ঢাকা , বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo ইংল্যান্ডের কোচ হিসেবে ল্যাঙ্গারকে পছন্দ লেহম্যানের Logo পুলিশকে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব বজায় রাখার নির্দেশ দিলেন আরপিএমপি কমিশনার Logo আফগানিস্তানে ভয়াবহ বন্যায় শতাধিক নিখোঁজের সন্ধানে উদ্ধারকারীরা Logo চিলিতে ভারী বৃষ্টিতে ১০ জনের মৃত্যু, জরুরি অবস্থা ঘোষণা Logo সাইবার বুলিংয়ের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে: তথ্য উপদেষ্টা Logo ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত বাংলাদেশের Logo আগামী এক বছরে ২০ লাখ মামলা কমিয়ে আনা সম্ভব হবে: আইনমন্ত্রী Logo মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের উত্তেজনায় এক মাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে তেলের দাম Logo আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন Logo হাতিমারা-ছনবাড়ী সড়ক প্রশস্তকরণে ১৩৫৯ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ

নোবিপ্রবিতে দেশীয় ছোট মাছের কৃত্রিম প্রজনন

প্রতিনিধির নাম :

বাংলাদেশ বিশাল বৈচিত্র্যের প্রাকৃতিক জলজ সম্পদের আঁধার। দেশের অভ্যন্তরীণ জলাশয়ে রয়েছে অসংখ্য চোখ জুড়ানো ছোট মাছের সমাহার, যারা স্বাদে ও পুষ্টিতে অনন্য। বউরাণী (পুতুল/রাণী/দাড়ি মাছ) ও গুতুম (বেতরঙ্গী/পুইয়া/বুইচ্ছা) যাদের মধ্যে অন্যতম।

এই মাছগুলোর প্রজনন ও আবাসস্থল হচ্ছে উন্মুক্ত প্রাকৃতিক জলাশয়, যা বিভিন্ন প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট কারণে বর্তমানে প্রায় ধ্বংসের মুখে। ফলে মাছগুলো তাদের প্রাচুর্যতা হারিয়ে আজ বিপন্ন প্রায় প্রজাতি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই সমস্যা উত্তরণ ও দেশীয় প্রজাতির মাছ সংরক্ষণ ও উৎপাদনের লক্ষ্যে গবেষণা কার্যক্রমের উপর জোর দিয়েছেন।

তারই ধারাবাহিকতায় এনএটিপি-২ প্রকল্পের অর্থায়নে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) মৎস্য ও সামুদ্রিক বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. শ্যামল কুমার পাল ও তার অধীনে অধ্যায়নরত মাজহারুল ইসলাম রাজু, বোরহান উদ্দীন আহমেদ সিয়াম, তৌফিক হাসান, মামুনুর রশিদ, মিঠুন দেবনাথ, নাজমুল হাসান, সৃজন সরকার, কাজী ফরিদুল হাসান ও প্রনব ভক্ত গত বছরের আগস্ট মাস হতে বউরাণী ও গুতুম মাছের কৃত্রিম প্রজননের উদ্দেশ্যে গবেষণা প্রকল্প হাতে নেন এবং কুমিল্লা জেলার নাঙলকোট উপজেলার চেয়ার‍ম্যান সামছুউদ্দিন কালুর মালিকানাধীন বিসমিল্লাহ মৎস্যবীজ উৎপাদন কেন্দ্র ও খামারে কার্যক্রম শুরু করেন।

