ঢাকা , বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ:
Logo ইংল্যান্ডের কোচ হিসেবে ল্যাঙ্গারকে পছন্দ লেহম্যানের Logo পুলিশকে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব বজায় রাখার নির্দেশ দিলেন আরপিএমপি কমিশনার Logo আফগানিস্তানে ভয়াবহ বন্যায় শতাধিক নিখোঁজের সন্ধানে উদ্ধারকারীরা Logo চিলিতে ভারী বৃষ্টিতে ১০ জনের মৃত্যু, জরুরি অবস্থা ঘোষণা Logo সাইবার বুলিংয়ের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে: তথ্য উপদেষ্টা Logo ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত বাংলাদেশের Logo আগামী এক বছরে ২০ লাখ মামলা কমিয়ে আনা সম্ভব হবে: আইনমন্ত্রী Logo মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের উত্তেজনায় এক মাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে তেলের দাম Logo আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন Logo হাতিমারা-ছনবাড়ী সড়ক প্রশস্তকরণে ১৩৫৯ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ

গাছ লাগানোর উৎসব চাই

প্রতিনিধির নাম :

গাছ মানুষের অকৃত্রিম বন্ধু। বিভিন্নভাবে মানুষের উপকার করে গাছ। ফল, ফুল, কাঠ, অক্সিজেন, ছায়া- এসবই গাছ দেয়। গাছের উপকারিতা বলে শেষ করা যাবে না। আর্থিক সুবিধার কথাই ধরা যাক। ইন্ডিয়ান ফরেস্ট ইন্সটিটিউটের গবেষকরা ৫০ বছর বেঁচে থাকা একটি গাছের আর্থিক সুবিধা বের করেছেন।যা হল, গাছ বায়ুদূষণ থেকে পরিবেশকে রক্ষা করে ১০ লাখ টাকার সমপরিমাণ, জীবন রক্ষাকারী অক্সিজেন দেয় ৫ লাখ টাকার সমপরিমাণ, বৃষ্টির অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে জীব ও প্রাণী জগৎকে বাঁচায় ৫ লাখ টাকার সমপরিমাণ, মাটির ক্ষয়রোধ ও উর্বরা শক্তি বৃদ্ধি করে ৫ লাখ টাকার সমপরিমাণ, বৃক্ষে বসবাসকারী প্রাণীদের খাদ্য ও আশ্রয় দিয়ে বাঁচায় ৫ লাখ টাকার সমপরিমাণ, আসবাবপত্র ও জ্বালানি কাঠ এবং ফল সরবরাহ করে ৫ লাখ টাকার সমপরিমাণ, বিভিন্ন জীবজন্তুর খাদ্য জোগান দেয় আরও ৪০ হাজার টাকার সমপরিমাণ। ৫০ বছর বেঁচে থাকা একটি বৃক্ষের আর্থিক সুবিধার মোট মূল্য দাঁড়ায় ৩৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

যেসব এলাকায় গাছ বেশি, বন্যা-ঝড় সেসব স্থানের তেমন ক্ষতি করতে পারে না। গাছপালা মায়ের আঁচলের মতো মানুষকে আগলে রেখে রক্ষা করে প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে। একটি গাছ বছরজুড়ে ১০টি এয়ারকন্ডিশনারের সমপরিমাণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ করে। ৬০ পাউন্ডের বেশি ক্ষতিকারক গ্যাস বাতাস থেকে শুষে নেয়। ৭৫০ গ্যালন বৃষ্টির পানি শোষণ করে। এক হেক্টর এলাকার গাছ তিন মেট্রিক টন বায়ু গ্রহণ করে। দুই মেট্রিক টন বিশুদ্ধ অক্সিজেন প্রদান করে।

একটি দেশের মোট ভূখণ্ডের ২৫ ভাগ বনভূমি থাকা দরকার। বাংলাদেশে আছে মাত্র ১৭.৫ ভাগ বনভূমি। দিন দিন তা কমে আসছে। শুধু রোহিঙ্গাদের বসবাস করতে দিয়ে ৪ হাজার একর জায়গার বনভূমি উজাড় হয়েছে।

কাজেই আমাদের গাছ লাগাতে হবে। রক্ষা করতে হবে বনভূমি। এজন্য বাড়াতে হবে সচেতনতামূলক কর্মকাণ্ড। দেশে বই পড়া উৎসব হয়, প্রতিযোগিতা হয়। বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র বই পড়ুয়াদের পুরস্কার দেয়। একইভাবে গাছ লাগানোরও উৎসব হতে পারে। বছরের একটি দিন নির্দিষ্ট করে দেয়া হোক, যেদিন সবাই গাছ লাগাবেন। মাত্র একটি গাছ হলেও লাগাবেন। দেশজুড়ে গাছ লাগানোর উৎসব হবে।

ওই দিন র‌্যালি, সভা-সমাবেশ, গাছ নিয়ে রচনা ও ছবি আঁকার প্রতিযোগিতার আয়োজন করা যায়। সারা বছর তো গাছ লাগাতেই হবে। একটা দিন উৎসব হলে সাড়া পড়বে বেশি। বেশি মানুষ জানবে। গাছ লাগানোর সংস্কৃতি গড়ে উঠবে। দেশ, মা, মাটি, প্রকৃতির সঙ্গে বন্ধনটা আরও শক্ত হবে। কেউ কেউ বলতে পারেন, গাছ লাগাতে বিশেষ দিন লাগে নাকি? লাগত না, যদি আমরা গাছ লাগাতাম, গাছের সংখ্যা বাড়ত। তা তো হচ্ছে না। দিন দিন গাছপালার সংখ্যা কমে যাচ্ছে । প্রকৃতি বৈরী হয়ে উঠছে। তাই উৎসব করেই গাছ লাগানো দরকার।

Tag :

পোস্টটি আপনার স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

আপডেট এর সময় : ০৬:০৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮
২২ বার পঠিত হয়েছে

গাছ লাগানোর উৎসব চাই

আপডেট এর সময় : ০৬:০৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮

গাছ মানুষের অকৃত্রিম বন্ধু। বিভিন্নভাবে মানুষের উপকার করে গাছ। ফল, ফুল, কাঠ, অক্সিজেন, ছায়া- এসবই গাছ দেয়। গাছের উপকারিতা বলে শেষ করা যাবে না। আর্থিক সুবিধার কথাই ধরা যাক। ইন্ডিয়ান ফরেস্ট ইন্সটিটিউটের গবেষকরা ৫০ বছর বেঁচে থাকা একটি গাছের আর্থিক সুবিধা বের করেছেন।যা হল, গাছ বায়ুদূষণ থেকে পরিবেশকে রক্ষা করে ১০ লাখ টাকার সমপরিমাণ, জীবন রক্ষাকারী অক্সিজেন দেয় ৫ লাখ টাকার সমপরিমাণ, বৃষ্টির অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে জীব ও প্রাণী জগৎকে বাঁচায় ৫ লাখ টাকার সমপরিমাণ, মাটির ক্ষয়রোধ ও উর্বরা শক্তি বৃদ্ধি করে ৫ লাখ টাকার সমপরিমাণ, বৃক্ষে বসবাসকারী প্রাণীদের খাদ্য ও আশ্রয় দিয়ে বাঁচায় ৫ লাখ টাকার সমপরিমাণ, আসবাবপত্র ও জ্বালানি কাঠ এবং ফল সরবরাহ করে ৫ লাখ টাকার সমপরিমাণ, বিভিন্ন জীবজন্তুর খাদ্য জোগান দেয় আরও ৪০ হাজার টাকার সমপরিমাণ। ৫০ বছর বেঁচে থাকা একটি বৃক্ষের আর্থিক সুবিধার মোট মূল্য দাঁড়ায় ৩৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

যেসব এলাকায় গাছ বেশি, বন্যা-ঝড় সেসব স্থানের তেমন ক্ষতি করতে পারে না। গাছপালা মায়ের আঁচলের মতো মানুষকে আগলে রেখে রক্ষা করে প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে। একটি গাছ বছরজুড়ে ১০টি এয়ারকন্ডিশনারের সমপরিমাণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ করে। ৬০ পাউন্ডের বেশি ক্ষতিকারক গ্যাস বাতাস থেকে শুষে নেয়। ৭৫০ গ্যালন বৃষ্টির পানি শোষণ করে। এক হেক্টর এলাকার গাছ তিন মেট্রিক টন বায়ু গ্রহণ করে। দুই মেট্রিক টন বিশুদ্ধ অক্সিজেন প্রদান করে।

একটি দেশের মোট ভূখণ্ডের ২৫ ভাগ বনভূমি থাকা দরকার। বাংলাদেশে আছে মাত্র ১৭.৫ ভাগ বনভূমি। দিন দিন তা কমে আসছে। শুধু রোহিঙ্গাদের বসবাস করতে দিয়ে ৪ হাজার একর জায়গার বনভূমি উজাড় হয়েছে।

কাজেই আমাদের গাছ লাগাতে হবে। রক্ষা করতে হবে বনভূমি। এজন্য বাড়াতে হবে সচেতনতামূলক কর্মকাণ্ড। দেশে বই পড়া উৎসব হয়, প্রতিযোগিতা হয়। বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র বই পড়ুয়াদের পুরস্কার দেয়। একইভাবে গাছ লাগানোরও উৎসব হতে পারে। বছরের একটি দিন নির্দিষ্ট করে দেয়া হোক, যেদিন সবাই গাছ লাগাবেন। মাত্র একটি গাছ হলেও লাগাবেন। দেশজুড়ে গাছ লাগানোর উৎসব হবে।

ওই দিন র‌্যালি, সভা-সমাবেশ, গাছ নিয়ে রচনা ও ছবি আঁকার প্রতিযোগিতার আয়োজন করা যায়। সারা বছর তো গাছ লাগাতেই হবে। একটা দিন উৎসব হলে সাড়া পড়বে বেশি। বেশি মানুষ জানবে। গাছ লাগানোর সংস্কৃতি গড়ে উঠবে। দেশ, মা, মাটি, প্রকৃতির সঙ্গে বন্ধনটা আরও শক্ত হবে। কেউ কেউ বলতে পারেন, গাছ লাগাতে বিশেষ দিন লাগে নাকি? লাগত না, যদি আমরা গাছ লাগাতাম, গাছের সংখ্যা বাড়ত। তা তো হচ্ছে না। দিন দিন গাছপালার সংখ্যা কমে যাচ্ছে । প্রকৃতি বৈরী হয়ে উঠছে। তাই উৎসব করেই গাছ লাগানো দরকার।