ঢাকা , বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo কিউবায় পানির সংকট, রেস্তোরাঁ সচল রাখতে কূপ খনন ব্যবসায়ীর Logo ব্রাজিল-চিলিতে ভর করে দক্ষিণ আমেরিকায় ১৯.৫১ কোটি ডলারের রপ্তানি Logo ডিসি-কমিশনারদের কার্যালয়ে ৫ মেগাওয়াটের বেশি সৌরবিদ্যুৎ, নেট মিটারিংয়ে বাড়বে সাশ্রয় Logo তরুণ প্রজন্মকে সত্য-ন্যায়ের পক্ষে সোচ্চার থাকার আহ্বান রাষ্ট্রপতির Logo ফাইনালের স্বপ্ন বাঁচাতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষায় বাংলাদেশ Logo সুন্দরবনে হরিণ শিকারের অভিযোগে যুবক আটক, নৌকা থেকে মাথা-কলিজাসহ সরঞ্জাম জব্দ Logo ইয়েমেনে নতুন করে গৃহযুদ্ধ, আড়াই লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত Logo রাজশাহীর ৩৮ হাজার ৯৭০ আখচাষী পেলেন ১২ কোটি টাকার প্রণোদনা Logo যমুনার বুকে ‘মিনি কক্সবাজার’ সিরাজগঞ্জের চায়না বাঁধ Logo বেটিং ও তথ্য ফাঁসের অভিযোগের তদন্তের মধ্যেই রিজওয়ানকে মাঠে ফেরার অনুমতি

কিউবায় পানির সংকট, রেস্তোরাঁ সচল রাখতে কূপ খনন ব্যবসায়ীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কিউবায় পানির সংকট দেখা দিলে রেস্তোরাঁ বন্ধ রাখা এড়াতে নতুন এক উপায় বের করেছেন কেভিন মার্টিনেজ। ব্যবসায়ী হিসেবে পানির অভাবে তাকে প্রায়ই ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

তাই এবার নিজের রেস্তোরাঁয় কূপ খনন করে পানির ব্যবস্থা করেছেন তিনি।

কমিউনিস্ট শাসিত দ্বীপরাষ্ট্র কিউবায় যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি অবরোধের কারণে সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটছে। এ পরিস্থিতিতে নিজের পানির উৎস খুঁজে নিতে মাটির গভীরে কূপ খননের সিদ্ধান্ত নেন মার্টিনেজ।

হাভানা থেকে বার্তা সংস্থা  এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

তার রেস্তোরাঁটি রাজধানী হাভানা থেকে ১০০ কিলোমিটার পূর্বে মাতানজাস প্রদেশে অবস্থিত। পানির সংকটে বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোর এটি একটি।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কিউবার ৯৪ লাখ মানুষের মধ্যে প্রায় ২৯ শতাংশ পানির সংকটে ভুগছেন। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি অবরোধের কারণে জানুয়ারি থেকে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য অবনতি হয়েছে।

এর ফলে দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ না থাকার ঘটনা এখন স্বাভাবিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে পানির সরবরাহও কমে যাচ্ছে। কারণ, পানি সরবরাহের জন্য মূলত বিদ্যুৎচালিত টারবাইনের সাহায্যে পানি পাম্প করতে হয়।

মার্টিনেজ এএফপিকে বলেন, ‘বেশ কয়েকবার পানি না থাকায় আমাদের প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত এ কারণেই কূপ খনন করতে বাধ্য হয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘কখনো ভাবিনি আমাকে কূপ খনন করতে হবে। যেমন ভাবিনি, কয়লা দিয়ে রান্না করতে হবে কিংবা সৌর প্যানেল বসাতে হবে।’

কূপ খননে কিছুটা বেশি খরচ হলেও এর ফলে সপ্তাহে তিনবার পানি সরবরাহের জন্য অর্থ দিতে হচ্ছে না তাকে।
কিউবার জাতীয় পানি সরবরাহ সংস্থার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ইউনিওর গনসালেস এএফপি’কে বলেন, দেশটির ২৭ লাখ মানুষের বাড়িতে পানি পৌঁছায় না।

