ঢাকা , শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ‘বন্ধ কলকারখানা চালু ও ব্যবস্থাপনা’ সংক্রান্ত সভা অনুষ্ঠিত Logo হজযাত্রীদের লাগেজ চুরির অভিযোগ ভিত্তিহীন: মিল্লাত Logo প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ইউএনডিপি’র আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফানের সাক্ষাৎ Logo ইরানের ড্রোন হামলায় কুয়েতের বিমানবন্দর সাময়িক বন্ধ ঘোষণা Logo নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে শিগগিরই দেশব্যাপী সচেতনতামূলক কর্মসূচি Logo প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপানের প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ Logo জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের আস্থা পুনর্গঠন ও সংস্কার এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার খলিলুর রহমানের Logo ক্ষমতা গ্রহণের ৩ মাসেই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার : মির্জা ফখরুল Logo বিশ্বকাপ দল ঘোষণা করেছে ইরাক Logo চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটিতে রেকর্ড কনটেইনার হ্যান্ডলিং

তোফাজেল হত্যার ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ২১ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে চার্জশিট

প্রতিনিধির নাম :

নিউজ ডেস্ক: মানসিক ভারসাম্যহীন যুবক তোফাজেল হত্যার ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ২১ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দিয়েছে পুলিশ। এর মধ্যে ৬ জন কারাগারে এবং ১৫ জন পলাতক রয়েছেন। চার্জশিটে কোনো অভিযুক্তের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করা হয়নি।

শাহবাগ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আসাদুজ্জামান গত ১ জানুয়ারি ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

এর আগে, গত ১৯ সেপ্টেম্বর শাহবাগ থানায় অজ্ঞাত দুষ্কৃতিকারীদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দায়ের করা মামলায় ঢাবির ২১ শিক্ষার্থীকে আসামি করা হয়। যদিও ঢাবি প্রক্টোরিয়াল টিম চার্জশিটের জবাব দিতে বিলম্বের কথা উল্লেখ করেনি।

অভিযোগপত্রে জানা যায়– ঢাবির ফজলুল হক মুসলিম হলে ৩৫ বছর বয়সী তোফাজ্জল হোসেনকে নির্মমভাবে মারধর করার আগে, হামলাকারীরা চুরি যাওয়া মোবাইল ফোনের ক্ষতিপূরণ হিসেবে তার পরিবারের কাছ থেকে ৩৫ হাজার টাকা দাবি করেছিল। তোফাজ্জলের চাচা আব্দুর রব মিয়া টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন ওই ব্যক্তিকে ক্রিকেটের স্টাম্প ও বাঁশের লাঠি দিয়ে তাকে বেধড়ক মারধর করে। গুরুতর আঘাত ও রক্তক্ষরণের কারণে তোফাজ্জলের মৃত্যু হয়।

গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগপত্রে এই তথ্যগুলো বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে। হলের প্রাক্তন প্রভোস্ট ও ১৪ জন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে দ্বিতীয় মামলা দায়ের করা হয়েছিল কিন্তু মামলাটি স্থগিত ছিল।

কারাগারে থাকা ছয় আসামি হলেন– জালাল মিয়া, আহসান উল্লাহ ওরফে বিপুল শেখ, আল হোসেন সাজ্জাদ, মোত্তাকিন সাকিন সাহ, সুমন মিয়া এবং ওয়াজিবুল আলম। এরা সবাই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

বাকি ১৫ পলাতক আসামি হলেন– ফিরোজ কবির, আবদুস সামাদ, সাকিব রায়হান, ইয়াসিন আলী গাইন, ইয়ামুজ্জামান ইয়াম, ফজলে রাব্বি, শাহরিয়ার কবির শোভন, মেহেদী হাসান ইমরান, রাতুল হাসান, সুলতান মিয়া, নাসির উদ্দিন, মোবাশ্বের বিল্লাহ, শিশির আহমেদ, মহসিন উদ্দিন এবং আব্দুল্লাহিল কাফি। তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির জন্য আদালতে আবেদন করা হয়েছে।

