ঢাকা , বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:

‘পাকিস্তান আফগানিস্তান ও বাংলাদেশের মুসলমানদের তাড়ানো হবে’

প্রতিনিধির নাম :

ভারতের ২৫ কোটিরও বেশি মুসলমানকে সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু জনগোষ্ঠীর ভাই ও তাদের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ নেই মন্তব্য করে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন বিজেপির জাতীয় সম্পাদক রাহুল সিনহা।

তবে ভারতের মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানসহ অন্যান্য দেশের নাগরিক রয়েছেন দাবি করে এক ঔদ্ধত্যপূর্ণ মন্তব্য করলেন তিনি।

তিনি বলেন, ভারতের মুসলমানদের সঙ্গে মিশে থাকা পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানসহ অন্যান্য দেশের মুসলমানদের শিগগিরই তাড়ানো হবে।

সম্প্রতি চলমান ভারতীয় নাগরিকদের রাষ্ট্রীয়পঞ্জি (এনআরসি) কর্মসূচির বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে বৃহস্পতিবার এ মন্তব্য করেন বিজেপি নেতা রাহুল সিনহা।

বিজেপির কলকাতা সদর দফতরে বসে এক বিবৃতিতে রাহুল সিনহা বলেন, পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানসহ অন্যান্য রাষ্ট্র থেকে আসা মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকজন এখানে অনুপ্রবেশ করেছে। তারা বিনা অনুমতিতে প্রবেশ করেছে এবং বহাল তবিয়তে আছে।

তিনি দাবি করেন, ভারতের বাইরের মুসলমানরা রেশন কার্ড ও ভোটার লিস্টে নাম তুলে ভারতীয় সেজে বাস করছে।

এদের চিহ্নিত করে এবার এ দেশ থেকে বিতাড়িত করা হবে বলে মন্তব্য করেন রাহুল সিনহা।

অন্যদিকে ভারতের মুসলিম সম্প্রদায়ের পক্ষে কথা বলেছেন এই বিজেপি নেতা।

তিনি বলেন, ভারতীয় মুসলমান আমাদের সমান মর্যাদাসম্পন্ন নাগরিক। তাদের নাগরিকত্বে কোনো কাটছাঁট হবে না। ভারতীয় মুসলমান আর হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ নেই।

তবে এনআরসির বিষয়ে বরাবরই ভিন্নমত দিচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

কে ভারতীয় আর কে অভারতীয় সে ভেদাভেদে যেতে একেবারেই নারাজ এ তৃণমূল সভানেত্রী।

পশ্চিমবঙ্গে এনআরসি হতে দেবেন না জানিয়ে সম্প্রতি শিলিগুড়িতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আমরা রাজ্যে কোনো ভেদাভেদ মেনে নেব না। আমি মমতা বন্দোপাধ্যায়। রাজ্যে শুধু বন্দ্যোপাধ্যায় থাকবে আর কেউ থাকবে না!- এমনটি আমি ভাবতেই পারি না। বরং আমি বলব- বন্দ্যোপাধ্যায় চলে যাক। মানুষ থাকুক।

তিনি আরও বলেছিলেন, আমি আপনাদের পাহারাদার। একটি মানুষকেও বাংলা থেকে যেতে দেব না। যারাই এ রাজ্যে বসবাস করেন, তারাই বাংলার বাসিন্দা। যাদের বয়স ১৮ হয়েছে তাদের এখনই ভোটার তালিকায় নাম নথিভুক্ত করতে হবে।

Tag :

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০৬:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ অক্টোবর ২০১৯
১০ বার পঠিত হয়েছে

‘পাকিস্তান আফগানিস্তান ও বাংলাদেশের মুসলমানদের তাড়ানো হবে’

আপডেট এর সময় : ০৬:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ অক্টোবর ২০১৯

ভারতের ২৫ কোটিরও বেশি মুসলমানকে সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু জনগোষ্ঠীর ভাই ও তাদের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ নেই মন্তব্য করে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন বিজেপির জাতীয় সম্পাদক রাহুল সিনহা।

তবে ভারতের মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানসহ অন্যান্য দেশের নাগরিক রয়েছেন দাবি করে এক ঔদ্ধত্যপূর্ণ মন্তব্য করলেন তিনি।

তিনি বলেন, ভারতের মুসলমানদের সঙ্গে মিশে থাকা পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানসহ অন্যান্য দেশের মুসলমানদের শিগগিরই তাড়ানো হবে।

সম্প্রতি চলমান ভারতীয় নাগরিকদের রাষ্ট্রীয়পঞ্জি (এনআরসি) কর্মসূচির বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে বৃহস্পতিবার এ মন্তব্য করেন বিজেপি নেতা রাহুল সিনহা।

বিজেপির কলকাতা সদর দফতরে বসে এক বিবৃতিতে রাহুল সিনহা বলেন, পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানসহ অন্যান্য রাষ্ট্র থেকে আসা মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকজন এখানে অনুপ্রবেশ করেছে। তারা বিনা অনুমতিতে প্রবেশ করেছে এবং বহাল তবিয়তে আছে।

তিনি দাবি করেন, ভারতের বাইরের মুসলমানরা রেশন কার্ড ও ভোটার লিস্টে নাম তুলে ভারতীয় সেজে বাস করছে।

এদের চিহ্নিত করে এবার এ দেশ থেকে বিতাড়িত করা হবে বলে মন্তব্য করেন রাহুল সিনহা।

অন্যদিকে ভারতের মুসলিম সম্প্রদায়ের পক্ষে কথা বলেছেন এই বিজেপি নেতা।

তিনি বলেন, ভারতীয় মুসলমান আমাদের সমান মর্যাদাসম্পন্ন নাগরিক। তাদের নাগরিকত্বে কোনো কাটছাঁট হবে না। ভারতীয় মুসলমান আর হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ নেই।

তবে এনআরসির বিষয়ে বরাবরই ভিন্নমত দিচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

কে ভারতীয় আর কে অভারতীয় সে ভেদাভেদে যেতে একেবারেই নারাজ এ তৃণমূল সভানেত্রী।

পশ্চিমবঙ্গে এনআরসি হতে দেবেন না জানিয়ে সম্প্রতি শিলিগুড়িতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আমরা রাজ্যে কোনো ভেদাভেদ মেনে নেব না। আমি মমতা বন্দোপাধ্যায়। রাজ্যে শুধু বন্দ্যোপাধ্যায় থাকবে আর কেউ থাকবে না!- এমনটি আমি ভাবতেই পারি না। বরং আমি বলব- বন্দ্যোপাধ্যায় চলে যাক। মানুষ থাকুক।

তিনি আরও বলেছিলেন, আমি আপনাদের পাহারাদার। একটি মানুষকেও বাংলা থেকে যেতে দেব না। যারাই এ রাজ্যে বসবাস করেন, তারাই বাংলার বাসিন্দা। যাদের বয়স ১৮ হয়েছে তাদের এখনই ভোটার তালিকায় নাম নথিভুক্ত করতে হবে।