তিনি বলেন, ‘সরবরাহ করা পানির ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশই এসব পরিবারের কাছে পৌঁছাতে পাম্প করতে হয়।’
যন্ত্রপাতি বিকল হওয়া, পাইপের ছিদ্র দিয়ে পানি বেরিয়ে যাওয়া ও খরার কারণে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে বলে জানান তিনি।

পানির সংকটে অনেক কিউবানকে দূর-দূরান্ত থেকে পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে। ঠেলাগাড়ি, সাইকেল, গাড়ির ডিকি, এমনকি ঘোড়ায় টানা গাড়িতেও পানি বহন করছেন তারা।

রাজধানীর পুরোনো শহরের একটি সড়কে ঝরনার সঙ্গে যুক্ত পাইপ থেকে ধৈর্য ধরে ২০০ লিটারের একটি ট্যাংক ও কয়েকটি বালতিতে পানি ভরছিলেন ৩০ বছর বয়সী মাইকেল আগুইলার।

এরপর ঠেলাগাড়িতে করে সেই পানি বাড়িতে নিয়ে যেতে হয় তাকে। সেখানে পৌঁছে সিঁড়ি বেয়ে ওপরে তুলতে হয় পানির পাত্রগুলো।

আগুইলার বলেন, ‘একবার এভাবে পানি আনলেই কাপড় ধোয়া, ঘর পরিষ্কার করা আর রান্নার কাজ চলে। এরপরই পানি শেষ হয়ে যায়।’

একই জায়গায় পানি সংগ্রহের জন্য প্রতিবেশীরাও সারিবদ্ধভাবে অপেক্ষা করেন। নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে তারা সেখানে ট্যাংক, বালতি ও পানির ক্যান রেখে দেন।

দুই সন্তানের মা ৪০ বছর বয়সী ইউসিমি গুয়েরা বলেন, ‘এখানে প্রতিদিন বিদ্যুৎ চলে যায়। আর আমাদের পানি টেনে আনতে হয়।’

দীর্ঘশ্বাস ফেলে তিনি বলেন, ‘এটা প্রতিদিনের সংগ্রাম।’

পানির সংকট কিউবার লাগামহীন মূল্যস্ফীতির দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে। একই সঙ্গে খাদ্য ও ওষুধের সরবরাহও কমে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে দেশটিতে সামাজিক অসন্তোষ বাড়ছে।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে হাভানার বিভিন্ন পৌর এলাকায় পানির সংকটের প্রতিবাদে নারীদের নেতৃত্বে কয়েকটি বিক্ষোভ হয়েছে।

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : এক ঘন্টা আগে
১২ বার পঠিত হয়েছে

কিউবায় পানির সংকট, রেস্তোরাঁ সচল রাখতে কূপ খনন ব্যবসায়ীর

আপডেট এর সময় : এক ঘন্টা আগে

কিউবায় পানির সংকট দেখা দিলে রেস্তোরাঁ বন্ধ রাখা এড়াতে নতুন এক উপায় বের করেছেন কেভিন মার্টিনেজ। ব্যবসায়ী হিসেবে পানির অভাবে তাকে প্রায়ই ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

তাই এবার নিজের রেস্তোরাঁয় কূপ খনন করে পানির ব্যবস্থা করেছেন তিনি।

কমিউনিস্ট শাসিত দ্বীপরাষ্ট্র কিউবায় যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি অবরোধের কারণে সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটছে। এ পরিস্থিতিতে নিজের পানির উৎস খুঁজে নিতে মাটির গভীরে কূপ খননের সিদ্ধান্ত নেন মার্টিনেজ।

হাভানা থেকে বার্তা সংস্থা  এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

