ঢাকা , রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টস হেরে প্রথমে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ Logo বরগুনায় জেলা ফল মেলার উদ্বোধন Logo বাগদাদের গ্রিন জোনে ইরাকি বাহিনীর অভিযান Logo আইসিই’র প্রধান পদে ওকলাহোমার সাবেক স্টেট ট্রুপারকে মনোনয়ন ট্রাম্পের Logo চীনের সঙ্গে সমঝোতায় বাংলাদেশের নিউ মিডিয়ায় গুণগত পরিবর্তন আসবে : তথ্যমন্ত্রী Logo স্পারসোকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর Logo ইসরাইল-লেবাননের চুক্তির বিরুদ্ধে বৈরুতের রাস্তায় হিজবুল্লাহ সমর্থকদের বিক্ষোভ Logo বিদেশ সফরে দেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা করেছি : প্রধানমন্ত্রী Logo তিন ম্যাচে তিন জয় নিয়ে নক আউটে মেক্সিকো Logo ঝিনাইদহে হত্যা মামলায় ৩ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

৫৮ রোহিঙ্গা ফিরেছে বলে দাবি মিয়ানমারের

প্রতিনিধির নাম :

কক্সবাজারের শরণার্থী ক্যাম্প থেকে ৫৮ জন রোহিঙ্গা রাখাইনে ফেরত গেছে বলে দাবি করেছে মিয়ানমার। তবে তারা কোন ক্যাম্প থেকে কিভাবে ফেরত গেছে সে ব্যাপারে কোনও কিছু জানায়নি দেশটি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরণের দাবি করে মিয়ানমার মূলত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে ফের মিথ্যাচার শুরু করেছে।

রবিবার (২৭ মে) মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলের এক বিবৃতিতে এ দাবি করা হয়। এতে বলা হয়েছে, ৫৮ জন রোহিঙ্গা বাংলাদেশের কক্সবাজার শিবির থেকে প্রত্যাবাসনের পর রাখাইনের অভ্যর্থনা কেন্দ্রে পৌঁছেছে।

তবে মিয়ানমারের এমন দাবি সম্পর্কে বাংলাদেশের শরণার্থী প্রত্যাবাসন বিষয়ক কমিশনে কোনো তথ্য নেই। কর্মকর্তারা বলছেন, মিয়ানমার কিসের ভিত্তিতে এ ধরণের দাবি করছে তা তাদের জানা নেই।

বিবৃতিতে মিয়ানমার বলছে, রাখাইনের বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীকে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য গত বছরের ২৩ নভেম্বর বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে চুক্তি সই হয়। সে অনুযায়ী ফেরত আসা জনগোষ্ঠীকে নাগা খু ইয়া ও তাঙ পিও লিটইউ নামের দুটি অভ্যর্থনা কেন্দ্রে পরিচয় যাচাই শেষে হালা পোহ খুয়াংয়ের ট্রানজিট শিবিরে রাখা হবে।

দেশটি দাবি করছে, দুই দেশের মধ্যে চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য মিয়ানমারের ইউনিয়নমন্ত্রী ড. ইউন মাই আয়ে এপ্রিলে কক্সবাজার ও মে মাসে ঢাকা সফর করেন।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘দুই দেশের মধ্যে চুক্তি হলেও বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর সবাই প্রত্যাবাসনের নিয়ম-কানুন সম্পর্কে জানে না। ফলে তাদের অনেকেই স্বেচ্ছায়, নিজেদের উদ্যোগে কক্সবাজার থেকে রাখাইনে ফেরত এসেছে।’

আরো বলা হয়, দ্বিপক্ষীয় চুক্তি অনুযায়ী, প্রত্যাবাসন নির্দিষ্ট কাঠামো অনুযায়ী এবং স্বেচ্ছায় হতে হবে। চুক্তি অনুযায়ী ফেরত আসাদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। ফেরত আসা ৫৮ জনকে রাষ্ট্রপতি ক্ষমা করে দিয়েছেন। এই ৫৮ জনকে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে এবং নাগা খু ইয়ার অভ্যর্থনা কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।

তবে যারা রোহিঙ্গাদের মধ্যে যারা সন্ত্রাসী কাজের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে বিবৃতিতে।

প্রসঙ্গত, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বসবাসকারী দেশটির সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের নাগরিক হিসেবে স্বীকার করে না মিয়ানমার সরকার। সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নের শিকার হয়ে প্রাণ বাঁচাতে চার দশক ধরে পার্শ্ববর্তী বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে লাখ লাখ রোহিঙ্গা। সর্বশেষ ২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইন রাজ্যে একটি নিরাপত্তা চৌকিতে কথিত হামলার অভিযোগ তুলে সেনা অভিযানের নামে নৃশংসতা শুরু হলে লাখ লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। এ সংখ্যা ১১ লাখ ছাড়িয়ে যায়। এদের আশ্রয় হয়েছে কক্সবাজারের বিভিন্ন ক্যাম্পে।

জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর দমন-পীড়নের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের আলামত খুঁজে পেয়েছে বলে জানিয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন রোহিঙ্গা নিধনের ঘটনাকে জাতিগত নিধনযজ্ঞের ‘পাঠ্যপুস্তকীয় উদাহরণ’বলেও আখ্যা দিয়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রসহ উন্নত বিশ্বের বিভিন্ন দেশ রোহিঙ্গা নিপীড়নকে জাতিগত নিধন বলে অভিহিত করেছে। তবে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ সমস্ত অভিযোগই বরাবরের মতো অস্বীকার করে আসছে।

Tag :

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ১২:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ মে ২০১৮
১০ বার পঠিত হয়েছে

৫৮ রোহিঙ্গা ফিরেছে বলে দাবি মিয়ানমারের

আপডেট এর সময় : ১২:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ মে ২০১৮

কক্সবাজারের শরণার্থী ক্যাম্প থেকে ৫৮ জন রোহিঙ্গা রাখাইনে ফেরত গেছে বলে দাবি করেছে মিয়ানমার। তবে তারা কোন ক্যাম্প থেকে কিভাবে ফেরত গেছে সে ব্যাপারে কোনও কিছু জানায়নি দেশটি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরণের দাবি করে মিয়ানমার মূলত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে ফের মিথ্যাচার শুরু করেছে।

রবিবার (২৭ মে) মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলের এক বিবৃতিতে এ দাবি করা হয়। এতে বলা হয়েছে, ৫৮ জন রোহিঙ্গা বাংলাদেশের কক্সবাজার শিবির থেকে প্রত্যাবাসনের পর রাখাইনের অভ্যর্থনা কেন্দ্রে পৌঁছেছে।

তবে মিয়ানমারের এমন দাবি সম্পর্কে বাংলাদেশের শরণার্থী প্রত্যাবাসন বিষয়ক কমিশনে কোনো তথ্য নেই। কর্মকর্তারা বলছেন, মিয়ানমার কিসের ভিত্তিতে এ ধরণের দাবি করছে তা তাদের জানা নেই।

বিবৃতিতে মিয়ানমার বলছে, রাখাইনের বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীকে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য গত বছরের ২৩ নভেম্বর বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে চুক্তি সই হয়। সে অনুযায়ী ফেরত আসা জনগোষ্ঠীকে নাগা খু ইয়া ও তাঙ পিও লিটইউ নামের দুটি অভ্যর্থনা কেন্দ্রে পরিচয় যাচাই শেষে হালা পোহ খুয়াংয়ের ট্রানজিট শিবিরে রাখা হবে।

দেশটি দাবি করছে, দুই দেশের মধ্যে চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য মিয়ানমারের ইউনিয়নমন্ত্রী ড. ইউন মাই আয়ে এপ্রিলে কক্সবাজার ও মে মাসে ঢাকা সফর করেন।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘দুই দেশের মধ্যে চুক্তি হলেও বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর সবাই প্রত্যাবাসনের নিয়ম-কানুন সম্পর্কে জানে না। ফলে তাদের অনেকেই স্বেচ্ছায়, নিজেদের উদ্যোগে কক্সবাজার থেকে রাখাইনে ফেরত এসেছে।’

আরো বলা হয়, দ্বিপক্ষীয় চুক্তি অনুযায়ী, প্রত্যাবাসন নির্দিষ্ট কাঠামো অনুযায়ী এবং স্বেচ্ছায় হতে হবে। চুক্তি অনুযায়ী ফেরত আসাদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। ফেরত আসা ৫৮ জনকে রাষ্ট্রপতি ক্ষমা করে দিয়েছেন। এই ৫৮ জনকে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে এবং নাগা খু ইয়ার অভ্যর্থনা কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।

তবে যারা রোহিঙ্গাদের মধ্যে যারা সন্ত্রাসী কাজের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে বিবৃতিতে।

প্রসঙ্গত, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বসবাসকারী দেশটির সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের নাগরিক হিসেবে স্বীকার করে না মিয়ানমার সরকার। সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নের শিকার হয়ে প্রাণ বাঁচাতে চার দশক ধরে পার্শ্ববর্তী বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে লাখ লাখ রোহিঙ্গা। সর্বশেষ ২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইন রাজ্যে একটি নিরাপত্তা চৌকিতে কথিত হামলার অভিযোগ তুলে সেনা অভিযানের নামে নৃশংসতা শুরু হলে লাখ লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। এ সংখ্যা ১১ লাখ ছাড়িয়ে যায়। এদের আশ্রয় হয়েছে কক্সবাজারের বিভিন্ন ক্যাম্পে।

জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর দমন-পীড়নের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের আলামত খুঁজে পেয়েছে বলে জানিয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন রোহিঙ্গা নিধনের ঘটনাকে জাতিগত নিধনযজ্ঞের ‘পাঠ্যপুস্তকীয় উদাহরণ’বলেও আখ্যা দিয়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রসহ উন্নত বিশ্বের বিভিন্ন দেশ রোহিঙ্গা নিপীড়নকে জাতিগত নিধন বলে অভিহিত করেছে। তবে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ সমস্ত অভিযোগই বরাবরের মতো অস্বীকার করে আসছে।