ঢাকা , বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo ফাইনালের স্বপ্ন বাঁচাতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষায় বাংলাদেশ Logo সুন্দরবনে হরিণ শিকারের অভিযোগে যুবক আটক, নৌকা থেকে মাথা-কলিজাসহ সরঞ্জাম জব্দ Logo ইয়েমেনে নতুন করে গৃহযুদ্ধ, আড়াই লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত Logo রাজশাহীর ৩৮ হাজার ৯৭০ আখচাষী পেলেন ১২ কোটি টাকার প্রণোদনা Logo যমুনার বুকে ‘মিনি কক্সবাজার’ সিরাজগঞ্জের চায়না বাঁধ Logo বেটিং ও তথ্য ফাঁসের অভিযোগের তদন্তের মধ্যেই রিজওয়ানকে মাঠে ফেরার অনুমতি Logo মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতায় ইরান সফরে যাচ্ছেন ল্যাভরভ Logo কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে সব উপজেলায় কমিটি, সভাপতি ইউএনও Logo সন্তানের জন্য স্বাস্থ্যকর ঢাকা গড়তে আন্তরিকভাবে কাজ করুন: সিটি কর্পোরেশনের কর্মীদের প্রধানমন্ত্রী Logo শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

ঢাকায় নতুন সড়ক আইনে মামলা শুরু

প্রতিনিধির নাম :

নতুন সড়ক পরিবহন আইনে বেশির ভাগ ধারার জরিমানা ১০ থেকে ৫০ গুণ বাড়ানো হয়েছে। ফাইল ছবিনতুন ‘সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮’ অনুযায়ী আইন লঙ্ঘনকারীদের মামলা দেওয়া শুরু করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ। ডিএমপি ট্রাফিকের চারটি বিভাগের মধ্যে তিনটি বিভাগ সীমিত পরিসরে এই কার্যক্রম শুরু করেছে। গত ১ নভেম্বর থেকে আইনটি কার্যকর হলেও পুলিশ এত দিন আইন লঙ্ঘনকারীদের মামলা দেওয়া থেকে বিরত ছিল। নতুন আইন সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছিল তারা।

গত বছরের ২৯ জুলাই রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে বেপরোয়া বাসের চাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহত ও ৯ জন আহত হয়। এরপর শিক্ষার্থীদের ‘নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের’ মুখে সরকার ২০১৮ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর নতুন সড়ক পরিবহন আইন পাস করে। মালিক-শ্রমিক সংগঠনগুলোর চাপে এটি কার্যকর করতে এক বছরের বেশি সময় লেগে যায়।

নতুন সড়ক পরিবহন আইনে বেশির ভাগ ধারার জরিমানা ১০ থেকে ৫০ গুণ বাড়ানো হয়েছে। আগে যেসব ধারায় এক মাস কারাদণ্ডের বিধান ছিল, এখন তা দুই বছর পর্যন্ত হয়েছে। আইনের বেশির ভাগ ধারাতেই সর্বোচ্চ শাস্তি কত হবে তা আছে, সর্বনিম্ন শাস্তির উল্লেখ নেই।

ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার মফিজ উদ্দিন আহম্মেদ গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ডিএমপিতে ট্রাফিকের ২৩টি অঞ্চল রয়েছে। মামলা দেওয়ার বিষয়টি খুব সাবধানতার সঙ্গে করা হচ্ছে। প্রতিটি অঞ্চলে একটি করে টিম গঠন করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এই টিমগুলো মামলা দেওয়ার কাজ করছে। ধীরে ধীরে এই কার্যক্রম বাড়ানো হবে। মামলা দেওয়ার পজ মেশিনগুলো প্রস্তুত হয়ে গেলে পূর্ণাঙ্গভাবে মামলা দেওয়ার কাজ শুরু হবে।

নতুন আইনে পুলিশের এই মামলা দেওয়ার বিষয়টি নজরে আসে গত শনিবার দুপুরে। রাজধানীর বিজয় সরণি মোড়ে উল্টো পথে আসা কয়েকটি মোটরসাইকেলকে ট্রাফিক পশ্চিম বিভাগের সদস্যরা মামলা দেন। জরিমানা করা হয় পাঁচ হাজার টাকা করে।

