ঢাকা , সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টস হেরে প্রথমে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ Logo বরগুনায় জেলা ফল মেলার উদ্বোধন Logo বাগদাদের গ্রিন জোনে ইরাকি বাহিনীর অভিযান Logo আইসিই’র প্রধান পদে ওকলাহোমার সাবেক স্টেট ট্রুপারকে মনোনয়ন ট্রাম্পের Logo চীনের সঙ্গে সমঝোতায় বাংলাদেশের নিউ মিডিয়ায় গুণগত পরিবর্তন আসবে : তথ্যমন্ত্রী Logo স্পারসোকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর Logo ইসরাইল-লেবাননের চুক্তির বিরুদ্ধে বৈরুতের রাস্তায় হিজবুল্লাহ সমর্থকদের বিক্ষোভ Logo বিদেশ সফরে দেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা করেছি : প্রধানমন্ত্রী Logo তিন ম্যাচে তিন জয় নিয়ে নক আউটে মেক্সিকো Logo ঝিনাইদহে হত্যা মামলায় ৩ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

গোয়ালন্দে পদ্মা নদীর ভাঙন, ফেরি পারে অপেক্ষায় যানবাহনের সারি

প্রতিনিধির নাম :

শহিদুল ইসলাম, গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি ঃ ভাঙছে নদী, কাঁদছে মানুষ। নদী ভাঙনের কারণে গ্রহহীন হচ্ছে রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ও দৌলতদিয়া ইউনিয়নের প্রায় ৫শতাধিক পরিবার। রাস্তার পাশে আশ্রয় নিয়ে থাকতে হচ্ছে তাদের। এদিকে ভাঙন ও ¯্রােতের কারণে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ রয়েছ্ েফেরি চলাচলে বিঘিœত হচ্ছে। দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষের। দৌলতদিয়া ঘাট এলাকা ঘুরে এমনই চিত্র দেখা যায়।
হঠাৎ পদ্মা নদী পানি বৃদ্ধি। আর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ভাঙন দেখা যায়। এতে গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ও দৌলতদিয়া ইউনিয়নের প্রায় ৫শতাধিক পরিবারের বসতবাড়ী নদী গর্ভে চলে যায়। নদী গর্ভে চলে যায় দৌলতদিয়া পারের ১ ও ২নং ফেরি ঘাট। ¯্রােতের কারণে একটি ঘাটে ফেরি ভিরতে পারছে না। মাত্র ৩টি ঘাট দিয়ে ফেরি চলাচল করছে। এতে দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে মহাসড়কের প্রায় ৪কিঃমিঃ যানবাহনের সারি রয়েছে। দৌলতদিয়া থেকে ১২ কিঃমিঃ দূরে গোয়ালন্দ মোড় এলাকায় প্রায় ৪শতাধিক ট্রাক রয়েছে ফেরি পারের অপেক্ষায়।
ভাঙন কবলিত হালিম খান বলেন, নদী ভাঙনে আমরা সর্বশান্ত হয়ে পড়েছি। রাস্তার পাশে আশ্রয় নিয়েছি। খোলা আকাশের নিয়ে এখন পর্যন্ত থাকতে হচ্ছে। তিনি বলেন, সব কিছু চোখের সামনে হারিয়ে গেল। সরাতেও পারলাম না।
দৌলতদিয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য উজ্জল হোসেন বাবু বলেন, সময় মত ব্যবস্থা নিয়ে নদী ভাঙন রোধ করা সম্বব হতো। তিনি বলেন, এখন যেমন পানি উন্নয়ন বোর্ড সার্বক্ষনিক কাজ করছে ঠিক বর্ষার আগে শুকনো মৌসুমে কাজ করলে ঘাটের কোন সমস্যা হতো না। সাধারণ মানুষের এতো দুর্ভোগ পোহাতে হতো না।
নদী ভাঙন কবলিত ছিদ্দিক মিয়া বলেন, ঘর সরানোর জায়গা নেই। অন্য জায়গা নিয়ে যাওয়ার মত টাকা নেই। তবুও সরাতে হচ্ছে। সুতরাং রাস্তার পাশে আশ্রয় নিয়েছি। এখনও পর্যন্ত কোন জায়গার ব্যবস্থা করতে পারি নাই। তিনি অভিযোগ করে বলেন, সরকারের একটি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন নদী ভাঙনরোধ করার জন্য।
বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট শাখার ব্যবস্থাপক মোঃ আবু আব্দুল্লাহ রনি বলেন, ৗলতদিয়া পারে বর্তমান ৩টি ঘাট সচল রয়েছে। ১০টি ছোট-বড় ফেরি দিয়ে যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ¯্রােত না কমা পর্যন্ত এর অবস্থা পরিবর্তন হবে না।
রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম শেখ বলেন, দৌলতদিয়া ফেরি ও লঞ্চ ঘাট রক্ষা করার জন্য বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলানো হচ্ছে।
কাজী কেরামত আলী এমপি বলেন, নদীতে ¯্রােত থাকার কারণে নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। তবে পানি উন্নয়ন ভাঙনরোধ করার জন্য কাজ করছে। তিনি বলেন, গোয়ালন্দ উপজেলা রক্ষা করার জন্য শুকনো মৌসুমে স্থায়ী ভাবে নদী শাসন করতে হবে।