শাহবাগ থানার পরিদর্শক আসাদুজ্জামান বলেন, ঢাবির ফজলুল হক মুসলিম হলে তোফাজ্জল হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনার সঙ্গে ২১ জন শিক্ষার্থীর সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। ওই ২১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট জমা দেয়া হয়েছে। আগামী ২ ফেব্রুয়ারি আদালতে শুনানির জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে।

Tag :

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০৩:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৫
২ বার পঠিত হয়েছে

তোফাজেল হত্যার ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ২১ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে চার্জশিট

আপডেট এর সময় : ০৩:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৫

নিউজ ডেস্ক: মানসিক ভারসাম্যহীন যুবক তোফাজেল হত্যার ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ২১ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দিয়েছে পুলিশ। এর মধ্যে ৬ জন কারাগারে এবং ১৫ জন পলাতক রয়েছেন। চার্জশিটে কোনো অভিযুক্তের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করা হয়নি।

শাহবাগ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আসাদুজ্জামান গত ১ জানুয়ারি ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

এর আগে, গত ১৯ সেপ্টেম্বর শাহবাগ থানায় অজ্ঞাত দুষ্কৃতিকারীদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দায়ের করা মামলায় ঢাবির ২১ শিক্ষার্থীকে আসামি করা হয়। যদিও ঢাবি প্রক্টোরিয়াল টিম চার্জশিটের জবাব দিতে বিলম্বের কথা উল্লেখ করেনি।

অভিযোগপত্রে জানা যায়– ঢাবির ফজলুল হক মুসলিম হলে ৩৫ বছর বয়সী তোফাজ্জল হোসেনকে নির্মমভাবে মারধর করার আগে, হামলাকারীরা চুরি যাওয়া মোবাইল ফোনের ক্ষতিপূরণ হিসেবে তার পরিবারের কাছ থেকে ৩৫ হাজার টাকা দাবি করেছিল। তোফাজ্জলের চাচা আব্দুর রব মিয়া টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন ওই ব্যক্তিকে ক্রিকেটের স্টাম্প ও বাঁশের লাঠি দিয়ে তাকে বেধড়ক মারধর করে। গুরুতর আঘাত ও রক্তক্ষরণের কারণে তোফাজ্জলের মৃত্যু হয়।

গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগপত্রে এই তথ্যগুলো বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে। হলের প্রাক্তন প্রভোস্ট ও ১৪ জন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে দ্বিতীয় মামলা দায়ের করা হয়েছিল কিন্তু মামলাটি স্থগিত ছিল।

কারাগারে থাকা ছয় আসামি হলেন– জালাল মিয়া, আহসান উল্লাহ ওরফে বিপুল শেখ, আল হোসেন সাজ্জাদ, মোত্তাকিন সাকিন সাহ, সুমন মিয়া এবং ওয়াজিবুল আলম। এরা সবাই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

বাকি ১৫ পলাতক আসামি হলেন– ফিরোজ কবির, আবদুস সামাদ, সাকিব রায়হান, ইয়াসিন আলী গাইন, ইয়ামুজ্জামান ইয়াম, ফজলে রাব্বি, শাহরিয়ার কবির শোভন, মেহেদী হাসান ইমরান, রাতুল হাসান, সুলতান মিয়া, নাসির উদ্দিন, মোবাশ্বের বিল্লাহ, শিশির আহমেদ, মহসিন উদ্দিন এবং আব্দুল্লাহিল কাফি। তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির জন্য আদালতে আবেদন করা হয়েছে।

শাহবাগ থানার পরিদর্শক আসাদুজ্জামান বলেন, ঢাবির ফজলুল হক মুসলিম হলে তোফাজ্জল হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনার সঙ্গে ২১ জন শিক্ষার্থীর সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। ওই ২১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট জমা দেয়া হয়েছে। আগামী ২ ফেব্রুয়ারি আদালতে শুনানির জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে।