ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo কোয়ার্টার ফাইনালে কাল বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ মালয়েশিয়া Logo সাতক্ষীরার কুড়িকাহুনিয়ায় বেড়িবাঁধে ভাঙন; স্বেচ্ছাশ্রমে সংস্কার কাজ শুরু Logo ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিকম্পের পর বেঁচে যাওয়া মানুষের সংগ্রাম Logo ইরানের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করায় তেলের দাম বাড়ল Logo স্বার্থ সংরক্ষণে জাতীয় পর্যায়ে কৃষকদের কেন্দ্রীয় সংগঠন গড়ে তোলার আহ্বান রাষ্ট্রপতির Logo জাতিসংঘ সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী Logo ইরান কখনো মাথা নত করবে না: পেজেশকিয়ান Logo জাতিসংঘে শত্রু-মিত্রদের সমালোচনা করতে পারেন নেতানিয়াহু Logo ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আরও নিরাপদ ও টেকসই বিশ্ব গড়ে তোলার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর Logo বোয়িংয়ের সঙ্গে ১১টি বিমান কেনার চুক্তি হয়েছে: মাহদী আমিন

মৃতদের জন্য সওয়াব পৌঁছানোর পদ্ধতি

প্রতিনিধির নাম :

ধর্ম ও জীবন ডেস্ক: ইসলামে দান-সদকার গুরুত্ব অপরিসীম। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘যারা আল্লাহর পথে নিজেদের সম্পদ ব্যয় করে, তাদের (দানের) তুলনা সেই বীজের মতো যা থেকে সাতটি শীষ জন্ম নিলে, প্রত্যেক শীষে একশত করে দানা এবং আল্লাহ যাকে ইচ্ছে করেন বর্ধিত হারে দিয়ে থাকেন।

বস্তুত, আল্লাহ হচ্ছেন অতি দানশীল ও সর্বজ্ঞ।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ২৬১) অপর আয়াতে মহান আল্লাহ তা’য়ালা ঘোষণা দিয়েছেন, ‘যারা নিজের সম্পদ দিনে বা রাতে প্রকাশ্যে অথবা গোপনে আল্লাহর পথে খরচ করে তাদের জন্য তাদের প্রতিপালকের কাছে পুরস্কার আছে। তাদের কোনো ভয় নেই। তাদের কোনো চিন্তাও নেই।’ (সুরা বাকারা: ২৭৪) অন্যদিকে, হাদিসে এসেছে- আদী ইবনু হাতিম (রা.) বলেন, আমি রাসুল (সা.) কে বলতে শুনেছি, তোমরা জাহান্নাম থেকে আত্মরক্ষা করো এক টুকরা খেজুর সদকা করে হলেও (সহিহ বুখারি, ১৩৩৪)। এমনকি পরিবারের জন্য সওয়াবের নিয়তে ব্যয় করাও সদকা হিসেবে গণ্য হয়। আবূ মাসউদ (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন- মানুষ তার পরিবারের জন্য সওয়াবের নিয়তে যখন খরচ করে, তখন তা হয় তার সদকা স্বরূপ। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৩) তবে কেউ মারা গেলে তার জন্য তিনটি রাস্তা ছাড়া আমলের সব দরজা বন্ধ হয়ে যায়। আবূ হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন- যখন মানুষ মারা যায় তখন তিন প্রকার আমল ব্যতীত তার সকল আমল বন্ধ হয়ে যায়। ১. সদকায়ে জারিয়া বা যে সৎকাজের কল্যাণ দীর্ঘস্থায়ী, ২. ইলম বা জ্ঞান যার দ্বারা অন্যের উপকার সাধিত হয় এবং ৩. নেককার সন্তান যে তার জন্য দোয় করতে থাকে। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৪০৭৭) এ ক্ষেত্রে মারা যাওয়ার পর বাবা-মায়ের নামে সন্তান সদকা করলেও তারা সেই সওয়াব পান।

