ঢাকা , রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo ফেনীতে ৮ লাখ টাকার ভারতীয় আতশবাজি জব্দ, আটক ৬ Logo হেবরনে প্রায় ২ হাজার ফিলিস্তিনিকে বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য করল ইসরাইল Logo হেবরনে ইসরাইলি সামরিক অভিযানে বাস্তুচ্যুত প্রায় ২ হাজার ফিলিস্তিনি Logo ভূমিমন্ত্রীকে দেখতে হাসপাতালে রাষ্ট্রপতি Logo স্পিকারের সঙ্গে সুইডিশ রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ Logo অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা জোরদারে স্পেন-যুক্তরাজ্য সফরে শামা ওবায়েদ Logo ভারত সিরিজের শেষ তিন টি-টোয়েন্টিতে নেই হেনরি Logo মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে কানাডার কিছু পণ্যে শুল্ক প্রত্যাহার ট্রাম্পের Logo ইংল্যান্ডকে হারালেই ফাইনাল নিশ্চিত, হ্যাটট্রিক জয়ের লক্ষ্য পাকিস্তানের Logo পিকআপে সিমেন্টের বস্তার আড়ালে ৫৬০ বোতল ফেনসিডিল, গ্রেফতার ১

হেবরনে প্রায় ২ হাজার ফিলিস্তিনিকে বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য করল ইসরাইল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরন শহরে অভিযান চালিয়ে প্রায় ২ হাজার ফিলিস্তিনিকে বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য করেছে ইসরাইলি বাহিনী। শুক্রবার দুই ফিলিস্তিনি হামলাকারীর গুলিতে দুই ইসরাইলি সেনা নিহত হওয়ার এক দিন পর শনিবার এ অভিযান চালানো হয়। পরে ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে ওই দুই হামলাকারীও নিহত হন।

হামলার পর কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেয় ইসরাইল। ফিলিস্তিনি বাসিন্দাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ইসরাইলের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টির আহ্বান জানিয়েছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শনিবার গভীর রাতে মাইক দিয়ে তাদের বাড়িঘর ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয় ইসরাইলি সেনারা। এরপর খুব অল্প সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গুছিয়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হন তারা।

ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ বলেন, দুই হামলাকারীর বসবাসের এলাকা থেকে প্রায় ২ হাজার বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। হেবরনে হামাস-সংক্রান্ত সব কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের সেখানে ফিরতে দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।

ইসরাইলি সেনাবাহিনীর দাবি, শুক্রবার ও শনিবার পশ্চিম তীরের ৪০টি এলাকায় অভিযান চালানো হয়েছে। এসব অভিযানে হামাস ও ইসলামিক জিহাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিসহ প্রায় ৪০ জন সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে উসকানি, জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করা ও পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় জড়িত সন্দেহভাজনরাও রয়েছেন বলে জানিয়েছে সেনাবাহিনী।

শুক্রবারের হামলার দায় সরাসরি স্বীকার না করলেও হামলাকারীদের প্রশংসা করেছে হামাস। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের আরও হামলা চালানোর আহ্বান জানিয়েছে গোষ্ঠীটি।

এদিকে নির্বাচনের মাত্র কয়েক দিন আগে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ১৯৬৭ সালে পশ্চিম তীর দখলের পর থেকে দেখা যায়নি—এমন ব্যাপক পরিসরের সামরিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করছেন তিনি।

ইসরাইলের ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোত্রিচও শুক্রবারের হামলার পর কঠোর পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ব্যক্তিগতভাবে ‘অবৈধ স্থাপনার একটি সারি অবিলম্বে গুঁড়িয়ে দেওয়ার’ নির্দেশ দিয়েছেন। পশ্চিম তীরের বেসামরিক বিষয়গুলো তদারকির দায়িত্বও রয়েছে তার।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে স্মোত্রিচ বলেন, যারা ইসরাইলের সঙ্গে সংঘাতে জড়াবে, তাদের এর জন্য বড় মূল্য দিতে হবে।

এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হেবরনের আইন দেইর বাহা এলাকায় শনিবার রাস্তাঘাট প্রায় জনশূন্য ছিল। বিভিন্ন পরিত্যক্ত ভবনে ক্রস চিহ্ন দেখা গেছে। এলাকায় ইসরাইলি সেনাবাহিনীর দুটি সামরিক যানও দেখা যায়। পাহাড়ের ঢালে একটি বাড়িতে ইসরাইলি পতাকা টাঙানো ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, সেনারা বাড়িটি দখলে নিয়েছে।

স্থানীয় দোকানি ও প্রভাবশালী ব্যক্তি ৭০ বছর বয়সী হিগাজি শাওয়ার আল-তামিমি জানান, রাত ১টার দিকে সেনারা তাকে ঘুম থেকে ডেকে তুলে এলাকা ছেড়ে যেতে বলে। কত দিন উচ্ছেদ চলবে জানতে চাইলে সেনারা তাকে ‘পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত’ এলাকা ছাড়ার কথা জানায়।

তামিমি বলেন, জিনিসপত্র গুছিয়ে নেওয়ার জন্য খুব অল্প সময় দেওয়া হয়েছিল। অনেক বাসিন্দার জন্য এলাকা ছেড়ে বের হওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে। তার ৯০ বছর বয়সী অসুস্থ শাশুড়িকেও বহন করে বাইরে নিয়ে যেতে হয়েছে বলে জানান তিনি।

তার ভাই ৬৮ বছর বয়সী খালেদ শাওয়ার আল-তামিমিও উচ্ছেদের পর ছেলের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। তিনি জানান, সেনারা মাইকে এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়ার পর তারা বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হন।

শুক্রবারের হামলাকারীরা তাদের এলাকার বাসিন্দা—এ কথা শুনে বিস্ময় প্রকাশ করেন খালেদ। তার দাবি, এলাকাটি মধ্যবিত্ত মানুষের বসবাসের জায়গা এবং সেখানকার বাসিন্দারা সাধারণত আইন মেনে চলেন।

হেবরনের গভর্নর খালেদ দুদিন বলেন, সেনাবাহিনী প্রথমে হামলাকারীদের পাড়ায় অভিযান শুরু করলেও অভিযান আরও বিস্তৃত হবে না—এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। তিনি এ পদক্ষেপকে ‘সমষ্টিগত শাস্তি’ হিসেবে বর্ণনা করেন।

গভর্নরের হিসাবে, উচ্ছেদে প্রায় ১৫০টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে হেবরনের মেয়র ইউসুফ আল-জাবারি ও স্থানীয় অধিকারকর্মী ঈসা আমরোর হিসাবে এ সংখ্যা প্রায় ২৫০ পরিবার।

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : এক ঘন্টা আগে
১৭ বার পঠিত হয়েছে

হেবরনে প্রায় ২ হাজার ফিলিস্তিনিকে বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য করল ইসরাইল

আপডেট এর সময় : এক ঘন্টা আগে

অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরন শহরে অভিযান চালিয়ে প্রায় ২ হাজার ফিলিস্তিনিকে বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য করেছে ইসরাইলি বাহিনী। শুক্রবার দুই ফিলিস্তিনি হামলাকারীর গুলিতে দুই ইসরাইলি সেনা নিহত হওয়ার এক দিন পর শনিবার এ অভিযান চালানো হয়। পরে ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে ওই দুই হামলাকারীও নিহত হন।

হামলার পর কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেয় ইসরাইল। ফিলিস্তিনি বাসিন্দাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ইসরাইলের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টির আহ্বান জানিয়েছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শনিবার গভীর রাতে মাইক দিয়ে তাদের বাড়িঘর ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয় ইসরাইলি সেনারা। এরপর খুব অল্প সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গুছিয়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হন তারা।

ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ বলেন, দুই হামলাকারীর বসবাসের এলাকা থেকে প্রায় ২ হাজার বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। হেবরনে হামাস-সংক্রান্ত সব কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের সেখানে ফিরতে দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।

