ঢাকা , শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ‘বন্ধ কলকারখানা চালু ও ব্যবস্থাপনা’ সংক্রান্ত সভা অনুষ্ঠিত Logo হজযাত্রীদের লাগেজ চুরির অভিযোগ ভিত্তিহীন: মিল্লাত Logo প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ইউএনডিপি’র আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফানের সাক্ষাৎ Logo ইরানের ড্রোন হামলায় কুয়েতের বিমানবন্দর সাময়িক বন্ধ ঘোষণা Logo নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে শিগগিরই দেশব্যাপী সচেতনতামূলক কর্মসূচি Logo প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপানের প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ Logo জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের আস্থা পুনর্গঠন ও সংস্কার এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার খলিলুর রহমানের Logo ক্ষমতা গ্রহণের ৩ মাসেই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার : মির্জা ফখরুল Logo বিশ্বকাপ দল ঘোষণা করেছে ইরাক Logo চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটিতে রেকর্ড কনটেইনার হ্যান্ডলিং

শাবি ছাত্রীদের হলে চোর!

প্রতিনিধির নাম :

আট মাসের ব্যবধানে ছাত্রী হলে আবারো চুরির ঘটনায় প্রশাসনকে ‘ঘুমন্ত অবস্থায় নিজেদের নিরাপত্তাসহ সাত দফা দাবি বেঁধে দিয়েছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলের ছাত্রীরা।

অন্যদিকে এ সাত দফাকে আমলে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কাজ শুরু করে দিয়েছে বলে জানিয়েছেন শাবি ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ।

বৃহস্পতিবার ভোরে প্রথম ছাত্রী হলে চুরির ঘটনায় দিনব্যাপী উত্তেজনা বিরাজ করে আবাসিক ছাত্রী হলে। এর আগে গত ২০ জানুয়ারি বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলে চুরির ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, বুধবার মধ্যরাতে হলের রান্নাঘরের গ্রিল কেটে কয়েকজন চোর ভেতরে প্রবেশ করে। বৃহস্পতিবার ভোরে ১৩১ নম্বর কক্ষের আবাসিক ছাত্রী মেহের ওয়াশরুমে গেলে চোর ওয়াশরুমের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে দেয়। পরে ওই ছাত্রীর কক্ষ থেকে মোবাইল ফোন হাতিয়ে নেয়।

একই কক্ষে আরেক ছাত্রীর মশারির ভেতরে হাত ঢুকিয়ে মোবাইল ফোন নিতে গেলে ছাত্রীর ঘুম ভাঙে। পরে তার চিৎকারে চোররা জানালা দিয়ে পালিয়ে যায়। হলের ১২৯ ও ১৩০ নম্বর রুমের জানালার গ্রিলও কাটার চেষ্টা করেছিল চোররা।

প্রথম ছাত্রী হলের আবাসিক শামীমা চুমকি বলেন, দুটি হলে ধারাবাহিকভাবে চুরির ঘটনায় আমরা আবাসিক ছাত্রীরা আতঙ্কের মধ্যে আছি। এ ঘটনা অন্য দিকেও মোড় নিতে পারত।

খবর পেয়ে ভোরেই হল প্রভোস্ট অধ্যাপক আমিনা পারভীন হলে আসেন। তিনি বলেন, ছাত্রীদের নিরাপত্তায় আমরা কাজ করছি। চোরদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে মামলার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত ছাত্রীদের ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

পরে সকাল ১০টার দিকে ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক অধ্যাপক ড. রাশেদ তালুকদার, প্রক্টর জহির উদ্দিন আহমেদসহ প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা হল পরিদর্শন করেন এবং ছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন।

এ সময় উত্তেজিত ছাত্রীরা সাত দফা দাবি পেশ করেন। সাত দফা দাবিগুলো হচ্ছে- হলের পার্শ্ববর্তী দুটি টিলায় পুলিশ চেকপোস্ট স্থাপন, সিকিউরিটি অফিসারের পদত্যাগ ও দক্ষ অফিসার নিয়োগ, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পর্যাপ্ত নাইটগার্ড নিয়োগ, চোরদের চক্র শনাক্ত করে উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করা, কাঁটাতারের বেড়ার উচ্চতা বৃদ্ধি করা, কার্যকর সিসিটিভি ক্যামেরার সংখ্যা বৃদ্ধি করা, জরুরি কল বা বেল সিস্টেম চালু করার দাবি জানান ছাত্রীরা।

সার্বিক বিষয়ে শাবি ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলে চুরির ঘটনার পর উভয় হলে অতিরিক্ত ১৫টি অতিরিক্ত সিসি ক্যামেরা, ফ্লাড লাইট, কাঁটাতারের বেড়া সংযোজন করা হয়। বৃহস্পতিবার থেকে অতিরিক্ত দুজন সিকিউরিটি গার্ড হলের চতুর্দিকে টহল দেবে, পুলিশের টহল বাড়বে, নতুন কাঁটাতারের বেড়া স্থাপন করা হবে। অপরাধীদের গ্রেফতার করতে আইনের আওতায় আনতে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

এদিকে ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন স্কুল অব এগ্রিকালচার অ্যান্ড মিনারেল সায়েন্সের ডিন অধ্যাপক ড. এ.জেড.এম মঞ্জুর রশিদ, প্রথম ছাত্রী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক আমিনা পারভীন ও প্রক্টর জহির উদ্দিন আহমেদ।

Tag :

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০৬:৩৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮
১৭ বার পঠিত হয়েছে

শাবি ছাত্রীদের হলে চোর!

