ঢাকা , শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo ইরাকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের মিশন শেষ Logo ফেনীতে ১,৫৪২ কোটি টাকার বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্প উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে ৯ লাখ টাকার মাদক উদ্ধার Logo ইরানে সরকারবিরোধী ২ বিক্ষোভকারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর Logo মাগুরায় ৫০৭ কোটি টাকা ভুয়া বিদ্যুত বিল, জিএম বরখাস্ত, মন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ Logo দেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীনের প্রতি সহায়তার আহ্বান রাষ্ট্রপতির Logo ভারতের সঙ্গে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ভিত্তিতে সম্পর্ক চায় বাংলাদেশ : হুমায়ুন কবির Logo হৃদরোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই: স্বাস্থ্যমন্ত্রী Logo প্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিষ্ঠানকে সহায়তা দেবে সরকার : ড. তিতুমীর Logo কোয়ার্টার ফাইনালে কাল বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ মালয়েশিয়া

প্রতিনিধির নাম :

পুলিশের ভুলে প্রকৃত আসামির পরিবর্তে জেল খাটছেন এক চা বিক্রেতা। আসামির সঙ্গে নাম ও বাবার নামের মিল থাকায় গত পাঁচ দিন ধরে জেলে তিনি। শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) বিকালে গাজীপুরের শ্রীপুরে নিজের চায়ের দোকান থেকে রফিকুল ইসলামকে গ্রেফতার করে শ্রীপুর থানার পুলিশ। স্থানীয়রা জানান, মামলার মূল আসামি রফিকুল ইসলামের জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ১৯৮০৩৩২৮৬০৮০৪১৮৯৭। সে অনুযায়ী তার জন্ম তারিখ ৬ জানুয়ারি ১৯৮০। আর বাবা নুর মোহাম্মদ, মা রহিমা খাতুন। ভোটার সিরিয়াল নং- ১৬১১। এদিকে পুলিশের ভুলে গ্রেফতার হওয়া মো. রফিকুল ইসলাম কেওয়া পশ্চিম খন্ড মসজিদ মোড় এলাকার বাসিন্দা। জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী তার জন্ম ২ এপ্রিল ১৯৭৭। বাবার নাম নুর মোহাম্মদ, মায়ের নাম জামিনা খাতুন। জানা যায়, তিন-চার বছর আগে অবৈধ করাতকলে গজারী গাছ চেড়াইয়ের অভিযোগে শ্রীপুর পৌর এলাকার ৮নং ওয়ার্ডের কেওয়া পশ্চিম খন্ডের রফিকুল ইসলামকে আসামি করে মামলা করে শ্রীপুর বনবিভাগ। পরবর্তীতে রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে এ মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। এরপর শুক্রবার শ্রীপুর থানার এএসআই কফিল উদ্দিন আসামি গ্রেফতারে কেওয়া পশ্চিম খন্ড গ্রামের মসজিদ মোড় এলাকায় যান। সেখান গিয়ে তিনি নুর মোহাম্মদের ছেলে রফিকুলকে খুঁজতে থাকেন। মসজিদ মোড়ের পাশেই চা বিক্রেতা রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা আছে বলে জানান। পরে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়ার কথা বললে স্থানীয়রা জানান, তিনি কখনই কাঠের ব্যবসা করেননি এবং মূল আসামি তিনি নন। এসময় চা দোকানি রফিকুলও পুলিশের কাছে অনুনয় বিনয় করেন যে, তিনি আসামি নন। কিন্তু পুলিশ কারও কথা না শুনে রফিকুলকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায়। মামলার প্রকৃত আসামি রফিকুল ইসলাম জানান, তিনি দীর্ঘ ২০ থেকে ২২ বছর ধরে কাঠের ব্যবসা করছেন। এ পর্যন্ত বন বিভাগ কারণে অকারণে কয়েকটি মামলা দিয়েছে। যে মামলাতে পুলিশ ভুল করে চা বিক্রেতা রফিকুলকে গ্রেফতার করেছে সেই মামলায় তিনি জামিনে রয়েছেন। জামিনে থাকার পরও পুলিশের এমন আচরণে হতবাক হয়েছেন তিনি। এ ব্যাপারে শ্রীপুর থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) কফিল উদ্দিনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি। গাজীপুরের পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Tag :

