ঢাকা , বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo ইংল্যান্ডের কোচ হিসেবে ল্যাঙ্গারকে পছন্দ লেহম্যানের Logo পুলিশকে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব বজায় রাখার নির্দেশ দিলেন আরপিএমপি কমিশনার Logo আফগানিস্তানে ভয়াবহ বন্যায় শতাধিক নিখোঁজের সন্ধানে উদ্ধারকারীরা Logo চিলিতে ভারী বৃষ্টিতে ১০ জনের মৃত্যু, জরুরি অবস্থা ঘোষণা Logo সাইবার বুলিংয়ের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে: তথ্য উপদেষ্টা Logo ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত বাংলাদেশের Logo আগামী এক বছরে ২০ লাখ মামলা কমিয়ে আনা সম্ভব হবে: আইনমন্ত্রী Logo মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের উত্তেজনায় এক মাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে তেলের দাম Logo আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন Logo হাতিমারা-ছনবাড়ী সড়ক প্রশস্তকরণে ১৩৫৯ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ

শাবি ছাত্রীদের হলে চোর!

প্রতিনিধির নাম :

আট মাসের ব্যবধানে ছাত্রী হলে আবারো চুরির ঘটনায় প্রশাসনকে ‘ঘুমন্ত অবস্থায় নিজেদের নিরাপত্তাসহ সাত দফা দাবি বেঁধে দিয়েছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলের ছাত্রীরা।

অন্যদিকে এ সাত দফাকে আমলে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কাজ শুরু করে দিয়েছে বলে জানিয়েছেন শাবি ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ।

বৃহস্পতিবার ভোরে প্রথম ছাত্রী হলে চুরির ঘটনায় দিনব্যাপী উত্তেজনা বিরাজ করে আবাসিক ছাত্রী হলে। এর আগে গত ২০ জানুয়ারি বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলে চুরির ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, বুধবার মধ্যরাতে হলের রান্নাঘরের গ্রিল কেটে কয়েকজন চোর ভেতরে প্রবেশ করে। বৃহস্পতিবার ভোরে ১৩১ নম্বর কক্ষের আবাসিক ছাত্রী মেহের ওয়াশরুমে গেলে চোর ওয়াশরুমের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে দেয়। পরে ওই ছাত্রীর কক্ষ থেকে মোবাইল ফোন হাতিয়ে নেয়।

একই কক্ষে আরেক ছাত্রীর মশারির ভেতরে হাত ঢুকিয়ে মোবাইল ফোন নিতে গেলে ছাত্রীর ঘুম ভাঙে। পরে তার চিৎকারে চোররা জানালা দিয়ে পালিয়ে যায়। হলের ১২৯ ও ১৩০ নম্বর রুমের জানালার গ্রিলও কাটার চেষ্টা করেছিল চোররা।

প্রথম ছাত্রী হলের আবাসিক শামীমা চুমকি বলেন, দুটি হলে ধারাবাহিকভাবে চুরির ঘটনায় আমরা আবাসিক ছাত্রীরা আতঙ্কের মধ্যে আছি। এ ঘটনা অন্য দিকেও মোড় নিতে পারত।

খবর পেয়ে ভোরেই হল প্রভোস্ট অধ্যাপক আমিনা পারভীন হলে আসেন। তিনি বলেন, ছাত্রীদের নিরাপত্তায় আমরা কাজ করছি। চোরদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে মামলার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত ছাত্রীদের ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

পরে সকাল ১০টার দিকে ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক অধ্যাপক ড. রাশেদ তালুকদার, প্রক্টর জহির উদ্দিন আহমেদসহ প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা হল পরিদর্শন করেন এবং ছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন।

এ সময় উত্তেজিত ছাত্রীরা সাত দফা দাবি পেশ করেন। সাত দফা দাবিগুলো হচ্ছে- হলের পার্শ্ববর্তী দুটি টিলায় পুলিশ চেকপোস্ট স্থাপন, সিকিউরিটি অফিসারের পদত্যাগ ও দক্ষ অফিসার নিয়োগ, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পর্যাপ্ত নাইটগার্ড নিয়োগ, চোরদের চক্র শনাক্ত করে উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করা, কাঁটাতারের বেড়ার উচ্চতা বৃদ্ধি করা, কার্যকর সিসিটিভি ক্যামেরার সংখ্যা বৃদ্ধি করা, জরুরি কল বা বেল সিস্টেম চালু করার দাবি জানান ছাত্রীরা।

সার্বিক বিষয়ে শাবি ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলে চুরির ঘটনার পর উভয় হলে অতিরিক্ত ১৫টি অতিরিক্ত সিসি ক্যামেরা, ফ্লাড লাইট, কাঁটাতারের বেড়া সংযোজন করা হয়। বৃহস্পতিবার থেকে অতিরিক্ত দুজন সিকিউরিটি গার্ড হলের চতুর্দিকে টহল দেবে, পুলিশের টহল বাড়বে, নতুন কাঁটাতারের বেড়া স্থাপন করা হবে। অপরাধীদের গ্রেফতার করতে আইনের আওতায় আনতে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

এদিকে ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন স্কুল অব এগ্রিকালচার অ্যান্ড মিনারেল সায়েন্সের ডিন অধ্যাপক ড. এ.জেড.এম মঞ্জুর রশিদ, প্রথম ছাত্রী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক আমিনা পারভীন ও প্রক্টর জহির উদ্দিন আহমেদ।

Tag :

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০৬:৩৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮
২২ বার পঠিত হয়েছে

শাবি ছাত্রীদের হলে চোর!