ট্রাফিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন আইনে মামলা ও জরিমানার বিষয়ে পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে যাতে জনসাধারণের কোনো ভুল-বোঝাবুঝি না হয়, সে জন্য তারা বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ নিয়েছেন। কেউ যখন আইন লঙ্ঘন করছেন, তখন প্রথমত তাঁর ভিডিও চিত্র ধারণ করা হচ্ছে। এরপর তাঁকে থামিয়ে আইন লঙ্ঘনের বিষয়টি জানানো হচ্ছে। তিনি কীভাবে আইন লঙ্ঘন করেছেন, সেটিও বুঝিয়ে বলা হচ্ছে। এরপর সংশ্লিষ্ট ধারায় তাঁকে মামলা দেওয়া হচ্ছে। মূলত ট্রাফিক পুলিশের প্রতি যে একধরনের অনাস্থা তৈরি হয়েছে, সেটি নিরসনেই এই পদক্ষেপগুলো নেওয়া হচ্ছে।

Tag :

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০৭:০২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ ডিসেম্বর ২০১৯
২০ বার পঠিত হয়েছে

ঢাকায় নতুন সড়ক আইনে মামলা শুরু

আপডেট এর সময় : ০৭:০২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ ডিসেম্বর ২০১৯

নতুন সড়ক পরিবহন আইনে বেশির ভাগ ধারার জরিমানা ১০ থেকে ৫০ গুণ বাড়ানো হয়েছে। ফাইল ছবিনতুন ‘সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮’ অনুযায়ী আইন লঙ্ঘনকারীদের মামলা দেওয়া শুরু করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ। ডিএমপি ট্রাফিকের চারটি বিভাগের মধ্যে তিনটি বিভাগ সীমিত পরিসরে এই কার্যক্রম শুরু করেছে। গত ১ নভেম্বর থেকে আইনটি কার্যকর হলেও পুলিশ এত দিন আইন লঙ্ঘনকারীদের মামলা দেওয়া থেকে বিরত ছিল। নতুন আইন সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছিল তারা।

গত বছরের ২৯ জুলাই রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে বেপরোয়া বাসের চাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহত ও ৯ জন আহত হয়। এরপর শিক্ষার্থীদের ‘নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের’ মুখে সরকার ২০১৮ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর নতুন সড়ক পরিবহন আইন পাস করে। মালিক-শ্রমিক সংগঠনগুলোর চাপে এটি কার্যকর করতে এক বছরের বেশি সময় লেগে যায়।

নতুন সড়ক পরিবহন আইনে বেশির ভাগ ধারার জরিমানা ১০ থেকে ৫০ গুণ বাড়ানো হয়েছে। আগে যেসব ধারায় এক মাস কারাদণ্ডের বিধান ছিল, এখন তা দুই বছর পর্যন্ত হয়েছে। আইনের বেশির ভাগ ধারাতেই সর্বোচ্চ শাস্তি কত হবে তা আছে, সর্বনিম্ন শাস্তির উল্লেখ নেই।

ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার মফিজ উদ্দিন আহম্মেদ গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ডিএমপিতে ট্রাফিকের ২৩টি অঞ্চল রয়েছে। মামলা দেওয়ার বিষয়টি খুব সাবধানতার সঙ্গে করা হচ্ছে। প্রতিটি অঞ্চলে একটি করে টিম গঠন করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এই টিমগুলো মামলা দেওয়ার কাজ করছে। ধীরে ধীরে এই কার্যক্রম বাড়ানো হবে। মামলা দেওয়ার পজ মেশিনগুলো প্রস্তুত হয়ে গেলে পূর্ণাঙ্গভাবে মামলা দেওয়ার কাজ শুরু হবে।

নতুন আইনে পুলিশের এই মামলা দেওয়ার বিষয়টি নজরে আসে গত শনিবার দুপুরে। রাজধানীর বিজয় সরণি মোড়ে উল্টো পথে আসা কয়েকটি মোটরসাইকেলকে ট্রাফিক পশ্চিম বিভাগের সদস্যরা মামলা দেন। জরিমানা করা হয় পাঁচ হাজার টাকা করে।

ট্রাফিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন আইনে মামলা ও জরিমানার বিষয়ে পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে যাতে জনসাধারণের কোনো ভুল-বোঝাবুঝি না হয়, সে জন্য তারা বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ নিয়েছেন। কেউ যখন আইন লঙ্ঘন করছেন, তখন প্রথমত তাঁর ভিডিও চিত্র ধারণ করা হচ্ছে। এরপর তাঁকে থামিয়ে আইন লঙ্ঘনের বিষয়টি জানানো হচ্ছে। তিনি কীভাবে আইন লঙ্ঘন করেছেন, সেটিও বুঝিয়ে বলা হচ্ছে। এরপর সংশ্লিষ্ট ধারায় তাঁকে মামলা দেওয়া হচ্ছে। মূলত ট্রাফিক পুলিশের প্রতি যে একধরনের অনাস্থা তৈরি হয়েছে, সেটি নিরসনেই এই পদক্ষেপগুলো নেওয়া হচ্ছে।