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০৬:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জানুয়ারী ২০২০
১১ বার পঠিত হয়েছে

আপডেট এর সময় : ০৬:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জানুয়ারী ২০২০

পুলিশের ভুলে প্রকৃত আসামির পরিবর্তে জেল খাটছেন এক চা বিক্রেতা। আসামির সঙ্গে নাম ও বাবার নামের মিল থাকায় গত পাঁচ দিন ধরে জেলে তিনি। শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) বিকালে গাজীপুরের শ্রীপুরে নিজের চায়ের দোকান থেকে রফিকুল ইসলামকে গ্রেফতার করে শ্রীপুর থানার পুলিশ। স্থানীয়রা জানান, মামলার মূল আসামি রফিকুল ইসলামের জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ১৯৮০৩৩২৮৬০৮০৪১৮৯৭। সে অনুযায়ী তার জন্ম তারিখ ৬ জানুয়ারি ১৯৮০। আর বাবা নুর মোহাম্মদ, মা রহিমা খাতুন। ভোটার সিরিয়াল নং- ১৬১১। এদিকে পুলিশের ভুলে গ্রেফতার হওয়া মো. রফিকুল ইসলাম কেওয়া পশ্চিম খন্ড মসজিদ মোড় এলাকার বাসিন্দা। জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী তার জন্ম ২ এপ্রিল ১৯৭৭। বাবার নাম নুর মোহাম্মদ, মায়ের নাম জামিনা খাতুন। জানা যায়, তিন-চার বছর আগে অবৈধ করাতকলে গজারী গাছ চেড়াইয়ের অভিযোগে শ্রীপুর পৌর এলাকার ৮নং ওয়ার্ডের কেওয়া পশ্চিম খন্ডের রফিকুল ইসলামকে আসামি করে মামলা করে শ্রীপুর বনবিভাগ। পরবর্তীতে রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে এ মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। এরপর শুক্রবার শ্রীপুর থানার এএসআই কফিল উদ্দিন আসামি গ্রেফতারে কেওয়া পশ্চিম খন্ড গ্রামের মসজিদ মোড় এলাকায় যান। সেখান গিয়ে তিনি নুর মোহাম্মদের ছেলে রফিকুলকে খুঁজতে থাকেন। মসজিদ মোড়ের পাশেই চা বিক্রেতা রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা আছে বলে জানান। পরে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়ার কথা বললে স্থানীয়রা জানান, তিনি কখনই কাঠের ব্যবসা করেননি এবং মূল আসামি তিনি নন। এসময় চা দোকানি রফিকুলও পুলিশের কাছে অনুনয় বিনয় করেন যে, তিনি আসামি নন। কিন্তু পুলিশ কারও কথা না শুনে রফিকুলকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায়। মামলার প্রকৃত আসামি রফিকুল ইসলাম জানান, তিনি দীর্ঘ ২০ থেকে ২২ বছর ধরে কাঠের ব্যবসা করছেন। এ পর্যন্ত বন বিভাগ কারণে অকারণে কয়েকটি মামলা দিয়েছে। যে মামলাতে পুলিশ ভুল করে চা বিক্রেতা রফিকুলকে গ্রেফতার করেছে সেই মামলায় তিনি জামিনে রয়েছেন। জামিনে থাকার পরও পুলিশের এমন আচরণে হতবাক হয়েছেন তিনি। এ ব্যাপারে শ্রীপুর থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) কফিল উদ্দিনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি। গাজীপুরের পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।