছোড়েন নিরাপত্তারক্ষীরা। ড্রোনটি রাজপ্রাসাদের খুব কাছাকাছি চলে এসেছিল।

মোহাম্মদ আল-মাসারি

সৌদির মানবাধিকার কর্মীরা দাবি করছেন, গোলাগুলির ঘটনার সঙ্গে  ড্রোনের কোনো সম্পর্ক নেই। এই হামলা গাড়ি থেকে চালানো হয়েছে। গাড়ি থেকে ভারি মেশিনগান দিয়ে ব্যাপক গুলি চালানো হয়।

খবরে বলা হয়েছে, গোলাগুলির সময় যুবরাজ সালমানের নিরাপত্তার জন্য তাকে কাছাকাছি একটি সামরিক বাঙ্কারে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

সৌদির নতুন উত্তরাধিকার হিসেবে নিজেকে পরিচিত করতে যখন তরুণ যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান বিভিন্ন দেশে সফর শেষে রিয়াদে ফেরেন তখন এই ঘটনা ঘটে। ধারণা করা হচ্ছে, রাজপরিবারের সঙ্গে তার একটা বিরোধ তৈরি হয়েছে।

ওই ঘটনার পর থেকে সৌদি কর্তৃপক্ষ যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের কোনো ছবি বা ভিডিও প্রকাশ করেনি। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এপ্রিলের শেষের দিকে যখন সৌদি সফরে যান তখনও যুবরাজকে কোনো ছবিতে দেখা যায়নি। তার দীর্ঘ দিনের অনুপস্থিতিতি যুবরাজের পরিণতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষ করে রিয়াদের আসার পর এক মাসের বেশি সময় ধরে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে জনসমক্ষে আর দেখা যাচ্ছে না।

১৮ মে যুবরাজের ব্যক্তিগত দপ্তরের পরিচালক বাদের আল-আসাকার টুইটারে একটি ছবি পোস্ট করেন। সেখানে যুবরাজ বিন সালমান, আবুধাবির যুবরাজ শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নায়হান, বাহরাইনের বাদশা বিন ইসা ও মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল সিসিকে একসঙ্গে দেখা যায়।বাদের আল আসাকার লেখেন, কয়েক দিন আগে মিসরের প্রেসিডেন্ট ফাত্তাহ আল সিসি দুই ভাইয়ের এক বন্ধুত্বপূর্ণ বৈঠকের আয়োজন করেছিলেন। তবে সেখানে কোনো তারিখ উল্লেখ নেই।

Tag :

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০১:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ মে ২০১৮
২৫ বার পঠিত হয়েছে

‘সৌদি যুবরাজ গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছিলেন’

আপডেট এর সময় : ০১:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ মে ২০১৮

সৌদির একজন নির্বাসিত রাজনীতিবিদ ও মানবাধিকার কর্মী দাবি করেছেন, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে প্রকাশ্যে না দেখার কারণ হচ্ছে, গত মাসের শেষের দিকে যখন রিয়াদে সৌদির রাজপ্রাসাদের বাইরে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে, তখন যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছিলেন। খবর প্রেস টিভির।

ইসলামিক রিভাইভাল পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আল-মাসারি নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে লেবাবননের আল-মায়াদিন টিভিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ২১ এপ্রিলের হামলার ঘটনা মোহাম্মদ বিন সালমান গুলিবিদ্ধ হন।

তিনি আরো বলেছেন, রাজপরিবার থেকে সোশ্যাল মিডিয়া বিশেষ করে টুইটারে যুবরাজের স্বাস্থ্যগত অবস্থা জানানোর আগেই তার গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবরটি ফাঁস হয়ে যায়।

আল-মাসারি বলছেন, সৌদি রাজপ্রাসাদের অভুত্থানচেষ্টার ঘটনা মিথ্যা প্রমাণ করার জন্য যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এখন গণমাধ্যমের সামনের আসতে চান।

২১ এপ্রিল অনেকগুলো গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, রিয়াদে সৌদি রাজপ্রাসাদে ব্যাপক গোলাগুলির শব্দ পাওয়া যায়। স্থানীয় বেশ কটি গণমাধ্যম জানায়, ঘটনার সময় সৌদি বাদশা সালমান প্রাসাদ ছেড়ে কাছাকাছি একটি সামরিক ঘাঁটিতে আশ্রয় নিয়েছিলেন।

যদি সৌদির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা স্পা দাবি করেছিল, একটি খেলনা ড্রোন নামাতে গিয়েই গুলি ছোড়েন নিরাপত্তারক্ষীরা। ড্রোনটি রাজপ্রাসাদের খুব কাছাকাছি চলে এসেছিল।

মোহাম্মদ আল-মাসারি

সৌদির মানবাধিকার কর্মীরা দাবি করছেন, গোলাগুলির ঘটনার সঙ্গে  ড্রোনের কোনো সম্পর্ক নেই। এই হামলা গাড়ি থেকে চালানো হয়েছে। গাড়ি থেকে ভারি মেশিনগান দিয়ে ব্যাপক গুলি চালানো হয়।

খবরে বলা হয়েছে, গোলাগুলির সময় যুবরাজ সালমানের নিরাপত্তার জন্য তাকে কাছাকাছি একটি সামরিক বাঙ্কারে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

সৌদির নতুন উত্তরাধিকার হিসেবে নিজেকে পরিচিত করতে যখন তরুণ যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান বিভিন্ন দেশে সফর শেষে রিয়াদে ফেরেন তখন এই ঘটনা ঘটে। ধারণা করা হচ্ছে, রাজপরিবারের সঙ্গে তার একটা বিরোধ তৈরি হয়েছে।

ওই ঘটনার পর থেকে সৌদি কর্তৃপক্ষ যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের কোনো ছবি বা ভিডিও প্রকাশ করেনি। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এপ্রিলের শেষের দিকে যখন সৌদি সফরে যান তখনও যুবরাজকে কোনো ছবিতে দেখা যায়নি। তার দীর্ঘ দিনের অনুপস্থিতিতি যুবরাজের পরিণতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষ করে রিয়াদের আসার পর এক মাসের বেশি সময় ধরে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে জনসমক্ষে আর দেখা যাচ্ছে না।

১৮ মে যুবরাজের ব্যক্তিগত দপ্তরের পরিচালক বাদের আল-আসাকার টুইটারে একটি ছবি পোস্ট করেন। সেখানে যুবরাজ বিন সালমান, আবুধাবির যুবরাজ শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নায়হান, বাহরাইনের বাদশা বিন ইসা ও মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল সিসিকে একসঙ্গে দেখা যায়।বাদের আল আসাকার লেখেন, কয়েক দিন আগে মিসরের প্রেসিডেন্ট ফাত্তাহ আল সিসি দুই ভাইয়ের এক বন্ধুত্বপূর্ণ বৈঠকের আয়োজন করেছিলেন। তবে সেখানে কোনো তারিখ উল্লেখ নেই।