আপডেট এর সময় : ০৬:৩৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮

আট মাসের ব্যবধানে ছাত্রী হলে আবারো চুরির ঘটনায় প্রশাসনকে ‘ঘুমন্ত অবস্থায় নিজেদের নিরাপত্তাসহ সাত দফা দাবি বেঁধে দিয়েছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলের ছাত্রীরা।

অন্যদিকে এ সাত দফাকে আমলে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কাজ শুরু করে দিয়েছে বলে জানিয়েছেন শাবি ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ।

বৃহস্পতিবার ভোরে প্রথম ছাত্রী হলে চুরির ঘটনায় দিনব্যাপী উত্তেজনা বিরাজ করে আবাসিক ছাত্রী হলে। এর আগে গত ২০ জানুয়ারি বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলে চুরির ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, বুধবার মধ্যরাতে হলের রান্নাঘরের গ্রিল কেটে কয়েকজন চোর ভেতরে প্রবেশ করে। বৃহস্পতিবার ভোরে ১৩১ নম্বর কক্ষের আবাসিক ছাত্রী মেহের ওয়াশরুমে গেলে চোর ওয়াশরুমের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে দেয়। পরে ওই ছাত্রীর কক্ষ থেকে মোবাইল ফোন হাতিয়ে নেয়।

একই কক্ষে আরেক ছাত্রীর মশারির ভেতরে হাত ঢুকিয়ে মোবাইল ফোন নিতে গেলে ছাত্রীর ঘুম ভাঙে। পরে তার চিৎকারে চোররা জানালা দিয়ে পালিয়ে যায়। হলের ১২৯ ও ১৩০ নম্বর রুমের জানালার গ্রিলও কাটার চেষ্টা করেছিল চোররা।

প্রথম ছাত্রী হলের আবাসিক শামীমা চুমকি বলেন, দুটি হলে ধারাবাহিকভাবে চুরির ঘটনায় আমরা আবাসিক ছাত্রীরা আতঙ্কের মধ্যে আছি। এ ঘটনা অন্য দিকেও মোড় নিতে পারত।

খবর পেয়ে ভোরেই হল প্রভোস্ট অধ্যাপক আমিনা পারভীন হলে আসেন। তিনি বলেন, ছাত্রীদের নিরাপত্তায় আমরা কাজ করছি। চোরদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে মামলার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত ছাত্রীদের ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

পরে সকাল ১০টার দিকে ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক অধ্যাপক ড. রাশেদ তালুকদার, প্রক্টর জহির উদ্দিন আহমেদসহ প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা হল পরিদর্শন করেন এবং ছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন।

এ সময় উত্তেজিত ছাত্রীরা সাত দফা দাবি পেশ করেন। সাত দফা দাবিগুলো হচ্ছে- হলের পার্শ্ববর্তী দুটি টিলায় পুলিশ চেকপোস্ট স্থাপন, সিকিউরিটি অফিসারের পদত্যাগ ও দক্ষ অফিসার নিয়োগ, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পর্যাপ্ত নাইটগার্ড নিয়োগ, চোরদের চক্র শনাক্ত করে উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করা, কাঁটাতারের বেড়ার উচ্চতা বৃদ্ধি করা, কার্যকর সিসিটিভি ক্যামেরার সংখ্যা বৃদ্ধি করা, জরুরি কল বা বেল সিস্টেম চালু করার দাবি জানান ছাত্রীরা।

সার্বিক বিষয়ে শাবি ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলে চুরির ঘটনার পর উভয় হলে অতিরিক্ত ১৫টি অতিরিক্ত সিসি ক্যামেরা, ফ্লাড লাইট, কাঁটাতারের বেড়া সংযোজন করা হয়। বৃহস্পতিবার থেকে অতিরিক্ত দুজন সিকিউরিটি গার্ড হলের চতুর্দিকে টহল দেবে, পুলিশের টহল বাড়বে, নতুন কাঁটাতারের বেড়া স্থাপন করা হবে। অপরাধীদের গ্রেফতার করতে আইনের আওতায় আনতে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

এদিকে ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন স্কুল অব এগ্রিকালচার অ্যান্ড মিনারেল সায়েন্সের ডিন অধ্যাপক ড. এ.জেড.এম মঞ্জুর রশিদ, প্রথম ছাত্রী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক আমিনা পারভীন ও প্রক্টর জহির উদ্দিন আহমেদ।