ইসরাইলি সেনাবাহিনীর দাবি, শুক্রবার ও শনিবার পশ্চিম তীরের ৪০টি এলাকায় অভিযান চালানো হয়েছে। এসব অভিযানে হামাস ও ইসলামিক জিহাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিসহ প্রায় ৪০ জন সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে উসকানি, জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করা ও পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় জড়িত সন্দেহভাজনরাও রয়েছেন বলে জানিয়েছে সেনাবাহিনী।

শুক্রবারের হামলার দায় সরাসরি স্বীকার না করলেও হামলাকারীদের প্রশংসা করেছে হামাস। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের আরও হামলা চালানোর আহ্বান জানিয়েছে গোষ্ঠীটি।

এদিকে নির্বাচনের মাত্র কয়েক দিন আগে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ১৯৬৭ সালে পশ্চিম তীর দখলের পর থেকে দেখা যায়নি—এমন ব্যাপক পরিসরের সামরিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করছেন তিনি।

ইসরাইলের ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোত্রিচও শুক্রবারের হামলার পর কঠোর পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ব্যক্তিগতভাবে ‘অবৈধ স্থাপনার একটি সারি অবিলম্বে গুঁড়িয়ে দেওয়ার’ নির্দেশ দিয়েছেন। পশ্চিম তীরের বেসামরিক বিষয়গুলো তদারকির দায়িত্বও রয়েছে তার।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে স্মোত্রিচ বলেন, যারা ইসরাইলের সঙ্গে সংঘাতে জড়াবে, তাদের এর জন্য বড় মূল্য দিতে হবে।

এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হেবরনের আইন দেইর বাহা এলাকায় শনিবার রাস্তাঘাট প্রায় জনশূন্য ছিল। বিভিন্ন পরিত্যক্ত ভবনে ক্রস চিহ্ন দেখা গেছে। এলাকায় ইসরাইলি সেনাবাহিনীর দুটি সামরিক যানও দেখা যায়। পাহাড়ের ঢালে একটি বাড়িতে ইসরাইলি পতাকা টাঙানো ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, সেনারা বাড়িটি দখলে নিয়েছে।

স্থানীয় দোকানি ও প্রভাবশালী ব্যক্তি ৭০ বছর বয়সী হিগাজি শাওয়ার আল-তামিমি জানান, রাত ১টার দিকে সেনারা তাকে ঘুম থেকে ডেকে তুলে এলাকা ছেড়ে যেতে বলে। কত দিন উচ্ছেদ চলবে জানতে চাইলে সেনারা তাকে ‘পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত’ এলাকা ছাড়ার কথা জানায়।

তামিমি বলেন, জিনিসপত্র গুছিয়ে নেওয়ার জন্য খুব অল্প সময় দেওয়া হয়েছিল। অনেক বাসিন্দার জন্য এলাকা ছেড়ে বের হওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে। তার ৯০ বছর বয়সী অসুস্থ শাশুড়িকেও বহন করে বাইরে নিয়ে যেতে হয়েছে বলে জানান তিনি।

তার ভাই ৬৮ বছর বয়সী খালেদ শাওয়ার আল-তামিমিও উচ্ছেদের পর ছেলের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। তিনি জানান, সেনারা মাইকে এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়ার পর তারা বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হন।

শুক্রবারের হামলাকারীরা তাদের এলাকার বাসিন্দা—এ কথা শুনে বিস্ময় প্রকাশ করেন খালেদ। তার দাবি, এলাকাটি মধ্যবিত্ত মানুষের বসবাসের জায়গা এবং সেখানকার বাসিন্দারা সাধারণত আইন মেনে চলেন।

হেবরনের গভর্নর খালেদ দুদিন বলেন, সেনাবাহিনী প্রথমে হামলাকারীদের পাড়ায় অভিযান শুরু করলেও অভিযান আরও বিস্তৃত হবে না—এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। তিনি এ পদক্ষেপকে ‘সমষ্টিগত শাস্তি’ হিসেবে বর্ণনা করেন।

গভর্নরের হিসাবে, উচ্ছেদে প্রায় ১৫০টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে হেবরনের মেয়র ইউসুফ আল-জাবারি ও স্থানীয় অধিকারকর্মী ঈসা আমরোর হিসাবে এ সংখ্যা প্রায় ২৫০ পরিবার।