ঢাকা , শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo ইরান কখনো মাথা নত করবে না: পেজেশকিয়ান Logo জাতিসংঘে শত্রু-মিত্রদের সমালোচনা করতে পারেন নেতানিয়াহু Logo ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আরও নিরাপদ ও টেকসই বিশ্ব গড়ে তোলার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর Logo বোয়িংয়ের সঙ্গে ১১টি বিমান কেনার চুক্তি হয়েছে: মাহদী আমিন Logo এআইয়ের নাম পাল্টে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ বা এসআই রাখছেন ট্রাম্প Logo বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ক আরও জোরদারের প্রত্যয় Logo মার্কিন প্রেসিডেন্টের নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ Logo হুতিদের ‘অবিলম্বে সব সামরিক কর্মকাণ্ড বন্ধ করার আহ্বান জি৭ নেতাদের Logo তুরস্কে স্কুলের বাইরে গুলিতে আহত ৪ শিক্ষার্থী Logo সীমিত সম্পদের ভারসাম্য রক্ষায় জ্বালানি খাতে ভর্তুকি সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত : তথ্য উপদেষ্টা

অনির্বাচিত সরকার দেশের দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে না

প্রতিনিধির নাম :

অনলাইন ডেস্ক:      লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের সময়সূচি এবং চট্টগ্রাম বন্দরের দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সোমবার (২৪ নভেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ইংরেজি পোস্টে তিনি বলেন, দেশের দীর্ঘমেয়াদি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত এমন একটি সরকার নিচ্ছে, যাদের জনগণের নির্বাচনী ম্যান্ডেট নেই। তিনি সতর্ক করেছেন, এসব সিদ্ধান্তের প্রভাব বছরের পর বছর সাধারণ মানুষ বহন করতে হবে।

তারেক রহমান উদাহরণ দিয়ে দেখান, গাজীপুরের একটি ছোট পোশাক কারখানার মালিক দীর্ঘ দশক ধরে ব্যবসা গড়ে তুললেও হঠাৎ রপ্তানি শুল্ক সুবিধা কমে গেলে অর্ডার হারানো, শ্রমিকদের বেতন দিতে হিমশিম খাওয়া এবং পরিবারকে নিরাপদে রাখা কঠিন হয়ে যায়। একইভাবে নারায়ণগঞ্জের এক তরুণীর পরিবারের সংকট তুলে ধরেছেন, যারা ওভারটাইমের ওপর নির্ভরশীল। রপ্তানি কমলে প্রথমে ওভারটাইম কমানো হয়, পরে শিফটে কাটছাঁট, শেষে চাকরি হারানোর ঝুঁকি দেখা দেয়। তিনি বলেন, “এগুলি সংবাদ শিরোনামে আসে না, তবে লাখো মানুষের জীবনে নীরব সংকট তৈরি করে।”

তিনি দাবি করেন, ২০২৬ সালের এলডিসি উত্তরণের সময়সূচি নিয়ে নেওয়া সিদ্ধান্ত ‘সম্পূর্ণ রাজনৈতিক’ এবং তা নিচ্ছে একটি অন্তর্বর্তী সরকার, যাদের জনগণের ভোট নেই। তার প্রশ্ন, কেন বিকল্প পথ বন্ধ করে আন্তর্জাতিক আলোচনায় যাওয়ার আগেই নিজেদের দর–কষাকষির শক্তি দুর্বল করা হচ্ছে। তারেক রহমান বলেন, ব্যাংকিং খাতের চাপ, বৈদেশিক মুদ্রার অস্থিরতা, ঋণের ঝুঁকি এবং রপ্তানির ধীরগতি প্রমাণ করে প্রস্তুতি ছাড়া শুধুমাত্র অধিকার পাওয়াই যথেষ্ট নয়।

চট্টগ্রাম বন্দরের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তও তিনি একইভাবে দেখছেন। লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল এবং পানগাঁও নৌ টার্মিনাল পরিচালনার ভার বিদেশি কোম্পানিকে দেওয়ার মতো বিষয়গুলো কৌশলগত প্রতিশ্রুতি। তারেক রহমান বলেন, “এটি কোনো ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়, বিষয়টি হলো দেশের প্রতিষ্ঠান ও গণতান্ত্রিক আদর্শ রক্ষা করা। একটি অনির্বাচিত সরকার দেশের দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে না।”