বৃহত্তর নোয়াখালী, ময়মনসিংহ ও সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন প্রাকৃতিক জলাশয় ও হাওর হতে ব্রুডফিশ (মা ও বাবা মাছ) সংগ্রহ করে দীর্ঘ সময় ধরে পরিচর্যার মাধ্যমে কৃত্রিম প্রজননের জন্য প্রস্তুত করা হয়। পূর্ণ প্রস্তুতি শেষে গত ২৮ এপ্রিল ব্রুডফিশগুলোকে বিভিন্ন উদ্দীপক হরমোন প্রয়োগ করা হয়। ফলে পরদিন গুতুম মাছের কৃত্রিম প্রজনন সফলভাবে সম্পন্ন হয়। পোনাগুলোর স্বাস্থ্য ও বেঁচে থাকার হার সন্তোষজনক। বর্তমানে গবেষণা দলটি গুতুম মাছের রেণুপোনার চাষ ও লালন-পালন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে। এই গবেষণা প্রকল্পে সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করেছেন নোবিপ্রবির মৎস্য ও সামুদ্রিক বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ভক্ত সুপ্রতিম সরকার এবং বিসমিল্লাহ মৎস্যবীজ উৎপাদন কেন্দ্রের  টেকনেশিয়ান উত্তম বসু।

এই গবেষণা দল আশা করছেন, শিগগির বউরাণী মাছের কৃত্রিম প্রজনন ও রেণুপোনা লালন-পালন প্রযুক্তি উদ্ভাবনেও সফল হবেন।

গবেষণা কার্যক্রমের ব্যাপারে জানতে চাইলে সহকারী অধ্যাপক ড. শ্যামল কুমার পাল স্রষ্টার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, নোবিপ্রবির মৎস্য ও সামুদ্রিক বিজ্ঞান বিভাগ বাংলাদেশের মৎস্য গবেষণা সেক্টরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তারই ধারাবাহিকতা এবং প্রধানমন্ত্রীর আহবানে সাড়া দিয়ে তিনি এবং তার দল বিভিন্ন দেশীয় ছোট মাছ বিপন্ন হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করার জন্য গবেষণা প্রকল্প শুরু করেন এবং সফলতা অর্জন করেন। তিনি এই সাফল্যে থেমে না থাকে ভবিষ্যতেও তার গবেষণা কার্যক্রম পুরোদমে চালিয়ে যাওয়ার আশা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, সফল গবেষণা ও মানুষের সচেতনতাই পারে দেশীয় ছোট মাছকে হারিয়ে যাওয়ার হাত থেকে বাঁচাতে। তিনি এই গবেষণা প্রকল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি ধন্যবাদ প্রকাশ করেন।

এ প্রসঙ্গে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এম অহিদুজ্জামান বলেন, আমরা আমাদের শিক্ষকদের আবিষ্কারের সাফল্যে আনন্দিত এবং গবেষণার ফলাফল দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিতে চাই যাতে করে জাতি এর সুফল ভোগ করতে পারে।

Tag :

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ১০:১৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৬ জুন ২০১৮
৯ বার পঠিত হয়েছে

নোবিপ্রবিতে দেশীয় ছোট মাছের কৃত্রিম প্রজনন

আপডেট এর সময় : ১০:১৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৬ জুন ২০১৮

বাংলাদেশ বিশাল বৈচিত্র্যের প্রাকৃতিক জলজ সম্পদের আঁধার। দেশের অভ্যন্তরীণ জলাশয়ে রয়েছে অসংখ্য চোখ জুড়ানো ছোট মাছের সমাহার, যারা স্বাদে ও পুষ্টিতে অনন্য। বউরাণী (পুতুল/রাণী/দাড়ি মাছ) ও গুতুম (বেতরঙ্গী/পুইয়া/বুইচ্ছা) যাদের মধ্যে অন্যতম।

এই মাছগুলোর প্রজনন ও আবাসস্থল হচ্ছে উন্মুক্ত প্রাকৃতিক জলাশয়, যা বিভিন্ন প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট কারণে বর্তমানে প্রায় ধ্বংসের মুখে। ফলে মাছগুলো তাদের প্রাচুর্যতা হারিয়ে আজ বিপন্ন প্রায় প্রজাতি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই সমস্যা উত্তরণ ও দেশীয় প্রজাতির মাছ সংরক্ষণ ও উৎপাদনের লক্ষ্যে গবেষণা কার্যক্রমের উপর জোর দিয়েছেন।

