ঢাকা , শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ‘বন্ধ কলকারখানা চালু ও ব্যবস্থাপনা’ সংক্রান্ত সভা অনুষ্ঠিত Logo হজযাত্রীদের লাগেজ চুরির অভিযোগ ভিত্তিহীন: মিল্লাত Logo প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ইউএনডিপি’র আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফানের সাক্ষাৎ Logo ইরানের ড্রোন হামলায় কুয়েতের বিমানবন্দর সাময়িক বন্ধ ঘোষণা Logo নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে শিগগিরই দেশব্যাপী সচেতনতামূলক কর্মসূচি Logo প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপানের প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ Logo জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের আস্থা পুনর্গঠন ও সংস্কার এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার খলিলুর রহমানের Logo ক্ষমতা গ্রহণের ৩ মাসেই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার : মির্জা ফখরুল Logo বিশ্বকাপ দল ঘোষণা করেছে ইরাক Logo চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটিতে রেকর্ড কনটেইনার হ্যান্ডলিং

তিন দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে প্রাথমিক শিক্ষকরা

প্রতিনিধির নাম :
অনলাইন ডেস্ক: দশম গ্রেডে বেতন প্রদানসহ তিন দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। রোববার (৯ নভেম্বর) সকাল থেকে সব বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ রেখে তারা এ কর্মসূচি পালন করছেন। এর ফলে সারা দেশের প্রায় ৬৫ হাজার বিদ্যালয়ে পাঠদান কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।শনিবার (৮ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সহকারী শিক্ষকরা লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। দুপুরে শাহবাগের দিকে ‘কলম বিসর্জন’ মিছিল নিয়ে অগ্রসর হওয়ার সময় পুলিশের বাধা পেয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন তারা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ জলকামান, কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। এতে শতাধিক শিক্ষক আহত হন এবং বেশ কয়েকজন শিক্ষক নেতাকে আটক করা হয়।

শিক্ষকদের দাবি, তাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বিনা উসকানিতে হামলা চালিয়েছে পুলিশ। প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের আহ্বায়ক শামসুদ্দিন মাসুদ বলেছেন, “বহুবার আলোচনায় বসেছি, কিন্তু কোনো ফল হয়নি। এবার দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথেই থাকব। প্রজ্ঞাপন ছাড়া কেউ ঘরে ফিরবে না।”

বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খায়রুন নাহার লিপিও একই অবস্থান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমরা বহু বছর ধরে বঞ্চিত। এবার দাবি পূরণ না হলে অবস্থান কর্মসূচি ও কর্মবিরতি একসঙ্গে চলবে।”

‘প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ’-এর ব্যানারে চারটি সংগঠন এই আন্দোলন পরিচালনা করছে। তাদের দাবিগুলো হলো—সহকারী শিক্ষকদের বেতন জাতীয় বেতন কাঠামোর দশম গ্রেডে উন্নীত করা, চাকরির ১০ ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড প্রদান সংক্রান্ত জটিলতার স্থায়ী সমাধান এবং শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতির নিশ্চয়তা।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্যমতে, দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬৫ হাজার ৫৬৭টি এবং এসব বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষক সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ৮৪ হাজার। ফলে রোববার থেকেই এসব বিদ্যালয়ে পাঠদান কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রয়েছে।

এদিকে, তিন দফা দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষকদের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ। শনিবার রাতে এক ফেসবুক পোস্টে তিনি শিক্ষকদের ওপর পুলিশের হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, “শিক্ষকদের দাবি যৌক্তিক, আমরা তাদের সঙ্গে আছি।”

সরকারি সূত্রগুলো জানায়, সহকারী শিক্ষকদের বেতনগ্রেড উন্নীত করার বিষয়টি পর্যালোচনায় আছে। এর আগে আদালতের নির্দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪৫ জন প্রধান শিক্ষকের বেতন গ্রেড এক ধাপ বাড়িয়ে দশম গ্রেডে উন্নীত করা হয়, যা সারাদেশের প্রধান শিক্ষকদের জন্যও দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে।

তবে সহকারী শিক্ষকরা বলছেন, শুধুমাত্র প্রতিশ্রুতি নয়, প্রজ্ঞাপন প্রকাশের আগ পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ১২:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ নভেম্বর ২০২৫
৩ বার পঠিত হয়েছে

তিন দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে প্রাথমিক শিক্ষকরা

আপডেট এর সময় : ১২:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ নভেম্বর ২০২৫
অনলাইন ডেস্ক: দশম গ্রেডে বেতন প্রদানসহ তিন দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। রোববার (৯ নভেম্বর) সকাল থেকে সব বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ রেখে তারা এ কর্মসূচি পালন করছেন। এর ফলে সারা দেশের প্রায় ৬৫ হাজার বিদ্যালয়ে পাঠদান কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।শনিবার (৮ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সহকারী শিক্ষকরা লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। দুপুরে শাহবাগের দিকে ‘কলম বিসর্জন’ মিছিল নিয়ে অগ্রসর হওয়ার সময় পুলিশের বাধা পেয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন তারা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ জলকামান, কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। এতে শতাধিক শিক্ষক আহত হন এবং বেশ কয়েকজন শিক্ষক নেতাকে আটক করা হয়।

শিক্ষকদের দাবি, তাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বিনা উসকানিতে হামলা চালিয়েছে পুলিশ। প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের আহ্বায়ক শামসুদ্দিন মাসুদ বলেছেন, “বহুবার আলোচনায় বসেছি, কিন্তু কোনো ফল হয়নি। এবার দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথেই থাকব। প্রজ্ঞাপন ছাড়া কেউ ঘরে ফিরবে না।”

বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খায়রুন নাহার লিপিও একই অবস্থান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমরা বহু বছর ধরে বঞ্চিত। এবার দাবি পূরণ না হলে অবস্থান কর্মসূচি ও কর্মবিরতি একসঙ্গে চলবে।”

‘প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ’-এর ব্যানারে চারটি সংগঠন এই আন্দোলন পরিচালনা করছে। তাদের দাবিগুলো হলো—সহকারী শিক্ষকদের বেতন জাতীয় বেতন কাঠামোর দশম গ্রেডে উন্নীত করা, চাকরির ১০ ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড প্রদান সংক্রান্ত জটিলতার স্থায়ী সমাধান এবং শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতির নিশ্চয়তা।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্যমতে, দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬৫ হাজার ৫৬৭টি এবং এসব বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষক সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ৮৪ হাজার। ফলে রোববার থেকেই এসব বিদ্যালয়ে পাঠদান কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রয়েছে।

এদিকে, তিন দফা দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষকদের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ। শনিবার রাতে এক ফেসবুক পোস্টে তিনি শিক্ষকদের ওপর পুলিশের হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, “শিক্ষকদের দাবি যৌক্তিক, আমরা তাদের সঙ্গে আছি।”

সরকারি সূত্রগুলো জানায়, সহকারী শিক্ষকদের বেতনগ্রেড উন্নীত করার বিষয়টি পর্যালোচনায় আছে। এর আগে আদালতের নির্দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪৫ জন প্রধান শিক্ষকের বেতন গ্রেড এক ধাপ বাড়িয়ে দশম গ্রেডে উন্নীত করা হয়, যা সারাদেশের প্রধান শিক্ষকদের জন্যও দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে।

তবে সহকারী শিক্ষকরা বলছেন, শুধুমাত্র প্রতিশ্রুতি নয়, প্রজ্ঞাপন প্রকাশের আগ পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।