ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo কুরাসাওকে ৭-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে জার্মানী, নেদারল্যান্ডসের সাথে ড্র দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু জাপানের Logo যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির ঘোষণায় কমেছে তেলের দাম Logo সাতক্ষীরায় বিপুল পরিমাণ ফেন্সিডিল ও ভারতীয় ওষুধ জব্দ Logo যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি শান্তির পথে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ : পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী Logo ফিলিপাইনের দক্ষিণ উপকূলে ৬.২ মাত্রার ভূমিকম্প Logo প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত Logo বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে হিমশিম খাচ্ছে ইন্দোনেশিয়া Logo অস্ট্রেলিয়াকে ২৭৫ রানের লক্ষ্য দিল বাংলাদেশ Logo যুদ্ধবিরতি আলোচনা: তেহরানে কাতারের প্রতিনিধি দল Logo গণমাধ্যমকে অন্ধকার গলি থেকে মুক্ত আকাশে বের করেছেন শহীদ জিয়াই: তথ্যমন্ত্রী

চরম আকার ধারণ করেছে শিল্পের গ্যাস সংকট

প্রতিনিধির নাম :

নিউজ ডেস্ক: চরম আকার ধারণ করেছে শিল্পের গ্যাস সংকট। দিনের বেলা চাপ থাকছে না বললেই চলে। বিকল্প উপায়েও উৎপাদন চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন শিল্প মালিকরা। কেননা, কারখানার বিশেষ জেনারেটর চালাতে গ্যাসের চাপ দরকার ১৫ পিএসআই, অথচ মিলছে অর্ধেকেরও কম।

তাই বাধ্য হয়ে বিকল্প অর্থাৎ ডিজেল কিংবা এলপিজিতে ঝুকছে অনেক প্রতিষ্ঠান। কিন্তু এতে উৎপাদন ব্যয়ের লাগাম ছুটছে। এর মাঝেই গ্যাসের দাম বৃদ্ধির খবর যেন ব্যবসায়ীদের মাথায় বাজ ফেলেছে।

গ্যাসের দাম বাড়ানো নিয়ে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে পাঠানো পেট্রোবাংলার প্রস্তাবে বলা হয়েছে, প্রতি ইউনিট গ্যাসের দাম ৩০ টাকা ৭৫ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৭৫ টাকা করা দরকার। এর মধ্যে নতুন সংযোগের গ্যাস বিল হবে নতুন দামে। কিছুটা ছাড় পাবেন পুরোনো গ্রাহকেরা। তবে পুরোনো কারখানায় লোড বাড়াতে চাইলে গুণতে হবে নতুন দাম।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, গ্যাসের এ রকম মূল্য বৃদ্ধি যখন ঘটবে, তখন তো আমরা শিল্প চালাতে পারবো না। চালাতে না পারলে আমি চাবিটা সরকারের কাছে দিয়ে যেন সেইফ এক্সিট নিতে পারি, তারপরে এমন (গ্যাসের দাম বৃদ্ধি) সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত বলে আমি মনে করি।

অ্যাগ্রো প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এম এ হাশেম বলেন, কয়েক বছর আগে গ্যাসের দাম ৩ গুণ বাড়ানো হয়েছে। এখন যদি আবার বাড়ানো হয়, এটা আমাদের এই শিল্পকে ধ্বংস করার প্রাইমারি একটা সংকেত।

এসএমসি ব্যবস্থাপনা পরিচালক তসলিম উদ্দিন খান বলেন, ডলার ৮৬ থেকে ১৩০ টাকায়, ৪০ টাকার চিনি আজকে ১৪০ টাকা। এখন যদি মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা আসে, শিল্প বাঁচবে না।

সবশেষ গ্যাসের দাম সমন্বয় করা হয় গেল বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি। তখন নির্বাহী আদেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও ক্যাপটিভ পাওয়ারে প্রতি ঘনমিটারে দর ৭৫ পয়সা হারে বাড়ানো হয়। তার আগে, ২০২৩ সালেও গ্যাসের দাম গড়ে ৮২ শতাংশ বাড়ানো হয়। সাথে সমন্বয় হয় বিদ্যুতের দামও। বলা হচ্ছে, এর ফলে সরকারের ২০ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকি বাঁচবে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. এম শামসুল আলম বলেন, ঘাটতি সমন্বয়ের জন্য মূল্য বৃদ্ধি করা হবে। আইনে ভর্তুকি দিতে দেবে না। তাহলে এই যে লুন্ঠনমূলক ব্যয় বৃদ্ধি করে মুনাফা অর্জন করে যে জ্বালানি অপরাধ ঘটেছে, জ্বালানি অপরাধী হিসেবে যে সমস্ত মানুষ গত ১৫ বছর ধরে দাপিয়ে বেড়িয়েছে, তাদেরকে সরকারের কার্যক্রম বা এই সরকারের এসব পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে সুরক্ষা দেয়া হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গণশুনানি ছাড়া বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে বিইআরসির নির্বাহী ক্ষমতা বাতিল করে এরই মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে অন্তর্বর্তী সরকার।