তিনি ফেসবুক পোস্টে স্পষ্ট করে বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষ কখনোই নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে নীরব থাকে না। মানুষ চায় সম্মান, অংশগ্রহণ এবং নিজের কণ্ঠের মূল্য দিতে। তাই ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন হবে দেশের জনগণের জন্য কথা বলার, নির্বাচন করার এবং সহজ সত্য পুনর্ব্যক্ত করার সুযোগ। তারেক রহমানের মতে, দেশের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলবে তারা, যারা এখানে বসবাস করে এবং বিশ্বাস করে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’।

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০৬:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৫
৩৫ বার পঠিত হয়েছে

অনির্বাচিত সরকার দেশের দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে না

আপডেট এর সময় : ০৬:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৫

অনলাইন ডেস্ক:      লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের সময়সূচি এবং চট্টগ্রাম বন্দরের দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সোমবার (২৪ নভেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ইংরেজি পোস্টে তিনি বলেন, দেশের দীর্ঘমেয়াদি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত এমন একটি সরকার নিচ্ছে, যাদের জনগণের নির্বাচনী ম্যান্ডেট নেই। তিনি সতর্ক করেছেন, এসব সিদ্ধান্তের প্রভাব বছরের পর বছর সাধারণ মানুষ বহন করতে হবে।

তারেক রহমান উদাহরণ দিয়ে দেখান, গাজীপুরের একটি ছোট পোশাক কারখানার মালিক দীর্ঘ দশক ধরে ব্যবসা গড়ে তুললেও হঠাৎ রপ্তানি শুল্ক সুবিধা কমে গেলে অর্ডার হারানো, শ্রমিকদের বেতন দিতে হিমশিম খাওয়া এবং পরিবারকে নিরাপদে রাখা কঠিন হয়ে যায়। একইভাবে নারায়ণগঞ্জের এক তরুণীর পরিবারের সংকট তুলে ধরেছেন, যারা ওভারটাইমের ওপর নির্ভরশীল। রপ্তানি কমলে প্রথমে ওভারটাইম কমানো হয়, পরে শিফটে কাটছাঁট, শেষে চাকরি হারানোর ঝুঁকি দেখা দেয়। তিনি বলেন, “এগুলি সংবাদ শিরোনামে আসে না, তবে লাখো মানুষের জীবনে নীরব সংকট তৈরি করে।”

তিনি দাবি করেন, ২০২৬ সালের এলডিসি উত্তরণের সময়সূচি নিয়ে নেওয়া সিদ্ধান্ত ‘সম্পূর্ণ রাজনৈতিক’ এবং তা নিচ্ছে একটি অন্তর্বর্তী সরকার, যাদের জনগণের ভোট নেই। তার প্রশ্ন, কেন বিকল্প পথ বন্ধ করে আন্তর্জাতিক আলোচনায় যাওয়ার আগেই নিজেদের দর–কষাকষির শক্তি দুর্বল করা হচ্ছে। তারেক রহমান বলেন, ব্যাংকিং খাতের চাপ, বৈদেশিক মুদ্রার অস্থিরতা, ঋণের ঝুঁকি এবং রপ্তানির ধীরগতি প্রমাণ করে প্রস্তুতি ছাড়া শুধুমাত্র অধিকার পাওয়াই যথেষ্ট নয়।

চট্টগ্রাম বন্দরের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তও তিনি একইভাবে দেখছেন। লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল এবং পানগাঁও নৌ টার্মিনাল পরিচালনার ভার বিদেশি কোম্পানিকে দেওয়ার মতো বিষয়গুলো কৌশলগত প্রতিশ্রুতি। তারেক রহমান বলেন, “এটি কোনো ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়, বিষয়টি হলো দেশের প্রতিষ্ঠান ও গণতান্ত্রিক আদর্শ রক্ষা করা। একটি অনির্বাচিত সরকার দেশের দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে না।”

তিনি ফেসবুক পোস্টে স্পষ্ট করে বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষ কখনোই নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে নীরব থাকে না। মানুষ চায় সম্মান, অংশগ্রহণ এবং নিজের কণ্ঠের মূল্য দিতে। তাই ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন হবে দেশের জনগণের জন্য কথা বলার, নির্বাচন করার এবং সহজ সত্য পুনর্ব্যক্ত করার সুযোগ। তারেক রহমানের মতে, দেশের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলবে তারা, যারা এখানে বসবাস করে এবং বিশ্বাস করে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’।