তারই ধারাবাহিকতায় এনএটিপি-২ প্রকল্পের অর্থায়নে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) মৎস্য ও সামুদ্রিক বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. শ্যামল কুমার পাল ও তার অধীনে অধ্যায়নরত মাজহারুল ইসলাম রাজু, বোরহান উদ্দীন আহমেদ সিয়াম, তৌফিক হাসান, মামুনুর রশিদ, মিঠুন দেবনাথ, নাজমুল হাসান, সৃজন সরকার, কাজী ফরিদুল হাসান ও প্রনব ভক্ত গত বছরের আগস্ট মাস হতে বউরাণী ও গুতুম মাছের কৃত্রিম প্রজননের উদ্দেশ্যে গবেষণা প্রকল্প হাতে নেন এবং কুমিল্লা জেলার নাঙলকোট উপজেলার চেয়ার‍ম্যান সামছুউদ্দিন কালুর মালিকানাধীন বিসমিল্লাহ মৎস্যবীজ উৎপাদন কেন্দ্র ও খামারে কার্যক্রম শুরু করেন।

বৃহত্তর নোয়াখালী, ময়মনসিংহ ও সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন প্রাকৃতিক জলাশয় ও হাওর হতে ব্রুডফিশ (মা ও বাবা মাছ) সংগ্রহ করে দীর্ঘ সময় ধরে পরিচর্যার মাধ্যমে কৃত্রিম প্রজননের জন্য প্রস্তুত করা হয়। পূর্ণ প্রস্তুতি শেষে গত ২৮ এপ্রিল ব্রুডফিশগুলোকে বিভিন্ন উদ্দীপক হরমোন প্রয়োগ করা হয়। ফলে পরদিন গুতুম মাছের কৃত্রিম প্রজনন সফলভাবে সম্পন্ন হয়। পোনাগুলোর স্বাস্থ্য ও বেঁচে থাকার হার সন্তোষজনক। বর্তমানে গবেষণা দলটি গুতুম মাছের রেণুপোনার চাষ ও লালন-পালন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে। এই গবেষণা প্রকল্পে সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করেছেন নোবিপ্রবির মৎস্য ও সামুদ্রিক বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ভক্ত সুপ্রতিম সরকার এবং বিসমিল্লাহ মৎস্যবীজ উৎপাদন কেন্দ্রের  টেকনেশিয়ান উত্তম বসু।

এই গবেষণা দল আশা করছেন, শিগগির বউরাণী মাছের কৃত্রিম প্রজনন ও রেণুপোনা লালন-পালন প্রযুক্তি উদ্ভাবনেও সফল হবেন।

গবেষণা কার্যক্রমের ব্যাপারে জানতে চাইলে সহকারী অধ্যাপক ড. শ্যামল কুমার পাল স্রষ্টার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, নোবিপ্রবির মৎস্য ও সামুদ্রিক বিজ্ঞান বিভাগ বাংলাদেশের মৎস্য গবেষণা সেক্টরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তারই ধারাবাহিকতা এবং প্রধানমন্ত্রীর আহবানে সাড়া দিয়ে তিনি এবং তার দল বিভিন্ন দেশীয় ছোট মাছ বিপন্ন হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করার জন্য গবেষণা প্রকল্প শুরু করেন এবং সফলতা অর্জন করেন। তিনি এই সাফল্যে থেমে না থাকে ভবিষ্যতেও তার গবেষণা কার্যক্রম পুরোদমে চালিয়ে যাওয়ার আশা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, সফল গবেষণা ও মানুষের সচেতনতাই পারে দেশীয় ছোট মাছকে হারিয়ে যাওয়ার হাত থেকে বাঁচাতে। তিনি এই গবেষণা প্রকল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি ধন্যবাদ প্রকাশ করেন।

এ প্রসঙ্গে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এম অহিদুজ্জামান বলেন, আমরা আমাদের শিক্ষকদের আবিষ্কারের সাফল্যে আনন্দিত এবং গবেষণার ফলাফল দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিতে চাই যাতে করে জাতি এর সুফল ভোগ করতে পারে।