ঢাকা , মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo ইংল্যান্ডের কোচ হিসেবে ল্যাঙ্গারকে পছন্দ লেহম্যানের Logo পুলিশকে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব বজায় রাখার নির্দেশ দিলেন আরপিএমপি কমিশনার Logo আফগানিস্তানে ভয়াবহ বন্যায় শতাধিক নিখোঁজের সন্ধানে উদ্ধারকারীরা Logo চিলিতে ভারী বৃষ্টিতে ১০ জনের মৃত্যু, জরুরি অবস্থা ঘোষণা Logo সাইবার বুলিংয়ের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে: তথ্য উপদেষ্টা Logo ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত বাংলাদেশের Logo আগামী এক বছরে ২০ লাখ মামলা কমিয়ে আনা সম্ভব হবে: আইনমন্ত্রী Logo মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের উত্তেজনায় এক মাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে তেলের দাম Logo আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন Logo হাতিমারা-ছনবাড়ী সড়ক প্রশস্তকরণে ১৩৫৯ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ

তিন দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে প্রাথমিক শিক্ষকরা

প্রতিনিধির নাম :
অনলাইন ডেস্ক: দশম গ্রেডে বেতন প্রদানসহ তিন দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। রোববার (৯ নভেম্বর) সকাল থেকে সব বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ রেখে তারা এ কর্মসূচি পালন করছেন। এর ফলে সারা দেশের প্রায় ৬৫ হাজার বিদ্যালয়ে পাঠদান কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।শনিবার (৮ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সহকারী শিক্ষকরা লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। দুপুরে শাহবাগের দিকে ‘কলম বিসর্জন’ মিছিল নিয়ে অগ্রসর হওয়ার সময় পুলিশের বাধা পেয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন তারা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ জলকামান, কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। এতে শতাধিক শিক্ষক আহত হন এবং বেশ কয়েকজন শিক্ষক নেতাকে আটক করা হয়।

শিক্ষকদের দাবি, তাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বিনা উসকানিতে হামলা চালিয়েছে পুলিশ। প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের আহ্বায়ক শামসুদ্দিন মাসুদ বলেছেন, “বহুবার আলোচনায় বসেছি, কিন্তু কোনো ফল হয়নি। এবার দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথেই থাকব। প্রজ্ঞাপন ছাড়া কেউ ঘরে ফিরবে না।”

বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খায়রুন নাহার লিপিও একই অবস্থান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমরা বহু বছর ধরে বঞ্চিত। এবার দাবি পূরণ না হলে অবস্থান কর্মসূচি ও কর্মবিরতি একসঙ্গে চলবে।”

‘প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ’-এর ব্যানারে চারটি সংগঠন এই আন্দোলন পরিচালনা করছে। তাদের দাবিগুলো হলো—সহকারী শিক্ষকদের বেতন জাতীয় বেতন কাঠামোর দশম গ্রেডে উন্নীত করা, চাকরির ১০ ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড প্রদান সংক্রান্ত জটিলতার স্থায়ী সমাধান এবং শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতির নিশ্চয়তা।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্যমতে, দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬৫ হাজার ৫৬৭টি এবং এসব বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষক সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ৮৪ হাজার। ফলে রোববার থেকেই এসব বিদ্যালয়ে পাঠদান কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রয়েছে।

এদিকে, তিন দফা দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষকদের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ। শনিবার রাতে এক ফেসবুক পোস্টে তিনি শিক্ষকদের ওপর পুলিশের হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, “শিক্ষকদের দাবি যৌক্তিক, আমরা তাদের সঙ্গে আছি।”

সরকারি সূত্রগুলো জানায়, সহকারী শিক্ষকদের বেতনগ্রেড উন্নীত করার বিষয়টি পর্যালোচনায় আছে। এর আগে আদালতের নির্দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪৫ জন প্রধান শিক্ষকের বেতন গ্রেড এক ধাপ বাড়িয়ে দশম গ্রেডে উন্নীত করা হয়, যা সারাদেশের প্রধান শিক্ষকদের জন্যও দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে।

তবে সহকারী শিক্ষকরা বলছেন, শুধুমাত্র প্রতিশ্রুতি নয়, প্রজ্ঞাপন প্রকাশের আগ পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ১২:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ নভেম্বর ২০২৫
৮ বার পঠিত হয়েছে

তিন দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে প্রাথমিক শিক্ষকরা

আপডেট এর সময় : ১২:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ নভেম্বর ২০২৫
অনলাইন ডেস্ক: দশম গ্রেডে বেতন প্রদানসহ তিন দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। রোববার (৯ নভেম্বর) সকাল থেকে সব বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ রেখে তারা এ কর্মসূচি পালন করছেন। এর ফলে সারা দেশের প্রায় ৬৫ হাজার বিদ্যালয়ে পাঠদান কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।শনিবার (৮ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সহকারী শিক্ষকরা লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। দুপুরে শাহবাগের দিকে ‘কলম বিসর্জন’ মিছিল নিয়ে অগ্রসর হওয়ার সময় পুলিশের বাধা পেয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন তারা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ জলকামান, কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। এতে শতাধিক শিক্ষক আহত হন এবং বেশ কয়েকজন শিক্ষক নেতাকে আটক করা হয়।

শিক্ষকদের দাবি, তাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বিনা উসকানিতে হামলা চালিয়েছে পুলিশ। প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের আহ্বায়ক শামসুদ্দিন মাসুদ বলেছেন, “বহুবার আলোচনায় বসেছি, কিন্তু কোনো ফল হয়নি। এবার দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথেই থাকব। প্রজ্ঞাপন ছাড়া কেউ ঘরে ফিরবে না।”

বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খায়রুন নাহার লিপিও একই অবস্থান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমরা বহু বছর ধরে বঞ্চিত। এবার দাবি পূরণ না হলে অবস্থান কর্মসূচি ও কর্মবিরতি একসঙ্গে চলবে।”

‘প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ’-এর ব্যানারে চারটি সংগঠন এই আন্দোলন পরিচালনা করছে। তাদের দাবিগুলো হলো—সহকারী শিক্ষকদের বেতন জাতীয় বেতন কাঠামোর দশম গ্রেডে উন্নীত করা, চাকরির ১০ ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড প্রদান সংক্রান্ত জটিলতার স্থায়ী সমাধান এবং শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতির নিশ্চয়তা।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্যমতে, দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬৫ হাজার ৫৬৭টি এবং এসব বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষক সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ৮৪ হাজার। ফলে রোববার থেকেই এসব বিদ্যালয়ে পাঠদান কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রয়েছে।

এদিকে, তিন দফা দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষকদের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ। শনিবার রাতে এক ফেসবুক পোস্টে তিনি শিক্ষকদের ওপর পুলিশের হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, “শিক্ষকদের দাবি যৌক্তিক, আমরা তাদের সঙ্গে আছি।”

সরকারি সূত্রগুলো জানায়, সহকারী শিক্ষকদের বেতনগ্রেড উন্নীত করার বিষয়টি পর্যালোচনায় আছে। এর আগে আদালতের নির্দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪৫ জন প্রধান শিক্ষকের বেতন গ্রেড এক ধাপ বাড়িয়ে দশম গ্রেডে উন্নীত করা হয়, যা সারাদেশের প্রধান শিক্ষকদের জন্যও দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে।

তবে সহকারী শিক্ষকরা বলছেন, শুধুমাত্র প্রতিশ্রুতি নয়, প্রজ্ঞাপন প্রকাশের আগ পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।