আপডেট এর সময় : ০৬:৩৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮

আট মাসের ব্যবধানে ছাত্রী হলে আবারো চুরির ঘটনায় প্রশাসনকে ‘ঘুমন্ত অবস্থায় নিজেদের নিরাপত্তাসহ সাত দফা দাবি বেঁধে দিয়েছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলের ছাত্রীরা।

অন্যদিকে এ সাত দফাকে আমলে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কাজ শুরু করে দিয়েছে বলে জানিয়েছেন শাবি ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ।

বৃহস্পতিবার ভোরে প্রথম ছাত্রী হলে চুরির ঘটনায় দিনব্যাপী উত্তেজনা বিরাজ করে আবাসিক ছাত্রী হলে। এর আগে গত ২০ জানুয়ারি বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলে চুরির ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, বুধবার মধ্যরাতে হলের রান্নাঘরের গ্রিল কেটে কয়েকজন চোর ভেতরে প্রবেশ করে। বৃহস্পতিবার ভোরে ১৩১ নম্বর কক্ষের আবাসিক ছাত্রী মেহের ওয়াশরুমে গেলে চোর ওয়াশরুমের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে দেয়। পরে ওই ছাত্রীর কক্ষ থেকে মোবাইল ফোন হাতিয়ে নেয়।

একই কক্ষে আরেক ছাত্রীর মশারির ভেতরে হাত ঢুকিয়ে মোবাইল ফোন নিতে গেলে ছাত্রীর ঘুম ভাঙে। পরে তার চিৎকারে চোররা জানালা দিয়ে পালিয়ে যায়। হলের ১২৯ ও ১৩০ নম্বর রুমের জানালার গ্রিলও কাটার চেষ্টা করেছিল চোররা।

প্রথম ছাত্রী হলের আবাসিক শামীমা চুমকি বলেন, দুটি হলে ধারাবাহিকভাবে চুরির ঘটনায় আমরা আবাসিক ছাত্রীরা আতঙ্কের মধ্যে আছি। এ ঘটনা অন্য দিকেও মোড় নিতে পারত।

খবর পেয়ে ভোরেই হল প্রভোস্ট অধ্যাপক আমিনা পারভীন হলে আসেন। তিনি বলেন, ছাত্রীদের নিরাপত্তায় আমরা কাজ করছি। চোরদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে মামলার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত ছাত্রীদের ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

পরে সকাল ১০টার দিকে ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক অধ্যাপক ড. রাশেদ তালুকদার, প্রক্টর জহির উদ্দিন আহমেদসহ প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা হল পরিদর্শন করেন এবং ছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন।

এ সময় উত্তেজিত ছাত্রীরা সাত দফা দাবি পেশ করেন। সাত দফা দাবিগুলো হচ্ছে- হলের পার্শ্ববর্তী দুটি টিলায় পুলিশ চেকপোস্ট স্থাপন, সিকিউরিটি অফিসারের পদত্যাগ ও দক্ষ অফিসার নিয়োগ, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পর্যাপ্ত নাইটগার্ড নিয়োগ, চোরদের চক্র শনাক্ত করে উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করা, কাঁটাতারের বেড়ার উচ্চতা বৃদ্ধি করা, কার্যকর সিসিটিভি ক্যামেরার সংখ্যা বৃদ্ধি করা, জরুরি কল বা বেল সিস্টেম চালু করার দাবি জানান ছাত্রীরা।

সার্বিক বিষয়ে শাবি ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলে চুরির ঘটনার পর উভয় হলে অতিরিক্ত ১৫টি অতিরিক্ত সিসি ক্যামেরা, ফ্লাড লাইট, কাঁটাতারের বেড়া সংযোজন করা হয়। বৃহস্পতিবার থেকে অতিরিক্ত দুজন সিকিউরিটি গার্ড হলের চতুর্দিকে টহল দেবে, পুলিশের টহল বাড়বে, নতুন কাঁটাতারের বেড়া স্থাপন করা হবে। অপরাধীদের গ্রেফতার করতে আইনের আওতায় আনতে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

এদিকে ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন স্কুল অব এগ্রিকালচার অ্যান্ড মিনারেল সায়েন্সের ডিন অধ্যাপক ড. এ.জেড.এম মঞ্জুর রশিদ, প্রথম ছাত্রী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক আমিনা পারভীন ও প্রক্টর জহির উদ্দিন আহমেদ।