তার রেস্তোরাঁটি রাজধানী হাভানা থেকে ১০০ কিলোমিটার পূর্বে মাতানজাস প্রদেশে অবস্থিত। পানির সংকটে বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোর এটি একটি।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কিউবার ৯৪ লাখ মানুষের মধ্যে প্রায় ২৯ শতাংশ পানির সংকটে ভুগছেন। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি অবরোধের কারণে জানুয়ারি থেকে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য অবনতি হয়েছে।

এর ফলে দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ না থাকার ঘটনা এখন স্বাভাবিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে পানির সরবরাহও কমে যাচ্ছে। কারণ, পানি সরবরাহের জন্য মূলত বিদ্যুৎচালিত টারবাইনের সাহায্যে পানি পাম্প করতে হয়।

মার্টিনেজ এএফপিকে বলেন, ‘বেশ কয়েকবার পানি না থাকায় আমাদের প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত এ কারণেই কূপ খনন করতে বাধ্য হয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘কখনো ভাবিনি আমাকে কূপ খনন করতে হবে। যেমন ভাবিনি, কয়লা দিয়ে রান্না করতে হবে কিংবা সৌর প্যানেল বসাতে হবে।’

কূপ খননে কিছুটা বেশি খরচ হলেও এর ফলে সপ্তাহে তিনবার পানি সরবরাহের জন্য অর্থ দিতে হচ্ছে না তাকে।
কিউবার জাতীয় পানি সরবরাহ সংস্থার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ইউনিওর গনসালেস এএফপি’কে বলেন, দেশটির ২৭ লাখ মানুষের বাড়িতে পানি পৌঁছায় না।

তিনি বলেন, ‘সরবরাহ করা পানির ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশই এসব পরিবারের কাছে পৌঁছাতে পাম্প করতে হয়।’
যন্ত্রপাতি বিকল হওয়া, পাইপের ছিদ্র দিয়ে পানি বেরিয়ে যাওয়া ও খরার কারণে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে বলে জানান তিনি।

পানির সংকটে অনেক কিউবানকে দূর-দূরান্ত থেকে পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে। ঠেলাগাড়ি, সাইকেল, গাড়ির ডিকি, এমনকি ঘোড়ায় টানা গাড়িতেও পানি বহন করছেন তারা।

রাজধানীর পুরোনো শহরের একটি সড়কে ঝরনার সঙ্গে যুক্ত পাইপ থেকে ধৈর্য ধরে ২০০ লিটারের একটি ট্যাংক ও কয়েকটি বালতিতে পানি ভরছিলেন ৩০ বছর বয়সী মাইকেল আগুইলার।

এরপর ঠেলাগাড়িতে করে সেই পানি বাড়িতে নিয়ে যেতে হয় তাকে। সেখানে পৌঁছে সিঁড়ি বেয়ে ওপরে তুলতে হয় পানির পাত্রগুলো।

আগুইলার বলেন, ‘একবার এভাবে পানি আনলেই কাপড় ধোয়া, ঘর পরিষ্কার করা আর রান্নার কাজ চলে। এরপরই পানি শেষ হয়ে যায়।’

একই জায়গায় পানি সংগ্রহের জন্য প্রতিবেশীরাও সারিবদ্ধভাবে অপেক্ষা করেন। নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে তারা সেখানে ট্যাংক, বালতি ও পানির ক্যান রেখে দেন।

দুই সন্তানের মা ৪০ বছর বয়সী ইউসিমি গুয়েরা বলেন, ‘এখানে প্রতিদিন বিদ্যুৎ চলে যায়। আর আমাদের পানি টেনে আনতে হয়।’

দীর্ঘশ্বাস ফেলে তিনি বলেন, ‘এটা প্রতিদিনের সংগ্রাম।’

পানির সংকট কিউবার লাগামহীন মূল্যস্ফীতির দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে। একই সঙ্গে খাদ্য ও ওষুধের সরবরাহও কমে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে দেশটিতে সামাজিক অসন্তোষ বাড়ছে।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে হাভানার বিভিন্ন পৌর এলাকায় পানির সংকটের প্রতিবাদে নারীদের নেতৃত্বে কয়েকটি বিক্ষোভ হয়েছে।