সূত্র যমুনা টিভি

Tag :

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০১:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৫
৩ বার পঠিত হয়েছে

চরম আকার ধারণ করেছে শিল্পের গ্যাস সংকট

আপডেট এর সময় : ০১:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৫

নিউজ ডেস্ক: চরম আকার ধারণ করেছে শিল্পের গ্যাস সংকট। দিনের বেলা চাপ থাকছে না বললেই চলে। বিকল্প উপায়েও উৎপাদন চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন শিল্প মালিকরা। কেননা, কারখানার বিশেষ জেনারেটর চালাতে গ্যাসের চাপ দরকার ১৫ পিএসআই, অথচ মিলছে অর্ধেকেরও কম।

তাই বাধ্য হয়ে বিকল্প অর্থাৎ ডিজেল কিংবা এলপিজিতে ঝুকছে অনেক প্রতিষ্ঠান। কিন্তু এতে উৎপাদন ব্যয়ের লাগাম ছুটছে। এর মাঝেই গ্যাসের দাম বৃদ্ধির খবর যেন ব্যবসায়ীদের মাথায় বাজ ফেলেছে।

গ্যাসের দাম বাড়ানো নিয়ে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে পাঠানো পেট্রোবাংলার প্রস্তাবে বলা হয়েছে, প্রতি ইউনিট গ্যাসের দাম ৩০ টাকা ৭৫ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৭৫ টাকা করা দরকার। এর মধ্যে নতুন সংযোগের গ্যাস বিল হবে নতুন দামে। কিছুটা ছাড় পাবেন পুরোনো গ্রাহকেরা। তবে পুরোনো কারখানায় লোড বাড়াতে চাইলে গুণতে হবে নতুন দাম।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, গ্যাসের এ রকম মূল্য বৃদ্ধি যখন ঘটবে, তখন তো আমরা শিল্প চালাতে পারবো না। চালাতে না পারলে আমি চাবিটা সরকারের কাছে দিয়ে যেন সেইফ এক্সিট নিতে পারি, তারপরে এমন (গ্যাসের দাম বৃদ্ধি) সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত বলে আমি মনে করি।

অ্যাগ্রো প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এম এ হাশেম বলেন, কয়েক বছর আগে গ্যাসের দাম ৩ গুণ বাড়ানো হয়েছে। এখন যদি আবার বাড়ানো হয়, এটা আমাদের এই শিল্পকে ধ্বংস করার প্রাইমারি একটা সংকেত।

এসএমসি ব্যবস্থাপনা পরিচালক তসলিম উদ্দিন খান বলেন, ডলার ৮৬ থেকে ১৩০ টাকায়, ৪০ টাকার চিনি আজকে ১৪০ টাকা। এখন যদি মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা আসে, শিল্প বাঁচবে না।

সবশেষ গ্যাসের দাম সমন্বয় করা হয় গেল বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি। তখন নির্বাহী আদেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও ক্যাপটিভ পাওয়ারে প্রতি ঘনমিটারে দর ৭৫ পয়সা হারে বাড়ানো হয়। তার আগে, ২০২৩ সালেও গ্যাসের দাম গড়ে ৮২ শতাংশ বাড়ানো হয়। সাথে সমন্বয় হয় বিদ্যুতের দামও। বলা হচ্ছে, এর ফলে সরকারের ২০ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকি বাঁচবে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. এম শামসুল আলম বলেন, ঘাটতি সমন্বয়ের জন্য মূল্য বৃদ্ধি করা হবে। আইনে ভর্তুকি দিতে দেবে না। তাহলে এই যে লুন্ঠনমূলক ব্যয় বৃদ্ধি করে মুনাফা অর্জন করে যে জ্বালানি অপরাধ ঘটেছে, জ্বালানি অপরাধী হিসেবে যে সমস্ত মানুষ গত ১৫ বছর ধরে দাপিয়ে বেড়িয়েছে, তাদেরকে সরকারের কার্যক্রম বা এই সরকারের এসব পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে সুরক্ষা দেয়া হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গণশুনানি ছাড়া বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে বিইআরসির নির্বাহী ক্ষমতা বাতিল করে এরই মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে অন্তর্বর্তী সরকার।

সূত্র যমুনা টিভি