আবূ হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি রাসুল (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলো, আমার পিতা মারা গিয়েছেন এবং তিনি কিছু সম্পদ রেখে গেছেন। কিন্তু ওসিয়াত করেননি। তার পক্ষ থেকে সদকা করা হলে কি তার গুনাহ মাফ হবে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। (সহিহ মুসলিম, ৪০৭৩) আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত অপর একটি হাদিসে এসেছে, এক ব্যক্তি রাসুল (সা.) কে বললো, আমার মা হঠাৎ মারা গেছেন। তার সম্পর্কে আমার বিশ্বাস এই যে, তিনি যদি কথা বলতে পারতেন তবে সদকা করতেন। আমি যদি তার পক্ষে সদকা করি, তবে কি আমার এ কাজের কোনো বিনিময় (সাওয়াব) হবে? জবাবে রাসুল (সা.) বলেন, হ্যাঁ। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৪০৭৪)

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০৫:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫
১২ বার পঠিত হয়েছে

মৃতদের জন্য সওয়াব পৌঁছানোর পদ্ধতি

আপডেট এর সময় : ০৫:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫

ধর্ম ও জীবন ডেস্ক: ইসলামে দান-সদকার গুরুত্ব অপরিসীম। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘যারা আল্লাহর পথে নিজেদের সম্পদ ব্যয় করে, তাদের (দানের) তুলনা সেই বীজের মতো যা থেকে সাতটি শীষ জন্ম নিলে, প্রত্যেক শীষে একশত করে দানা এবং আল্লাহ যাকে ইচ্ছে করেন বর্ধিত হারে দিয়ে থাকেন।

বস্তুত, আল্লাহ হচ্ছেন অতি দানশীল ও সর্বজ্ঞ।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ২৬১) অপর আয়াতে মহান আল্লাহ তা’য়ালা ঘোষণা দিয়েছেন, ‘যারা নিজের সম্পদ দিনে বা রাতে প্রকাশ্যে অথবা গোপনে আল্লাহর পথে খরচ করে তাদের জন্য তাদের প্রতিপালকের কাছে পুরস্কার আছে। তাদের কোনো ভয় নেই। তাদের কোনো চিন্তাও নেই।’ (সুরা বাকারা: ২৭৪) অন্যদিকে, হাদিসে এসেছে- আদী ইবনু হাতিম (রা.) বলেন, আমি রাসুল (সা.) কে বলতে শুনেছি, তোমরা জাহান্নাম থেকে আত্মরক্ষা করো এক টুকরা খেজুর সদকা করে হলেও (সহিহ বুখারি, ১৩৩৪)। এমনকি পরিবারের জন্য সওয়াবের নিয়তে ব্যয় করাও সদকা হিসেবে গণ্য হয়। আবূ মাসউদ (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন- মানুষ তার পরিবারের জন্য সওয়াবের নিয়তে যখন খরচ করে, তখন তা হয় তার সদকা স্বরূপ। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৩) তবে কেউ মারা গেলে তার জন্য তিনটি রাস্তা ছাড়া আমলের সব দরজা বন্ধ হয়ে যায়। আবূ হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন- যখন মানুষ মারা যায় তখন তিন প্রকার আমল ব্যতীত তার সকল আমল বন্ধ হয়ে যায়। ১. সদকায়ে জারিয়া বা যে সৎকাজের কল্যাণ দীর্ঘস্থায়ী, ২. ইলম বা জ্ঞান যার দ্বারা অন্যের উপকার সাধিত হয় এবং ৩. নেককার সন্তান যে তার জন্য দোয় করতে থাকে। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৪০৭৭) এ ক্ষেত্রে মারা যাওয়ার পর বাবা-মায়ের নামে সন্তান সদকা করলেও তারা সেই সওয়াব পান।

আবূ হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি রাসুল (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলো, আমার পিতা মারা গিয়েছেন এবং তিনি কিছু সম্পদ রেখে গেছেন। কিন্তু ওসিয়াত করেননি। তার পক্ষ থেকে সদকা করা হলে কি তার গুনাহ মাফ হবে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। (সহিহ মুসলিম, ৪০৭৩) আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত অপর একটি হাদিসে এসেছে, এক ব্যক্তি রাসুল (সা.) কে বললো, আমার মা হঠাৎ মারা গেছেন। তার সম্পর্কে আমার বিশ্বাস এই যে, তিনি যদি কথা বলতে পারতেন তবে সদকা করতেন। আমি যদি তার পক্ষে সদকা করি, তবে কি আমার এ কাজের কোনো বিনিময় (সাওয়াব) হবে? জবাবে রাসুল (সা.) বলেন, হ্যাঁ। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৪০৭৪)