Tag :

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ১০:০৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ অক্টোবর ২০১৯
৬ বার পঠিত হয়েছে

গোয়ালন্দে পদ্মা নদীর ভাঙন, ফেরি পারে অপেক্ষায় যানবাহনের সারি

আপডেট এর সময় : ১০:০৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ অক্টোবর ২০১৯

শহিদুল ইসলাম, গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি ঃ ভাঙছে নদী, কাঁদছে মানুষ। নদী ভাঙনের কারণে গ্রহহীন হচ্ছে রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ও দৌলতদিয়া ইউনিয়নের প্রায় ৫শতাধিক পরিবার। রাস্তার পাশে আশ্রয় নিয়ে থাকতে হচ্ছে তাদের। এদিকে ভাঙন ও ¯্রােতের কারণে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ রয়েছ্ েফেরি চলাচলে বিঘিœত হচ্ছে। দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষের। দৌলতদিয়া ঘাট এলাকা ঘুরে এমনই চিত্র দেখা যায়।
হঠাৎ পদ্মা নদী পানি বৃদ্ধি। আর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ভাঙন দেখা যায়। এতে গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ও দৌলতদিয়া ইউনিয়নের প্রায় ৫শতাধিক পরিবারের বসতবাড়ী নদী গর্ভে চলে যায়। নদী গর্ভে চলে যায় দৌলতদিয়া পারের ১ ও ২নং ফেরি ঘাট। ¯্রােতের কারণে একটি ঘাটে ফেরি ভিরতে পারছে না। মাত্র ৩টি ঘাট দিয়ে ফেরি চলাচল করছে। এতে দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে মহাসড়কের প্রায় ৪কিঃমিঃ যানবাহনের সারি রয়েছে। দৌলতদিয়া থেকে ১২ কিঃমিঃ দূরে গোয়ালন্দ মোড় এলাকায় প্রায় ৪শতাধিক ট্রাক রয়েছে ফেরি পারের অপেক্ষায়।
ভাঙন কবলিত হালিম খান বলেন, নদী ভাঙনে আমরা সর্বশান্ত হয়ে পড়েছি। রাস্তার পাশে আশ্রয় নিয়েছি। খোলা আকাশের নিয়ে এখন পর্যন্ত থাকতে হচ্ছে। তিনি বলেন, সব কিছু চোখের সামনে হারিয়ে গেল। সরাতেও পারলাম না।
দৌলতদিয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য উজ্জল হোসেন বাবু বলেন, সময় মত ব্যবস্থা নিয়ে নদী ভাঙন রোধ করা সম্বব হতো। তিনি বলেন, এখন যেমন পানি উন্নয়ন বোর্ড সার্বক্ষনিক কাজ করছে ঠিক বর্ষার আগে শুকনো মৌসুমে কাজ করলে ঘাটের কোন সমস্যা হতো না। সাধারণ মানুষের এতো দুর্ভোগ পোহাতে হতো না।
নদী ভাঙন কবলিত ছিদ্দিক মিয়া বলেন, ঘর সরানোর জায়গা নেই। অন্য জায়গা নিয়ে যাওয়ার মত টাকা নেই। তবুও সরাতে হচ্ছে। সুতরাং রাস্তার পাশে আশ্রয় নিয়েছি। এখনও পর্যন্ত কোন জায়গার ব্যবস্থা করতে পারি নাই। তিনি অভিযোগ করে বলেন, সরকারের একটি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন নদী ভাঙনরোধ করার জন্য।
বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট শাখার ব্যবস্থাপক মোঃ আবু আব্দুল্লাহ রনি বলেন, ৗলতদিয়া পারে বর্তমান ৩টি ঘাট সচল রয়েছে। ১০টি ছোট-বড় ফেরি দিয়ে যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ¯্রােত না কমা পর্যন্ত এর অবস্থা পরিবর্তন হবে না।
রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম শেখ বলেন, দৌলতদিয়া ফেরি ও লঞ্চ ঘাট রক্ষা করার জন্য বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলানো হচ্ছে।
কাজী কেরামত আলী এমপি বলেন, নদীতে ¯্রােত থাকার কারণে নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। তবে পানি উন্নয়ন ভাঙনরোধ করার জন্য কাজ করছে। তিনি বলেন, গোয়ালন্দ উপজেলা রক্ষা করার জন্য শুকনো মৌসুমে স্থায়ী ভাবে নদী শাসন করতে হবে।